বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | তৃতীয় পাঠ: বিচিত্র সাধ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
তৃতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘বিচিত্র সাধ’ কবিতায় শিশুটির মনে যে তিনটি মানুষের মতো হওয়ার সাধ জেগেছিল, তার মূল কারণগুলি কী ছিল?
কবিতার শিশুটি তার বাঁধাধরা রুটিন (পাঠশালা যাওয়া, পড়াশোনা করা, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো) থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিল। তাই সে তিনজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে ঈর্ষা করত।
- **ফেরিওলা:** শিশুটি যখন দশটা বেলায় পাঠশালায় যায়, তখন ফেরিওয়ালাকে দেখে। ফেরিওয়ালার **কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই**, যখন খুশি সে ফেরি নিয়ে যেতে পারে এবং যখন খুশি বাড়ি গিয়ে খেতে পারে। তার জীবনের এই **অবাধ স্বাধীনতা** শিশুটিকে আকর্ষণ করে।
- **মালি:** শিশুটি বিকেল সাড়ে চারটেয় ঘরে ফিরে মালিকে ফুল-বাগানে কোদাল দিয়ে মাটি কোপাতে দেখে। মালি **যত খুশি ধুলোবালি মেখে কাজ করতে পারে**, কেউ তাকে বকে না বা সাফ জামা পরাতে চায় না। শিশুটি তার **ইচ্ছেমতো কাজ করার মুক্তি** চেয়েছিল।
- **পাহারওলা:** রাতে যখন শিশুটিকে ঘুম পাড়ানো হয়, তখন সে পাহারওলাকে গলির ধারে লণ্ঠন হাতে জেগে থাকতে দেখে। পাহারওলার **কোনো সময়সীমা নেই**, রাত দশটা-এগারোটা হয়ে গেলেও কেউ তাকে কিছু বলে না। শিশুটি এই **অনিয়ন্ত্রিত জীবন** এবং **রাতের জগৎ দেখার স্বাধীনতা** কামনা করে।
২. ৪ নম্বর: ফেরিওয়ালা ও মালির জীবনের সঙ্গে শিশুটির নিজের জীবনের পার্থক্য কোথায় ছিল?
শিশুটির জীবন ছিল কঠোর নিয়মের অধীনে, যেখানে ফেরিওয়ালা ও মালির জীবন ছিল মুক্ত।
- **ফেরিওয়ালা:** ফেরিওয়ালা **’চুড়ি চা-ই’** বলে হাঁকতে হাঁকতে যায়। তার **পাঠশালায় যাওয়ার তাড়া নেই**। কিন্তু শিশুটিকে দশটা বাজতেই সেলেট ফেলে পাঠশালায় যেতে হয়।
- **মালি:** মালি গায়ে ধূলোবালি মাখলেও কেউ তাকে বকে না বা ‘সাফ জামা’ পরাতে চায় না। কিন্তু শিশুটিকে বিকেলে ঘরে ফিরতে হয়, হাত থেকে কালি মেখে পরিষ্কার হতে হয় এবং তার কাজে সবসময় নজরদারি থাকে। মালি তার **কোদাল পায়ের ওপর পড়লেও কেউ মানা করে না**, যা শিশুটির জীবনে অসম্ভব।
৩. ৩ নম্বর: রাতের বেলা পাহারওলার জীবন কেন শিশুটিকে আকর্ষণ করত?
শিশুটিকে একটু বেশি রাত না হতেই মা ঘুম পাড়াতে চান, কিন্তু বাইরে পাহারওলা জেগে থাকে।
- **সময়:** পাহারওলাকে রাত দশটা-এগারোটা হয়ে গেলেও কেউ কিছু বলে না। তার **ঘুমাবার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই**।
- **রহস্য:** সে আঁধার গলিতে লণ্ঠনটি ঝুলিয়ে আপন মনে জেগে থাকে। শিশুটি এই **অন্ধকার রহস্যময় জগৎটি দেখার** এবং সেই জীবনে **স্বাধীনভাবে জেগে থাকার** স্বাধীনতা কামনা করে।
৪. ৩ নম্বর: ফেরিওয়ালা কী কী জিনিস ফেরি করত?
