বাংলা সাহিত্য (তৃতীয় শ্রেণি)
নবম পাঠ: কীসের থেকে কী যে হয় (প্রেমেন্দ্র মিত্র) – নোটস ও উত্তর
**উৎস:** সংকলিত ছড়া | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** উদ্ভট কল্পনা, অসম্ভব ঘটনার মাধ্যমে শিশুদের কৌতূহল বৃদ্ধি।
—১. কবি পরিচিতি (Author Information)
**প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৫-১৯৮৮):** তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং চিত্র পরিচালক। তিনি মূলত ছোটোদের জন্য **’ঘনাদা’** এবং **’পরাশর বর্মা’**-র মতো বিখ্যাত চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ছড়াগুলি সাধারণত **কৌতুক ও অদ্ভূত কল্পনায়** ভরা থাকত। তিনি **রবীন্দ্র পুরস্কার** এবং **সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে** সম্মানিত হন।
—২. সারসংক্ষেপ (Summary)
‘কীসের থেকে কী যে হয়’ ছড়াটিতে কবি **প্রেমেন্দ্র মিত্র** এক কাল্পনিক ও অসম্ভব জগতের বর্ণনা দিয়েছেন। যেখানে কোনো কিছুরই **নিয়ম বা যুক্তি** নেই।
১. **অদ্ভুত জীব:** ছড়াটি শুরু হয় এমন এক জীবের বর্ণনা দিয়ে, যার **ডিম থেকে হয় মুরগি, কিন্তু তার দাঁত নেই**। সে **ঘোড়ার ডিমের** মতো অসম্ভব জিনিস নিয়ে আসে। ২. **অসঙ্গতি:** সেখানে **মাছরাঙা পাখির পিঠে ব্যাঙ** চড়ে, আর **কাঠবেড়ালি** গলায় **মদনের ফিতে** বাঁধে। ৩. **প্রশ্ন:** কবি এই ছড়ার মাধ্যমে প্রশ্ন করেছেন—**কীসের থেকে কী যে হয়**, তা কেউ জানে না। এই ছড়ার একমাত্র **উদ্দেশ্যই হলো মজা**।
ছড়াটি শিশুদের মনে **অবাস্তব কল্পনা** ও **কৌতূহল** জাগিয়ে তোলে।
—৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা (Key Vocabulary)
| বাংলা শব্দ | অর্থ | প্রাসঙ্গিকতা |
|---|---|---|
| **ডিম** | ডিম, অণ্ড | অদ্ভুত জীবের **ডিম** থেকে মুরগি হয়। |
| **মুরগি** | ডিম দেওয়া পাখি | ডিম থেকে হয় **মুরগি**, কিন্তু তার দাঁত নেই। |
| **মাছরাঙা** | মাছ শিকারি পাখি (Kingfisher) | **মাছরাঙার** পিঠে ব্যাঙ চড়ে। |
| **কাঠবেড়ালি** | কাঠের ওপর বিচরণশীল লেজঝোলা প্রাণী | **কাঠবেড়ালি** গলায় ফিতে বাঁধে। |
| **ফিতে** | সরু কাপড়ের টুকরো, রিবন | কাঠবেড়ালি **মদনের ফিতে** বাঁধে। |
| **মদন** | কামদেব, সৌন্দর্যের দেবতা (এখানে ফিতের গুণ) | ছড়াতে **মদনের** ফিতের উল্লেখ আছে। |
| **আকাশে ভাসে** | আকাশে ভেসে বেড়ায় | অদ্ভুত জিনিসগুলো যেন **আকাশে ভাসে**। |
৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী ও অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
(এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):
১. ছড়াটিতে বর্ণিত অদ্ভুত প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
ছড়াটিতে বর্ণিত অদ্ভুত প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য ছিল—তার **ডিম থেকে মুরগি** হয়, কিন্তু সেই মুরগির **দাঁত নেই**।
২. ছড়াটিতে কোন কোন প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে? (যে কোনো দুটি)
ছড়াটিতে **মুরগি, মাছরাঙা, ব্যাঙ** এবং **কাঠবেড়ালি**-র মতো প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে।
৩. কোন প্রাণী কার পিঠে চড়েছিল?
**ব্যাঙ** **মাছরাঙা পাখির** পিঠে চড়েছিল।
৪. ছড়াটিতে উল্লিখিত অসম্ভব ঘটনাগুলি কী ছিল? (যে কোনো দুটি)
ছড়াটিতে উল্লিখিত অসম্ভব ঘটনাগুলি হলো— ১. ডিম থেকে দাঁতবিহীন মুরগি হওয়া। ২. মাছরাঙার পিঠে ব্যাঙের চড়া। ৩. ঘোড়ার ডিমের মতো জিনিস নিয়ে আসা।
৫. ছড়াটি কেন ‘কীসের থেকে কী যে হয়’ নামে পরিচিত?
ছড়াটিতে একের পর এক **অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা** (মুরগির দাঁত না থাকা, মাছরাঙার পিঠে ব্যাঙ চড়া) বর্ণনা করা হয়েছে। এই **অসঙ্গতিপূর্ণ পরিবর্তনের** কারণেই ছড়াটির নাম ‘কীসের থেকে কী যে হয়’ রাখা হয়েছে।
৬. কাঠবেড়ালি কী বাঁধে এবং কেন?
কাঠবেড়ালি গলায় **মদনের ফিতে** বাঁধে। ‘মদন’ হলো সৌন্দর্যের দেবতা। কাঠবেড়ালি হয়তো **নিজেকে সাজানোর** জন্যই এই সুন্দর ফিতেটি বেঁধেছিল।
৭. ছড়াটির প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ছড়াটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল **শিশুদের মনে কৌতুক সৃষ্টি করা** এবং **অবাস্তব কল্পনার জগৎ** তুলে ধরা। ছড়ার মাধ্যমে **যুক্তিহীনতা ও হাসির** পরিবেশ তৈরি করাই ছিল কবির মূল লক্ষ্য।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):
১. ‘কীসের থেকে কী যে হয়’ ছড়াটিতে প্রেমেন্দ্র মিত্র কীভাবে উদ্ভট কল্পনার জগৎ সৃষ্টি করেছেন, তা আলোচনা করো।
প্রেমেন্দ্র মিত্র ছড়াটিতে **অসঙ্গতিপূর্ণ চিত্রকল্প** এবং **যুক্তিহীন ঘটনার** মাধ্যমে উদ্ভট কল্পনার জগৎ সৃষ্টি করেছেন:
- **অসম্ভব প্রাণীর জন্ম:** ডিম থেকে মুরগি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মুরগির **দাঁত না থাকা**—এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক অসঙ্গতি।
- **অদ্ভুত সহাবস্থান:** **মাছরাঙার পিঠে ব্যাঙ** চড়েছে। দুটি প্রাণী সাধারণত এভাবে একসাথে থাকে না। এই ঘটনা তাদের **অবাস্তব সখ্যতা** তুলে ধরে।
- **মানবিক আচরণ:** **কাঠবেড়ালি** গলায় **মদনের ফিতে** বাঁধছে। প্রাণীর এই **সাজগোজের** প্রবণতা মানুষের আচরণকে ইঙ্গিত করে।
এই সমস্ত উদ্ভট ঘটনাগুলো বাস্তবে অসম্ভব হলেও, ছড়ার মাধ্যমে কবি শিশুদের মনে **হাস্যরস ও কৌতূহল** জাগিয়ে তুলেছেন।
২. ছড়াটি কেন তোমার ভালো লেগেছে বা লাগেনি— যুক্তি সহকারে লেখো। (নিজস্ব মতামতধর্মী প্রশ্ন)
**(নমুনা উত্তর):** ‘কীসের থেকে কী যে হয়’ ছড়াটি আমার **খুব ভালো লেগেছে**।
- **হাস্যরস:** এই ছড়াটি খুবই **মজার**। মুরগির দাঁত না থাকা বা মাছরাঙার পিঠে ব্যাঙের চড়ে বসা—এই সমস্ত অদ্ভুত ছবিগুলি মনের মধ্যে **হাসি** জাগায়।
- **কল্পনার মুক্তি:** ছড়াটি আমাদের **বাস্তবের নিয়ম-কানুন** ভুলে **অবাস্তব জগতে** ঘুরে আসতে সাহায্য করে। এটি যেন কল্পনার এক ধরনের **স্বাধীনতা**।
- **কৌতূহল:** ছড়াটি বারবার মনে প্রশ্ন জাগায়—আসলে **কীসের থেকে কী যে হয়**! এই প্রশ্নটি **নতুন কিছু জানার** কৌতূহলকে বাড়ায়।
এই কারণে ছড়াটি আমার মনকে **আনন্দ ও মজা** দিয়েছে।
৩. তুমি যদি এই ছড়াটির একটি নতুন পঙ্ক্তি যোগ করতে চাও, তবে সেটি কেমন হতে পারত? তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
**নতুন পঙ্ক্তি (নমুনা):** **”বিড়ালের গা থেকে ছাগলের ডাক আসে, / কীসের থেকে কী যে হয়।”**
**কারণ:** ছড়াটির মূল ভিত্তি হলো **অসঙ্গতিপূর্ণ পরিবর্তন**।
- **প্রাণীর বৈপরীত্য:** বিড়াল ও ছাগল দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রাণী। বিড়াল করে ‘মিউ মিউ’ শব্দ, আর ছাগল ডাকে ‘ব্যা ব্যা’।
- **অসম্ভব ঘটনা:** একটি প্রাণীর শরীর থেকে অন্য প্রাণীর ডাক আসাটা **যুক্তিহীন ও হাস্যকর**।
এই নতুন পঙ্ক্তিটি ছড়ার **উদ্ভট কল্পনার নিয়মকে** বজায় রাখে এবং **হাস্যরসের জন্ম** দেয়।