বিংশ পাঠ: ঘুমিয়ে পড়ো নাকো আর (নোট)
প্রসেসিং হচ্ছে…

বাংলা সাহিত্য (তৃতীয় শ্রেণি)

বিংশ পাঠ: ঘুমিয়ে পড়ো নাকো আর (বিমল চন্দ্র ঘোষ) – নোটস ও উত্তর

**উৎস:** সংকলিত ছড়া | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** সকালের আহ্বান, অলস্য ত্যাগ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ।

১. কবি পরিচিতি (Author Information)

**বিমল চন্দ্র ঘোষ (১৯১০-১৯৮৭):** তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি ও ছড়াকার। তাঁর ছড়াগুলি সাধারণত **সৌম্য, ছন্দময় ও সরল** ভাষায় রচিত। তিনি মূলত ছোটোদের জন্য এবং প্রকৃতিকে নিয়ে প্রচুর লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে—**’যাদুঘর’, ‘যাদের কথা’, ‘ফুটবল’** এবং **’সাত সাগরের পারে’**।

২. সারসংক্ষেপ (Summary)

‘ঘুমিয়ে পড়ো নাকো আর’ ছড়াটিতে কবি **ভোরের মনোরম পরিবেশের** বর্ণনা দিয়ে শিশুকে **ঘুম ও আলস্য ত্যাগ করে** জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

১. **সকালের দৃশ্য:** ভোর হয়েছে। **পূবদিকে সোনা** ঢালা হয়েছে (সোনালী রোদ), আর **শীত কেটে** গেছে। ২. **প্রকৃতির আহ্বান:** গাছে গাছে **পাখিরা** মিষ্টি সুরে ডাকছে। **আলো** এসে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। **নদীতে নৌকা** চলছে, আর **মাঝি গান** গাইছে। ৩. **কাজের সময়:** **কৃষকেরা লাঙল** নিয়ে চলেছে। এই সুন্দর সময়ে কবি সকলকে অনুরোধ করেছেন, **আর যেন কেউ ঘুমিয়ে না থাকে**, বরং জেগে উঠে **দিনের আলো ও প্রকৃতির সৌন্দর্য** উপভোগ করে।

ছড়াটি অলস্য দূর করে **কর্মমুখর ও আনন্দময়** দিন শুরু করার উৎসাহ দেয়।

৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা (Key Vocabulary)

বাংলা শব্দ অর্থ প্রাসঙ্গিকতা
**পূবদিকে** পূর্ব দিকে **পূবদিকে** সোনা ঢালা হয়েছে (সূর্য উঠেছে)।
**সোনা** স্বর্ণ, এখানে সূর্যের সোনালী আলো **সোনা** ঢালা হয়েছে পূবদিকে।
**পাখিরা** পক্ষী, বিহঙ্গ গাছে গাছে **পাখিরা** ডাকছে।
**নদী** জলস্রোত, তটিনী নদীতে **নৌকা** চলছে।
**আলস্য** কুঁড়েমির ভাব, ঘুমজড়িত অবস্থা **আলস্য** ত্যাগ করে জেগে ওঠা উচিত।
**কৃষক** চাষি, যারা চাষ করে **কৃষকেরা** লাঙল নিয়ে চলেছে।
**লাঙল** চাষ করার যন্ত্র, হল কৃষকেরা **লাঙল** নিয়ে চলেছে।

৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী ও অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

(এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২ নম্বর):

১. ছড়াটিতে সকালের কোন দুটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে? [২ নম্বর]

ছড়াটিতে সকালের যে দুটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে: ১. **পূবদিকে সোনা** ঢালা হয়েছে (সূর্য উঠেছে)। ২. গাছে গাছে **পাখিরা** মিষ্টি সুরে ডাকছে।

২. সকালে গাছে গাছে কারা ডাকছে? তাদের ডাকে কীসের ইঙ্গিত? [২ নম্বর]

সকালে গাছে গাছে **পাখিরা** ডাকছে। তাদের ডাকে **আলস্য ত্যাগ** করে জেগে ওঠা এবং **দিনের কাজ শুরু করার** ইঙ্গিত রয়েছে।

৩. কৃষকেরা কখন এবং কী নিয়ে চলেছে? [২ নম্বর]

কৃষকেরা **সকাল বেলা** তাদের **লাঙল** নিয়ে চলেছে। তারা **ক্ষেতে চাষ করার** জন্য যাচ্ছে।

৪. নদীতে কী চলছে এবং মাঝি কী করছে? [২ নম্বর]

নদীতে **নৌকা** চলছে। নৌকা চালানোর সময় **মাঝি গান** গাইছে।

৫. ছড়াটিতে কেন ‘ঘুমিয়ো নাকো আর’ বলা হয়েছে? [২ নম্বর]

চারদিকে যখন **সকাল ও প্রকৃতির আনন্দ** শুরু হয়েছে এবং সবাই **দিনের কাজ** শুরু করেছে, তখন ঘুমিয়ে থাকা বা **আলস্য** করা উচিত নয়। তাই কবি সকলকে জেগে ওঠার জন্য **’ঘুমিয়ো নাকো আর’** বলেছেন।