শিশুটির বাড়ির গলি দিয়ে যাওয়া ফেরিওয়ালা যে জিনিসগুলি ফেরি করত:
- **প্রথম জিনিস:** ফেরিওয়ালা হাঁক দিত, **’চুড়ি চা-ই, চুড়ি চাই’**।
- **অন্যান্য জিনিস:** তার ঝুড়িতে **চিনের পুতুল** থাকত।
৫. ৪ নম্বর: ‘সেলেট ফেলে দিয়ে’ এবং ‘হাতে মেখে কালি’—কথাগুলির দ্বারা শিশুটির জীবন কেমন ছিল?
এই কথাগুলির মাধ্যমে শিশুটির **রুটিনবদ্ধ ও চাপযুক্ত** জীবন স্পষ্ট হয়:
- **সেলেট ফেলে দিয়ে:** এর অর্থ হলো পড়াশোনার কাজ ফেলে রাখা বা দ্রুত তা শেষ করার তাড়না। দশটা বেলায় পাঠশালায় যেতে তার দেরি হয়ে যেতে পারে, তাই তাকে সেলেট ফেলে ছুটতে হয়।
- **হাতে মেখে কালি:** এটি বোঝায় যে শিশুটিকে প্রতিদিন কলম দিয়ে বা স্লেটে লিখতে হয়, যার ফলে তার হাতে কালি লাগে। এর মাধ্যমে তার **নিয়মিত পড়াশোনা ও নিয়মানুবর্তিতার** জীবনকে বোঝানো হয়েছে।
৬. ৩ নম্বর: কথক কখন পাঠশালায় যায় এবং কখন ঘরে ফেরে?
শিশুটির দৈনন্দিন সময়সূচি ছিল:
- **পাঠশালায় যাওয়া:** সে যখন বাড়ির গলি দিয়ে পাঠশালাতে যায়, তখন **দশটা বেলায়**।
- **ঘরে ফেরা:** সে যখন **হাতে কালি মেখে** ঘরে ফেরে, তখন **সাড়ে চারটে বাজে**।
৭. ৪ নম্বর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা দুটি শিশু-কিশোর উপযোগী গ্রন্থের নাম লেখো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করা বহু রচনা আছে। তার মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- **সহজপাঠ:** এটি শিশুদের বাংলা ভাষা শেখার জন্য লেখা একটি বিখ্যাত বই।
- **শিশু ভোলানাথ:** শিশুদের মন ও কল্পনা নিয়ে লেখা একটি কবিতার বই।
৮. ৩ নম্বর: পাহারওলা লণ্ঠনটি ঝুলিয়ে কোথায় দাঁড়িয়ে থাকে?
- **স্থান:** পাহারওলা পাগড়ি পরে লণ্ঠনটি হাতে ঝুলিয়ে **বাড়ির দরোজায়** দাঁড়িয়ে থাকে।
- **পরিবেশ:** বাইরে **আঁধার গলি**, যেখানে **লোক বেশি না চলে** এবং **গ্যাসের আলো মিটিমিটিয়ে জ্বলে**।
৯. ৪ নম্বর: ‘বিচিত্র সাধ’ কবিতায় ব্যবহৃত চারটি সমার্থক শব্দ এবং চারটি বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।
- **সমার্থক শব্দ:** পাঠশালা – বিদ্যালয়, সেলেট – শ্লেট, মালি – বাগানের পরিচর্যাকারী, পাগড়ি – মাথায় জড়াবার কাপড়, গলি – সরু রাস্তা।
- **বিপরীতার্থক শব্দ:** দিন – রাত, সাফ – নোংরা/ময়লা, আঁধার – আলো, বেশি – কম, পরে – আগে।
১০. ৪ নম্বর: মালিকে কেউ বকে না কেন?
মালিকে কেউ বকে না কারণ:
- **তার কাজ:** মালি বাবুদের ফুল-বাগানের মাঝে কোদাল দিয়ে মাটি কোপায়—এটি তার জীবিকা ও কাজ।
- **স্বাভাবিকতা:** কাজের সময় গায়ে ধূলো লাগা, কোদাল ব্যবহার করা—এগুলি তার কাজের স্বাভাবিক অংশ, যা নিয়ে বকা দেওয়া হয় না।
- **স্বাধীন কাজ:** মালি তার নিজের মতো করে কাজ করতে পারে, সেখানে তার মায়ের মতো কোনো কঠোর শাসন বা নিয়ম থাকে না।