বাংলা ভাষাপাঠ: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | অধ্যায় ২: স্বরধ্বনি
দ্বিতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
৫ নম্বর: স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভের অবস্থান ও ঠোঁটের আকৃতির ভিত্তিতে স্বরধ্বনিগুলির শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করো।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের ক্ষেত্রে মুখের মধ্যে জিভ (জিহ্বা) কোনো অঙ্গকে সরাসরি স্পর্শ না করলেও, জিভের নড়াচড়া ও ঠোঁটের আকৃতির পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ভিত্তিতে স্বরধ্বনিগুলিকে প্রধানত তিনটি দিকে ভাগ করা হয়:
- **ঠোঁটের আকৃতি অনুসারে:**
- **প্রসারিত স্বরধ্বনি:** যেগুলি উচ্চারণের সময় ঠোঁট ছড়িয়ে থাকে। যেমন: **ই, এ, অ্যা**।
- **কুঞ্চিত স্বরধ্বনি:** যেগুলি উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোল বা কুঁচকে যায়। যেমন: **উ, ও, অ**।
- **(আ)-এর ঠোঁটের আকৃতি মাঝামাঝি থাকে।**
- **জিভের সামনের-পিছনের অবস্থান অনুসারে:**
- **সম্মুখ স্বরধ্বনি:** যেগুলি উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে এগিয়ে আসে। যেমন: **ই, এ, অ্যা**।
- **পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:** যেগুলি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে গুটিয়ে থাকে। যেমন: **উ, ও, অ**।
- **(আ)-এর জিভের অবস্থান মাঝামাঝি থাকে।**
- **মুখের উন্মুক্ততা অনুসারে (সংবৃত ও বিবৃত):**
- **বিবৃত স্বরধ্বনি (Open/Lower):** যেগুলি উচ্চারণে মুখের মধ্যের জায়গা বাড়ে। যেমন: **আ, অ, অ্যা**।
- **সংবৃত স্বরধ্বনি (Closed/Higher):** যেগুলি উচ্চারণে মুখের মধ্যের জায়গা কমে যায়। যেমন: **ই, এ, উ, ও**।
৪ নম্বর: সংবৃত স্বরধ্বনি ও বিবৃত স্বরধ্বনির মধ্যে পার্থক্য উদাহরণ সহ লেখো।
এই ভাগটি স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের মধ্যে জিভ ওঠানামার ফলে তৈরি হওয়া জায়গার পরিমাণের উপর নির্ভরশীল।
| বৈশিষ্ট্য | সংবৃত স্বরধ্বনি (Closed Vowels) | বিবৃত স্বরধ্বনি (Open Vowels) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | যেগুলি উচ্চারণের সময় মুখের ভিতরের জায়গা বা উন্মুক্ততা **কমে যায়**। | যেগুলি উচ্চারণের সময় মুখের ভিতরের জায়গা বা উন্মুক্ততা **বেড়ে যায়**। |
| উদাহরণ | ই, এ, উ, ও | আ, অ, অ্যা |
| জিভের অবস্থান | জিভ ওপরের দিকে থাকে (উচ্চ)। | জিভ নীচের দিকে নেমে যায় (নিম্ন)। |
৩ নম্বর: ঠোঁটের আকৃতি অনুসারে স্বরধ্বনিগুলির বিভাগ করো।
ঠোঁটের আকৃতির ভিত্তিতে স্বরধ্বনিগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- **প্রসারিত স্বরধ্বনি (Spreading):** এই ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুপাশ থেকে ছড়িয়ে যায়।
উদাহরণ: **ই, এ, অ্যা**। - **কুঞ্চিত স্বরধ্বনি (Rounding):** এই ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোল বা কুঁচকে যায়।
উদাহরণ: **উ, ও, অ**। - **বিঃ দ্রঃ:** ‘আ’ উচ্চারণের সময় ঠোঁট পুরোপুরি ছড়ায় না বা গোলও হয় না, এটি মাঝামাঝি থাকে।
৩ নম্বর: স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভের সামনের-পিছনের অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জিভ মুখের ভেতরে কোন দিকে থাকছে (সামনে না পিছনে), তার উপর ভিত্তি করে স্বরধ্বনির ধ্বনিগত চরিত্র পাল্টে যায়। যখন জিভ সামনের দিকে এগিয়ে থাকে, তখন তাকে **সম্মুখ স্বরধ্বনি** (যেমন: ই) বলে, এবং যখন জিভ পিছনের দিকে গুটিয়ে থাকে, তখন তাকে **পশ্চাৎ স্বরধ্বনি** (যেমন: উ) বলে। যদিও জিভ কোনো অঙ্গকে স্পর্শ করে না, কিন্তু এই সামান্য নড়াচড়াই স্বরধ্বনিগুলির মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।