বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | তৃতীয় পাঠ: বনের খবর (প্রমদারঞ্জন রায়)
তৃতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: লুশাই পাহাড়ের জঙ্গলকে ভয়ংকর জায়গা বলা হয়েছে কেন? সেখানে লেখকের কাজ কী ছিল?
লুশাই পাহাড়ের জঙ্গলকে ভয়ংকর জায়গা বলার মূল কারণগুলি হলো:
- **বিশালতা ও জনমানবহীনতা:** জঙ্গলটি ছিল সাড়ে-ছশো সাতশো বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে কোনো গ্রাম ছিল না, পথও ছিল না।
- **ঘন বন:** এক-এক জায়গায় বন এত ঘন ছিল যে আকাশ দেখাই যেত না, মনে হতো যেন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।
- **বুনো জন্তুর কিলিবিলি:** সেখানে মানুষের নামগন্ধ ছিল না, ছিল শুধু জানোয়ারের কিলিবিলি। সন্ধ্যার পর পা ফেলতে গেলে মনে হতো এই বুঝি বাঘই মাড়ালাম।
- **লেখকের কাজ:** লেখক সেখানে **ভারতীয় জরিপ বিভাগের অফিসার** হিসেবে জরিপ সংক্রান্ত কাজের (বন ও এলাকার মানচিত্র তৈরির) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই কাজের জন্য বন কেটে পথ তৈরি করে তাদের এগোতে হতো।
২. ৪ নম্বর: লেখক ও তার সঙ্গীরা কীভাবে বনের মধ্যে পথ তৈরি করে অগ্রসর হতেন?
লেখক ও তার ষাটজন সঙ্গীর দল এই ভয়ংকর জঙ্গলে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পথ তৈরি করত:
- **অগ্রগামী দল:** লেখক সকলের আগে আগে চলতেন। তাঁর সঙ্গে থাকতেন একজন বুড়ো **লুশাই শিকারি** এবং দুজন খালাসি (শ্যামলাল সহ)।
- **পথ নির্দেশ:** তাঁরা চারজনে গাছে দাগ কেটে অন্য সকলের **আধ মাইল বা কিছু বেশি আগে** এগিয়ে যেতেন।
- **মূল দল:** সেই দাগ দেখে বাকি লুশাই কুলিরা বন কেটে পথ তৈরি করত এবং হাতি ও অন্যান্য লোকদের নিয়ে আসত।
- **গতি:** অত মেহনতের পরও দিনে চার-পাঁচ মাইলের বেশি অগ্রসর হওয়া যেত না।
৩. ৩ নম্বর: প্রথম গন্ডারটির সঙ্গে লেখকের কীভাবে দেখা হয়েছিল?
- **পথ পরিবর্তন:** লেখক ও তার দলবল বুনো হাতিদের পাওয়া একটি পনেরো-কুড়ি ফুট চওড়া রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন।
- **ঘটনা:** চলতে চলতে তাঁরা দেখেন পথের উপর প্রকান্ড গাছ পড়ে রয়েছে। লেখক গাছটা ডিঙোবে কী করে, তা দেখতে গাছটার উপর চড়তে আরম্ভ করেন।
- **আবিষ্কার:** গাছটার উপর পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই লেখকের পায়ের নীচেই যেন একটা কী **হুড়মুড় করে উঠল**। সেটা আসলে ছিল একটি গন্ডার, যা গাছপালা ভেঙে কামানের গোলার মতো বেরিয়ে এসে ‘ঘোঁৎ’ বলে দৌড় দেয়।
৪. ৩ নম্বর: গন্ডার দেখে শ্যামলাল কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল?
প্রথম গন্ডারটিকে দেখে শ্যামলালের প্রতিক্রিয়া ছিল ভীরুতার:
- **প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া:** যখন লেখক জিজ্ঞেস করেন ‘কেয়া হ্যায় রে?’, তখন শ্যামলাল প্রথমে আন্দাজ করে বলেছিল, ‘হুল্লুমান হোগা হুজুর’ (হনুমান হবে)।
- **ভয়:** কিন্তু যখন গন্ডারটি বেরিয়ে এল, শ্যামলাল বন্দুক ফেলে **প্রাণ বাঁচাবার সোজা পথ খুঁজতে** পালায়। লেখক পিছনের দিকে হাত বাড়িয়েছিলেন বন্দুক নেওয়ার জন্য, কিন্তু শ্যামলাল ততক্ষণে উধাও।
৫. ৪ নম্বর: দ্বিতীয়বারের মতো গন্ডারের সামনে পড়ে লেখক কীভাবে নিজেকে রক্ষা করেছিলেন?
