বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | প্রথম পাঠ: নরহরি দাস (উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী)
প্রথম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘বুদ্ধি যার বল তার’—গল্পে ছাগলছানার আচরণে এই কথাটির সত্যতা প্রমাণ করো।
গল্পটিতে ছাগলছানা, শিয়াল ও বাঘের তুলনায় আকারে ছোটো ও দুর্বল হলেও, কেবল বুদ্ধির জোরেই সে শক্তিশালী প্রাণীদের পরাজিত করেছে। যখন শিয়াল গর্তে এসে তাকে রাক্ষস ভেবে ভয় পায়, তখন ছাগলছানা নিজেকে **’নরহরি দাস’** (সিংহের মামা, পঞ্চাশ বাঘে এক গ্রাস) বলে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে শিয়ালের লেজে বাঁধা অবস্থায় বাঘ যখন গর্তের কাছে আসে, তখন ছাগলছানা শিয়ালকে ‘দূর হতভাগা! তোকে দিলুম দশ বাঘের কড়ি, এক বাঘ নিয়ে এলি লেজে দিয়ে দড়ি!’—এই কথা বলে বাঘকে বিশ্বাস করিয়ে দেয় যে শিয়াল তাকে ঠকিয়েছে। ভয় পেয়ে বাঘ শিয়ালকে সুদ্ধ নিয়ে পালায়। এভাবে বলের চেয়ে বুদ্ধির জয় হলো।
২. ৪ নম্বর: ছাগলছানা ও ষাঁড়ের কথোপকথন কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
এই কথোপকথন গল্পে ছাগলছানার অ্যাডভেঞ্চারের সূচনা করে। ছাগলছানা ষাঁড়কে দেখে ভাবে, সে বুঝি বিশেষ কিছু খেয়ে এত বড়ো হয়েছে। তাদের মধ্যে কথোপকথনটি নিম্নরূপ ছিল:
- ছাগলছানা ষাঁড়কে তার খাদ্য জিজ্ঞেস করে।
- ষাঁড় ঘাস খাওয়ার কথা বললে ছাগলছানা অবাক হয়, কারণ তার মা-ও ঘাস খেয়ে ষাঁড়ের মতো বড়ো হয়নি।
- ষাঁড় তখন ভালো ঘাস বনের ভিতরে আছে জানালে ছাগলছানা সেই ঘাস খেতে যাওয়ার আবদার করে।
৩. ৩ নম্বর: ছাগলছানার মা তাকে কীভাবে সাবধান করত এবং তার ভয় কীভাবে কাটল?
- **সাবধানতা:** ছাগলছানার মা তাকে গর্তের বাইরে যেতে বারণ করত এবং বলত, ‘যাসনে! ভালুকে ধরবে, বাঘে নিয়ে যাবে, সিংহে খেয়ে ফেলবে!’
- **ভয় কাটানো:** প্রথমদিকে ছাগলছানা মায়ের কথা শুনে ভয় পেত। কিন্তু যখন সে একটু বড়ো হলো, তখন তার ভয়ও কমে গেল। সে গর্তের বাইরে উঁকি মারতে শুরু করল এবং শেষ পর্যন্ত একদিন বাইরে চলে এলো।
৪. ৩ নম্বর: শিয়াল কেন ছাগলছানাকে দেখে ভয় পেল?
শিয়াল যখন অনেক রাতে তার গর্তে ফিরে আসে, তখন অন্ধকারের কারণে সে গর্তের ভিতরে থাকা কালো রঙের ছাগলছানাকে ভালো করে দেখতে পায়নি। সে ভেবেছিল, ওটা বুঝি রাক্ষস-টাক্ষস হবে। যখন শিয়াল ভয়ে জিজ্ঞেস করে ‘গর্তের ভিতর কেও?’, তখন ছাগলছানা বুদ্ধি করে নিজেকে **’সিংহের মামা আমি নরহরি দাস’** বলে পরিচয় দেওয়ায় শিয়ালের ভয় আরও বেড়ে যায় এবং সে প্রাণভয়ে ছুটে পালায়।
৫. ৪ নম্বর: শিয়াল কেন বাঘের লেজের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে নিয়ে যেতে চেয়েছিল?
নরহরি দাসের কথা শুনে শিয়াল অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিল। সে বাঘের কাছে তার মামা নরহরি দাসকে মারার নালিশ জানায়। কিন্তু শিয়াল ভয় পাচ্ছিল যে নরহরি দাস তাদের খেতে এলে বাঘমামা তার বিশাল লাফে দ্রুত পালিয়ে যাবে, কিন্তু সে নিজে অত জোরে ছুটতে পারবে না। তাই শিয়াল নিশ্চিত হতে চাইল যে বাঘ যেন তাকে ফেলে পালাতে না পারে। এইজন্য সে বাঘের লেজের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার আবদার করে।
৬. ৩ নম্বর: শিয়াল কীভাবে ছাগলছানার বুদ্ধির কাছে হার মানল?
লেজে বাঁধা অবস্থায় শিয়াল যখন বাঘের সঙ্গে গর্তের কাছে আসে, তখন ছাগলছানা দূর থেকে তাদের দেখে বুদ্ধি করে চিৎকার করে বলে: **”দূর হতভাগা! তোকে দিলুম দশ বাঘের কড়ি, এক বাঘ নিয়ে এলি লেজে দিয়ে দড়ি!”** ছাগলছানার এই কথা শুনে বাঘের মনে হয় যে শিয়াল তাকে ঠকিয়ে নরহরি দাসকে খেতে দেওয়ার জন্য এনেছে। বাঘ ভয়ে পঁচিশ হাত লম্বা লাফে শিয়ালকে সুদ্ধ নিয়ে পালায়, ফলে শিয়াল পরাজিত হয়।
৭. ৪ নম্বর: ‘নরহরি দাস’ চরিত্রটি কে এবং কেন এই কাল্পনিক নাম ব্যবহার করা হয়েছিল?
**’নরহরি দাস’** হলো ছাগলছানার দ্বারা ব্যবহৃত একটি কাল্পনিক নাম। ছাগলছানা বুদ্ধি করে নিজেকে ভয়ংকর প্রমাণ করার জন্য এই নাম ও ছড়াটি ব্যবহার করে। এই ছড়াটি শিয়ালকে (এবং পরে বাঘকে) বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে গর্তের ভিতরে থাকা প্রাণীটি সিংহের মামা এবং পঞ্চাশটি বাঘকে সে এক গ্রাসে খেয়ে ফেলতে পারে। এই কাল্পনিক নাম ব্যবহার করার উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল হয়েও কেবল বুদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী শত্রুকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া।
৮. ৩ নম্বর: বাঘ শিয়ালকে দেখে কেন আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল?
শিয়াল নিমন্ত্রণ খেয়ে বাঘের বাড়ি থেকে বেশ কিছুক্ষণ আগেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই শিয়াল হাঁপাতে হাঁপাতে আবার ফিরে আসে। বাঘ জানত না যে শিয়ালের গর্তে নরহরি দাস ঢুকেছে। তাই বাঘ আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে, **”কী ভাগনে, এই গেলে, আবার এখুনি এত ব্যস্ত হয়ে ফিরলে যে?”**। বাঘের এই প্রশ্ন থেকেই বোঝা যায় যে শিয়ালের আচরণ স্বাভাবিক ছিল না।
৯. ৪ নম্বর: শিয়ালের সেদিন কী শাস্তি হয়েছিল এবং এর ফল কী হয়েছিল?
ছাগলছানার কথা শুনে বাঘ ভয়ে যখন দৌড় শুরু করে, তখন শিয়াল বাঘের লেজে বাঁধা ছিল। ফলে শিয়াল বেচারা মাটিতে আছাড় খেয়ে, কাঁটার আঁচড় খেয়ে, ক্ষেতের আলে ঠোক্কর খেয়ে সারাটা রাত ছুটোছুটি করে। এটাই ছিল তার শাস্তি। এই ঘটনার ফলস্বরূপ, **সেই থেকে বাঘের উপর শিয়ালের এমন রাগ হয়েছিল যে, সে রাগ আর কিছুতেই গেল না।**
১০. ৪ নম্বর: গল্পটিতে ব্যবহৃত চারটি সমার্থক শব্দ এবং চারটি বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।
- **সমার্থক শব্দ:** বন – জঙ্গল, আশ্চর্য – অবাক, সাজা – শাস্তি, তৃণ – ঘাস, মস্ত – বিরাট।
- **বিপরীতার্থক শব্দ:** বাইরে – ভিতরে, লম্বা – বেঁটে, হাসা – কাঁদা, বুদ্ধিমান – নির্বোধ, আরম্ভ – শেষ।