বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | দ্বিতীয় পাঠ: ছেলেবেলার দিনগুলি (পুণ্যলতা চক্রবর্তী)
দ্বিতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: লেখিকা এবং তার ভাই-বোনদের ছেলেবেলার খেলাধুলোর বিবরণ দাও।
লেখিকা পুণ্যলতা চক্রবর্তী তার ভাই-বোনদের সঙ্গে ছাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের খেলায় মেতে উঠতেন।
- **পটগুলটিশ ওয়ার:** ঘোলা জলের ট্যাঙ্ক থেকে গঙ্গামাটি তুলে গোলা-গুলি বানিয়ে এই খেলা শুরু হয়েছিল। নরম কাদার গুলি পুড়িয়ে লাল করে নেওয়ায় গুলিগুলো শক্ত হয়ে যেত। এর ফলে দু-পক্ষই আহত হতে শুরু করেছিল।
- **অন্যান্য খেলা:** ছাদেই ক্রিকেট, হকি প্রভৃতি খেলার **’হাতেখড়ি’** হয়েছিল। এছাড়া দাদাদের সঙ্গে হুড়োহুড়ি খেলা এবং দিদিদের সঙ্গে **পুতুলখেলা**ও চলত।
- **বুদ্ধির খেলা:** তাদের দুটি মজার খেলা ছিল – **’রাগ বানানো’** (কারো উপর রাগ হলে তাকে নিয়ে মজার অদ্ভুত গল্প বানানো, যাতে রাগ দূর হয়) এবং **’কবিতায় গল্প বলা’** (একটি গল্পকে লাইনের শেষে মিল দিয়ে কবিতা আকারে বলা)।
২. ৪ নম্বর: ‘পটগুলটিশ ওয়ার’ খেলার নিয়ম এবং তার পরিণতি কী ছিল?
- **নিয়ম:** ঘোলা জলের ট্যাঙ্ক থেকে গঙ্গামাটি তুলে গোলা-গুলি বানানো হতো। এটি ছিল এক ধরনের যুদ্ধ (ওয়ার)।
- **সমস্যা ও পরিণতি:** প্রথমে নরম কাদার গুলিতে খেলা চললেও, পরে গুলিগুলোকে লাল করে **পুড়িয়ে শক্ত** করে নেওয়ায় সেগুলি ঘুঁটের মতো চ্যাপটা হয়ে সিঁড়ির ছাতের সিলিং-এ লেগে থাকত। শক্ত গুলিতে খেলার সময় দু-পক্ষই **আহত** হতে আরম্ভ করলে রান্নাঘরে যাওয়া বারণ হয়ে যায়। একবার জ্যেঠামশাই-এর পায়ের কাছে গুলি পড়লে তিনি রেগে যান।
৩. ৩ নম্বর: জ্যেঠামশাইকে নিয়ে ছেলেমেয়েদের মনে কেন ভয় ছিল?
ছেলেমেয়েরা জ্যেঠামশাইকে ভীষণ ভয় করত কারণ:
- তাঁর চেহারা ছিল গুরুগম্ভীর।
- তাঁর গলার আওয়াজও ছিল গম্ভীর।
- তাঁকে মস্ত বড়ো খেলোয়াড় এবং গায়ে খুব জোরওয়ালা হিসেবে জানা যেত, এবং রাগও খুব ছিল বলে শোনা যেত।
৪. ৩ নম্বর: ‘রাগ বানানো’ খেলাটি কীভাবে খেলত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
- **খেলা:** কারো উপর রাগ হলে, সেই লোকটির সম্বন্ধে যা তা অদ্ভুত এবং মজার গল্প বানিয়ে বলতে আরম্ভ করত। তাতে বিদ্বেষ বা হিংস্র ভাব থাকত না।
- **উদ্দেশ্য:** যত রকম বোকামি হতে পারে, সেইগুলি কল্পনা করে তারা হেসে কুটিপাটি হতো। হাসির স্রোতে রাগ বা খারাপ লাগা সব কোথায় ভেসে যেত এবং মনটা আবার বেশ হালকা খুশিতে ভরে উঠত।
৫. ৪ নম্বর: পুতুলের বিয়েতে কী ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল?
