বাংলা ভাষাপাঠ: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | অধ্যায় ৪: স্বরসন্ধি
চতুর্থ অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
৫ নম্বর: স্বরসন্ধি কাকে বলে? বাংলা সন্ধি ও সংস্কৃত সন্ধির মূল পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।
**স্বরসন্ধি:** যখন পাশাপাশি থাকা **দুটি স্বরধ্বনির** মিলন ঘটে এবং এর ফলে একটি নতুন ধ্বনি তৈরি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন: রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র (ই + ই = ঈ)।
বাংলা সন্ধি ও সংস্কৃত সন্ধির পার্থক্য:
- **১. হ্রস্ব-দীর্ঘ স্বর:** সংস্কৃত স্বরসন্ধিতে হ্রস্বস্বর ও দীর্ঘস্বরের (ই, ঈ, উ, ঊ) স্পষ্ট নিয়ম মেনে মিলন ঘটে (দীর্ঘস্বর সব সময় জেতে)। কিন্তু বাংলা ভাষায় হ্রস্ব বা দীর্ঘ স্বরের কোনো উচ্চারণগত পার্থক্য নেই, তাই বাংলা সন্ধিগুলি সংস্কৃতের মতো এত কঠোর নিয়ম মানে না।
- **২. উচ্চারণ নির্ভরতা:** খাঁটি বাংলা স্বরসন্ধিগুলি মূলত **উচ্চারণ নির্ভর** এবং অনেকটাই শিথিল। যেমন: বাপ + অন্ত = বাপান্ত (অ + অ = আ)। অন্যদিকে, সংস্কৃত সন্ধিগুলি প্রাচীন ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- **৩. ব্যতিক্রম:** সংস্কৃত স্বরসন্ধিতে প্রচুর **নিপাতনে সিদ্ধ** (যেগুলি কোনো নিয়ম মানে না) উদাহরণ দেখা যায়। যেমন: প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়। বাংলা সন্ধিতে এই ধরনের ব্যতিক্রম কম।
- **৪. লোপ বা শ্রুতি:** বাংলা সন্ধিতে পাশাপাশি দুটি স্বরের মধ্যে একটি স্বর লুপ্ত হওয়া বা শ্রুতিধ্বনি (অতিরিক্ত ব্যঞ্জন) যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। যেমন: যা + ইচ্ছে + তাই = যাচ্ছেতাই (পরবর্তী স্বর লোপ)।
৪ নম্বর: জিভের পরিশ্রম কমানোর মাধ্যমে কীভাবে সন্ধি তৈরি হয়? (‘অ + উ = ও’ সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো)।
জিভ মুখের মধ্যে নড়াচড়া করার সময় সবসময় কম পরিশ্রম করার কৌশল খোঁজে। সন্ধি তৈরির মূল কারণগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।
যেমন: সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
- **বিচ্ছেদে:** প্রথম শব্দের শেষে রয়েছে ‘অ’ (নিম্ন স্বরধ্বনি) এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ‘উ’ (উচ্চ স্বরধ্বনি)।
- **পরিশ্রম:** ‘অ’ বলতে জিভ যেখানে থাকে (নীচে) সেখান থেকে হঠাৎ ‘উ’ বলার জন্য জিভকে অনেক উপরে যেতে হয়। এই দ্রুত ও দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে জিভের বেশি পরিশ্রম হয়।
- **সন্ধিতে:** জিভ পরিশ্রম কমাতে ‘অ’ থেকে ‘উ’-তে সরাসরি না গিয়ে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা ‘ও’-তে এসে পৌঁছায়। ‘ও’ হলো মধ্য স্বরধ্বনি।
৩ নম্বর: নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব সংস্কৃত শব্দ স্বরসন্ধির কোনো সাধারণ নিয়ম বা সূত্র মেনে তৈরি হয় না, অথচ ব্যাকরণগতভাবে সেগুলিকে সিদ্ধ বা শুদ্ধ বলে মানা হয়, তাদের **নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি** (Nipatane Siddha Sandhi) বলা হয়।
উদাহরণ:
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (অ + ঊ = ঔ হওয়া উচিত ছিল না, কিন্তু হয়েছে)
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (ও + অ = অব)
- স্ব + ঈর = স্বৈর (অ + ঈ = এ হওয়ার কথা, কিন্তু ‘ঐ’ হয়েছে)
৩ নম্বর: শ্রুতিধ্বনি বা অয়াদি সন্ধির দুটি উদাহরণ সূত্র সহ লেখো।
শ্রুতিধ্বনি বা অয়াদি সন্ধিতে ‘এ’, ‘ঐ’, ‘ও’, ‘ঔ’-এর পরে অন্য স্বরধ্বনি থাকলে যথাক্রমে ‘অয়’, ‘আয়’, ‘অব’, ‘আব’ হয় এবং নতুন ধ্বনি যুক্ত হয়।
উদাহরণ:
- নে + অন = নয়ন (এ + অ = অয়)
- গৈ + অক = গায়ক (ঐ + অ = আয়)
- ভো + অন = ভবন (ও + অ = অব)