বাংলা সাহিত্য (তৃতীয় শ্রেণি)
একবিংশ পাঠ: আগমনী (প্রেমেন্দ্র মিত্র) – নোটস ও উত্তর
**উৎস:** সংকলিত ছড়া | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** শরৎকালের উৎসবের আমেজ ও প্রকৃতির সজীবতা।
—১. কবি পরিচিতি (Author Information)
**প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৫-১৯৮৮):** তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং চিত্র পরিচালক। তিনি মূলত ছোটোদের জন্য **’ঘনাদা’** এবং **’পরাশর বর্মা’**-র মতো বিখ্যাত চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ছড়াগুলি সাধারণত **কৌতুক ও অদ্ভূত কল্পনায়** ভরা থাকত। তিনি **রবীন্দ্র পুরস্কার** এবং **সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে** সম্মানিত হন।
—২. সারসংক্ষেপ (Summary)
‘আগমনী’ ছড়াটিতে কবি **শরৎ ঋতুর আগমন** এবং সেই ঋতুতে সৃষ্ট **উৎসবের আমেজ** তুলে ধরেছেন।
১. **আনন্দের বাতাস:** উৎসব শুরু হওয়ায় চারদিকে **खुশির হাওয়া** বইছে। সেই হাওয়ায় **ফুল ও ফল** দুলছে। ২. **বৃষ্টি ও সূর্য:** বৃষ্টির শেষে **সূর্যের আলো** গাছের পাতায় চিকচিক করে ঝরে পড়ছে। ৩. **শিশুর আনন্দ:** শিশুর চোখে জগৎ যেন আরও **সুন্দর** হয়ে উঠেছে। তার চোখে **সবকিছুই ভালো** লাগে। ৪. **কাজের আহ্বান:** কবি এই আনন্দময় সময়ে **ঘুমিয়ে না থেকে** সকলকে **জেগে ওঠার** এবং **কাজে লেগে পড়ার** আহ্বান জানিয়েছেন।
ছড়াটি শরৎকালের **সজীবতা ও উৎসবের সূচনাকে** প্রকাশ করে।
—৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা (Key Vocabulary)
| বাংলা শব্দ | অর্থ | প্রাসঙ্গিকতা |
|---|---|---|
| **আগমনী** | আসার বার্তা, আগমন (বিশেষত পূজার বা ঋতুর) | শরতের **আগমনী** বার্তা ছড়ায় রয়েছে। |
| **खुশির হাওয়া** | আনন্দের ঢেউ বা বাতাস | প্রকৃতিতে **खुশির হাওয়া** বইছে। |
| **চিকচিক** | উজ্জ্বল, চকচকে, ঝলমলে | পাতায় সূর্যের আলো **চিকচিক** করছে। |
| **দুলে** | দুলছে, দোল খাওয়া | ফুল ও ফল **দুলে**। |
| **ঘুমিয়ে** | ঘুমে মগ্ন থাকা | আনন্দময় সময়ে **ঘুমিয়ে** থাকা উচিত নয়। |
| **জেগে** | ঘুম ভেঙে ওঠা, সজাগ | সকলকে **জেগে** ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। |
| **কাজ** | শ্রম, কর্ম | জেগে উঠে **কাজে** লেগে পড়ার কথা বলা হয়েছে। |
৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী ও অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
(এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):
১. ‘আগমনী’ ছড়াটিতে কোন ঋতুর আগমনী বার্তা দেওয়া হয়েছে?
‘আগমনী’ ছড়াটিতে **শরৎ ঋতুর** আগমনী বার্তা দেওয়া হয়েছে।
২. আগমনী বার্তা শুনে প্রকৃতিতে কী পরিবর্তন দেখা যায়?
আগমনী বার্তা শুনে প্রকৃতিতে **खुশির হাওয়া** বইছে এবং সেই হাওয়ায় **ফুল ও ফল** দুলছে।
৩. কবি কেন সকলকে ঘুমিয়ে না থাকার আহ্বান জানিয়েছেন?
বাইরে যখন **আনন্দময় উৎসবের পরিবেশ** তৈরি হয়েছে, তখন **আলস্য** করা উচিত নয়। **দিনের কাজ শুরু** করার জন্য কবি সকলকে ঘুমিয়ে না থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
৪. সূর্যের আলো গাছের পাতায় কেমনভাবে ঝরে পড়ছে?
বৃষ্টির শেষে **সূর্যের আলো** গাছের পাতায় **চিকচিক** করে ঝরে পড়ছে। এটি প্রকৃতির **সজীবতা ও নির্মলতাকে** তুলে ধরে।
৫. উৎসব শুরু হলে শিশুটির কেমন লাগে?
উৎসব শুরু হলে শিশুটির চোখে **জগতটা আরও সুন্দর** হয়ে ওঠে এবং তার মনে হয় **সবকিছুই ভালো** লাগে।
৬. শরৎকালের আগমন কিসের প্রতীক?
শরৎকালের আগমন **পূজা, উৎসব** এবং **শান্তি ও নির্মলতার** প্রতীক। এটি বর্ষার স্থবিরতা কাটিয়ে **নতুন আনন্দের** সূচনা করে।
৭. এই ছড়াটি থেকে আলস্যের বিপরীত কাজের দুটি উদাহরণ দাও।
আলস্যের বিপরীত কাজের দুটি উদাহরণ হলো: ১. **জেগে উঠে** দিনের আলো উপভোগ করা। ২. **কাজে লেগে** পড়া।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):
১. ‘আগমনী’ ছড়াটিতে শরৎকালের উৎসবের আমেজ কীভাবে ফুটে উঠেছে?
প্রেমেন্দ্র মিত্রের এই ছড়ায় শরৎকালের উৎসবের আমেজ ফুটে উঠেছে:
- **খুশির বার্তা:** প্রকৃতিতে বইছে **’खुশির হাওয়া’**। এই হাওয়াই উৎসবের সূচনা করে।
- **আলোর সজীবতা:** সূর্যের আলো গাছের পাতায় **চিকচিক** করে পড়ছে, যা পরিবেশকে **উজ্জ্বল ও সজীব** করে তুলেছে।
- **প্রকৃতির নৃত্য:** হাওয়ার তালে তালে **ফুল ও ফল** দুলছে, যা যেন প্রকৃতি নিজেই **আনন্দে মেতে উঠেছে**।
- **মানসিক আনন্দ:** শিশুটির চোখে **জগতটা আরও সুন্দর** লাগছে। এটিই উৎসবের মানসিক আনন্দকে প্রকাশ করে।
সবমিলিয়ে, ছড়াটি শরৎকালের **আনন্দ, সৌন্দর্য ও পূজার আগমনী** বার্তা দেয়।
২. ছড়াটি শিশুদের কীভাবে আলস্য ত্যাগ করে কর্মমুখর হতে শেখায়?
এই ছড়াটি শিশুদের আলস্য ত্যাগ করে কর্মমুখর হতে শেখায়:
- **সরাসরি আহ্বান:** কবি সরাসরি **’ঘুমিয়ে পড়ো নাকো আর’** বলে আলস্য ত্যাগ করার আহ্বান জানান।
- **প্রেরণা:** চারপাশের প্রকৃতি (সূর্যের আলো, পাখিদের ডাক) যখন **দিনের কাজ শুরু** করার ইঙ্গিত দেয়, তখন আর ঘুমিয়ে থাকা উচিত নয়।
- **কাজের গুরুত্ব:** ছড়াটি পরোক্ষভাবে শেখায় যে, **ঘুমিয়ে থাকলে জীবনের আনন্দ ও উৎসব** মিস হয়ে যায়। জেগে উঠে কাজে লেগে পড়লেই জীবনের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
এই ছড়াটি শিশুদের জন্য **আনন্দ ও কর্মের মধ্যে সামঞ্জস্য** বজায় রাখার শিক্ষা দেয়।