৬. ‘পূবদিকে সোনা ঢালা হয়েছে’— এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? [২ নম্বর]

‘পূবদিকে সোনা ঢালা হয়েছে’ বলতে **সূর্যোদয়ের সময়কার সোনালী আলো**কে বোঝানো হয়েছে। ভোরের সূর্য তার নরম সোনালী আলোয় চারিদিক আলোকিত করেছে, যা সোনার মতো মূল্যবান।

৭. সকালে কেমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে? [২ নম্বর]

সকালে **শীত কেটে** গেছে। **পূবদিকে সোনালী আলো** পড়েছে। **পাখিদের মিষ্টি ডাকে** চারিদিক ভরে উঠেছে এবং **নদীতে নৌকা** চলছে। সব মিলিয়ে এক **আনন্দময় ও কর্মমুখর** পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):

১. ‘ঘুমিয়ো নাকো আর’ ছড়াটিতে কবি কীভাবে সকালের আহ্বানকে তুলে ধরেছেন, আলোচনা করো। [৫ নম্বর]

কবি বিমল চন্দ্র ঘোষ এই ছড়ার মাধ্যমে **সকালের আহ্বানকে** বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন:

  1. **আলোর বার্তা:** **পূবদিকে সোনা** (সূর্যের আলো) ঢালা হয়েছে, যা দিন শুরুর এবং আলস্য ত্যাগের প্রধান বার্তা।
  2. **পাখিদের গান:** গাছে গাছে **পাখিরা** মিষ্টি সুরে ডাকছে। এই ডাক যেন প্রকৃতি নিজেই **জেগে ওঠার অনুরোধ** করছে।
  3. **কর্মের সূচনা:** **কৃষকেরা লাঙল** নিয়ে চলেছে এবং **মাঝি গান গেয়ে নৌকা** চালাচ্ছে। এই দৃশ্য প্রমাণ করে, দিন শুরু হয়েছে এবং **কাজের সময়** এসেছে।

এই সমস্ত প্রাকৃতিক ও কর্মমুখর চিত্রগুলির মাধ্যমে কবি ঘুমিয়ে থাকা মানুষদের **জড়তা ভেঙে বাইরে আসার** জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

২. ছড়াটি কেন তোমার ভালো লেগেছে বা লাগেনি— যুক্তি সহকারে লেখো। (নিজস্ব মতামতধর্মী প্রশ্ন) [৫ নম্বর]

**(নমুনা উত্তর):** ‘ঘুমিয়ো নাকো আর’ ছড়াটি আমার **খুব ভালো লেগেছে**।

  • **সরলতা:** ছড়াটির ভাষা **খুব সহজ ও সরল**, যা ছোটোদের মনের উপযোগী।
  • **সকালের আনন্দ:** ছড়াটি **সকালের এক সুন্দর ও সজীব** ছবি এঁকেছে। পাখিদের ডাক, সোনালী রোদ, এবং মাঝির গান—এ সবকিছুই মনে **আনন্দ ও উৎসাহ** জাগায়।
  • **উদ্দীপনা:** ছড়াটি আমাদের **আলস্য ত্যাগ করে** কাজ করার জন্য উৎসাহ দেয়। এটি যেন আমাদের বলে, দিন শুরু হয়েছে, তাই **আর দেরি না করে** কাজে লেগে পড়ো।

এই কারণে ছড়াটি আমার মনকে **শান্তি ও অনুপ্রেরণা** দিয়েছে।

৩. সকাল ও সন্ধ্যার পরিবেশের মধ্যেকার পার্থক্য ছড়াটির আলোকে বিশ্লেষণ করো। [৫ নম্বর]

যদিও ছড়াটিতে সরাসরি সন্ধ্যার বর্ণনা নেই, তবু সকালের চিত্র থেকে তার বিপরীত অবস্থার কল্পনা করা যায়:

  • **আলো ও অন্ধকার:** **সকালে পূবদিকে সোনা** ঢালা হয়, অর্থাৎ চারদিকে আলো থাকে। **সন্ধ্যায়** এর বিপরীত অবস্থা—আলো নিভে গিয়ে **অন্ধকার** নামে।
  • **কর্ম ও বিশ্রাম:** **সকালে কৃষকেরা লাঙল** নিয়ে মাঠে নামে এবং **নদীতে নৌকা** চলে। **সন্ধ্যায়** কাজ শেষে সবাই **ঘরে ফিরে বিশ্রাম** নেয় এবং প্রকৃতি শান্ত হয়ে আসে।
  • **শব্দ:** **সকালে পাখিরা** ডাকে এবং **মাঝি গান** গায় (সজীবতা)। **সন্ধ্যায়** সেই শব্দ থেমে আসে এবং **নিস্তব্ধতা** নেমে আসে।

সকাল হলো **কর্মের সূচনা** ও **উৎসাহের** প্রতীক, আর সন্ধ্যা হলো **বিশ্রাম** ও **শান্তির** প্রতীক।

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu