বাংলা ভাষাপাঠ: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | অধ্যায় ৩: ব্যঞ্জনধ্বনি
তৃতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
৫ নম্বর: স্পর্শধ্বনি কাকে বলে? বর্গের প্রথম দুটি ধ্বনি কেন অঘোষ অল্পপ্রাণ, ব্যাখ্যা করো।
যে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিভ মুখের ভিতরে কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত বা ওষ্ঠের মতো কোনো না কোনো অঙ্গকে সম্পূর্ণভাবে স্পর্শ বা স্পর্শ করে শ্বাসবায়ুকে কিছুক্ষণ আটকে রাখে, তাদের **স্পর্শধ্বনি** (Sparshadhwani) বলে। ক থেকে ম পর্যন্ত মোট ২৫টি ধ্বনিকে ৫টি বর্গে ভাগ করা হয়।
প্রথম দুটি ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ হওয়ার কারণ:
প্রতিটি বর্গের প্রথম ধ্বনি (যেমন ক, চ, ট, ত, প) হলো **অল্পপ্রাণ** এবং **অঘোষ**।
- **অল্পপ্রাণ (Alpaprana):** ক-এর ক্ষেত্রে শ্বাসবায়ু কম লাগে, তাই এটি অল্পপ্রাণ। (১ম ও ৩য় ধ্বনি অল্পপ্রাণ)।
- **অঘোষ (Aghosh):** ক-এর উচ্চারণের সময় গলার স্বরযন্ত্রের স্বরতন্ত্রী দুটি কাঁপে না বা খুব কম কাঁপে। সুরের গাম্ভীর্য সৃষ্টি হয় না বলে একে অঘোষ বলা হয়। (১ম ও ২য় ধ্বনি অঘোষ)।
৪ নম্বর: উষ্মধ্বনি ও অন্তঃস্থ ধ্বনির মধ্যে পার্থক্য কী? ‘র’ এবং ‘ল’ কে কী নামে ডাকা হয়?
উষ্মধ্বনি ও অন্তঃস্থ ধ্বনির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো:
- **উষ্মধ্বনি (Ushma Dhwani):** যে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু (উষ্ম) বেশি লাগে, তাদের উষ্মধ্বনি বলে। এক্ষেত্রে শ্বাসবায়ু আটকিয়ে রাখা হয় না। যেমন: **শ, ষ, স, হ**।
- **অন্তঃস্থ ধ্বনি (Antahstha Dhwani):** এই ধ্বনিগুলি স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। উচ্চারণে শ্বাসবায়ু পুরোপুরি ছাড়া হয় না বা সম্পূর্ণ আটকানোও হয় না। যেমন: **য, র, ল, ব**।
‘র’ এবং ‘ল’-এর বিশেষ নাম:
**র**-কে বলা হয় **কম্পিত ধ্বনি**, কারণ উচ্চারণের সময় জিভ প্রজাপতির পাখার মতো কাঁপে।
**ল**-কে বলা হয় **পার্শ্বিক ধ্বনি**, কারণ জিভ দাঁতে ঠেকলেও শ্বাসবায়ু জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
৩ নম্বর: নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
যে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু মুখের পথ ছাড়াও **নাকের পথ দিয়ে বেরোয়**, তখন নাকের ভিতরের দেওয়ালে ঘষা লেগে এক বিশেষ আওয়াজ তৈরি হয়। এদের **নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি** বলে।
স্পর্শধ্বনির প্রতি বর্গের পঞ্চম ধ্বনিগুলি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) হলো নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।
উদাহরণ: **ঙ (রাঙিয়ে), ম (মামা)**।
৩ নম্বর: বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ধ্বনিগুলিকে কেন মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয়?
বর্গের দ্বিতীয় (যেমন খ, ছ, ঠ) ও চতুর্থ ধ্বনিগুলিকে (যেমন ঘ, ঝ, ঢ) **মহাপ্রাণ ধ্বনি** বলা হয়। কারণ, এই ধ্বনিগুলি উচ্চারণ করার সময় ফুসফুস থেকে **অল্পপ্রাণ ধ্বনির চেয়ে বেশি পরিমাণে শ্বাসবায়ু** (প্রাণ) নির্গত হয় বা লাগে। যেমন: ‘ক’-এর চেয়ে ‘খ’ উচ্চারণে বেশি বায়ু নির্গত হয়।