লেখক, লুশাই বুড়ো এবং শ্যামলাল শুকনো নালায় নামার পর গন্ডারের মুখোমুখি হন।
- **পরিস্থিতি:** গন্ডারটি ছিল বিশালদেহী এবং যমদূতের দাদামশাইয়ের মতো ফোঁস-ফোঁস করছিল। লেখকের পকেটে ছিল মাত্র তিনটি গুলিওয়ালা টোটা, আর মাঝে ছিল পনেরো ফুট চওড়া নালা। শ্যামলাল আগেই পালিয়েছিল।
- **প্রস্তুতি ও বুদ্ধি:** লেখক ভয় না পেয়ে **ধীরে ধীরে বন্দুকে গুলি ভরে প্রস্তুত হয়ে রইলেন**। তাঁর পরিকল্পনা ছিল—গন্ডার যদি নালা পার হয়ে এপারে আসতে চায়, তবেই গুলি চালাবেন, নইলে নয়।
- **ফল:** শেষ পর্যন্ত লেখককে গুলি চালাতে বা লুশাই বুড়োকে গাছে চড়তে হলো না, কারণ গন্ডারটি মিনিটখানেক পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে হুংকার দিয়ে পাহাড়ে উঠে গেল।
৬. ৩ নম্বর: কেন ভোরবেলা শিকার সামনে পড়লেও মারতে পারা যাচ্ছিল না?
লেখক দ্বিতীয় দিন খুব ভোরে বন্দুক ভরে নিয়ে চলতে শুরু করেছিলেন, কারণ ভোরবেলা নানারকম শিকার পাওয়া যায়। কিন্তু শিকার সামনে পড়লেও মারতে পারছিলেন না, কারণ:
- জঙ্গলে তখন **ঘোর বন** ছিল।
- তখন **কুয়াশাও** ছিল।
- শিকার দেখতে-না-দেখতে জঙ্গলে মিলিয়ে যাচ্ছিল।
৭. ৪ নম্বর: হাতিদের তাড়ানোর জন্য লুশাইরা রাতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?
যেহেতু তাঁবুর কাছে হাতিরা আক্রমণ করতে আসছিল, তাই তাদের তাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল:
- **ধুনি:** তাঁবুর চারপাশে **খুব বড়ো বড়ো ধুনি** (অগ্নিকুণ্ড) আর পাহারার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।
- **মশাল:** লুশাইরা **শুকনো বাঁশের মশাল** তৈরি করে, লম্বা লম্বা কাঁচা বাঁশের আগায় বেঁধে রাখল।
- **কৌশল:** রাতে হাতি এলে তারা ওই মশাল জ্বেলে, তার লম্বা বাঁশের বাঁট ধরে ঘুরিয়ে হাতি তাড়াবে। এছাড়া তাদের পোষা হাতি দুটি ছটফট করে চিৎকার করত, আর লোকরাও বিকট চিৎকার করে হাতিদের ভাগাত।
৮. ৩ নম্বর: লেখক কীভাবে বুনো হাতিদের ডাকের জবাব দিয়েছিলেন?
পাগুলো খুলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় লেখক পিছনের লোকদের ডাকতে বার দুই **’উ-উ’** করে চেঁচিয়েছিলেন।
- পাহাড় থেকে একটি হাতিও ঠিক একই সুরে **’উ-উ’** বলে ডেকে ওঠে।
- লেখক আবার চেঁচালেও হাতিগুলো আবার ঠিক তেমনি করে।
- এর ফলে হাতিরা মনে করে এটা কোনো অন্যরকম জানোয়ারের ডাক। তিন-চারটে হাতি লেখকের চিৎকারের কারণ দেখতে নীচে নেমে আসে।
৯. ৪ নম্বর: হাতির পায়ের দাগ দেখে লেখক ও লুশাই বুড়োর মন্তব্যের পার্থক্য কী ছিল?
পাকোয়া নদীর ধারে হাতির পায়ের তাজা দাগ দেখে লেখক ও লুশাই বুড়ো দুজনেই মন্তব্য করেন:
- **লেখকের মন্তব্য:** পায়ের দাগ দেখে লেখক প্রথমে বলেছিলেন যে **’পাঁচ-সাতটা হাতি হবে’**।
- **লুশাই বুড়োর মন্তব্য:** লুশাই বুড়ো ভালো করে দেখে বললেন, **’চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশটার কম নয়’**।
- **পার্থক্য:** হাতির পালটি ‘ঠিক দাগে-দাগে পা ফেলে’ গিয়েছিল বলে লেখকের ভুল হয়েছিল, কিন্তু অভিজ্ঞ শিকারি লুশাই বুড়ো হাতির সংখ্যা সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন।
১০. ৪ নম্বর: প্রমদারঞ্জন রায় সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
প্রমদারঞ্জন রায় (১৮৭৪-১৯৪৯) ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর অনুজ (ছোটো ভাই) এবং লীলা মজুমদারের পিতা। তিনি শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাঠ অসম্পূর্ণ রেখেই ভারতীয় জরিপ বিভাগের অফিসার পদে চাকরি পান।
- **কর্মজীবন:** তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারত, বর্মা, শ্যামদেশের ঘন জঙ্গলে ঘুরেছেন।
- **রচনা:** তাঁর বিখ্যাত বই **’বনের খবর’**-এ তাঁর চাকরি জীবনের দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতার কথা রয়েছে। তিনি ছিলেন শিকার কাহিনি সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক।