বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | পঞ্চম পাঠ: আলো (লীলা মজুমদার)
পঞ্চম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: নাটকের নাম ‘আলো’ রাখা হয়েছে কেন? শম্ভু কীভাবে তার মনের অন্ধকার জয় করেছিল?
নাটকের নামকরণের সার্থকতা:
- **আক্ষরিক আলো:** প্রথমত, শম্ভু অন্ধকার বনে **লণ্ঠন** জ্বেলে গিয়েছিল। এই লণ্ঠনের আলোতেই সে তার চারপাশের সব জিনিস (ঝুরি, মনসাঝোপ, বাদুড়)কে সঠিকভাবে চিনতে পারে এবং ভয় পায় না।
- **রূপক আলো:** ‘আলো’ শব্দটি এখানে জ্ঞান, সাহস ও বিবেকের প্রতীক। শম্ভুর মনের মধ্যে ছিল ভয় ও আলস্যের অন্ধকার। দাদু অচেতন হওয়ার পর, পিসি যখন দাদুর প্রতি তার **কর্তব্যের কথা** স্মরণ করিয়ে দেয়, তখন শম্ভুর বিবেক জাগে। দাদুকে বাঁচানোর তাগিদই ছিল সেই **’মনের আলো’**, যা শম্ভুকে রাত, ঝড়, বন, প্যাঁচা, বাদুড়—সবকিছুর ভয় কাটিয়ে ওষুধ আনতে যেতে সাহস যোগায়।
২. ৪ নম্বর: পিসির কাছ থেকে শম্ভু কেন লণ্ঠন নিয়ে যেতে চাইছিল না?
শম্ভু পিসির কাছে লণ্ঠন নিয়ে যেতে চায়নি কারণ:
- **অন্ধকারের ভয়:** শম্ভু (বারো বছর বয়স হলেও) অত্যন্ত ভীতু ছিল। দিনের বেলাতেও যে ছেলে পাঠশালার দুরন্ত, রাতে সে হয়ে যায় **’ভয়ে কাদা’**। সারারাত বনের খসখস, ফসফস, ফোঁসফোঁস শব্দে সে ভয় পেত।
- **জড়তা:** সে বনের ধারেই থাকত, এবং তার দাদুর ঘর ছিল ভয় দিয়ে ঘেরা। ঝড়ো-সন্ধ্যাবেলায় পিসি লণ্ঠন নিয়ে যেতে বললেও শম্ভু প্রথমে দাদুর কথা মনে করে **উনুনের পাশে আরামে শুয়ে থাকতে চেয়েছিল**।
- **অবিশ্বাস:** দাদুর দরজায় ধাক্কার শব্দ শুনেও সে বলেছিল, ‘খুলো না, খুলো না বলছি—ও দাদুর ধাক্কা নয়, দাদু আস্তে আস্তে টোকা দেয়।’
৩. ৩ নম্বর: শম্ভুর দাদু কীভাবে আঘাত পেয়েছিলেন? গুরুমশাই এসে কী বলেছিলেন?
- **আঘাত:** দাদু একা বাইরে ছিলেন। নিতাই এবং গুরুমশাই এসে জানান যে, দাদু **গাছ থেকে পড়ে অচেতন** হয়েছেন এবং **পায়ের হাড় ভেঙেছে**।
- **গুরুমশাইয়ের কথা:** গুরুমশাই ভয় না পেতে বলেন এবং শম্ভুকে নির্দেশ দেন যে, **সুসনি পাহাড়ের মাথায়** গিয়ে হাড়ভাঙা পাতার গাছ ও মধুর গুহা থেকে ওষুধ আনতে হবে। তিনি বলেন, দু-ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ না লাগালে তা কাজ করবে না।
৪. ৩ নম্বর: শম্ভুর দাদুর চিকিৎসার জন্য কী কী জিনিস প্রয়োজন ছিল?
গুরুমশাই শম্ভুর দাদুর পায়ের ব্যথা সারানোর জন্য তিনটি জিনিসের কথা বলেছিলেন:
- **পাতা:** সুসনি পাহাড়ের মাথায় থাকা **’হাড়ভাঙা পাতার গাছ’**-এর পাতা।
- **মধু:** সুসনি পাহাড়ের **পাথরের গুহাতে** উপচে পড়া লাল মধু।
- **ঔষধ তৈরি:** ওই পাতা বেটে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে লাগিয়ে দিলেই ব্যথা সেরে যাবে।
৫. ৪ নম্বর: পিসির কোন্ কথাগুলি শুনে শম্ভুর বিবেক জাগে এবং সে বাইরে যাওয়ার সাহস পায়?
শম্ভু যখন ভয় পেয়ে ঘর থেকে বের হতে চাইছিল না, তখন পিসি তাকে আঘাতপ্রাপ্ত দাদুর প্রতি তার **কর্তব্য ও ভালোবাসা**র কথা স্মরণ করিয়ে দেন:
- “যখন এতটুকুটি ছিলি, বাপ-মা তোর বিদেশে গেল, দাদুই তোকে বুকে করে মানুষ করল, সেসব কথা কি ভুলে গেছিস?”
