প্রথম পাঠ (২য় অংশ): মম চিত্তে নিতি নৃত্যে (নোট)
প্রসেসিং হচ্ছে…

বাংলা সাহিত্য (সপ্তম শ্রেণি)

প্রথম পাঠ (দ্বিতীয় অংশ): মম চিত্তে নিতি নৃত্যে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) – নোটস ও উত্তর

**উৎস:** গীতবিতান (বিচিত্র পর্যায়) | **বিষয়বস্তু:** বিশ্বপ্রকৃতি ও মানব-মনের মধ্যেকার সৃষ্টি ও বিনাশের চিরন্তন নৃত্য, যেখানে ভালো-মন্দ সবই এক ছন্দে বাঁধা।

১. গান পরিচিতি ও সারমর্ম (Core Theme)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানটি তাঁর **’বিচিত্র’** পর্যায়ের অন্তর্গত। এই গানের মধ্যে দিয়ে কবি বিশ্ব-চরাচর এবং মানব-মনের গভীরে চলতে থাকা **সৃষ্টি, লয় এবং বিপরীতের মিলন**-এর এক চিরন্তন নৃত্যকে উপলব্ধি করেছেন। কবির কাছে এই নৃত্যই হলো জীবনের **পরম আনন্দ**।

মূল বক্তব্য:

  • **কে নাচে:** কবির চিত্তে (মনে) যিনি নিত্য নৃত্য করেন, তিনি হলেন সেই **অজানা শক্তি** বা **ব্রহ্ম**, যিনি জন্ম, মৃত্যু, হাসি, কান্না—সবকিছুর মধ্য দিয়ে লীলা করে চলেছেন।
  • **নৃত্যের ছন্দ:** এই নৃত্য চলে **তাতা থৈথৈ** ছন্দে এবং সঙ্গে মৃদঙ্গ (বাদ্যযন্ত্র) বাজে।
  • **বিপরীতের মিলন:** এই নৃত্যের তালে তালে **হাসি ও কান্না**, **হীরা ও পান্না** (সুখ ও দুঃখ), **ভালো ও মন্দ**, **জন্ম ও মৃত্যু**, **মুক্তি ও বন্ধন**—সবই একত্রে দোলে এবং নাচে। অর্থাৎ, জীবনে কোনো কিছুই স্থির বা একাকী নয়, বরং সবই একে অপরের পরিপূরক।
  • **পরম আনন্দ:** এই দ্বন্দ্বে কবি কোনো বেদনা খুঁজে পাননি, বরং খুঁজেছেন **’কী আনন্দ’**। তিনি এই আনন্দের তরঙ্গে নিজের সব বন্ধন ভুলে সেই নৃত্যের পিছনে ছুটে যেতে চেয়েছেন।

২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও ব্যাখ্যা

  • **মম চিত্তে:** আমার মনে।
  • **নিতি নৃত্যে:** নিত্য (সর্বদা) নৃত্য করে।
  • **মৃদঙ্গে:** মাটির তৈরি এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র (ঢোলের মতো)।
  • **ভালে:** কপালে (এখানে প্রতীকী অর্থে মনের গভীরে)।
  • **পাছে পাছে:** পিছনে পিছনে।
  • **মুক্তি:** স্বাধীনতা, বন্ধন থেকে মুক্তি।
  • **বন্ধন:** বাঁধা বা ধরা থাকা।
  • **তরঙ্গে:** ঢেউ বা আলোড়ন।
  • **রঙ্গে:** আনন্দে, লীলায়।

৩. হাতেকলমে (পাঠ্যাংশ থেকে যুক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

(এই গানটির সঙ্গে অনুশীলনীতে কোনো প্রশ্ন যুক্ত নেই, তাই এখানে গানটির মূল ভাবনার ওপর ভিত্তি করে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর দেওয়া হলো:)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):

১. কবির চিত্তে কে নিত্য নৃত্য করে চলেছেন? সেই নৃত্যের বাদ্য কী? [২ নম্বর]

কবির চিত্তে **অজানা লীলাময় শক্তি বা ব্রহ্ম** নিত্য নৃত্য করে চলেছেন। সেই নৃত্যের বাদ্য হলো **মৃদঙ্গ**, যা **’তাতা থৈথৈ’** ছন্দে সদা বেজে চলেছে।

২. কবির মতে, তাঁর কপালে কী দোলে? এর মধ্য দিয়ে কীসের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? [২ নম্বর]

কবির কপালে **হাসি-কান্না** এবং **হীরা-পান্না** দোলে। এর মধ্য দিয়ে জীবনের **সুখ (হীরা)** ও **দুঃখ (পান্না বা কান্না)**-এর চিরন্তন উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কবি দেখিয়েছেন, জীবনে ভালো-মন্দ সবকিছুই একসঙ্গে বিরাজ করে।

৩. কবি দিবারাত্রি কোন্ কোন্ বিপরীতকে নাচতে দেখেছেন? [২ নম্বর]

কবি দিবারাত্রি **মুক্তি ও বন্ধন**-কে একত্রে নাচতে দেখেছেন। এছাড়াও **জন্ম ও মৃত্যু** এবং **ভালো ও মন্দ** তালে তালে নৃত্য করে।

বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন (মান: ৫ নম্বর):

৪. ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে’—গানটিতে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে জীবনের বিপরীত শক্তিগুলির মিলন দেখিয়েছেন, তা আলোচনা করো। [৫ নম্বর]

এই গানে রবীন্দ্রনাথ জীবনের বিপরীতধর্মী শক্তিগুলিকে বিচ্ছিন্ন না দেখে, বরং তাদের মধ্যে এক **পরম ও আনন্দময় মিলন** দেখিয়েছেন। এই মিলনই হলো কবির **জীবন-দর্শন**:

  1. **সুখ ও দুঃখ:** কবির কপালে **’হাসি কান্না’** দোলে এবং **’হীরা পান্না’** দোলে। এখানে হীরা (মূল্যবান, আনন্দের প্রতীক) এবং পান্না/কান্না (দুঃখ ও কষ্টের প্রতীক) একত্রে বিরাজ করে।
  2. **সৃষ্টি ও লয়:** জীবনের দুই চরম সত্য হলো **’নাচে জন্ম, নাচে মৃত্যু পাছে পাছে’**। অর্থাৎ, জন্ম ও মৃত্যু দুটি আলাদা ঘটনা নয়, বরং একই মহাজাগতিক নৃত্যের দুই দিক, যা সর্বদা একে অপরের পিছনে চলেছে।
  3. **স্বাধীনতা ও শৃঙ্খল:** তিনি দিবারাত্রি **’নাচে মুক্তি, নাচে বন্ধ’**-কে একসঙ্গে নৃত্য করতে দেখেছেন। মুক্তি হলো স্বাধীনতা, আর বন্ধ হলো জীবনের শৃঙ্খল। কবি দেখিয়েছেন, এই দুটিও একই ছন্দের অংশ।

এই বিপরীত শক্তিগুলির সহাবস্থান এবং একত্রে নৃত্যের মধ্যে দিয়ে কবি এক **অসাধারণ আনন্দ (কী আনন্দ)** খুঁজে পেয়েছেন। এই মিলনই প্রমাণ করে যে, জীবনের কোনো কিছুই তুচ্ছ নয়, বরং সবই এক **পরম শৃঙ্খলায়** বাঁধা।

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu