বাংলা সাহিত্য (পঞ্চম শ্রেণি)
চতুর্থ পাঠ: এতোয়া মুন্ডার কাহিনি (মহাশ্বেতা দেবী) – নোটস ও উত্তর
**উৎস:** এতোয়া মুন্ডার যুদ্ধজয় | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** আদিবাসী জীবন, পরিবেশ ও ঐতিহ্যের সংগ্রাম।
—১. লেখক পরিচিতি (Author Information)
**মহাশ্বেতা দেবী (১৯২৬-২০১৬):** তিনি ছিলেন একাধারে বিখ্যাত লেখিকা, সাংবাদিক ও সমাজসেবিকা। তাঁর বাবা ছিলেন বিখ্যাত লেখক **মনীশ ঘটক (যুবনাশ্ব)**। তিনি বহু বছর বাংলা, বিহার ও ওড়িশার **অরণ্যভূমির আদিবাসী মানুষদের** জীবন নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা জনপ্রিয় উপন্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম হলো: **’ঝাঁসির রানী’, ‘নটী’, ‘অরণ্যের অধিকার’** এবং **’হাজার চুরাশির মা’**। ছোটোদের জন্য তাঁর বিখ্যাত বই ‘গল্পের গরু ন্যাদোশ’। তিনি তাঁর সমাজসেবামূলক কাজ ও সাহিত্য রচনার জন্য **ম্যাগসেসে পুরস্কার** সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আলোচ্য পাঠ্যাংশটি তাঁর লেখা **’এতোয়া মুন্ডার যুদ্ধজয়’** বইয়ের প্রথম পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে।
—২. সারসংক্ষেপ (Summary)
গল্পটি **এতোয়া মুন্ডা** নামে এক দশ বছর বয়সী আদিবাসী রাখাল ছেলের জীবন নিয়ে লেখা। সে হাতিঘর গ্রামে (আসল নাম **শালগেড়িয়া**) মোতিবাবুর বাগাল (রাখাল) হিসেবে কাজ করে। গল্পটিতে আদিবাসীদের অতীত ইতিহাস ও বর্তমান দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এতোয়ার দাদু মঙ্গল মুন্ডা জানান, মোতিবাবুদের পূর্বপুরুষেরা জোরজুলুম করে তাদের জমি কেড়ে নিয়েছে এবং গ্রামের নাম পাল্টে দিয়েছে। মুন্ডা ও সাঁওতালরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে **’উলগুলান’** ও **’হুল’** নামের বিদ্রোহ করলেও তারা হেরে যায় এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এতোয়া তার দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে যেতে পারে না, কিন্তু গরু চরাতে গিয়ে শুকনো কাঠ, **টোকো আম**, **মেটেআলু** ও শাক কুড়িয়ে এনে সংসার চালাতে সাহায্য করে। গল্পের শেষে গ্রামের বুড়ো ভজন ভুক্তার মাধ্যমে শূরবীর আদিবাসী রাজার কিংবদন্তি শোনা যায়।
—৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা (Key Vocabulary)
| বাংলা শব্দ | অর্থ | প্রাসঙ্গিকতা |
|---|---|---|
| **আদিবাসী** | আদিম অধিবাসী বা প্রাচীন জনজাতি | মুন্ডা, সাঁওতাল, লোধারা আদিবাসী জনজাতি। |
| **হুল** | সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৭) | সিধু-কানুর নেতৃত্বে সাহেবদের বিরুদ্ধে **সাঁওতালরা** ‘হুল’ করেছিল। |
| **উলগুলান** | মুন্ডা বিদ্রোহ (১৮৯৯-১৯০০) | **বিরসা মুন্ডার** নেতৃত্বে সাহেবদের বিরুদ্ধে ‘উলগুলান’ হয়েছিল। |
| **বাগাল** | রাখাল | এতোয়া মোতিবাবুর গরু-ছাগল চরানোর **বাগাল**। |
| **হাতিশালা** | হাতি রাখার ঘর | মোতিবাবুদের পুরোনো **হাতিশালা** এখন ধান রাখার গোলাঘর। |
| **গড়াম** | গ্রাম দেবতা | এতোয়াদের গ্রাম দেবতা বা **গড়াম** হলো বুড়ো শালগাছটা। |
| **টোকো আম** | টক হয়ে গেছে এমন আম | এতোয়া শুকনো কাঠ ও **টোকো আম** কুড়িয়ে নেয়। |
| **মুন্ডা** | পূর্ব ভারতের একটি প্রাচীন জনজাতি | এতোয়া হলো **মুন্ডা** জনজাতির ছেলে। |
৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী ও অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
(এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):
১. এতোয়ার গ্রামের আদি নাম কী ছিল? এই নাম পাল্টে গেল কেন?
এতোয়ার গ্রামের আদি নাম ছিল **শালগেড়িয়া**। মোতিবাবুদের পূর্বপুরুষেরা গ্রামে এলে তাদের অত্যাচার ও জোরজুলুমের কারণে আদিবাসীরা জমি হারায় এবং গ্রামের নাম পাল্টে **হাতিঘর** হয়ে যায়।
২. এতোয়ার নামটি ‘এতোয়া’ হলো কেন? সপ্তাহের অন্য বারে জন্ম হলে তার নাম কী হতে পারত?
এতোয়ার জন্ম হয়েছিল **রবিবার**। মুন্ডা আদিবাসীদের মধ্যে জন্মবারের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখার চল আছে। তাই তার নাম হয় এতোয়া। সে যদি **সোমবারে** জন্মাত, তবে তার নাম হতো **সোমরা** বা **সোমাই**।
৩. সাঁওতালরা ‘হুল’ আর মুন্ডারা ‘উলগুলান’ কেন করেছিল?
উভয় বিদ্রোহেরই মূল কারণ ছিল **সাহেবদের (ইংরেজদের) অত্যাচার ও জোর-জুলুম**। ইংরেজরা আদিবাসীদের বন, জমি কেড়ে নিচ্ছিল। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সিধু-কানুর নেতৃত্বে **’হুল’** এবং মুন্ডারা বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে **’উলগুলান’** করেছিল।
৪. হাতিঘর গ্রামের ঠাকুর-দেবতা কে? তার পূজার জন্য কী কী লাগে?
হাতিঘর গ্রামের ঠাকুর-দেবতা হলেন **গড়াম**, যিনি হলেন গ্রামের **বুড়ো শালগাছটি**। এই গড়ামকে পুজো দেওয়ার জন্য পোড়ামাটির **মস্ত হাতি ও মস্ত ঘোড়া** লাগে।
৫. এতোয়া বাগাল হিসেবে মোতিবাবুর বাড়িতে কী কাজ করত এবং নিজের জন্য কী করত?
বাগাল হিসেবে এতোয়া মোতিবাবুর **গরু-ছাগল-মোষ চরাত**। নিজের জন্য সে শুকনো ডাল, পাতা, টোকো আম, মেটেআলু এবং শাক কুড়িয়ে একটি বস্তায় ভরে নিত, যা জ্বালানি ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):
১. ‘এতোয়া মুন্ডার কাহিনি’ গল্পে আদিবাসী সমাজের জীবন সংগ্রাম ও বঞ্চনার চিত্রটি আলোচনা করো।
মহাশ্বেতা দেবীর এই গল্পটি আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সংগ্রামের দলিল।
- **জমি হারানো:** আদিবাসীরা বন কেটে বসত তৈরি করলেও, মোতিবাবুদের মতো **জমিদারেরা জোরজুলুম করে** তাদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়। এর ফলেই গ্রামের নাম শালগেড়িয়া থেকে হাতিঘর হয়।
- **বিদ্রোহ ও পরাজয়:** সাঁওতালরা ‘হুল’ ও মুন্ডারা ‘উলগুলান’-এর মতো ভীষণ যুদ্ধ করেছিল, কিন্তু **সরকারের আইনকানুন না জানা** ও ইংরেজদের বন্দুকের সামনে তারা পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- **দারিদ্র্য ও শিক্ষা:** এতোয়ার মতো শিশুরা দারিদ্র্যের কারণে **স্কুলে যেতে পারে না**; তাদের পেটের জ্বালায় মোতিবাবুর বাগাল হিসেবে কাজ করতে হয়। এটি তাদের বঞ্চনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
- **সাংস্কৃতিক সংযোগ:** তবুও তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে (‘জঙ্গল তো মা’), গ্রামদেবতা গড়ামকে (বুড়ো শালগাছ) পূজা করে—যা তাদের জীবন সংগ্রামের মধ্যেও **ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা**কে তুলে ধরে।
২. এতোয়ার ঠাকুরদা মঙ্গল মুন্ডার কথায় আদিবাসীদের দেশ ছাড়ার কারণ কী ছিল? এই ঘটনার ফল কী হয়েছিল?
মঙ্গল মুন্ডার কথায় আদিবাসীদের দেশ ছাড়ার প্রধান কারণ ছিল **ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদারদের অত্যাচার**।
- **বিদ্রোহের পরাজয়:** সিধু-কানুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল) এবং বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডা বিদ্রোহ (উলগুলান) তীব্র ছিল, কিন্তু সাহেবরা গুলি চালিয়ে জিতে যায়।
- **আইনগত অজ্ঞতা:** আদিবাসীরা **লেখাপড়া জানত না** এবং সরকারের **আইনকানুন বুঝত না**, ফলে তারা সহজেই হেরে যায়।
- **জোর-জুলুম:** মঙ্গল মুন্ডা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “জোর জুলুম না করলে কোনো আদিবাসী কখনো দেশ ছাড়ে না।” জমিদারেরা তাদের সবকিছু নিয়ে নেয়।
**ফলাফল:** বিদ্রোহে পরাজিত হওয়ার পর তারা **বাতাসের মুখে পাতার মতো** বাংলা, ওড়িশা, বিহার, আসাম—ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বন কেটে নতুন বসতি স্থাপন করে। যদিও আদিবাসীরা জঙ্গলকে মা মনে করত, তবু বাবুদের আগমনে তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে থাকে।
৩. এতোয়ার রোজকার কাজের বর্ণনা দাও। এই কাজে তার কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকাশ পায়?
এতোয়ার রোজকার কাজ ছিল মোতিবাবুর **গরু, ছাগল ও মোষ চরানো**। সে ভোরেই কাজে বেরিয়ে যেত।
- **সম্পদ সংগ্রহ:** গরু চরানোর সময় সে সবসময় চোখ খোলা রাখত। শুকনো ডাল, পাতা জ্বালানির জন্য; আমবাগানে পড়ে থাকা **টোকো আম**; মাটি খুঁড়ে **মেটেআলু**; এবং মজা পুকুরের পার থেকে **শাক**—সবকিছু সে একটি বস্তায় কুড়িয়ে নিত।
- **নদী পার হওয়া ও মাছ ধরা:** গরু নিয়ে সে ভুলং (দরংগাড়া) নদী পেরিয়ে চরে ওঠে। সেখানে সুবর্ণরেখা যেখানে সরু, বাঁশে বোনা জাল পেতে মাছ ধরত।
- **দুঃখ ভুলতে কল্পনা:** এইসব কাজের ফাঁকে সে যুদ্ধের (তির চলছে শনশন, কামান চলছে দনাদন) কথা ভেবে নিজের খিদে ও দুঃখ ভুলে যেত।
এতোয়ার মধ্যে **দুরন্ততা, তীক্ষ্ণ নজর, প্রকৃতির জ্ঞান** এবং **পরিবারকে সাহায্য করার দায়িত্ববোধ** প্রকাশ পায়। দারিদ্র্য সত্ত্বেও সে অত্যন্ত **কর্মঠ ও সাহসী** ছিল।
৪. শূরবীর আদিবাসী রাজার কিংবদন্তিটি কী? ভজন ভুক্তা কেন এই গল্প বলতেন?
**কিংবদন্তি:** ভজন ভুক্তার বলা গল্প অনুসারে, একসময় এই অঞ্চলে এক **শূরবীর আদিবাসী রাজা** ছিলেন। বাইরের মানুষ এসে তাঁর রাজ্যপাট কেড়ে নিলে, রাজা তাঁর **তামার ঘণ্টা ও তির ধনুক** নিয়ে ভুলং নদীতে ঝাঁপ দেন। রাজা পাতালে অপেক্ষা করছেন। যদি কেউ ভক্তিভরে তাঁকে ডাকে, তবে তিনি **ঘণ্টা বাজিয়ে হাতি চেপে** জল থেকে উঠে আসবেন। তাঁর রাজ্য পুনরুদ্ধার হবে এবং মাটি আবার জঙ্গল দিয়ে ঢেকে যাবে।
**ভজন ভুক্তার গল্প বলার উদ্দেশ্য:**
- ভজন ভুক্তা ছিলেন **অন্ধ মানুষ**, তিনি হাটবারে গল্প বলে দশ পয়সা সংগ্রহ করতেন।
- তাঁর গল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল **আদিবাসী সমাজে ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদা জাগিয়ে তোলা**। রাজা ফিরে আসার গল্প বলে তিনি তাদের মনে **আশা** জাগাতেন।
- এছাড়াও, গল্পটি প্রকৃতির প্রতি আদিবাসীদের গভীর বিশ্বাস ও বনভূমি পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।
৫. এতোয়া মুন্ডার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
এতোয়া মুন্ডা এই গল্পের **কেন্দ্রীয় চরিত্র**, যে আদিবাসী জীবনের প্রতিচ্ছবি।
- **শারীরিক গঠন ও স্বভাব:** তার বয়স মোটে দশ। মাথায় **লালচে, ঝাঁকড়া চুল** এবং চোখ দুটি **জ্বলজ্বলে ও ধারালো**। তাকে দেখলে ‘দুরন্ত এক বাচ্চা ঘোড়া’র মতো মনে হয়, যে এখনই লাফিয়ে দৌড় লাগাবে।
- **কর্মঠ ও দায়িত্বশীল:** দারিদ্র্যের কারণে সে স্কুলে যেতে পারে না। সে মোতিবাবুর বাগাল হিসেবে কাজ করে এবং নিজের বস্তায় শুকনো কাঠ, আম, আলু, শাক কুড়িয়ে এনে পরিবারকে সাহায্য করে। তার **রোজনামচায় কঠোর শ্রম** রয়েছে।
- **ঐতিহ্য সচেতন:** যদিও সে লেখাপড়া জানে না, তবুও সে তার ঠাকুরদার কাছে অতীত বিদ্রোহের গল্প শোনে এবং আদিবাসী রাজাদের কিংবদন্তিতে বিশ্বাস করে।
- **স্বাধীনচেতা:** গরু চরাতে চরাতে নদীর চরে এসে বাঁশের জাল পাতে। তখন নিজেকে নদীর, আকাশের, চরের **রাজা** বলে ভাবে—যা তার মনের **স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে** প্রকাশ করে।
৬. ‘জঙ্গল তো মা! জঙ্গল নষ্ট করি নাই।’- বক্তা কে? কেন সে জঙ্গলকে মা বলেছেন?
**বক্তা:** উক্তিটির বক্তা হলো এতোয়ার **ঠাকুরদা মঙ্গল মুন্ডা**।
**জঙ্গলকে মা বলার কারণ:** আদিবাসী সমাজে জঙ্গলকে মা বলার পিছনে গভীর আর্থ-সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কারণ রয়েছে:
- **জীবনধারণের উৎস:** জঙ্গল আদিবাসীদের **খাবার, বাসস্থান এবং জ্বালানি** সরবরাহ করে। জঙ্গল থেকেই তারা কন্দ, মূল, ফল, পাতা, জ্বালানি কাঠ, খরগোশ ও শজারু ইত্যাদি সংগ্রহ করে।
- **আশ্রয়দাত্রী:** বিদ্রোহের পর আদিবাসীরা যখন দেশছাড়া হয়, তখন **বন কেটে বসত** করার মাধ্যমে জঙ্গলই তাদের আশ্রয় দিয়েছে।
- **আধ্যাত্মিক বিশ্বাস:** আদিবাসীদের **গ্রাম দেবতা (গড়াম)** হলেন বুড়ো শালগাছটি। লোধারা **বাঘুৎ দেবতাকে** পূজা করে, যাতে বাঘ গরু না খায়। এগুলি প্রমাণ করে, জঙ্গল তাদের কাছে কেবল সম্পদ নয়, **পূজনীয় শক্তি**।
তাই জঙ্গল আদিবাসীদের জীবন রক্ষা করে, পোষণ করে এবং আশ্রয় দেয়। একজন মা যেমন তার সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখে, তেমনই জঙ্গল বাঁচায় বলে এটিকে **’মা’** বলা হয়েছে।