বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | তৃতীয় পাঠ: মালগাড়ি (প্রেমেন্দ্র মিত্র)
তৃতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: মালগাড়ির জীবনের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের জীবনের মূল পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।
কবি মালগাড়ির দৃষ্টিকোণ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন (তুফান কী মেল ট্রেন) এবং মালগাড়ির জীবনের মধ্যে বড়ো ধরনের পার্থক্য তুলে ধরেছেন:
- **উদ্দেশ্য ও ব্যস্ততা:** যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি সবসময় **’কাজের ধান্দা’** (যাত্রী ওঠানো, নামানো) নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের একটাই চিন্তা—কোথাও **’লেট হয়ে যায় পাছে’**। অন্যদিকে, মালগাড়ির কোনো তাড়া নেই, তার চলা **’নিজের খুশির চলা’**।
- **গতি ও প্রকৃতি:** যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি দ্রুতগামী (মেল ট্রেন, তুফান)। মালগাড়ি চলে **’ঘটুর ঘটুর দিনরাত্তির’**—যা ভাটার নদীর মতো ধীর।
- **স্বাধীনতা ও রুট:** যাত্রীবাহী ট্রেনের **’টাইমটেবিল’** থাকে এবং **’ঠিক-ঠিকানা’** বাঁধা। মালগাড়ির কোনো দায় নেই টাইমটেবিল দেখার, তার জন্য **’সারা লাইন শুধু আমার একার’** এবং **’সব রাস্তাই খোলা’**।
- **সুখ:** যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি **’পৌঁছোতে চায় ছুটে’**, আর মালগাড়ির সুখ হলো **’অশেষ চলতে পাওয়া’** (গতিতে নয়, স্থিতাবস্থায়)।
২. ৪ নম্বর: ‘নেইকো তাড়া, যেন ভাটার নদী’ – মালগাড়ির চলার সঙ্গে ভাটার নদীর তুলনার কারণ কী?
মালগাড়ির চলার গতির সঙ্গে ভাটার নদীর তুলনা করা হয়েছে, কারণ:
- **ধীরগতি:** ভাটার সময় নদীর জলপ্রবাহ খুব ধীরে এবং শান্তভাবে চলে, তাতে কোনো জোর বা তাড়া থাকে না। মালগাড়িও খুব ধীরে, **’ঘটুর ঘটুর’** শব্দে চলে, যা দ্রুতগামী মেল ট্রেনের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- **অবিরামতা:** জোয়ারের মতো উত্তেজনা ভাটার নদীতে নেই, কিন্তু তার গতি অবিরাম। তেমনি মালগাড়ির চলার কোনো দ্রুত তাড়া না থাকলেও, তার চলন দিন-রাত্তির ধরে চলতে থাকে।
- **স্বাধীনতা:** ভাটার নদী তার নিজের গতিতে চলে, ঠিক তেমনি মালগাড়িও নির্দিষ্ট সময়ের বাঁধাধরা নিয়ম না মেনে চলে।
৩. ৩ নম্বর: কথক কেন জন্মদিনে পরির কাছে ‘মালগাড়ি’ হওয়ার বর চাইবেন?
কবি যখন কল্পনা করেন যে তার জন্মদিনে **’মিষ্টি একটা পরি’** যদি ভুল করে তার বাড়ি আসে এবং তাকে একটি বর দিতে চায়, তবে তিনি মালগাড়ি হওয়ার বরটি চাইবেন। এর কারণ হলো:
- **স্বাধীন জীবন:** মালগাড়ির জীবনে কোনো তাড়া নেই, কোনো টাইমটেবিল দেখার দায় নেই। সে নিজের খুশিমতো চলতে পারে।
- **অবিরাম সুখ:** মালগাড়ির সুখ হলো গন্তব্যে পৌঁছানোয় নয়, বরং **অশেষ চলতে পাওয়া**তে। এই স্বাধীন, রুটিনমুক্ত জীবনটিই কবি বেছে নিতে চান।
৪. ৩ নম্বর: মালগাড়ির দৃষ্টিতে যাত্রীবাহী ট্রেন কীভাবে হাঁসফাঁসিয়ে মরে?
মালগাড়ির দৃষ্টিতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি **’হাঁসফাঁসিয়ে মরে’** কারণ:
- **সময়ের চাপ:** তাদের সবসময় নির্দিষ্ট ‘টাইমটেবিল’ মেনে চলতে হয় এবং ‘লেট হয়ে যায় পাছে’—এই ভাবনা নিয়ে চলতে হয়।
- **অবিরাম কাজ:** তাদের কাজ হলো কেবল যাত্রী ওঠানো ও নামানো। তাদের জীবনে গন্তব্যে পৌঁছোনোর **তাড়া ও অস্থিরতা** থাকে।
- **সীমিত স্বাধীনতা:** যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি শুধুমাত্র **’যাচ্ছি যাব’** করেই ছোটে এবং তাদের চলার পথে স্বাধীনতা কম।
৫. ৪ নম্বর: মালগাড়ি কেন নিজেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের চেয়ে বেশি স্বাধীন মনে করে?