- “যে আমাদের **প্রাণ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল**, মাথার উপরকার এই ঘরের ছাদ নিজের হাতে বেঁধেছিল… তাকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না।”
৬. ৩ নম্বর: বনের মধ্যে শম্ভুকে কে বা কারা ভয় দেখিয়েছিল?
বনের মধ্যে শম্ভুর মনের ভয় বাস্তব রূপ নেয় বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ গোষ্ঠীর গানে:
- **প্যাঁচারা:** হুতুম ও লক্ষ্মী প্যাঁচারা **’হুতুম ঘুম’** গান গেয়ে তাকে ভয় দেখায়।
- **গাছেরা:** গাছেরা হাত ধরাধরি করে পথ বন্ধ করে দেয় এবং **’নেই তোর ভয়?’** বলে তাকে ভয় দেখায়।
- **বনবেড়াল:** বনবেড়ালের দল **’বন ভোজন হবে’** গান গেয়ে শিকার ধরার কথা বলে তাকে আরও ভয় পাইয়ে দেয়।
- **মনসাঝোপ:** কাঁটা ভরা মনসাঝোপরা **’কাঁটা ভরা গায়ে, ব্যথা দেব পায়ে’** বলে টিটকিরি দেয়।
- **বাদুড়:** গুহার ভিতর থেকে বাদুড়রা **’ডানা মেলা কালো ভয়’** গান গেয়ে তাকে ভয় দেখায়।
৭. ৪ নম্বর: শম্ভু কীভাবে প্যাঁচাদের ভয় কাটালো?
প্যাঁচারা যখন ভয় দেখায়, শম্ভু তখন ভয় না পেয়ে **লণ্ঠনটা তুলে ধরেছিল**।
- **আলোর ব্যবহার:** লণ্ঠনের আলো প্যাঁচাদের চোখে পড়তেই তাদের **চোখ ধাঁধিয়ে যায়**।
- **পলায়ন:** প্যাঁচারা তখন ডানা দিয়ে মুখ ঢেকে পালাবার পথ পায় না।
- **সাহস:** এই ঘটনা শম্ভুর মনে সাহস যোগায়, সে বলে ওঠে: **”আঃ, বাঁচা গেল, সব পালিয়েছে।”** এইভাবে আলোর সাহায্যে শম্ভু প্যাঁচাদের ভয় কাটিয়েছিল।
৮. ৩ নম্বর: “না! আলো যে সইতে পারে না তাকে আমি ভয় করব না।”—শম্ভু একথা কখন বলেছিল?
শম্ভু যখন মধু সংগ্রহ করতে গুহার ভিতরে পৌঁছোয়, তখন বাদুড়রা **’ডানা মেলা কালো ভয়’** গান গেয়ে তাকে ভয় দেখায়। গুহার ভেতরটা ছিল অন্ধকার, সোঁদা গন্ধে ভরা। এই সময় শম্ভু ভয় পেয়েও এই কথাটি বলে:
- **কারণ:** বাদুড়রা আলো সইতে পারে না। তাই শম্ভু সিদ্ধান্ত নেয়, যে দুর্বলতাকে ভয় পায়, তাকে সেও আর ভয় করবে না।
- **পরিণতি:** সে লণ্ঠন তুলে ধরে গুহায় আলো ফেলে, ফলে বাদুড়ের দল ডানা মেলে বাইরে বেরিয়ে যায় এবং সে মধু সংগ্রহ করতে পারে।
৯. ৪ নম্বর: লীলা মজুমদার সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭) ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্রী (ভাইপো বা ভাইঝি) এবং প্রখ্যাত লেখক প্রমদারঞ্জন রায়ের কন্যা।
- **গ্রন্থ:** তাঁর প্রথম বই ‘বদ্যিনাথের বড়ি’। উল্লেখযোগ্য বই হলো— **’হলদে পাখির পালক’**, **’পদিপিসির বর্মিবাক্স’**, ‘মাকু’ ইত্যাদি।
- **কাজ:** তিনি দীর্ঘকাল **’সন্দেশ’** পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।
- **পুরস্কার:** সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার এবং আনন্দ পুরস্কার পেয়েছিলেন।
১০. ৪ নম্বর: বনকে পিসি কেন ‘মা-বাপ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন?
পিসি বনকে ‘মা-বাপ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, কারণ:
- **জীবিকা ও আশ্রয়:** ওই বন তাদের খাওয়ায় পরায়। দাদু বন থেকে **গাছগাছলা, ওষুধ, আঠা, মধু খুঁজে আনেন**। বনই তাদের জীবিকার উৎস এবং আশ্রয়।
- **স্নেহ:** মা-বাবা যেমন সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন, বনও তেমনি তাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। তাই বনকে ভয় না পেয়ে ভালোবাসার কথা পিসি শম্ভুকে শিখিয়েছিলেন।