DAY 1 একলা শঙ্খ ঘোষ CLASS NOTES
একলা
শঙ্খ ঘোষ
দ্বাবিংশ পাঠ
WBBSE Board
কবিতা
আমি যখন একলা থাকি
তখন কি আর একলা থাকি
জানো তখন সঙ্গে থাকে কারা?
থাকে সবুজ গাছপালা
আর তার ভিতরে চলে যাওয়ার
পথও থাকে, ঠিক যদি দিই সাড়া।
একটা আছে কাঠবেড়ালি
আমার দিকে তাকায় খালি
এদিক-ওদিক টানতে থাকে আমায়—
যেই-না তাকে ধরতে যাব
ভুলিয়ে দেয় সব হিসাব ও
ছুট দেয় আর কেই-বা তখন থামায়!
সেই ছুটে ছুট লাগাই জোরে
এই মাটিতে এই পাথরে
আকাশ জুড়ে কত যে ডাক ডাকে!
এমন দিনে কেউ কি গো আর
মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা
দুঃখটাকে বাজিয়ে রাখতে পারে?
📖 মূলভাব (সারসংক্ষেপ)
'একলা' কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ বলেছেন যে, মানুষ প্রকৃতির মাঝে কখনো একলা বা নিঃসঙ্গ হতে পারে না। কবি যখন একা থাকেন, তখন প্রকৃতির নানা উপাদান—সবুজ গাছপালা, কাঠবেড়ালি, মাটি, পাথর এবং আকাশ তাঁর সঙ্গী হয়ে ওঠে। সবুজ গাছপালার বুক চিরে চলে যাওয়া পথ কবিকে হাতছানি দেয়। একটি চঞ্চল কাঠবেড়ালি তাঁর সঙ্গে যেন লুকোচুরি খেলে; তাকে ধরতে গেলেই সে সব হিসাব ভুলিয়ে দিয়ে দ্রুত ছুটে পালায়। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্যের মাঝে হারিয়ে গেলে মানুষের মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সব দুঃখ বা একাকীত্ব দূর হয়ে যায়। প্রকৃতির সঙ্গ মানুষকে অনাবিল আনন্দ দেয়।
📝 শব্দার্থ (Word Meanings)
একলা
একা বা নিঃসঙ্গ।
সাড়া দেওয়া
ডাক শোনা বা উত্তর দেওয়া।
কাঠবেড়ালি
ছোটো ও চঞ্চল স্তন্যপায়ী প্রাণী।
হিসাব
গোনাগুনি বা মনের ভাবনা।
একনজরে পাঠ
- কবি: শঙ্খ ঘোষ
- বিষয়: প্রকৃতি ও একাকীত্ব
- মূল চরিত্র: কবি ও কাঠবেড়ালি
✍️ হাতেকলমে (প্রশ্নোত্তর)
১.১ 'একলা' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: 'একলা' কবিতাটি কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা।
১.২ কবি যখন একলা থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে কারা থাকে?
উত্তর: কবি যখন একলা থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে সবুজ গাছপালা এবং কাঠবেড়ালি থাকে।
১.৫ কবি কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে কী করে?
উত্তর: কবি কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে সব হিসাব ভুলিয়ে দিয়ে দ্রুত ছুটে পালিয়ে যায়।
১.৬ প্রকৃতির সঙ্গ পেলে মনের কোন্ জিনিসটি থাকে না?
উত্তর: প্রকৃতির এমন সুন্দর সঙ্গ পেলে মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দুঃখ আর থাকে না।
💡 ব্যাকরণ ও ভাষা জ্ঞান
বিপরীত শব্দ
- একলা × দলবদ্ধ
- ভিতরে × বাইরে
- জোরে × আস্তে
- দুঃখ × সুখ
সমার্থক শব্দ
- গাছ: তরু, বৃক্ষ
- পাথর: প্রস্তর, পাষাণ
- আকাশ: গগন, অম্বর
বাক্য রচনা
- "বর্ষাকালে মাঠ-ঘাট সবুজে ভরে ওঠে।"
- "রাতের আকাশ তারায় তারায় সেজে ওঠে।"
একলা
— শঙ্খ ঘোষ
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)
১. 'একলা' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: 'একলা' কবিতাটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা।
২. কবি যখন একা থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে কারা থাকে?
