বাংলা সাহিত্য (সপ্তম শ্রেণি)
একাদশ পাঠ (তৃতীয় অংশ): বই পড়ার কায়দা কানুন (প্রেমেন্দ্র মিত্র) – নোটস ও উত্তর
**উৎস:** প্রবন্ধ (বই-টই প্রবন্ধের অংশ) | **বিষয়বস্তু:** বইকে ভালোবাসার পদ্ধতি, বই পড়ার নিয়ম এবং তার থেকে জ্ঞানের সর্বোচ্চ লাভ।
—১. রচনা পরিচিতি ও সারমর্ম (Core Theme)
প্রেমেন্দ্র মিত্রের এই প্রবন্ধটি **সঠিকভাবে বই পড়ার পদ্ধতি** এবং **বইয়ের সঙ্গে লেখকের আত্মিক সম্পর্ক** নিয়ে আলোচনা করে। লেখক মনে করেন, বই পড়া একটি **জীবন্ত প্রক্রিয়া**, যেখানে পাঠককে কেবল তথ্য গ্রহণ করলে চলে না, বরং বইয়ের সঙ্গে **মিত্রতা** ও **সহকর্মীর** সম্পর্ক তৈরি করতে হয়। বইটি কেবল তথ্য নয়, এটি **চিন্তা ও কল্পনার জগৎ**, যা থেকে পাঠককে নিজের মতো করে সম্পদ আহরণ করতে হবে।
মূল বক্তব্য:
- **বই পড়ার সম্পর্ক:** বইকে আলমারিতে মলাট দিয়ে মুড়ে রাখলে চলে না, তাকে **ভালোবেসে** নিজের করে নিতে হয়। বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক **সহকর্মীর বা বন্ধুর** মতো হওয়া উচিত।
- **আম্বিয়া রসের চেয়ে মিষ্টি:** লেখকের কাছে বই পড়া **আম্বিয়া আমের রসের** চেয়েও বেশি মিষ্টি। এটি বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ও আনন্দকে বোঝায়।
- **কায়দা-কানুন:** বই পড়ার কয়েকটি কায়দা-কানুনের কথা বলা হয়েছে, যেমন—দরকার পড়লে বইয়ের **পাতায় দাগ দেওয়া, নোট নেওয়া বা মন্তব্য লেখা**, অর্থাৎ বইটিকে **নিজের জীবনের অংশ** করে তোলা।
- **জ্ঞান আহরণ:** বই থেকে পাঠককে **নিজের মতো করে সম্পদ** খুঁজে নিতে হয়। বইয়ের জগৎ হলো **অজানা জগৎ**, যা ভ্রমণের মতো অ্যাডভেঞ্চারময়।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও ব্যাখ্যা
- **আম্বিয়া:** এক প্রকার সুস্বাদু আম।
- **সহকর্মী:** একসঙ্গে কাজ করা ব্যক্তি।
- **মিত্রতা:** বন্ধুত্ব।
- **কায়দা-কানুন:** নিয়ম, রীতিনীতি।
- **অটুট:** যা ভাঙে না, দৃঢ়।
- **অজানা জগৎ:** যে জগৎ সম্পর্কে আমরা জানি না, কল্পনার জগৎ।
৩. হাতেকলমে (অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর)
(অনুশীলনী থেকে নির্বাচিত প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো:)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ১-২ নম্বর):
১. বই পড়ার সময় বইয়ের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে?
বই পড়ার সময় বইয়ের সঙ্গে **একান্ত মিত্রতার** সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।
২. বই পড়াকে কিসের চেয়ে মিষ্টি বলা হয়েছে?
বই পড়াকে **আম্বিয়া আমের রসের** চেয়েও মিষ্টি বলা হয়েছে।
৩. লেখকের মতে, বইকে কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়?
বইকে কেবল আলমারিতে রেখে বা মলাট দিয়ে মুড়ে রাখলে চলে না; তাকে **ভালোবেসে পড়া** এবং **জীবনের অংশ** করে নেওয়ার মাধ্যমেই তাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (মান: ৩ নম্বর):
৪. বই পড়ার কায়দা-কানুনগুলি কী কী?
বই পড়ার কায়দা-কানুনগুলি হলো:
- **একান্তে মেশা:** বইয়ের সঙ্গে **একান্ত মিত্রতা** তৈরি করা।
- **ব্যবহার করা:** প্রয়োজনে বইয়ের পাতায় **দাগ দেওয়া, নোট নেওয়া বা মন্তব্য লেখা**।
- **ভালোবেসে পড়া:** বইকে কর্তব্য হিসেবে নয়, বরং **আগ্রহ ও ভালোবাসা** নিয়ে পড়া।
৫. বইকে ‘সহকর্মী’ বলার তাৎপর্য কী?
বইকে ‘সহকর্মী’ বলার তাৎপর্য হলো, সহকর্মীরা যেমন একসঙ্গে কাজ করে এবং লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে, তেমনই বইও পাঠককে **জ্ঞান অর্জনে, চিন্তা করতে এবং কল্পনার জগৎকে আবিষ্কার** করতে সাহায্য করে। বই হলো পাঠকের **মানসিক বিকাশের** এক বিশ্বস্ত সঙ্গী।
৬. বই কেন মানুষের ‘অজানা জগৎ’ আবিষ্কারের পথ?
বই মানুষের ‘অজানা জগৎ’ আবিষ্কারের পথ কারণ:
- **ভ্রমণ:** বইয়ের মধ্য দিয়ে মানুষ **বাস্তব বা কল্পনার** এমন জগতে প্রবেশ করে, যেখানে সে আগে কখনও যায়নি।
- **নতুন জ্ঞান:** বই পাঠককে **অজস্র নতুন তথ্য, ইতিহাস ও দর্শন** জানায়, যা তার জ্ঞানের দিগন্তকে প্রসারিত করে।
- **কল্পনার জগৎ:** বই পাঠকের মনে **চিন্তা ও কল্পনা** জাগায়, যা তাকে জীবনের নতুন পথে চলতে সাহায্য করে।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):
৭. প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘বই পড়ার কায়দা কানুন’ প্রবন্ধ অবলম্বনে বইয়ের প্রতি লেখকের ভালোবাসা ও তার গুরুত্ব আলোচনা করো।
প্রেমেন্দ্র মিত্রের এই প্রবন্ধে বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং তার গুরুত্ব নিম্নলিখিতভাবে প্রকাশ পেয়েছে:
- **গভীর আসক্তি:** লেখক বই পড়াকে **’আম্বিয়া আমের রসের চেয়েও মিষ্টি’** বলেছেন। এই উপমা তাঁর বইয়ের প্রতি থাকা **আবেগ ও আসক্তিকে** তুলে ধরে।
- **বইকে নিজের করে নেওয়া:** তাঁর মতে, বইয়ের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে যেন তা **’একান্ত বন্ধু’** বা **’সহকর্মী’**। এই সম্পর্কের গভীরতার কারণে পাঠক বইয়ের পাতায় দাগ দেয় বা মন্তব্য লেখে—যা বইয়ের প্রতি লেখকের **নিবিড় ভালোবাসাকে** বোঝায়।
- **জ্ঞানের পথপ্রদর্শক:** বই কেবল বিনোদন নয়, এটি হলো **’অজানা জগৎ’** আবিষ্কারের অ্যাডভেঞ্চার। বই পাঠকের মনে **প্রশ্ন ও চিন্তা** জাগায়, যা তাকে জীবনের পথ চলতে সাহায্য করে।
- **অটুট বন্ধন:** লেখক মনে করেন, এই বন্ধন এতটাই দৃঢ় যে তা কখনোই ভাঙে না। বইকে ভালোবেসে পড়লে তার থেকে পাওয়া **জ্ঞান ও আনন্দ** জীবনে **অটুট মিত্রতা** তৈরি করে।
সুতরাং, লেখকের মতে, **বই কেবল একটি বস্তু নয়, এটি জীবনের চালিকাশক্তি ও আত্মার খোরাক**।