বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | প্রথম পাঠ: সবার আমি ছাত্র (সুনির্মল বসু)
প্রথম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কবিতাটি অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
কবি সুনির্মল বসু তাঁর কবিতায় সমগ্র পৃথিবীকে একটি বিশাল পাঠশালা (বিদ্যালয়) হিসেবে কল্পনা করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই হলো এক-একজন শিক্ষক। আকাশ, বাতাস, পাহাড়, নদী, সাগর—প্রত্যেকেই মানবজীবনকে চলার পথে কোনো না কোনো বড়ো শিক্ষা দেয়। কবি সকলের কাছ থেকে আগ্রহের সঙ্গে (‘কৌতূহলে’) নানান ভাবের নতুন জিনিস শিখছেন। এভাবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সারাজীবন তিনি এই জগৎ নামক পাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করতে চান।
২. ৪ নম্বর: কবি প্রকৃতি থেকে কী কী বড়ো শিক্ষা পেয়েছেন? (আকাশ, পাহাড়, সাগর, মাটি)
প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান কবিকে নিম্নলিখিত প্রধান শিক্ষাগুলি দিয়েছে:
- **আকাশ:** আকাশ তার বিশালতা দিয়ে কবিকে **উদারমনা** হতে শিখিয়েছে।
- **পাহাড়:** পাহাড় নীরবে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থেকে **মৌন ও মহান** হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।
- **সাগর:** সাগর তাঁর অন্তরকে মূল্যবান সম্পদে পূর্ণ করে **রত্নআকর** করে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে।
- **মাটি:** পৃথিবীর সব ভার সহ্য করার মাধ্যমে মাটি কবিকে **সহিষ্ণুতা (ধৈর্য)** শিক্ষা দিয়েছে।
৩. ৩ নম্বর: ‘কর্মী হবার মন্ত্র’ এবং ‘আপন তেজে জ্বলতে’ – এই দুটি শিক্ষার ব্যাখ্যা দাও।
- **কর্মী হবার মন্ত্র (বায়ুর কাছ থেকে):** বায়ু যেমন কখনও থেমে থাকে না, সবসময় বহমান থাকে, কবিও তেমনি বায়ুর কাছ থেকে **আলস্য ত্যাগ করে সর্বদা কর্মঠ ও উদ্যোগী** থাকার মন্ত্রণা পেয়েছেন।
- **আপন তেজে জ্বলতে (সূর্যের কাছ থেকে):** সূর্য যেমন নিজের আলোয় ও শক্তিতে উজ্জ্বল, কবিও তেমনি সূর্যের কাছ থেকে **নিজস্ব শক্তি ও সামর্থ্যে ভরসা রেখে জীবনে উজ্জ্বল** ও তেজস্বী হওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন।
৪. ৩ নম্বর: চাঁদ ও ঝরনার কাছ থেকে কবি কী ধরনের শিক্ষা পেয়েছেন?
- **চাঁদের শিক্ষা:** চাঁদ কবিকে মিঠে হাসি ও মধুর কথা বলতে শিখিয়েছে।
- **ঝরনার শিক্ষা:** ঝরনা তার সহজ, স্বাভাবিক গান গেয়ে কবির প্রাণে নতুন গানের সুর জাগিয়েছে।
৫. ৪ নম্বর: মাটির ‘সহিষ্ণুতা’ এবং পাষাণের ‘কঠোরতা’ – এই দুই শিক্ষার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
মাটি পৃথিবীর সকল ভার, আঘাত ও অত্যাচার নীরবে সহ্য করে। এই সহ্য করার ক্ষমতাই হলো **সহিষ্ণুতা**, যা মানুষকে জীবনে ধৈর্যশীল হতে শেখায়। অন্যদিকে, **পাষাণ (পাথর)** দৃঢ় ও অনমনীয়। এই পাষাণের কাছ থেকে কবি নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য আপসহীন এবং **কঠোর** হওয়ার দীক্ষা বা শপথ গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি হবেন সহনশীল, কিন্তু কর্মজীবনে হবেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৬. ৩ নম্বর: ‘দিলখোলা’ হতে কবি কার উপদেশ নিয়েছেন এবং কেন?
কবি **খোলা মাঠের** উপদেশ নিয়েছেন দিলখোলা বা উদারমনা হতে। খোলা মাঠ দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, সেখানে কোনো সংকীর্ণতা বা বাধা নেই। মাঠের এই বিশালতা কবিকে শেখায় যে, মানুষের মনকে কোনো রকম ক্ষুদ্রতা, ঈর্ষা বা স্বার্থপরতা দিয়ে বেঁধে রাখলে চলবে না, বরং **উদার ও মুক্ত** হতে হবে।
৭. ৪ নম্বর: ‘শ্যামবনানী সরসতা আমায় দিল ভিক্ষা’ – চরণটির ভাবার্থ লেখো।
**’শ্যামবনানী’** অর্থাৎ সবুজ অরণ্য বা বনভূমি। গাছপালা সবুজে ভরা থাকে, যা জীবনের **সতেজতা ও প্রাণবন্ততা**-র প্রতীক। কবি এই সবুজ বনের কাছ থেকে জীবনের **’সরসতা’** বা রসমণ্ডিত থাকার ভিক্ষা চেয়েছেন। এর অর্থ হলো, জীবনে যেন আনন্দ, উৎসাহ ও সজীবতা থাকে এবং মন যেন কখনও শুষ্ক ও নিরানন্দ না হয়ে যায়।
৮. ৩ নম্বর: ‘রত্নআকর’ বলতে কী বোঝো? সাগর কেন অন্তরকে রত্নআকর করতে শেখায়?
**’রত্নআকর’** শব্দের অর্থ রত্নের খনি বা মূল্যবান সম্পদের ভাণ্ডার। সাগর বা সমুদ্রের গভীরে নানা মূল্যবান রত্ন, মুক্তো ও সম্পদ লুকিয়ে থাকে। তাই সাগর তার ইশারায় কবিকে শেখায়, তাঁর মন বা **’অন্তর’** যেন সাগরের মতোই বিশাল ও উদার হয় এবং **জ্ঞান, সাহস ও ধৈর্যের** মতো মূল্যবান গুণে পূর্ণ থাকে।
৯. ৪ নম্বর: ‘নানান ভাবের নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র’ – এই কথার মাধ্যমে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
এই কথার মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর শেখা কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যবই বা স্কুলশিক্ষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি জগতের প্রতিটি মুহূর্ত ও উপাদান থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন। **’দিবারাত্র’** শব্দটি নির্দেশ করে যে, শেখা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া, যা দিন-রাত বা সারাজীবন ধরে চলে। তিনি জগতের বৈচিত্র্যকে **’নানান ভাবের নতুন জিনিস’** হিসেবে দেখছেন, যা তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে শিখছেন।
১০. ৪ নম্বর: সুনির্মল বসু সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
সুনির্মল বসু (১৯০২-১৯৫৭) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক। তিনি বিহারের গিরিডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রধানত ছোটোদের জন্য ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি লিখেছেন। ছবি আঁকাতেও তিনি দক্ষ ছিলেন। তাঁর লেখা জনপ্রিয় বইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ছানাবড়া, ছন্দের টুংটাং, বীর শিকারি, হইচই ইত্যাদি। তিনি ১৯৫৬ সালে ‘ভুবনেশ্বরী পদক’ লাভ করেন।