পুতুলের বিয়েতে পুতুলঘর সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল:
- **সাজসজ্জা:** ফুলপাতা, নিশান দিয়ে বিয়েবাড়ি সাজিয়ে সারি সারি **ছোট্ট ছোট্ট রঙিন মোমবাতি** জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
- **অগ্নিকাণ্ড:** যখন সবাই খাওয়া সেরে পুতুলঘরে ফিরে আসে, তখন দেখা যায় মোমবাতি কয়েক মিনিট জ্বলেই শেষ হয়ে গিয়েছে এবং **নিশান-টিশান পুড়ে কাঠের ছাত জ্বলতে আরম্ভ করেছে**।
- **পরিনতি:** তাড়াতাড়ি জল ঢেলে আগুন নেভানো হয় এবং অল্পের জন্য পুতুলগুলো বেঁচে যায়।
৬. ৩ নম্বর: ‘কবিতায় গল্প বলা’ খেলার নিয়মটি কেমন ছিল?
- **নিয়ম:** একটি জানা গল্প (যেমন: বাঘ ও বক-এর গল্প) নিয়ে খেলাটি শুরু হতো। একজন প্রথম লাইনটি বানিয়ে বলত।
- **ধারা:** তার পরের জন সেই লাইনের শেষে মিল দিয়ে দ্বিতীয় লাইন বলত, তার পরের জন তৃতীয় লাইন বলত।
- **হার:** যদি কেউ মিল দিতে না পারত, সে হেরে যেত এবং তার পরের জন বলার সুযোগ পেত। লেখিকার দাদা এই খেলায় খুব দক্ষ ছিল এবং সহজে হার মানত না।
৭. ৪ নম্বর: ‘তোমাকে দেখছি এবার লোহার বালা গড়িয়ে দিতে হবে’ – কে, কাকে এবং কেন একথা বলেছিল?
- **বক্তা ও শ্রোতা:** লেখিকার মা, লেখিকাকে এই কথাটি বলেছিলেন।
- **প্রসঙ্গ:** চোর-পুলিশ খেলার সময় লেখিকা (চোর) তার হাতে সাপমুখো বালা দিয়ে হাতকড়ি বানিয়েছিল। যখন সে এক ঝটকায় হাত ছাড়াতে যায়, তখন **নতুন বালাটি ভেঙে দু-তিন টুকরো হয়ে যায়**।
- **তাৎপর্য:** মা মজা করে বলেছিলেন, যেহেতু কাঁচের বালাকে লেখিকা সহজে ভেঙে ফেলেছে, তাই তার জন্য **লোহার বালা** তৈরি করে দিতে হবে, যা ভাঙবে না।
৮. ৩ নম্বর: লেখিকা কেন তার অর্ধেক লেখা গল্পটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন?
- **ঘটনা:** লেখিকা যখন দুপুরে বসে একটি গল্প লিখছিলেন, তখন বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসা নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত নামে এক ভদ্রলোক তার **অর্ধেক লেখা গল্পটি শেষ করে** রেখে যান।
- **অনুভূতি:** যদিও নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত একজন নামকরা লেখক ছিলেন, তবুও লেখিকার মনে হয়েছিল, তাঁর গল্পটি **মাটি হয়ে গেল**।
- **পরিনতি:** মনের দুঃখে ও বিরক্তির কারণে তিনি খাতাটি ছিঁড়েই ফেলেছিলেন।
৯. ৪ নম্বর: পুণ্যলতা চক্রবর্তীর দাদা সম্পর্কে দুটি তথ্য দাও।
পুণ্যলতা চক্রবর্তীর দাদা ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক **সুকুমার রায়**।
- **সাহিত্য প্রতিভা:** দাদা ছোটোবেলা থেকেই কবিতা লিখতে আরম্ভ করেছিলেন। **আট বৎসর বয়সে তার প্রথম কবিতা ‘নদী’** এবং নয় বৎসর বয়সে দ্বিতীয় কবিতা ‘টিক টিক টং’ ‘মুকুল’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।
- **খেলা ও বুদ্ধি:** তিনি ‘কবিতায় গল্প বলা’ খেলায় পারদর্শী ছিলেন এবং ‘হ-য-ব-র-ল’ বইয়ের ‘হিজি-বিজ-বিজ’ চরিত্রটি তাঁর সৃষ্টি।
১০. ৪ নম্বর: পুণ্যলতা চক্রবর্তী সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
পুণ্যলতা চক্রবর্তী (১৮৮০-১৯৭৪) ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর কন্যা এবং সুকুমার রায়ের সহোদরা। তিনি শিশু ও কিশোরদের জন্য সহজ-সরল ভাষায় লেখালেখি করতেন। ‘সন্দেশ’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে যে নতুন লেখকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— **’ছেলেবেলার দিনগুলি’** (আত্মজীবনীমূলক), **’ছোট্ট ছোট্ট গল্প’** এবং **’রাজবাড়ি’**।