বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | চতুর্থ পাঠ: আমি সাগর পাড়ি দেবো (কাজী নজরুল ইসলাম)
চতুর্থ অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘আমি সাগর পাড়ি দেবো’ কবিতায় কথকের সওদাগরী অভিযানের কারণ ও লক্ষ্যগুলি কী ছিল?
কবিতার কথক কেবল বাণিজ্যের জন্য নয়, বরং তিনটি মহৎ লক্ষ্য নিয়ে সাগরে পাড়ি দিতে চেয়েছিল:
- **মায়ের দুঃখ মোচন:** কথকের মা ছিলেন **’দুঃখিনী’**। কথক বাণিজ্য করে **’লাল জহরত পান্নাচুনি মুক্তামালা’** এনে মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চেয়েছিল। সে রাজকুমার হবে এবং মা হবেন রাজরানি।
- **বিভেদ ভাঙা:** কথক ‘দেশে দেশে দেয়াল গাঁথা’ (মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ, জাতিগত বিভেদ) **’বন্যা এনে ভাঙব’** এবং সব দেশকে **’একাকার’** করবে। সে তার দেশের সুধা (ভালো জিনিস) অন্য দেশে দেবে এবং তাদের দেশের সুধা নিজের দেশে আনবে।
- **অ্যাডভেঞ্চার ও আত্মবিশ্বাস:** সে ছিল বণিক বীর। সাত সাগরে তার সপ্ত মধুকর ভাসবে। জলদস্যু বা হিংস্র প্রাণী (হাঙর, কুমির, তিমি) দেখে তার কোনো ভয় ছিল না।
২. ৪ নম্বর: কথক কীভাবে জলদস্যুদের মোকাবেলা করার পরিকল্পনা করেছিল?
কথক জলদস্যুদের (যারা নদী বা সমুদ্রে ডাকাতি করে) ভয় পেত না এবং তাদের মোকাবেলা করার জন্য একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা করেছিল:
- **আত্মবিশ্বাস:** সে বলেছিল, ‘ভয় পায় যে এ সে ছেলেই নয়।’ দস্যুদের দাঁত ও নখর দেখে সে ভয় পায় না।
- **পাহারার ব্যবস্থা:** সে জলদস্যুদের জন্য **’পাহারা গেলাম রেখে’**।
- **নৌ-সেনা:** তার পাহারায় ছিল **’সিন্ধু-গাজি মোল্লামাঝি, নৌ-সেনা ওই জেলে’**। এরা বর্শা দিয়ে দস্যুদের বিধবে।
৩. ৩ নম্বর: ‘সপ্ত মধুকর’ এবং ‘লাল বাওটা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- **সপ্ত মধুকর:** এটি চাঁদ সওদাগরের **সাতটি বাণিজ্য তরির** (নৌকা) একটি পৌরাণিক উল্লেখ। এখানে কথকের সাত সাগরে ভাসতে যাওয়া বাণিজ্য জাহাজগুলিকে বোঝানো হয়েছে।
- **লাল বাওটা:** বাওটা মানে **পতাকা**। সওদাগরের ময়ূরপঙ্খি বজরা (বড়ো নৌকা)-তে যে লাল রঙের পতাকাটি তুলে বাণিজ্যে যাত্রা করা হতো, সেটিকে বোঝানো হয়েছে।
৪. ৩ নম্বর: সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় কথককে আর কারা সাহায্য করবে?
কথককে বাণিজ্যের সময় প্রকৃতি ও অন্যান্যরা সাহায্য করবে:
- **সমুদ্র:** **সিন্ধু (সাগর)** তার বন্ধু হবে এবং তার রতন মানিক দিয়ে তরি (নৌকা) বোঝাই করে **উপহার** দেবে।
- **জলজ জীব:** **শুক্তি** (ঝিনুক) সওদাগরকে **মুক্তামালা নজরানা** (উপঢৌকন) দেবে।
- **পাখি:** চারপাশে **গাঙচিলেরা ভিড়** করবে।
৫. ৪ নম্বর: ‘বন্যা এনে ভাঙব বিভেদ করব একাকার’—এই কথার দ্বারা কবি কী ধরনের বিভেদ দূর করতে চেয়েছেন?
এই চরণটির দ্বারা কবি দেশ ও জাতির মধ্যে থাকা সকল কৃত্রিম বিভেদ দূর করতে চেয়েছেন:
- **’দেয়াল গাঁথা’:** এটি দেশ-দেশান্তরে মানুষে-মানুষে তৈরি হওয়া **জাতিগত, ধর্মগত, ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক ভেদাভেদের** প্রতীক।
- **’বন্যা এনে ভাঙব’:** এই বিভেদগুলিকে তিনি বাণিজ্যের মাধ্যমে বা **উদার বিনিময়ের** মাধ্যমে ভাঙতে চান।
- **একাকার:** তিনি তার দেশের **’সুধা’ (ভালো জিনিস)** অন্য দেশে দিয়ে এবং অন্য দেশের সুধা নিজের দেশে এনে সকলকে **মিলেমিশে একাকার** করতে চেয়েছেন।
৬. ৩ নম্বর: সওদাগরের তরি কিসের মতো দুলে দুলে চলবে?
সওদাগরের নৌকাটি ছিল **’ময়ূরপঙ্খি বজরা’**। এই নৌকাটি:
- **পতাকা:** তাতে **’লাল বাওটা’** তুলে দেওয়া হয়েছিল।
- **তুলনা:** নৌকাটি **’ঢেউ-এর দোলায় মরাল সম’** (রাজহাঁসের মতো) দুলে দুলে চলবে।
- **গতি:** এর মাধ্যমে নৌকাটির শান্ত ও সুন্দর গতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
৭. ৪ নম্বর: কথক সওদাগরী করে তার মায়ের জন্য কী আনতে চেয়েছিল?
কথকের মা ছিলেন দুঃখিনী। তার দুঃখ ঘুচাতে সওদাগর তার মায়ের জন্য বহুমূল্য রত্ন ও সম্পদ আনতে চেয়েছিল:
- **রত্ন:** সে **’লাল জহরত পান্নাচুনি মুক্তামালা’** আনতে চেয়েছিল।
- **প্রতিজ্ঞা:** সে মাকে বলেছিল, **”সেই মণি মা দেব এনে তোর ঘরে যা নাই।”**
- **উদ্দেশ্য:** এই সম্পদ এনে সে মায়ের দুঃখ ঘুচিয়ে **’জগৎ জুড়ে সুখ কুড়াব’** এবং মা-কে রাজরানি করবে।
৮. ৩ নম্বর: কবিতায় কোন কোন জলজ প্রাণীর উল্লেখ আছে?
কবিতায় জলদস্যুদের (জলদস্যু) পাশাপাশি বেশ কিছু জলজ প্রাণীর উল্লেখ আছে:
- **হিংস্র প্রাণী:** হাঙর, কুমির, তিমি।
- **অন্যান্য প্রাণী:** মরাল (রাজহাঁস), গাঙচিলেরা (এক ধরনের পাখি), শুক্তি (ঝিনুক)।
৯. ৪ নম্বর: ‘খাজনা জোগায় রাজ্যে আমার হাজার নদীর নীর’ – চরণটির ভাবার্থ লেখো।
- **রাজ্য:** কথক নিজেকে বণিক বীর এবং সাত সাগরের রাজা মনে করেন।
- **খাজনা:** সাধারণ রাজার রাজস্ব বা খাজনা আসে প্রজা বা জমি থেকে। কিন্তু কথকের রাজ্যে **’হাজার নদীর নীর’ (জল)** খাজনা হিসেবে আসে।
- **তাৎপর্য:** এর অর্থ হলো, সমস্ত নদী তার নৌকাকে সমুদ্রে বয়ে নিয়ে গিয়ে তার বাণিজ্যের পথকে সহজ করে দেয় এবং তার বাণিজ্যের সম্পদ আহরণে সাহায্য করে। নদীগুলিই তার রাজত্বের চালিকাশক্তি।
১০. ৪ নম্বর: কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) হলেন বাংলা কাব্যজগতের **’বিদ্রোহী কবি’**। তাঁর জন্ম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- **সাহিত্য:** তাঁর প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’ প্রকাশিত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমগ্র বাংলায় খ্যাতি লাভ করেন।
- **themes:** তিনি কেবল ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করেননি, সমস্ত **অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে**ও কলম ধরেছেন।
- **গ্রন্থ:** তাঁর রচিত বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে— অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, সাম্যবাদী, সর্বহারা ইত্যাদি।