উত্তর: কবি যখন একা থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে সবুজ গাছপালা এবং কাঠবেড়ালি থাকে।
৩. সবুজ গাছপালার ভিতরে কী আছে?
উত্তর: সবুজ গাছপালার ভিতরে গভীরে চলে যাওয়ার একটি পথ আছে।
৪. কাঠবেড়ালি কবির দিকে কীভাবে তাকায়?
উত্তর: কাঠবেড়ালি কবির দিকে একদৃষ্টে বা খালি তাকিয়ে থাকে।
৫. কাঠবেড়ালি কবিকে কোন দিকে টানতে থাকে?
উত্তর: কাঠবেড়ালি কবিকে এদিক-ওদিক টানতে থাকে।
৬. কবি কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে কী করে?
উত্তর: কবি কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে সব হিসাব ভুলিয়ে দিয়ে দ্রুত ছুটে পালিয়ে যায়।
৭. কবি কোথায় ছুটে চলেন?
উত্তর: কবি কাঠবেড়ালির পিছু পিছু মাটি আর পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে চলেন।
৮. আকাশ জুড়ে কী শোনা যায়?
উত্তর: আকাশ জুড়ে প্রকৃতির নানা ধরনের ডাক শোনা যায়।
৯. প্রকৃতির সান্নিধ্যে কবির মনের কোন ভাবটি দূর হয়?
উত্তর: প্রকৃতির সান্নিধ্যে কবির মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দুঃখ দূর হয়ে যায়।
১০. 'একলা' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'একলা' শব্দের অর্থ হলো একা বা নিঃসঙ্গ।
১১. 'সাড়া দেওয়া' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: 'সাড়া দেওয়া' বলতে কবি প্রকৃতির ডাক শোনা বা তাতে উত্তর দেওয়াকে বুঝিয়েছেন।
১২. কাঠবেড়ালি কেমন প্রাণী?
উত্তর: কাঠবেড়ালি হলো একটি ছোটো এবং অত্যন্ত চঞ্চল স্তন্যপায়ী প্রাণী।
১৩. 'হিসাব' শব্দটির অর্থ কবিতায় কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: এখানে 'হিসাব' বলতে মনের ভাবনা বা সাংসারিক হিসেব-নিকেশকে বোঝানো হয়েছে।
১৪. 'জোরে' শব্দের বিপরীত শব্দ লেখো।
উত্তর: 'জোরে' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো 'আস্তে' বা 'ধীরে'।
১৫. 'আকাশ' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ লেখো।
উত্তর: 'আকাশ' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ হলো 'গগন' বা 'অম্বর'।
১৬. 'পাথর' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ লেখো।
উত্তর: 'পাথর' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ হলো 'প্রস্তর' বা 'পাষাণ'।
১৭. 'ভিতরে' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
উত্তর: 'ভিতরে' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো 'বাইরে'।
১৮. 'গাছ' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ লেখো।
উত্তর: 'গাছ' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ হলো 'তরু' বা 'বৃক্ষ'।
১৯. 'দুঃখ' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
উত্তর: 'দুঃখ' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো 'সুখ'।
২০. কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে কী করে?
উত্তর: কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে ছুট দেয় এবং তাকে কেউ থামাতে পারে না।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. "আমি যখন একলা থাকি / তখন কি আর একলা থাকি" — কবির এই ভাবনার কারণ কী?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের মতে, মানুষ যখন বাহ্যিকভাবে একা থাকে, তখন সে প্রকৃত অর্থে একা নয়। প্রকৃতির অগণিত উপাদান যেমন—সবুজ গাছপালা, কাঠবেড়ালি, আকাশ এবং মাটির পথ তাঁর সঙ্গী হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই সজীব উপস্থিতির কারণেই কবি নিজেকে কখনো নিঃসঙ্গ মনে করেন না।
২. 'একলা' কবিতায় প্রকৃতির কোন কোন উপাদান কবির সঙ্গী হয়েছে?
উত্তর: 'একলা' কবিতায় কবির সঙ্গী হয়েছে সবুজ গাছপালা এবং তাদের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া পথ। এ ছাড়াও একটি চঞ্চল কাঠবেড়ালি কবির সার্বক্ষণিক খেলার সঙ্গী। মাটি, পাথর এবং ডাক দিয়ে আকাশও কবির একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে।
৩. কবিতায় কাঠবেড়ালির চঞ্চলতার পরিচয় কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: কবিতায় দেখা যায় কাঠবেড়ালিটি কবির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে এবং তাঁকে এদিক-ওদিক টানতে থাকে। কবি যখনই তাকে ধরতে যান, সে অমনি সব হিসাব ভুলিয়ে দিয়ে দ্রুতবেগে ছুট দেয়। তাকে থামানো কারো পক্ষে সম্ভব হয় না। এই ঘটনাগুলি কাঠবেড়ালির চরম চঞ্চলতার পরিচয় দেয়।
৪. "ভুলিয়ে দেয় সব হিসাব ও" — এখানে 'হিসাব' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কেন তা ভুলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে 'হিসাব' বলতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা, পরিকল্পনা বা সাংসারিক চিন্তা-ভাবনাকে বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এবং কাঠবেড়ালির মতো চঞ্চল প্রাণীর সঙ্গে খেলায় মেতে উঠলে মানুষ জাগতিক সব চিন্তা বা হিসাব ভুলে গিয়ে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠে। তাই কবি এখানে হিসাব ভুলে যাওয়ার কথা বলেছেন।
৫. "এমন দিনে কেউ কি গো আর / মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা / দুঃখটাকে বাজিয়ে রাখতে পারে?" — পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যখন প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য ও চঞ্চলতা নিয়ে মানুষের সামনে ধরা দেয়, তখন মানুষের মন আনন্দে ভরে ওঠে। আকাশ জুড়ে প্রকৃতির ডাক এবং কাঠবেড়ালির সঙ্গে ছোটাছুটি মানুষের মনের গহীনে জমে থাকা দুঃখকে ভুলিয়ে দেয়। আনন্দের আতিশয্যে দুঃখ আর মনের কোণে স্থান পায় না।
৬. 'একলা' কবিতার মূলভাব নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: 'একলা' কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ দেখিয়েছেন যে প্রকৃতি মানুষের পরম বন্ধু। মানুষ যখন নিজেকে একা ভাবে, তখন প্রকৃতি তার গাছপালা, পশুপাখি এবং আকাশ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। প্রকৃতির এই সঙ্গ মানুষকে আনন্দ দেয় এবং তার মনের যাবতীয় বিষণ্ণতা ও দুঃখ দূর করে দেয়। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়াই হলো প্রকৃত মুক্তি।
৭. গাছপালার ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া পথটি কবিকে কীভাবে আকর্ষণ করে?
উত্তর: সবুজ গাছপালার গভীর অরণ্যের বুক চিরে যে পথটি চলে গেছে, তা কবিকে হাতছানি দেয়। কবি যদি সেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেন, তবে সেই পথটি যেন তাঁকে এক অজানা আনন্দের রাজ্যে নিয়ে যেতে চায়। প্রকৃতির এই রহস্যময় পথ কবির একাকিত্ব দূর করার অন্যতম মাধ্যম।
৮. কাঠবেড়ালি কবিকে কীভাবে 'এদিক-ওদিক' টানে?
উত্তর: কাঠবেড়ালিটি তার চঞ্চল গতিবিধি এবং চোখের চাহনি দিয়ে কবির মনোযোগ আকর্ষণ করে। সে যেন কবির সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে চায়। তার এই ছোটাছুটি এবং কবির দিকে তাকিয়ে থাকা কবিকে স্থির থাকতে দেয় না, বরং তাকেও কাঠবেড়ালির সঙ্গে চঞ্চল করে তোলে।
৯. "এই মাটিতে এই পাথরে" — কবি কেন এই কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি কাঠবেড়ালির পিছু পিছু ছুটতে গিয়ে প্রকৃতির রুক্ষ ও কোমল উভয় রূপেরই সংস্পর্শে আসেন। মাটি হলো কোমল আর পাথর হলো শক্ত। প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপের ওপর দিয়ে ছুটে চলা কবির কাছে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, যা তাঁকে একাকিত্ব ভুলিয়ে দেয়।
১০. আকাশ জুড়ে যে ডাকের কথা বলা হয়েছে, তা কবির মনে কী প্রভাব ফেলে?
