বাংলা সাহিত্য (পঞ্চম শ্রেণি)
দ্বিতীয় পাঠ: বুনো হাঁস (লীলা মজুমদার) – নোটস ও উত্তর
**উৎস:** গল্পসল্প গ্রন্থ | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** পক্ষী-প্রীতি, বন্ধুত্ব এবং প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
—১. লেখক পরিচিতি (Author Information)
**লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭):** তাঁর জন্ম কলকাতায় হলেও শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে। তিনি ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক **উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্রী (জ্যাঠামশাইয়ের মেয়ে)**। সারাজীবন তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন। ছোটোদের জন্য তাঁর লেখা প্রথম বই ‘বদ্যিনাথের বড়ি’। তাঁর বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে—**’পদিপিসির বর্মিবাক্স’, ‘হলদে পাখির পালক’ এবং ‘মাকু’**। তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার এবং ভারতীয় শিশু সাহিত্যের পুরস্কার-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হন। আলোচ্য গল্পটি তাঁর লেখা **’গল্পসল্প’** বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
—২. সারসংক্ষেপ (Summary)
‘বুনো হাঁস’ গল্পটি পরিযায়ী পাখিদের জীবনযাত্রা এবং **মানবিক বন্ধুত্বের** এক সুন্দর আখ্যান। শীতের শুরুতে হিমালয়ের বরফে ঢাকা **লাডাকের একটি নির্জন ঘাঁটিতে** ভারতীয় জোয়ানরা থাকত। এই সময় ঝাঁকে ঝাঁকে বুনো হাঁস উত্তরের শীতল দেশ থেকে **দক্ষিণের গরম দেশে** উড়ে যেত। একদিন একটি হাঁস দলছুট হয়ে ঝোপের ওপর নেমে পড়ে, কারণ তার **ডানা জখম** হয়েছিল। তার সঙ্গী অন্য হাঁসটিও তার পাশে নেমে আসে।
জোয়ানরা আহত হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে এসে তার **চিকিৎসা ও সেবা** করে। তারা হাঁস দুটিকে মুরগি রাখার খালি জায়গায় রাখে এবং টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা ও ভাত খেতে দিত। দ্বিতীয় হাঁসটি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও **সঙ্গীর টানে** চলে যায়নি। সারা শীতকাল জোয়ানদের সেবা-যত্নে থাকার পর বসন্ত এলে হাঁসটির ডানা সারে। পাহাড়ের বরফ গলে ঝোপঝাপ আর ফুলের কুঁড়ি দেখা যেতেই, হাঁস দুটি একদিন তাদের **নিজস্ব দেশে** (উত্তরে) ফিরে যায়, তাদের আসল বাসা ও বাচ্চাদের কাছে।
—৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| বাংলা শব্দ | অর্থ | বাক্য রচনা (নমুনা) |
|---|---|---|
| **ফলা** | তীর বা অস্ত্রের তীক্ষ্ণ প্রান্ত (এখানে ঝাঁকের আকার) | বুনো হাঁসের দল **তীরের ফলার** মতো উড়ে চলে। |
| **সয় না** | সহ্য হয় না | তাদের বেশি গরম বা বেশি শীত **সয় না**। |
| **নির্জন** | যেখানে লোকজন নেই, জনহীন | লাডাকের বরফে ঢাকা **নির্জন** ঘাঁটিতে জোয়ানরা থাকত। |
| **তাঁবু** | কাপড়ে তৈরি অস্থায়ী বাসস্থান | জোয়ানরা হাঁস দুটিকে **তাঁবুতে** আশ্রয় দিয়েছিল। |
| **জখম** | আহত, আঘাতপ্রাপ্ত | প্রথম হাঁসটির ডানা **জখম** হয়েছিল। |
| **বেচারি** | নিরীহ, অসহায় | ডানা জখম হওয়ায় **বেচারি** উড়তে পারছিল না। |
| **চঞ্চল** | অধীর, অস্থির | হাঁসের দল গেলেই বুনো হাঁস দুটি **চঞ্চল** হয়ে উঠত। |
৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর)
(অনুশীলনী এবং অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো।)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):
১. বুনো হাঁসেরা কীভাবে চলাফেরা করে?
বুনো হাঁসেরা **দলে দলে** ‘তীরের ফলার’ আকারে উড়ে চলে। তারা উড়তে উড়তে ডানার শোঁ শোঁ শব্দ করে বা **’গাঁক গাঁক গাঁক’** বলে ডাকতে থাকে। তারা বেশি গরম বা বেশি শীত সহ্য করতে পারে না, তাই **ঋতু অনুযায়ী জায়গা পরিবর্তন** করে।
২. বুনো হাঁসের দল কেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়?
বুনো হাঁসেরা হল পরিযায়ী পাখি। তারা **বেশি গরম বা বেশি শীত** সহ্য করতে পারে না। তাই শীতকালে তারা **উত্তরের ঠান্ডা দেশ থেকে দক্ষিণ দিকে** অর্থাৎ গরম দেশে শীত কাটাতে যায়। আবার শীত শেষে নিজেদের দেশে ফিরে যায় বাসা বাঁধতে ও বাচ্চা তুলতে।
৩. জোয়ানরা কোথায় ঘাঁটি গেড়েছিল? সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন ছিল?
জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল **লাডাকের একটি বরফে ঢাকা নির্জন** জায়গাতে। তখন ছিল শীতের শুরু। চারদিকে শুধু বরফ আর উত্তরের হিমেল পরিবেশ।
৪. হাঁস দুটি জোয়ানদের তাঁবুতে কী কী খাবার খেত?
জোয়ানদের তাঁবুতে বুনো হাঁস দুটি **টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত এবং ফলের কুচি** খেত। তাদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের কাছে আনন্দের কাজ হয়ে উঠেছিল।
৫. সঙ্গীকে না ছেড়ে দ্বিতীয় হাঁসটির তাঁবুতে থাকার মধ্যে কোন মানবিক দিকটি প্রকাশ পায়?
দ্বিতীয় হাঁসটির তাঁবুতে থেকে যাওয়া তার **অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ও চরম সঙ্গ-প্রীতি** প্রকাশ করে। সে ইচ্ছা করলেই উড়ে চলে যেতে পারত, কিন্তু আহত সঙ্গীকে একা ফেলে যায়নি। এটি প্রাণীদের মধ্যেও থাকা **সহমর্মিতা ও ভালোবাসার** দিকটি তুলে ধরে।
৬. বুনো হাঁসেরা সাধারণত কোন কোন অঞ্চল পেরিয়ে আসে?
বুনো হাঁসেরা সাধারণত **হিমালয়ের উত্তর দিক** থেকে বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে। এছাড়াও অনেকে নাকি ভারতের মাটি পার হয়ে, **সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে ছোটো ছোটো নির্জন দ্বীপে** গিয়ে নামে।
৭. আহত হাঁসটা সুস্থ হচ্ছিল, তার প্রমাণ কী ছিল?
আস্তে আস্তে হাঁসটির ডানা সেরে উঠছিল। তার সুস্থ হওয়ার প্রমাণ ছিল যে, সে মাঝে মাঝে **তাঁবুর ছাদ অবধি উড়ে** গিয়ে, আবার ধুপ করে নিচে পড়ে যেত। এতে বোঝা যায়, সে উড়তে চেষ্টা করত এবং তার ডানা কাজ করছিল।
৮. শীত শেষে প্রকৃতির কেমন পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল?
শীত শেষ হওয়ার পর প্রকৃতির রূপ বদলাতে শুরু করে। **নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে** শুরু করে। আবার **সবুজ ঝোপঝাপ** দেখা যায় এবং ন্যাড়া গাছে **পাতার আর ফুলের কুঁড়ি** ধরে।
৯. জোয়ানদের ঘাঁটি বরফে ঢাকা ছিল, তা সত্ত্বেও হাঁস দুটিকে নিয়ে তাদের কাজটা আনন্দের হয়েছিল কেন?
লাডাকের নির্জন ঘাঁটিতে জোয়ানদের দিনযাপন ছিল একঘেয়ে ও বাড়ির জন্য মন কেমন করা। সেই একঘেয়ে পরিবেশে হাঁস দুটি ছিল এক নতুন আকর্ষণ। তাদের **সেবা করা ও তাদের সুস্থ হয়ে ওঠাই** জোয়ানদের আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা তাদের মনের দুঃখ কিছুটা ভুলিয়ে দিত।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):
১. ‘বুনো হাঁস’ গল্পে জোয়ানদের সেবা-যত্নের বিবরণ দাও।
লাডাকের ঘাঁটিতে থাকা জোয়ানরা অত্যন্ত মানবিকতার সঙ্গে আহত হাঁসটির সেবা-যত্ন করেছিল:
- **আশ্রয়দান:** বরফ পড়তে শুরু করলে জোয়ানরা হাঁসটিকে ধরে তাঁবুতে নিয়ে আসে এবং অন্য হাঁসটির সঙ্গে মুরগি রাখার খালি জায়গায় রাখে।
- **চিকিৎসা:** প্রথম হাঁসটির ডানা জখম হয়েছিল। জোয়ানরা তাকে নিয়মিত দেখভাল করে, যার ফলে তার ডানা আস্তে আস্তে সেরে ওঠে।
- **খাদ্য:** তারা হাঁস দুটিকে টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি—ইত্যাদি খেতে দিত।
- **মানসিক আনন্দ:** হাঁস দুটির দেখাশোনা করা জোয়ানদের কাছে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এক **আনন্দের কাজ** হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
জোয়ানদের এই সেবা-শুশ্রূষা তাদের **মানবতার পরিচয়** দেয় এবং তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও প্রাণীদের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন।
২. হাঁসেরা কখন ও কেন নিজেদের দেশে ফিরে গেল? ফেরার সময়ের প্রকৃতির বর্ণনা দাও।
জোয়ানদের তাঁবুতে থাকা হাঁসেরা শীতকাল কেটে যাওয়ার পর **বসন্তকালে** নিজেদের দেশে ফিরে গেল। তাদের ফেরার কারণ ছিল মূলত দুটি: প্রথমত, আহত হাঁসটির **ডানা সেরে ওঠা**; এবং দ্বিতীয়ত, নিজেদের দেশে গিয়ে **বাসা বাঁধা ও বাচ্চা তোলা**।
ফেরার সময়ের প্রকৃতির বর্ণনা:
- নীচের পাহাড়ের **বরফ গলতে** শুরু করেছিল।
- চারদিকে আবার **সবুজ ঝোপঝাপ** দেখা যাচ্ছিল।
- ন্যাড়া গাছে **পাতার ও ফুলের কুঁড়ি** ধরেছিল।
- পাখিরা আবার **দক্ষিণ দিক থেকে উত্তরের দিকে** আসতে আরম্ভ করেছিল।
এই পরিবেশ দেখে সুস্থ হয়ে ওঠা হাঁস দুটিও **চঞ্চল** হয়ে ওঠে এবং প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে উড়ে যায়।
৩. ‘বুনো হাঁস’ গল্পে জোয়ানরা কীভাবে বাড়ির জন্য মন কেমন করত, তার পরিচয় দাও।
‘বুনো হাঁস’ গল্পে জোয়ানরা লাডাকের নির্জন ঘাঁটিতে থাকার কারণে প্রায়শই বাড়ির জন্য মন খারাপ করত।
- **যোগাযোগের অভাব:** নির্জন জায়গায় থাকার কারণে তাদের কাছে নিয়মিত **চিঠিপত্র** পৌঁছাত না। শুধু **রেডিয়োর** মাধ্যমে সামান্য খবর পেত।
- **প্রকৃতির প্রভাব:** যখন মাথার ওপর দিয়ে দলে দলে বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত, তখন **তাদের বাড়ির জন্য মন কেমন করত**। এই বুনো হাঁসগুলো যেন ছিল তাদের নিজেদের **বাড়ি ফেরার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক**।
- **মানসিক আশ্রয়:** এই একঘেয়েমি ও মন খারাপের মধ্যে হাঁস দুটির দেখাশোনা করাই তাদের কাছে এক **আনন্দের কাজ** হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা তাদের মানসিক আশ্রয় দিয়েছিল।
হাঁস দুটি ফিরে যাওয়ার পর জোয়ানদেরও বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এসেছিল।
৪. ‘সঙ্গীকে ছেড়ে গেল না’— এই ঘটনা অবলম্বনে দুটি হাঁসের বন্ধুত্বের গভীরতা বিশ্লেষণ করো।
আহত হাঁসটি যখন দলছুট হয়ে নিচে নামে, তখন তার অন্য সঙ্গী হাঁসটিও নেমে আসে। এই ঘটনা তাদের **অকৃত্রিম ও গভীর বন্ধুত্বের** পরিচয় দেয়।
- **বিপদের সময় পাশে থাকা:** দ্বিতীয় হাঁসটি ছিল সম্পূর্ণ সুস্থ, সে ইচ্ছা করলেই দলের সঙ্গে নিরাপদে উড়তে পারত। কিন্তু সে তা না করে **বিপদগ্রস্ত বন্ধুকে রক্ষা করতে** তাঁবুর চারপাশে উড়ে বেড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ভেতরে ঢোকে।
- **আত্মত্যাগ ও অপেক্ষা:** সঙ্গী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সে জোয়ানদের তাঁবুতেই থেকে যায়। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তার কাছে **বন্ধুর নিরাপত্তা** নিজের আরাম বা ভ্রমণের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- **প্রকৃতির পাঠ:** এই গল্পে হাঁস দুটির এই আচরণ দেখিয়ে দেয় যে, মানুষের মতোই বুনো প্রাণীদের মধ্যেও **স্নেহ, মায়া এবং আত্মত্যাগের** মতো মানবিক গুণাবলী থাকে।
৫. ‘পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল, এবার দক্ষিণ থেকে উত্তরে।’— গল্পে বর্ণিত এই ঘটনাটির প্রেক্ষাপটে বুনো হাঁসদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য আলোচনা করো।
গল্পে বুনো হাঁসদের এই চলাচল তাদের **পরিযায়ী জীবনযাত্রা** এবং **প্রজননের মূল উদ্দেশ্যকে** তুলে ধরে।
- **পরিযান (Migration):** বুনো হাঁসদের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো **ঠান্ডা ও গরমের সহনশীলতা বজায় রাখা**। তারা তীব্র শীত এড়াতে দক্ষিণ দিকে যায় এবং বসন্তের উষ্ণতা ফিরলে প্রজনন ও বাসা বাঁধার উদ্দেশ্যে আবার নিজেদের মূল ভূখণ্ডে (উত্তরে) ফিরে আসে।
- **বাসা বাঁধা ও বংশবৃদ্ধি:** ‘দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে’—এই কথা থেকেই স্পষ্ট যে হাঁসদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো **বংশবৃদ্ধি**। বসন্তের অনুকূল আবহাওয়ায় তারা উত্তরের নিরাপদ পরিবেশে ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফোটায়।
- **প্রকৃতির আহ্বান:** বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মনে যে **চঞ্চলতা** দেখা যায়, তা প্রকৃতির সেই অমোঘ আহ্বান, যা তাদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করার জন্য তাড়িত করে।
৬. লাডাকের নির্জন ঘাঁটিতে জোয়ানদের দিনযাপন কেমন ছিল? হাঁস দুটি কীভাবে তাদের একঘেয়েমি দূর করেছিল?
লাডাকের বরফে ঢাকা নির্জন ঘাঁটিতে জোয়ানদের দিনযাপন ছিল অত্যন্ত **কষ্টকর ও একঘেয়ে**।
- **কষ্টকর দিনযাপন:** জায়গাটি ছিল বরফে ঢাকা এবং জনহীন। চিঠিপত্রও বিশেষ পৌঁছাত না, ফলে বাড়ির জন্য **মন কেমন** করত। শুধু রেডিয়োর মাধ্যমে সামান্য খবর পেত।
- **হাঁস দুটির ভূমিকা:** এই একঘেয়েমির মধ্যে আহত হাঁস ও তার সঙ্গীর আগমন ছিল যেন এক অপ্রত্যাশিত উপহার। অসুস্থ হাঁসটিকে তাঁবুতে এনে সেবা করা, তাকে খাবার দেওয়া, এবং সুস্থ হাঁসটির তার সঙ্গীকে ছেড়ে না যাওয়ার ঘটনা—এ সব কিছুই জোয়ানদের মনে **স্নেহ ও মমতা** জাগিয়ে তোলে।
- **আনন্দের কারণ:** হাঁস দুটির **দেখাশোনা করা** জোয়ানদের কাছে একটি **আনন্দের কাজ** হয়ে দাঁড়ায়। তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা জোয়ানদের মনেও **আশা ও নতুন উদ্দীপনা** সৃষ্টি করে, যার ফলে তাদের কঠিন দিনযাপন অনেকটা সহনীয় হয়ে ওঠে।