Bengali Literature (Class 3) First Lesson: True Gold (Traditional Story) – Notes and Answers

প্রথম পাঠ: সত্যি সোনা (নোট)
প্রসেসিং হচ্ছে…

বাংলা সাহিত্য (তৃতীয় শ্রেণি)

প্রথম পাঠ: সত্যি সোনা (প্রচলিত গল্প) – নোটস ও উত্তর

**উৎস:** প্রচলিত লোককথা | **কেন্দ্রীয় ভাবমূল:** পরিশ্রমের গুরুত্ব, আলস্য ত্যাগ ও চাষের মহিমা।

১. গল্পের পটভূমি ও চরিত্র (Setting and Characters)

**পটভূমি:** গল্পটি এক **চাষির পরিবার** এবং তাদের চাষের জমিকে কেন্দ্র করে রচিত।

**চরিত্র:**

  1. **বুড়ো চাষি:** কঠোর পরিশ্রমী ও বিচক্ষণ। গল্পের মাধ্যমে ছেলেকে সঠিক শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।
  2. **চাষির ছেলে:** **ভারি অলস** প্রকৃতির, কিন্তু **ষোলোআনা** টাকা-পয়সার লোভ ছিল।
  3. **চাষির বউ:** **খুব বুদ্ধিমতী**, পরিশ্রমী এবং স্বামীর আলস্য ভাঙতে সহায়িকা।

**মূলভাব:** এই গল্পটি বোঝায় যে, **জমির নিচে সোনা লুকিয়ে থাকে না**, বরং **বুদ্ধি খাটালে আর কঠোর পরিশ্রম করলেই** সেই সোনা (ফসল রূপে) পাওয়া যায়।

২. সারসংক্ষেপ (Summary)

বুড়ো চাষি কঠিন অসুখে পড়লে তাঁর **অলস** ছেলেকে ডেকে বলেন যে, **চাষের জমির নীচেই লুকোনো সোনা পোঁতা আছে**, যা তিনি মারা গেলে ছেলে খুঁজে নিতে পারে। বাবার মৃত্যুর পর ছেলে **সোনার লোভে** জমি খোঁড়ার কথা ভাবলেও, তার **আলসেমির** কারণে সে গড়িমসি করতে থাকে।

ছেলের **বুদ্ধিমতী বউ** তাকে মজুর লাগিয়ে হলেও জমি খুঁড়তে পরামর্শ দেয়। সোনা চুরির ভয়ে ছেলে শেষ পর্যন্ত **কোদাল** নিয়ে মাঠে নামে এবং মজুরদের উপর নজর রাখার অজুহাতে **পাঁচ বিঘে জমি** খোঁড়ে। সোনা না পেয়ে সে যখন হতাশ হয়, তখন বউ তাকে মনে করিয়ে দেয়—জমিটা এখন **বীজ বোনার জন্য উপযুক্ত** হয়েছে।

বউয়ের পরামর্শে ছেলেটি জমিতে **ধান চাষ** করে। যথাসময়ে **খুব ভালো বৃষ্টি** হলে মাঠ ভরে **পাকা ধানের সোনা** ফলে। ফসল বিক্রি করে **এক থলি টাকা** পেয়ে ছেলেটি বুঝতে পারে যে, বাবা মিথ্যে বলেননি। **কঠোর পরিশ্রমই** ছিল সেই **’সত্যি সোনা’**।

৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা (Key Vocabulary)

বাংলা শব্দঅর্থপ্রাসঙ্গিকতা
**ষোলোআনা**সম্পূর্ণ, পুরোপুরিছেলের টাকা-পয়সার লোভ ছিল **ষোলোআনা**।
**গড়িমসি**আলসেমি, দীর্ঘসূত্রতাঅলস ছেলেটি সোনা খোঁড়ার কাজে **গড়িমসি** করত।
**মরিয়া**বেপরোয়া, যেকোনো মূল্যে কিছু করতে প্রস্তুতসোনার লোভে ছেলেটি **মরিয়া** হয়ে ওঠে।
**বৃথা**ব্যর্থ, বিফলসোনার তাল চুরি হলে সব চেষ্টা **বৃথা** হতো।
**শস্য**ফসলবর্ষা নামলে ক্ষেত **শস্যে** ভরে যায়।
**কপাল ফিরে যাবে**ভাগ্য পরিবর্তন হবে, ভালো সময় আসবেসোনা পেলে তাদের **কপাল ফিরে যাবে**।
**তামাক সেজে**তামাক খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেবউ স্বামীর জন্য **তামাক সেজে** নিয়ে যেত।

৪. হাতেকলমে (অনুশীলনী ও অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

(এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ১-২ নম্বর):

১. চাষির ছেলেটি কেমন প্রকৃতির ছিল? তার ধারণা কী ছিল? [২ নম্বর]

চাষির ছেলেটি **ভারি অলস** প্রকৃতির ছিল, কিন্তু **ষোলোআনা** টাকা-পয়সার লোভ ছিল। তার ধারণা ছিল, বাবা নিশ্চয়ই **অনেক সোনা** কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।

২. সোনা খোঁজার কথা শুনে ছেলের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল? [২ নম্বর]

জমির তলায় সোনা পোঁতা আছে শুনে ছেলের চোখ দুটো **লোভে চকচক** করে ওঠে। কিন্তু আলসেমির কারণে সে **গড়িমসি** করতে থাকে।

৩. চাষির বউ কেন স্বামীকে কোদাল নিয়ে মাঠে যেতে বলেছিল? [২ নম্বর]

চাষির বউ স্বামীকে কোদাল নিয়ে মাঠে যেতে বলেছিল, কারণ মজুরদের বিশ্বাস ছিল না। মজুররা যদি **সোনার তাল পেয়ে যায়, তবে তারা সেটা লুকিয়ে ফেলতে** পারত। তাই তাদের ওপর **নজর রাখার** জন্য সে স্বামীকে মাঠে যেতে বলে।

৪. জমি খোঁড়ার পর সোনা না পেয়ে ছেলেটি কী বলল? [২ নম্বর]

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ বিঘে জমি খুঁড়েও সোনা না পেয়ে ছেলেটি **রাগে-বিরক্তিতে অস্থির** হয়ে বলল যে, বাবা তাকে **বোকা বানিয়েছে** এবং মিছিমিছি তাকে **খাটিয়ে মেরেছে**।

৫. চাষির ছেলের বউ কোন সময়কে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় বলেছে? [১ নম্বর]

চাষির ছেলের বউ বলেছিল, ‘আর কদিন পরেই **বর্ষা নামবে**। এই তো **বীজ বোনার** সময়।’ অর্থাৎ, সে **বর্ষার শুরুর** সময়কে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় বলেছে।

৬. চাষির ছেলে নিজে চাষ-আবাদ করার কথা ভাবতে পারত না কেন? [২ নম্বর]

চাষির ছেলে ছিল **ভারি অলস**। সে চিরকাল শুয়ে বসে কাটিয়েছে। তাই চাষ-আবাদ করার মতো **কঠোর পরিশ্রমের কথা** সে ভাবতেই পারত না।

৭. চাষের পরে মাঠের দৃশ্য কেমন হয়েছিল? [২ নম্বর]

বর্ষা ভালো হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যে ক্ষেত **শস্যে ভরে গেল**। মাঠ ভরা **পাকা ধানের রাশি** দেখে মনে হলো, সত্যিই যেন কেউ **সোনা ঢেলে দিয়েছে মাঠে**।

৮. চাষির বউ স্বামীকে কীভাবে সাহায্য করেছিল? [২ নম্বর]

চাষির বউ স্বামীকে উৎসাহ দিয়ে প্রথমে **মজুর লাগাতে** বলেছিল। পরে সে **হাট থেকে সেরা ধানের বীজ** কিনে এনেছিল এবং স্বামী যখন মাঠে কাজ করত, তখন সে তার **খাবার ও তামাক সেজে** নিয়ে যেত।

৯. স্বামীর প্রথম রোজগারে বউ খুব খুশি হয়েছিল কেন? [২ নম্বর]

ফসল বিক্রি করে চাষির ছেলে যখন **এক থলি টাকা** নিয়ে বাড়ি ফেরে, তখন বউ খুব খুশি হয়, কারণ এটি ছিল **তার স্বামীর জীবনের প্রথম রোজগার**। এছাড়া স্বামীর আলস্য দূর হওয়ায় সে গর্বিত ছিল।

রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫ নম্বর):

১. ‘সত্যি সোনা’ গল্পে চাষির বউয়ের বুদ্ধিমত্তা কীভাবে অলস স্বামীর পরিবর্তন এনেছিল? [৫ নম্বর]

চাষির বউ ছিল গল্পের **কেন্দ্রীয় শক্তি**, যে বুদ্ধি ও কৌশলে স্বামীর আলস্য ভেঙেছিল।

  1. **আলস্য ভাঙা:** প্রথমে সে স্বামীকে সরাসরি চাষ করতে না বলে **সোনার লোভে মজুর** লাগাতে পরামর্শ দেয়।
  2. **কাজে নামানো:** মজুরদের চুরির ভয় দেখিয়ে সে স্বামীকে **নিজেই কোদাল নিয়ে মাঠে নামতে** বাধ্য করে।
  3. **সঠিক পথ দেখানো:** সোনা না পেয়ে স্বামী হতাশ হলে, সে বুদ্ধি করে মনে করিয়ে দেয়—জমিটা এখন **চাষের জন্য উপযুক্ত** হয়েছে।
  4. **উৎসাহ দান:** চাষ শুরু হলে সে হাট থেকে **সেরা বীজ** এনে দেয় এবং স্বামীর জন্য **খাবার-তামাক** নিয়ে মাঠে যায়, যা স্বামীকে কাজ করতে উৎসাহ যোগায়।

বউয়ের এই **ধৈর্য্য, কৌশল ও সঠিক সময়ে নির্দেশনা** দেওয়ার ফলেই অলস স্বামী কঠোর পরিশ্রমী হয়ে ওঠে।

২. বুড়ো চাষি কোন অর্থে তাঁর ছেলেকে ‘সত্যি সোনা’র সন্ধান দিয়েছিলেন? শেষ পর্যন্ত ছেলের উপলব্ধি কী হয়েছিল? [৫ নম্বর]

**’সত্যি সোনা’র সন্ধান:** বুড়ো চাষি জানতেন, তাঁর ছেলে অলস হলেও লোভী। তাই সোনা লুকোনো থাকার কথা বলে তিনি আসলে ছেলেকে **জমির নিচে সোনা খোঁড়ার অজুহাতে জমিটা খুঁড়ে চাষের উপযুক্ত করে তোলার কৌশল** শিখিয়েছিলেন। সেই খোঁড়া জমিতে যখন **পাকা ধানের সোনালী ফসল** ফলল, সেটাই ছিল বুড়ো চাষির **’সত্যি সোনা’**।

**ছেলের উপলব্ধি:** ফসল বিক্রি করে এক থলি টাকা পাওয়ার পর ছেলের উপলব্ধি হয় যে:

  • বাবা **মিথ্যে বলেননি**, জমিতে সত্যিই সোনা পোঁতা ছিল।
  • এই সোনা হলো **কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার**।
  • **বুদ্ধি খাটালে** (বউয়ের পরামর্শ) এবং **পরিশ্রম করলে** তার ফল পেতে দেরি হয় না।

৩. গল্পে শ্রমের যে মহিমা ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো। [৫ নম্বর]

এই গল্পে লেখক **শ্রম বা পরিশ্রমের মহিমাকে** সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন:

  • **আলস্যের ফল:** চাষির ছেলে ছিল অলস। তার বাবা মারা যাওয়ার পরও সে আলসেমির কারণে সোনা খোঁড়া বন্ধ করে দেয়। অলসতার ফলস্বরূপ তার পরিবারকে উপোস করে থাকতে হতো।
  • **শ্রমের ফল:** মজুর লাগানো এবং নিজে কোদাল নিয়ে জমি খুঁড়ে চাষ করার পর সেই জমিতে যখন **সোনালী ধান** জন্মায়, তখনই বোঝা যায় যে, **পরিশ্রমই** আসল সম্পদ।
  • **অর্থনৈতিক সার্থকতা:** ফসল বিক্রি করে যখন **এক থলি টাকা** পাওয়া যায়, তখন ছেলেটি বুঝতে পারে যে, টাকা-পয়সা বা সোনা-মানিক খোঁড়ার জন্য নয়, বরং **খেটে রোজগার করার** মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা ও আনন্দ নিহিত।

সুতরাং, গল্পটি প্রমাণ করে যে, **পরিশ্রমই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা সোনা বা ভাগ্যের চেয়েও বেশি মূল্যবান।**

    About the Author

    You may also like these

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items