উত্তর: আকাশ জুড়ে প্রকৃতির যে অগণিত ডাক বা শব্দ শোনা যায়, তা কবির মনকে উদ্বেলিত করে। এই ডাক কবিকে প্রকৃতির বিশালতার কথা মনে করিয়ে দেয় এবং তাঁর মনের সংকীর্ণতা বা দুঃখকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়। কবি প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন।
১১. 'একলা' কবিতার নামকরণ কতটা সার্থক বলে তুমি মনে করো?
উত্তর: কবিতার নাম 'একলা' হলেও কবি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে আমরা কখনোই একা নই। বাহ্যিক নিঃসঙ্গতার আড়ালে প্রকৃতির এক বিশাল জগত আমাদের সঙ্গী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। কবিতার শেষে একাকিত্বের দুঃখ জয়ের কথা বলা হয়েছে। তাই বৈপরীত্যের মাধ্যমে একাকিত্ব দূর করার এই বার্তার জন্য নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক।
১২. "ছুট দেয় আর কেই-বা তখন থামায়!" — এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবির কোন অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে?
উত্তর: এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি প্রকৃতির অদম্য গতিশীলতা এবং আনন্দের স্বতঃস্ফূর্ততাকে বুঝিয়েছেন। কাঠবেড়ালির ছুটে চলা যেমন কেউ থামাতে পারে না, তেমনি প্রকৃতির সান্নিধ্যে কবির মনের যে আনন্দের জোয়ার আসে, তাকেও কোনো জাগতিক বাধা বা দুঃখ আটকে রাখতে পারে না।
১৩. "ঠিক যদি দিই সাড়া" — এখানে সাড়া দেওয়ার অর্থ কী?
উত্তর: এখানে সাড়া দেওয়া বলতে প্রকৃতির রূপ, রস ও গন্ধকে অনুভব করা এবং প্রকৃতির আহ্বানে নিজেকে সঁপে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আমরা যদি যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির দিকে মন দিই, তবেই প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের সামনে ধরা দেবে।
১৪. কাঠবেড়ালিকে ধরতে যাওয়ার চেষ্টা কবির মনে কী পরিবর্তন আনে?
উত্তর: কাঠবেড়ালিকে ধরতে যাওয়ার চেষ্টা কবিকে শৈশবের চপলতায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এটি তাঁকে জাগতিক সমস্ত দুশ্চিন্তা ও জটিল হিসাব থেকে মুক্তি দেয়। তিনি নিজেকে প্রকৃতির একজন খেলার সাথী হিসেবে অনুভব করেন, যা তাঁর মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।
১৫. প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক 'একলা' কবিতায় কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কবিতায় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক গভীর ও নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। প্রকৃতি এখানে কেবল জড় বস্তু নয়, বরং প্রাণবন্ত সঙ্গী। গাছপালা, কাঠবেড়ালি বা আকাশ মানুষের একাকিত্বের সাথী হয়ে ওঠে এবং তাকে মানসিক শান্তি ও আনন্দ প্রদান করে।
১৬. কবিতায় 'সবুজ গাছপালা' কিসের প্রতীক?
উত্তর: 'সবুজ গাছপালা' এখানে সজীবতা, প্রাণশক্তি এবং শান্তির প্রতীক। সবুজের সান্নিধ্য মানুষের চোখের আরাম দেয় এবং মনের ক্লান্তি দূর করে। এটি একাকী মানুষের জীবনে প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসে।
১৭. "দুঃখটাকে বাজিয়ে রাখতে পারে?" — 'বাজিয়ে রাখা' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: 'বাজিয়ে রাখা' বলতে এখানে দুঃখকে লালন করা বা বারবার মনে করে কষ্ট পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। কবি বলতে চেয়েছেন যে, প্রকৃতির আনন্দের মাঝে থাকলে কেউ আর নিজের দুঃখকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকতে পারে না; আনন্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুঃখকে সরিয়ে দেয়।
১৮. কাঠবেড়ালি কীভাবে কবির 'হিসাব' ভুলিয়ে দেয়?
