বাংলা ভাষাপাঠ: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | অধ্যায় ৬: যতিচিহ্ন
ষষ্ঠ অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
৫ নম্বর: যতিচিহ্ন কেন ব্যবহার করা হয়? দাঁড়ি, কমা ও প্রশ্নচিহ্নের ব্যবহারিক পার্থক্য লেখো।
**যতিচিহ্নের প্রয়োজনীয়তা:** আমরা যখন কথা বলি বা লিখি, তখন একটানা বলি না বা লিখি না। সঠিক স্থানে বিরতি নিলে বা থামলে কথার অর্থ স্পষ্ট হয় এবং বাক্যের ভাব পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। এই থামার প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে চিহ্নগুলি ব্যবহার করা হয়, তাদের যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন বলে।
ব্যবহারিক পার্থক্য:
- **দাঁড়ি (। / পূর্ণচ্ছেদ):** এটি সবচেয়ে বেশি সময়ের বিরতি বোঝায়। এটি বাক্যের শেষে বসে এবং মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে। (যেমন: কাল স্কুল ছুটি থাকবে।)।
- **কমা (,):** এটি দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদের চেয়ে অল্প সময়ের বিরতি বোঝায়। এটি সাধারণত একই ধরনের একাধিক শব্দকে আলাদা করতে, বা বাক্যের মধ্যে ছোটো ছোটো অংশকে আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়। (যেমন: রত্না, শুভ্র, ও প্রবাল খেলছে।)।
- **প্রশ্নচিহ্ন (?):** এটি দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদের মতো বাক্যের শেষে বসে, কিন্তু এটি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। (যেমন: তুমি কখন আসবে?)।
৪ নম্বর: কখন বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) ব্যবহৃত হয়? চারটি উদাহরণ দাও।
বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) বাক্যের শেষে বসে এবং মনের বিভিন্ন তীব্র আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি শুধু বিস্ময় (অবাক) প্রকাশেই নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
বিস্ময়সূচক চিহ্নের ব্যবহার (উদাহরণ সহ):
- **১. আনন্দ/বিস্ময়:** কোনো দারুণ খবর বা আনন্দের প্রকাশে। (উদাহরণ: বাঃ! দারুণ খবর!)
- **২. ভয়/যন্ত্রণা:** ভয়, কষ্ট বা যন্ত্রণার তীব্রতা বোঝাতে। (উদাহরণ: ওরে বাবা! আমি মরেই যাবো!)
- **৩. রাগ/প্রতিবাদ:** তীব্র ক্রোধ বা জোরালো প্রতিবাদ প্রকাশ করতে। (উদাহরণ: এত সাহস! আমাকে মিথ্যুক বললে!)
- **৪. আরাম/স্বস্তি:** কোনো কষ্ট দূর হওয়ার পর আরাম বা স্বস্তি বোঝাতে। (উদাহরণ: আঃ! বাঁচা গেল!)
৩ নম্বর: কমা (,) ব্যবহারের প্রধান তিনটি স্থান উল্লেখ করো।
কমা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন, যা অল্প বিরতির জন্য ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান তিনটি ব্যবহার হলো:
- **১. সমজাতীয় শব্দ বা পদগুলিকে আলাদা করা:** একই ধরনের একাধিক শব্দ বা পদ পাশাপাশি বসলে তাদের মধ্যে কমা বসে। (উদাহরণ: আম, জাম, ও লিচু আমার প্রিয় ফল।)
- **২. উদ্ধৃতি চিহ্নের আগে:** কারো কথা সরাসরি বলার সময় উদ্ধৃতিচিহ্ন শুরু করার আগে কমা ব্যবহার করা হয়। (উদাহরণ: বুকু এসে বলল, ‘মা আসছেন’।)
- **৩. বাক্যের মধ্যে অতিরিক্ত অংশ:** বাক্যের মধ্যে থাকা কোনো অতিরিক্ত অংশকে মূল বাক্য থেকে আলাদা করতে তার আগে ও পরে কমা বসে। (উদাহরণ: লাল কলমটা, যেটা গতকাল কিনেছিলাম, খুঁজে পাচ্ছি না।)
৩ নম্বর: উদ্ধৃতিচিহ্ন (‘ ‘) এবং পূর্ণচ্ছেদের (।) ব্যবহার লেখো।
- **পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়ি (।):** এটি বাক্যের শেষে বসে এবং মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে। এটি সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি বোঝায়। (উদাহরণ: আমি কাল কলকাতা যাব।)
- **উদ্ধৃতিচিহ্ন (‘ ‘)**: কারো বলা কথা বা কোনো বিশেষ নাম, শব্দ বা ঘটনা সরাসরি লেখার সময় তার দুই দিকে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। একে ঊর্ধ্বকমাও বলা হয়। (উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথের ‘সহজ পাঠ’ শিশুদের পড়া উচিত। / সে বলল, ‘আমি এখন যাব’।)