বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | দ্বিতীয় পাঠ: বনভোজন (গোলাম মোস্তাফা)
দ্বিতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘বনভোজন’ কবিতার মূল ভাব নিজের ভাষায় লেখো।
গোলাম মোস্তাফা রচিত ‘বনভোজন’ কবিতায় একদল দুষ্টু ছেলেমেয়ের মিছিমিছি রান্নাবাটি খেলার আনন্দময় চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নূরু, পুষি, আয়ষা, শফি সহ সবাই বৈশাখ মাসের দুপুরের অবকাশে তাদের বাপ-মা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে আম-বাগিচার তলায় বনভোজনে মেতে ওঠে। তাদের রান্নার উপকরণ ছিল আমের গুটি, নারিকেলের মালার হাঁড়ি, রঙিন খুরি, ছোট্ট বঁটি ও ছুরি। তারা বিনা আগুন দিয়েই হলদি বাটা, ভাত রান্না, কোর্মা পোলাও রান্না করে। যদিও রান্নাটি ধুলোবালি ও কাদা দিয়ে তৈরি, তবুও তারা সবাই সেটি ‘বেজায় মিঠে’ বলে আনন্দ করে খায়। পরিশেষে, কবি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত হতেই দুষ্টু ছেলেমেয়েরা খিলখিলিয়ে হেসে পালিয়ে যায়।
২. ৪ নম্বর: ছেলেমেয়েরা বনভোজনের জন্য কী কী উপকরণ সঙ্গে এনেছিল?
বনভোজনের আয়োজনে ছেলেমেয়েরা বাস্তব রান্নার জিনিসের পরিবর্তে খেলার সরঞ্জাম এবং প্রকৃতি থেকে পাওয়া জিনিস ব্যবহার করেছিল:
- **খাবারের উপকরণ:** আঁচল ভরে কুড়িয়ে আনা আমের গুটি (খাবার হিসেবে), ধুলো-বালি (কোর্মা-পোলাও এর জন্য) এবং কাদা (পিঠে তৈরির জন্য)।
- **রান্নার পাত্র ও সরঞ্জাম:** নারিকেলের মালার তৈরি দুটি হাঁড়ি, চৈত-পুজোতে কেনা রঙিন খুরি (থালা-বাসন হিসেবে), ছোট্ট বঁটি এবং ছুরি।
৩. ৩ নম্বর: রান্নার ধুম পড়ে যাওয়ার কারণ কী ছিল?
রান্নার ধুম পড়ে যাওয়ার কারণগুলি ছিল:
- **অবকাশ:** বৈশাখ মাসের দুপুরে তাদের বাপ-মা ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তারা খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছিল।
- **সখ:** তাদের রান্না করার সখ হয়েছিল এবং তারা সকলেই বিপুল আয়োজনে ব্যস্ত ছিল।
- **নেতৃত্ব:** নূরু গিন্নি সেজেছিল, এবং অন্যেরা হলদি বাটা, ভাত রান্না বা নুন চাখার মতো বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়েছিল।
৪. ৩ নম্বর: মিছিমিছি রান্না করার পরেও তাদের চোখে জল এসেছিল কেন?
ছেলেমেয়েরা মিছিমিছি রান্না করেছিল, অর্থাৎ তারা আগুন ছাড়াই রান্না করছিল।
- তাদের রান্নার জন্য আগুন না থাকলেও, তারা খেলার ছলে রান্না করার অভিনয় করছিল।
- তাদের চোখে জল আসার কারণটি ছিল মিছিমিছি। তারা রান্নার সখ পূরণ করতে গিয়ে যেন সত্যিই ধোঁয়ার কল্পনা করেছিল, তাই তাদের চোখে জল।
৫. ৪ নম্বর: গিন্নি নূরু এবং বাকি বন্ধুদের খাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
নূরু গিন্নি হওয়ার পর তারা খাওয়া শুরু করেছিল। তাদের খাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল মিছিমিছি, তবুও আনন্দের:
- **খাবার:** তাদের খাবার ছিল ধুলো-বালির কোর্মা-পোলাও এবং কাদার পিঠে।
- **খাওয়ার ভঙ্গি:** তারা এক লাইনে সবাই বসে খাওয়া শুরু করেছিল।
- **স্বাদ:** খাবারটি মিছিমিছি হলেও, সবাই খেয়ে বলেছিল, **’বেজায় মিঠে!’**। এই কথাটির মাধ্যমেই তাদের খেলার চূড়ান্ত আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।
৬. ৩ নম্বর: কবিতাটিতে কোন কোন ঋতুর এবং সময়ের উল্লেখ আছে?
- **ঋতু/মাস:** বৈশাখ মাস এবং চৈত্র মাস (চৈত-পুজো) এর উল্লেখ আছে। বৈশাখ মাস হলো গ্রীষ্মকালের প্রথম মাস।
- **সময়:** **দুপুর** বেলা (বোশেখ মাসের এই দুপুরে) এবং দুপুরে **বাপ-মা ঘুমিয়ে থাকার** সময়ের উল্লেখ আছে।
৭. ৪ নম্বর: ‘দত্তরি ছাই, পুড়েও গেল হাত!’—এই কথাটি কে বলেছিল এবং এর তাৎপর্য কী?
- **বক্তা:** এই কথাটি বনভোজনে অংশগ্রহণকারী কোনো এক রাঁধুনি মেয়ে বলেছিল।
- **তাৎপর্য:** যেহেতু রান্নাটা মিছিমিছি হচ্ছিল এবং কোনো আগুনই ছিল না, তবুও মেয়েটি আগুনের তাপ ও পোড়ার অভিনয় করে খেলার প্রতি তার **আন্তরিকতা ও সখ** প্রকাশ করেছিল। এটি খেলার জগতে বাস্তবের অভিজ্ঞতাকে ফুটিয়ে তোলে।
৮. ৩ নম্বর: কবি হঠাৎ এসে পড়ায় ছেলেমেয়েরা কী করেছিল?
যখন মিছিমিছি খাওয়া শেষ করে সবাই আনন্দ করছিল, ঠিক এমন সময় কবি (কথক) হঠাৎ সেখানে এসে পড়েন।
- কবিকে দেখামাত্রই দুষ্টু ছেলেমেয়েরা তাদের খেলা ফেলে **খিলখিলিয়ে হেসে পালিয়ে গিয়েছিল**।
- তারা সম্ভবত বাপ-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে খেলা করছিল, তাই কোনো বড়ো মানুষের উপস্থিতি দেখে ধরা পড়ার ভয়ে তাড়াতাড়ি সরে পড়ে।
৯. ৪ নম্বর: কবিতাটিতে ব্যবহৃত ধ্বন্যাত্মক শব্দগুলি এবং তাদের অর্থ উল্লেখ করো।
এই কবিতায় কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দ নেই। তবে, ছেলেমেয়েদের হাসি বোঝাতে **”খিলখিলিয়ে হেসে”** শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
- **খিলখিলিয়ে:** হাসি বা আনন্দের শব্দ বোঝায়।
- **দুত্তরি ছাই:** বিরক্ত বা হতাশ হওয়ার অভিব্যক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত।
১০. ৪ নম্বর: গোলাম মোস্তাফা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
গোলাম মোস্তাফা (১৮৮৭-১৯৬৪) অধুনা বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন এক সম্ভ্রান্ত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তিনি বাংলা ও আরবি ভাষায় সমান দক্ষ ছিলেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস হলো ‘রূপের নেশা’, এবং প্রথম কবিতা গ্রন্থ হলো ‘রক্তরাগ’। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে হাস্নাহেনা, ভাঙাবুক, সাহারা, গুলিস্তান, বুলবুলিস্তান ইত্যাদি। তিনি বহু ইংরেজি ও আরবি গ্রন্থের বাংলায় অনুবাদও করেছিলেন।