উত্তর: কাঠবেড়ালি তার অদ্ভুত চঞ্চলতা ও লুকোচুরি খেলার মাধ্যমে কবির সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নেয়। কবি যখন তাকে ধরার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, তখন তিনি ভুলে যান তাঁর জীবনের অন্য সব চিন্তা বা সমস্যা। এভাবেই একটি ছোট্ট প্রাণী কবির বড় বড় জাগতিক হিসাব ভুলিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
১৯. 'একলা' কবিতাটি পড়ে আমরা কী শিক্ষা পাই?
উত্তর: এই কবিতা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, প্রকৃতি আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। আমরা যদি প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করি, তবে আমরা কখনোই একা বোধ করব না। যান্ত্রিক জীবনের দুঃখ ও একাকিত্ব দূর করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নেওয়া।
২০. কবির ছুটে চলার বর্ণনা দাও।
উত্তর: কবি কাঠবেড়ালির পিছু পিছু অত্যন্ত জোরে ছুটে চলেন। এই ছুটে চলা কেবল সমতল মাটিতে নয়, বরং পাথুরে জমিতেও। এই ছোটাছুটির সময় আকাশ জুড়ে প্রকৃতির নানা ডাক তাঁকে উৎসাহিত করে। এই দৌড় আসলে একাকিত্ব থেকে আনন্দের দিকে কবির এক যাত্রা।
DAY 2 একলা শঙ্খ ঘোষ MOCK TEST
WBBSE Mock Test Bank
শ্রেণি: পঞ্চম | বিষয়: বাংলা (পাতাবাহার)
পাঠ: একলা — শঙ্খ ঘোষ
লোড হচ্ছে...
অভিনন্দন!
আপনি মক টেস্টটি সম্পন্ন করেছেন।
DAY 3 একলা শঙ্খ ঘোষONLINE EXAM
বিষয়: বাংলা (পাতাবাহার)
পাঠ: একলা — শঙ্খ ঘোষ (পঞ্চম শ্রেণি)
আপনার ফলাফল
MCQ অংশে আপনার প্রাপ্ত নম্বর উপরে দেখানো হয়েছে। বড়ো প্রশ্নগুলি আপনার শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
DAY 4 একলা শঙ্খ ঘোষ Revision & Mistake Analysis
একলা — শঙ্খ ঘোষ
পঞ্চম শ্রেণি | পাতাবাহার | দ্বাবিংশ পাঠ
Mistake Analysis: সাধারণ ভুল ও সংশোধন
| সাধারণ ভুল (Common Mistake) | সঠিক ধারণা (Correction/Clarification) |
|---|---|
| মনে করা যে 'একলা' থাকা মানেই কবি খুব দুঃখী বা নিঃসঙ্গ। | কবি শারীরিকভাবে একা থাকলেও মানসিকভাবে প্রকৃতির (গাছপালা, কাঠবেড়ালি) সঙ্গে আছেন, তাই তিনি নিঃসঙ্গ নন। |
| 'হিসাব' শব্দটিকে গণিতের যোগ-বিয়োগের অংক মনে করা। | এখানে 'হিসাব' বলতে কবির মনের পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনাকে বোঝানো হয়েছে, যা কাঠবেড়ালি ভুলিয়ে দেয়। |
| কাঠবেড়ালি কবির সাথে শত্রুতা করে বা তাঁকে ভয় পায়। | কাঠবেড়ালি কবির সাথে লুকোচুরি খেলে এবং তাঁকে এদিক-ওদিক টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো চপলতা দেখায়। এটি বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ। |
| কবিতার শেষে দুঃখের কথা বলা হয়েছে মানে কবিতাটি একটি দুঃখের কবিতা। | না, কবিতাটি আনন্দের। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এলে মনের সব 'লুকিয়ে থাকা দুঃখ' ধুয়ে মুছে যায়—এটাই কবিতার মূল সুর। |
Power Revision Summary (High-Yield Points)
মূল বিষয়বস্তু
- • কবি: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শঙ্খ ঘোষ।
- • একাকীত্ব বনাম প্রকৃতি: মানুষ যখন একা থাকে, প্রকৃতি তখন তার শ্রেষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠে।
- • সঙ্গীসমূহ: সবুজ গাছপালা, বনের পথ, চঞ্চল কাঠবেড়ালি, মাটি, পাথর এবং আকাশ।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও বিপরীত
- • সাড়া দেওয়া: ডাক শুনে উত্তর দেওয়া বা সাড়া জাগানো।
- • কাঠবেড়ালি: চঞ্চল স্বভাবের ক্ষুদ্র প্রাণী (প্রকৃতির সজীবতার প্রতীক)।
- • বিপরীত শব্দ: একলা $\leftrightarrow$ দলবদ্ধ; ভিতরে $\leftrightarrow$ বাইরে; দুঃখ $\leftrightarrow$ সুখ।
পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস
© WBBSE Revision Engine | পাতাবাহার: পঞ্চম শ্রেণি
DAY 5 একলা শঙ্খ ঘোষ Active Recall & Teaching Method
একলা — শঙ্খ ঘোষ
পঞ্চম শ্রেণি | পাতাবাহার | WBBSE
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
১. 'একলা' কবিতাটি কার লেখা?
২. কবি যখন একলা থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে কারা থাকে?
৩. সবুজ গাছপালার ভিতরে কী থাকে?
৪. কাঠবেড়ালি কবির দিকে কীভাবে তাকায়?
৫. কাঠবেড়ালি কবিকে কোন দিকে টানতে থাকে?
৬. কাঠবেড়ালিকে ধরতে গেলে সে কী করে?
৭. কবি কোথায় জোরে ছুটে বেড়ান?
৮. আকাশ জুড়ে কী শোনা যায়?
৯. প্রকৃতির মাঝে থাকলে মনের কোন অনুভূতি আর থাকে না?
১০. 'সাড়া দেওয়া' কথাটির অর্থ কী?
১১. 'একলা' শব্দের অর্থ কী?
১২. 'হিসাব' বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
১৩. 'পাথর' শব্দের একটি সমার্থক শব্দ বলো।
১৪. 'ভিতরে' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
১৫. 'জোরে' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
"মনে করো, তুমি ঘরে একা বসে আছো আর তোমার খুব মন খারাপ। কিন্তু তুমি যদি বাগানে যাও, দেখবে তুমি মোটেও একা নও! সবুজ গাছেরা তোমাকে ডাকছে, তাদের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সরু পথ তোমাকে হাতছানি দিচ্ছে। একটা দুষ্টু কাঠবেড়ালি তোমার সাথে লুকোচুরি খেলছে। তুমি যখন তাকে ধরতে যাবে, সে সুড়ুৎ করে পালিয়ে যাবে আর তোমার সব মন খারাপ বা দুঃখ নিমেষেই উধাও হয়ে যাবে। আকাশ, মাটি আর পাথর—সবাই তোমার বন্ধু হয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রকৃতির সাথে থাকলে আমরা কখনোই একা নই!"
৩. Spaced Repetition Schedule (পড়ার রুটিন)
১ দিন পর (Day 1)
- • কবিতাটি মুখস্থ আবৃত্তি করো।
- • শব্দার্থগুলো (একলা, সাড়া, হিসাব) ঝালিয়ে নাও।
৩ দিন পর (Day 3)
- • ছোট প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো।
- • ক-স্তম্ভ ও খ-স্তম্ভ মিলানো অভ্যাস করো।
- • বাক্য রচনাগুলো পুনরায় পড়ো।
৭ দিন পর (Day 7)
- • সমার্থক ও বিপরীত শব্দগুলো পরীক্ষা দাও।
- • কবিতার মূলভাবটি নিজের ভাষায় লেখো।
- • Blind Questions-এর উত্তর দাও।