মালগাড়ি নিজেকে বেশি স্বাধীন মনে করে, কারণ:
- **রুটিনহীনতা:** মালগাড়ির কোনো বাঁধাধরা টাইমটেবিল নেই। সে যখন খুশি চলতে পারে।
- **অবাধ গতিপথ:** অন্য ট্রেনগুলোর যাওয়া-আসার ‘বাঁধা ঠিক-ঠিকানা’ থাকলেও মালগাড়ির জন্য **’সব রাস্তাই খোলা’** এবং **’সারা লাইন শুধু আমার একার’**।
- **গতির নিয়ন্ত্রণ:** তার চলার গতির উপর তার নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে, গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তাকে **ছুটে যেতে হয় না**।
৬. ৩ নম্বর: মালগাড়ি ও যাত্রীবাহী ট্রেন কী কী কাজ করে?
- **যাত্রীবাহী ট্রেন (তুফান, মেল ট্রেন):** এদের প্রধান কাজ হলো **যাত্রী ওঠানো ও নামানো**। অর্থাৎ মানুষ পরিবহন করা।
- **মালগাড়ি:** এদের কাজ হলো দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে **পণ্যদ্রব্য ও মালপত্র পরিবহন** করা। যদিও কবিতায় এর মাল পরিবহনের কাজ সরাসরি বলা নেই, তবে ‘মালগাড়ি’ নামেই তার কাজ বোঝা যায়।
৭. ৪ নম্বর: ‘আমার সুখ তো অশেষ চলতে পাওয়া’ – কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
এই কথাটির মাধ্যমে মালগাড়ি জীবনের **অবিরাম গতি**-কে আনন্দের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
- **অশেষ:** এর অর্থ হলো যার শেষ নেই। মালগাড়ি চলার এই সুখ কখনও শেষ হতে চায় না।
- **সুখ:** অন্যান্য ট্রেনগুলি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছোতেই সুখ খোঁজে, কিন্তু মালগাড়ির কাছে সুখ হলো গন্তব্যের চিন্তা না করে **দিন-রাত ধরে পথে থাকা** এবং অবিরাম চলতে পারা। এটি জীবনযাত্রার প্রতি এক দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
৮. ৩ নম্বর: ‘চাই না আমি তুফান কী মেল ট্রেন’ – কবি কেন তুফান বা মেল ট্রেনের জীবন চান না?
কবি দ্রুতগামী তুফান বা মেল ট্রেনের জীবন চান না, কারণ:
- **রুটিনের দাসত্ব:** এই ট্রেনগুলিকে সর্বদা নির্দিষ্ট সময়সূচী বা টাইমটেবিল মেনে চলতে হয়।
- **অস্থিরতা:** তাদের মনে সব সময় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ ও **’লেট হয়ে যায় পাছে’** এই অস্থিরতা থাকে।
- **স্বাধীনতার অভাব:** তাদের চলাফেরায় মালগাড়ির মতো স্বাধীনতা থাকে না।
৯. ৪ নম্বর: কবিতাটিতে ব্যবহৃত দুটি বিপরীত অর্থের শব্দ এবং দুটি সমার্থক শব্দ জোড় উল্লেখ করো।
- **বিপরীতার্থক শব্দ জোড়:** দিনরাত্তির (দিন ও রাত), যাওয়া-আসার (যাওয়া এবং আসা), অশেষ (শেষ নেই) – সশেষ (শুদ্ধ রূপ না হলেও বিপরীতার্থক)।
- **সমার্থক শব্দ জোড়:** তুফান – ঝড়, মেল ট্রেন – দ্রুতগামী ট্রেন, লেট – দেরি, ধান্দা – কাজ।
১০. ৪ নম্বর: প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৩-১৯৮৮) বাংলা সাহিত্যের **’কল্লোল’** যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক। রবীন্দ্রনাথের পরবর্তীকালে গদ্য ও পদ্যে নতুন রীতি আনতে তার অবদান ছিল। তিনি ছোটোগল্প, উপন্যাস, কবিতা, শিশু-কিশোর সাহিত্য সব বিষয়েই দক্ষ ছিলেন।
- **উল্লেখযোগ্য কাজ:** তিনি **’কালিকলম’** পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- **সৃষ্টি:** তার সৃষ্ট **’ঘনাদা’** চরিত্রটি ছোটোদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘সাগর থেকে ফেরা’ উল্লেখযোগ্য।