বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | চতুর্থ পাঠ: আমাজনের জঙ্গলে (অমরেন্দ্র চক্রবর্তী)
চতুর্থ অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘বোতো’কে দেখে আগন্তুক ছেলেটির মনে কী ধরনের ভাবনা এসেছিল? আমাজন অঞ্চলে বোতো সম্পর্কে কী বিশ্বাস প্রচলিত আছে?
**বোতোকে দেখে আগন্তুক ছেলেটির ভাবনা:**
- **আশ্চর্য প্রাণী:** বোতো দেখতে ছিল খুব লম্বা মতো, নাক বা ঠোঁট খুব সরু (প্রায় দেড় হাত)। তার মস্ত বড়ো মাথা, যা মানুষের মস্তিষ্কের চেয়েও বড়ো হতে পারে। লেজটি শরীরের শেষ প্রান্ত থেকে দু-দিকে ভাগ হয়ে সুন্দর দেখাচ্ছিল। রং ছিল গোলাপির দিকে।
- **সৌভাগ্য:** ছেলেটি ভেবেছিল, যদি বোতো ডলফিন হয়, তবে পূর্ণিমা রাতে আমাজনে ডলফিন দেখাও ভাগ্যের কথা।
- **দেবতা:** আর যদি আমাজনের দেবতা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই তার মনের কষ্ট ও প্রার্থনা বোতোর অজানা থাকবে না।
- **নীরব প্রার্থনা:** সে মনে মনে বোতোর কাছে তার মা-বাবা এবং স্কুলের বন্ধুদের কাছে ফিরে যাওয়ার উপায় করে দিতে প্রার্থনা করেছিল।
২. ৪ নম্বর: কলকাতা শহর সম্পর্কে উবার ধারণা কেমন ছিল? এই ধারণা কেন তৈরি হয়েছিল?
উবার চোখে কলকাতা শহর ছিল একটি **’বালির দেশ’** বা মরুভূমির মতো।
- **ধারণা:** উবা মনে করত কলকাতায় জঙ্গল নেই, পাখি নেই, প্রজাপতি নেই, বড়ো বড়ো নদনদী নেই। তাই সে আগন্তুক ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি সেখানে থাকো কী করে?”
- **কারণ:** উবা আমাজনের ঘন বনজঙ্গল, নদী এবং প্রকৃতির প্রাচুর্যের মধ্যে বড়ো হয়েছে। আগন্তুক ছেলেটি যখন তাকে কাঠকুটো দিয়ে কলকাতা শহরের ছবি এঁকে বোঝায় (ঘর-বাড়ি, গাড়ি-ঘোড়া, টিনের গাড়িতে গাদাগাদি করে স্কুলে যাওয়া ছেলেমেয়ে), তখন উবা এই শহরকে তার বনের তুলনায় **শুষ্ক, প্রাণহীন এবং কংক্রিটের** মনে করেছিল।
৩. ৩ নম্বর: উবা আগন্তুক ছেলেটিকে কেন কলকাতা ফিরে যেতে বারণ করেছিল?
উবা তার গভীর দৃষ্টির মাধ্যমে ছেলেটির মনের কথা বোঝার চেষ্টা করত।
- **শিক্ষার পার্থক্য:** উবা মনে করত জঙ্গলের গাছপালা, ফুল ফল, কীটপতঙ্গের সঙ্গে না থেকে, গ্রীষ্ম বর্ষা শীত বসন্ত না দেখে কলকাতায় বসে এই জগৎটাকে জানা সম্ভব নয়।
- **প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতা:** উবা প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে কেবল ঘর-বাড়ি ভরা কৃত্রিম শহরকে শিক্ষা ও জীবনের জন্য উপযুক্ত মনে করত না। তাই সে ছেলেটিকে সেই **’বালির দেশ’**-এ (কলকাতা) ফিরে যেতে বারণ করেছিল।
৪. ৩ নম্বর: উবা কীভাবে আগন্তুক ছেলেটির পরিচয় ও মন বোঝার চেষ্টা করত?
উবা ছেলেটির পরিচয় ও মন বোঝার জন্য দুটি প্রধান উপায় অবলম্বন করত:
- **চোখের দৃষ্টি:** উবা হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে ছেলেটির দু-চোখের ওপর তার **গভীর চোখ দুটি মেলে** রেখে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকত এবং দূরবর্তী কিছু দেখবার চেষ্টা করত।
- **কাঠকুটোর ছবি:** সে কাঠকুটো দিয়ে ছবি তৈরি করত এবং তার দৃষ্টি দেখে বুঝতে চাইত যে ছেলেটি কে, কোথা থেকে এসেছে এবং তার পৃথিবীটা কেমন। উবা কাঠকুটো দিয়ে ছবি আঁকায় ভারি ওস্তাদ ছিল।
৫. ৪ নম্বর: নৌকো উৎসবে ‘বোতো’কে দেখার খবর কীভাবে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত?
নৌকো উৎসবের রাতে বোতোকে দেখা যাওয়া সৌভাগ্যের লক্ষণ ছিল এবং এই সুখবর দ্রুত সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত:
- **সূচনা:** কোনো একটি নৌকো থেকে বোতোর দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই নৌকোর **গান-বাজনা হঠাৎ থেমে যেত**।
- **সংকেত:** একটি নৌকোর গান-বাজনা থেমে যাওয়া মানেই সকলে বোতোর দেখা পাওয়ার কথা জেনে যেত।
- **প্রসার:** বাকি নৌকো যারা যত আগে খেয়াল করত, তারা তত আগে তাদের নৌকোর গান-বাজনা থামাত। এভাবে খুব কম সময়ের মধ্যেই সব নৌকোর কাছে সুখবরটি পৌঁছে যেত।
৬. ৩ নম্বর: আগন্তুক ছেলেটি কেন কাকাদের সঙ্গে না থাকাকে সৌভাগ্যজনক মনে করেছিল?
আগন্তুক ছেলেটি তার **ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তার** মধ্যেও কাকাদের কথা মনে করে।
- **কাকাদের স্বভাব:** সে জানত, কাকারা সঙ্গে থাকলে তার পক্ষে আমাজন জঙ্গল, নদী, চাঁদ বা মানুষজন—এরকম **রোমাঞ্চকর জিনিস** কিছুই দেখা হতো না।
- **স্বাধীনতা:** কাকারা সম্ভবত তাকে কড়া শাসনে রাখত। তাই তাদের অনুপস্থিতিতে সে আমাজনের এই অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারছিল, যা তার কাছে সৌভাগ্যজনক মনে হয়েছিল।
৭. ৪ নম্বর: আগন্তুক ছেলেটি উবাকে তার স্কুল এবং কলকাতা সম্পর্কে কী কী ছবি এঁকে বুঝিয়েছিল?
আগন্তুক ছেলেটি উবাকে তার শহর কলকাতা সম্পর্কে একটি বড়ো ছবি এঁকে বুঝিয়েছিল:
- **শহরের বর্ণনা:** ছবিতে ছিল কলকাতা শহরের ঘর-বাড়ি, গাড়ি-ঘোড়া, দোকানবাজার এবং লোকজন।
- **স্কুলের বর্ণনা:** স্কুল সম্পর্কে বোঝাতে সে ভ্যানরিকশায়, অনেকটা **টিনের বড়ো বাক্সের মতো দেখতে** চারদিক বন্ধ গাড়িতে ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েরা **গাদাগাদি করে বসে স্কুলে যাচ্ছে**—এই ছবি এঁকেছিল।
- **উবার প্রতিক্রিয়া:** উবা এই টিনের গাড়ির ছবি দেখে অবাক হয়েছিল এবং তার অর্থ বুঝতে পারেনি।
৮. ৩ নম্বর: নৌকো উৎসবের রাতে আমাজন নদীর পরিবেশ কেমন ছিল?
নৌকো উৎসবের রাতে আমাজন নদীর পরিবেশ ছিল রহস্যময় ও সুন্দর:
- **আলো:** আকাশে বিরাট চাঁদ উঠেছিল।
- **নদী:** নীচে ছিল বিশাল আমাজন নদী।
- **শব্দ:** প্রথমে নৌকো থেকে সুরেলা বাজনা ভেসে আসছিল, কিন্তু বোতোকে দেখার পর হঠাৎই গান-বাজনা থেমে গিয়ে **অদ্ভুত স্তব্ধতা** নেমে এসেছিল।
৯. ৪ নম্বর: ‘আমাজনের জঙ্গলে’ গল্পের লেখক অমরেন্দ্র চক্রবর্তী সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
অমরেন্দ্র চক্রবর্তী (জন্ম ১৯৪১) একজন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক, কবি, পর্যটক, পত্রিকা সম্পাদক এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা।
- **ভ্রমণ:** তিনি পৃথিবীর নানাদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
- **রচনা:** তাঁর বহু গ্রন্থ নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বইগুলি হলো: **’আমাজনের জঙ্গলে’**, ‘শাদা ঘোড়া’, ‘হীবু ডাকাত’ ইত্যাদি।
- **সম্পাদনা:** তিনি ‘কালের কষ্টিপাথর’, ‘ছেলেবেলা’, ‘ভ্রমণ’, ‘কর্মক্ষেত্র’ ইত্যাদি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
১০. ৪ নম্বর: ‘বোতো’কে দেখে আগন্তুক ছেলেটি মনে মনে কী প্রার্থনা করেছিল?
বোতো যখন জলে আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন আগন্তুক ছেলেটি মনে মনে তাকে আমাজনের রক্ষাকর্তা ভেবেছিল এবং তার কাছে একটি নীরব প্রার্থনা করেছিল:
- **স্বীকৃতি:** “বোতো, তুমি কে, আমি জানি না।”
- **প্রার্থনা:** “তুমি যদি সত্যিই আমাজনের রক্ষাকর্তা হও, তুমি **আমাকে আমার মা বাবা আর স্কুলের বন্ধুদের কাছে ফিরে যাওয়ার উপায় করে দিও**।”
- **কারণ:** ছেলেটি আমাজনে হারিয়ে গিয়েছিল, তাই সে তার নিজের পরিচিত জীবনের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিল।