দ্বাবিংশ পাঠ: একলা (নোট)
প্রসেসিং হচ্ছে…

বাংলা সাহিত্য (পঞ্চম শ্রেণি)

দ্বাবিংশ পাঠ: একলা (শঙ্খ ঘোষ) – নোটস ও উত্তর

**উৎস:** সংকলিত কবিতা | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** নিঃসঙ্গতা সত্ত্বেও প্রকৃতির মাঝে সাহস ও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাওয়া।

১. কবি পরিচিতি (Author Information)

**শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১):** তাঁর আসল নাম **চিত্তপ্রিয় ঘোষ**। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি ও সাহিত্য সমালোচক। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হলো—**’দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’** এবং **’পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’**। তিনি **জ্ঞানপীঠ পুরস্কার**, **সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার** ও **পদ্মভূষণ** সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কবিতায় সমাজ ও মানুষের মনের **নিঃসঙ্গতা ও সংকট** ফুটে ওঠে।

২. সারসংক্ষেপ (Summary)

‘একলা’ কবিতাটি একটি শিশুর **নিঃসঙ্গতা** এবং একই সঙ্গে **সাহসী আত্মবিশ্বাসের** কথা তুলে ধরেছে।

শিশুটির কেউ না থাকায় তার মনে হয়, সে যেন **’অনেকটা রাস্তা একলা’** পেরিয়ে এসেছে। তার পাশে কোনো লোক নেই, তাই তার ভয় হয়। কিন্তু সে তার **নিজের জোরে** সামনের পথ পেরোতে চায়। সে দেখে, দূর থেকে **নিজেদের বাড়ি** দেখা যাচ্ছে। তখন তার মনে সাহস আসে। সে উপলব্ধি করে, যদি সে ভয় না পায়, তবে **নিজেদের পাড়া** আরও কাছে চলে আসবে। সে প্রতিজ্ঞা করে, আর কখনো সে **ভয় পাবে না**। বরং সে আরও জোরে **চিৎকার** করে ডাকতে থাকে। এই ডাক হলো তার **আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির** ডাক।

৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা (Key Vocabulary)

বাংলা শব্দ অর্থ প্রাসঙ্গিকতা
**একলা** নিঃসঙ্গ, একা শিশুটির মনে হয়, সে **একলা** হেঁটে চলেছে।
**সাহস** হিম্মত, ভয়হীনতা নিজের জোরে চললে মনে **সাহস** আসে।
**নিজস্ব** নিজের, ব্যক্তিগত শিশুটির **নিজস্ব** পাড়ায় পৌঁছানোর তাড়া।
**চিৎকার** জোরে আওয়াজ করা, হাঁক দেওয়া সাহস বাড়াতে শিশুটি আরও জোরে **চিৎকার** করে।
**পেতে** পাওয়া, এখানে কাছে আসা যদি ভয় না পায়, তবে পাড়া আরও কাছে **পেতে** পারে।
**পেছনের লোক** পিছন থেকে আসা পথচারী বা সঙ্গী শিশুটির পাশে **পেছনের লোক** কেউ ছিল না।

৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী ও অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

(এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):

১. শিশুটির মনে কেন ভয় জাগে? [২ নম্বর]

শিশুটির পাশে **পিছন থেকে আসা কোনো লোক ছিল না** এবং সে অনেকটা **রাস্তা একলা** হেঁটে এসেছিল। এই নিঃসঙ্গতার কারণে তার মনে ভয় জাগে।

২. শিশুটি নিজের সাহস বাড়ানোর জন্য কী করেছিল? [২ নম্বর]

শিশুটির যখন ভয় জাগে, তখন সে তার **নিজের জোরে** সামনের পথ পেরিয়ে যেতে চায় এবং আরও জোরে **চিৎকার করে** ডাকতে থাকে।

৩. শিশুটি কেন আরও জোরে চিৎকার করে ডাকতে চেয়েছিল? [২ নম্বর]

শিশুটির ডাকটি মূলত **সাহস ও আত্মবিশ্বাসকে** প্রকাশ করে। ভয় পেয়ে চুপ করে না থেকে, সে আরও জোরে চিৎকার করে ডাকতে চায়—যেন এই ডাকের মাধ্যমে তার **ভয় ভেঙে যায়** এবং নিজের পাড়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

৪. নিজেদের বাড়ি দেখে শিশুটির মনে কী অনুভূতি হয়? [২ নম্বর]

অনেক দূর থেকে নিজেদের বাড়ি দেখা যাওয়ায় শিশুটির মনে **আশা ও সাহস** আসে। বাড়ি তার কাছে **নিরাপত্তা ও পরিচিতির প্রতীক**।

৫. শিশুটি কেন প্রতিজ্ঞা করেছিল যে সে আর কখনও ভয় পাবে না? [২ নম্বর]

শিশুটির মনে হয়, যদি সে ভয় না পায়, তবে **নিজেদের পাড়া** আরও কাছে চলে আসবে। সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং এই জয়ের অনুভূতি তাকে **আর কখনও ভয় না পাওয়ার** প্রতিজ্ঞা করতে সাহায্য করে।

৬. ‘নিজের জোরেই সে সামনের পথ পেরিয়ে যেতে চায়’— এখানে ‘নিজের জোরে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [২ নম্বর]

এখানে **’নিজের জোরে’** বলতে বোঝানো হয়েছে **আত্মবিশ্বাস, মানসিক শক্তি** এবং **স্বাবলম্বী মনোভাবকে**। অর্থাৎ, কারও সাহায্যের অপেক্ষা না করে নিজের সাহসে ও চেষ্টায় সমস্ত ভয় ও বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

৭. পাড়াকে ‘নিজস্ব’ বলা হয়েছে কেন? [২ নম্বর]

পাড়া হলো **পরিচিত পরিবেশ ও আপনজনদের** বাসস্থান। এই পাড়ায় পৌঁছানো মানে **নিরাপত্তা ও স্বস্তি** ফিরে পাওয়া। তাই এই পরিচিতি ও নির্ভরতার কারণে পাড়াকে **’নিজস্ব’** বলা হয়েছে।

৮. কবিতাটিতে একলা পথ চলার কোন দুটি বিপরীত দিক ফুটে উঠেছে? [২ নম্বর]

একলা পথ চলার দুটি বিপরীত দিক হলো: ১. **নিঃসঙ্গতার ভয়** (কেউ পাশে নেই বলে ভয় পাওয়া) এবং ২. **আত্মবিশ্বাসের জয়** (ভয় না পেয়ে নিজের জোরে চিৎকার করে এগিয়ে যাওয়া)।

রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):

১. ‘একলা’ কবিতায় শিশুটির মনে ভয় থেকে সাহস সঞ্চারের প্রক্রিয়াটি আলোচনা করো। [৫ নম্বর]

কবিতাটিতে ভয় থেকে সাহসে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে:

  1. **ভয়ের কারণ:** শিশুটি **অনেকটা রাস্তা একলা** পেরিয়ে এসেছিল। তার পাশে **পিছনের লোক** কেউ ছিল না, এই **নিঃসঙ্গতা ও অপরিচিত পরিবেশে** তার মনে ভয় জাগে।
  2. **সাহসের উৎস:** এই পরিস্থিতিতে শিশুটি বাইরের সাহায্যের অপেক্ষা না করে **নিজের জোরে** পথ পেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দূর থেকে **নিজেদের বাড়ি** দেখা যাওয়ায় তার মনে **প্রাথমিক আশ্বাস** আসে।
  3. **আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ:** সে উপলব্ধি করে যে, **ভয় না পেলে** পাড়া আরও কাছে চলে আসবে। এই উপলব্ধি থেকে সে আরও জোরে **চিৎকার** করে ডাকতে থাকে। এই ডাক তার ভয়কে ছাপিয়ে **আত্মবিশ্বাসকে** প্রকাশ করে।

এভাবে শিশুটি একলা পথ চলায় **ভয়কে জয় করে স্বাবলম্বী** হওয়ার শিক্ষা লাভ করে।

২. একলা পথ চলার অভিজ্ঞতা শিশুটিকে কোন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়? [৫ নম্বর]

একলা পথ চলার এই অভিজ্ঞতা শিশুটিকে জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়:

  • **স্বাবলম্বিতা:** শিশুটি শেখে যে জীবনের পথে সবসময় কেউ পাশে থাকবে না। তাই নিজের জোরে অর্থাৎ **আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভর করে** পথ চলতে হয়।
  • **ভয়কে জয় করা:** সে বুঝতে পারে, ভয় পেয়ে থেমে গেলে বা চুপ করে থাকলে চলবে না। বরং **ভয়কে জয় করার জন্য** আরও জোরে নিজের সাহসকে প্রকাশ করতে হয়।
  • **আশার সন্ধান:** দূর থেকে নিজের বাড়ি দেখা তাকে **লক্ষ্যের সন্ধান** দেয়। সে শেখে, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং সাহস রাখলে কঠিন পথও সহজে পেরোনো যায়।
  • **স্থায়ী প্রতিজ্ঞা:** এই উপলব্ধি থেকে সে স্থির করে, **আর কখনও ভয় পাবে না**। এই প্রতিজ্ঞা তাকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

৩. ‘একলা’ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। [৫ নম্বর]

কবিতাটির নামকরণ **’একলা’** (নিঃসঙ্গ) অত্যন্ত সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ:

  • **ভাবের কেন্দ্রে:** কবিতার মূল বিষয় হলো **একাকীত্ব**। শিশুটির একলা পথ চলা এবং পাশে কেউ না থাকার কারণেই তার মনে ভয় জাগে। ‘একলা’ শব্দটিই কেন্দ্রীয় ভাবটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।
  • **মানসিক যাত্রা:** শিশুটি শুধু একলা হাঁটেনি, সে **মানসিক দিক থেকেও একলা** ছিল। এই একাকীত্বের কারণেই সে নিজের ভেতরের **আত্মবিশ্বাস** খুঁজে বের করতে পারে।
  • **জয়ের প্রতীক:** শেষ পর্যন্ত শিশুটি এই **নিঃসঙ্গতাকেই জয়** করে। তাই ‘একলা’ শব্দটি কেবল ভয় নয়, বরং **সাহস, স্বাবলম্বিতা ও মুক্তির**ও প্রতীক।

সুতরাং, নামকরণটি কবিতার **ভয়, নিঃসঙ্গতা ও জয়ের**—এই তিনটি প্রধান স্তরকেই ধারণ করে, যা একে সম্পূর্ণ সার্থক করে তোলে।

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu