Smart AI Education | Study Smart

Smart AI Education

পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।

Study Smart, Not Just Hard

AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!

DOWNLOAD PDF AI GUIDE
অধ্যায় ৩: ব্যঞ্জনধ্বনি

বাংলা ভাষাপাঠ - চতুর্থ শ্রেণি

অধ্যায় ৩: ব্যঞ্জনধ্বনি

ভূমিকা: শব্দের কারিগর

আমরা আগের অধ্যায়ে জেনেছি স্বরধ্বনি হলো শব্দের 'প্রাণ'। কিন্তু শুধু প্রাণ থাকলেই তো হবে না, একটা শরীরও তো চাই, তাই না? এই শরীরটাই গড়ে তোলে ব্যঞ্জনধ্বনি। ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো দক্ষ কারিগরের মতো, যারা স্বরধ্বনির সাহায্য নিয়ে সুন্দর সুন্দর শব্দ তৈরি করে। 'মা' শব্দটি বলতে গেলে 'ম' ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে 'আ' স্বরধ্বনিকে জুড়তে হয়। 'ম' ছাড়া যেমন 'মা' হয় না, তেমনই 'আ' ছাড়াও 'ম'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট হয় না।

ব্যঞ্জনধ্বনি একা একা চলতে পারে না, তার সবসময় একজন স্বরধ্বনি বন্ধুকে পাশে লাগে। এরা দুজন মিলেই একটি সম্পূর্ণ অক্ষর তৈরি করে। আজ আমরা বাংলা ভাষার এই কারিগর, অর্থাৎ ব্যঞ্জনধ্বনিদের জগৎ ঘুরে দেখব। জানব, তাদের কত রকমফের আর তারা কীভাবে আমাদের মুখের কথায় এত বৈচিত্র্য নিয়ে আসে।

সারাংশ

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে কোনো না কোনো জায়গায় (যেমন: কণ্ঠ, তালু, দাঁত, ঠোঁট) বাধা পায় এবং যা স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হতে পারে না, তাদের ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনধ্বনি আছে। উচ্চারণের স্থান এবং বাতাসের চাপের উপর ভিত্তি করে এদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন - স্পর্শধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি, উষ্মধ্বনি ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনধ্বনিদের চিনে নিই

বাংলা ভাষার ৩৯ জন 'কারিগর' বা ব্যঞ্জনধ্বনি হলো:

ক খ গ ঘ ঙ
চ ছ জ ঝ ঞ
ট ঠ ড ঢ ণ
ত থ দ ধ ন
প ফ ব ভ ম
য র ল ব
শ ষ স হ
ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁ

ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদ

ব্যঞ্জনধ্বনিদের উচ্চারণের ধরণ অনুযায়ী কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

১. স্পর্শধ্বনি (ক থেকে ম পর্যন্ত):

এই ২৫টি ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ বা ঠোঁট মুখের কোনো না কোনো অংশকে স্পর্শ করে। উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী এদের ৫টি দলে বা বর্গে ভাগ করা হয়:

  • ক-বর্গ (কণ্ঠ্য): ক, খ, গ, ঘ, ঙ (উচ্চারণ হয় কণ্ঠ থেকে)
  • চ-বর্গ (তালব্য): চ, ছ, জ, ঝ, ঞ (উচ্চারণ হয় তালু থেকে)
  • ট-বর্গ (মূর্ধন্য): ট, ঠ, ড, ঢ, ণ (উচ্চারণ হয় মূর্ধা থেকে)
  • ত-বর্গ (দন্ত্য): ত, থ, দ, ধ, ন (উচ্চারণ হয় দাঁত থেকে)
  • প-বর্গ (ওষ্ঠ্য): প, ফ, ব, ভ, ম (উচ্চারণ হয় ঠোঁট থেকে)
ব্যঞ্জনধ্বনির বর্গ

চিত্র: স্পর্শধ্বনির পাঁচটি বর্গ

২. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি:

  • অল্পপ্রাণ: বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি (ক, গ, চ, জ ইত্যাদি) উচ্চারণে নিঃশ্বাস জোরে বের হয় না।
  • মহাপ্রাণ: বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি (খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি) উচ্চারণে নিঃশ্বাস জোরে বের হয় এবং 'হ'-এর মতো একটা শব্দ শোনা যায়।

৩. অঘোষ ও ঘোষ ধ্বনি:

  • অঘোষ: বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি (ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি) উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কাঁপে না।
  • ঘোষ: বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম ধ্বনি (গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ ইত্যাদি) উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কাঁপে।

৪. অন্যান্য প্রকার:

  • নাসিক্য ধ্বনি: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (উচ্চারণে বাতাস নাক দিয়ে বের হয়)।
  • অন্তঃস্থ ধ্বনি: য, র, ল, ব (স্পর্শ ও উষ্মধ্বনির মাঝে এদের স্থান)।
  • উষ্মধ্বনি: শ, ষ, স, হ (উচ্চারণে নিঃশ্বাস দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা যায়)।

হাতে কলমে (উত্তরসহ)

১. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?

উত্তর: যে ধ্বনি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না এবং উচ্চারণের সময় মুখের মধ্যে বাতাস বাধা পায়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। যেমন: ক, চ, প ইত্যাদি।

২. স্পর্শধ্বনি কয়টি? 'ত' বর্গকে দন্ত্যধ্বনি বলা হয় কেন?

উত্তর: স্পর্শধ্বনি মোট ২৫টি (ক থেকে ম পর্যন্ত)। 'ত' বর্গের ধ্বনিগুলো (ত, থ, দ, ধ, ন) উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতকে স্পর্শ করে, তাই এদের দন্ত্যধ্বনি বলা হয়।

৩. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনির পার্থক্য কী? একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণে নিঃশ্বাস বায়ু কম পরিমাণে বের হয় তা অল্পপ্রাণ, আর যে ধ্বনি উচ্চারণে নিঃশ্বাস বায়ু বেশি পরিমাণে বের হয় তা মহাপ্রাণ। যেমন: 'গ' একটি অল্পপ্রাণ ধ্বনি, কিন্তু 'ঘ' একটি মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অধ্যায়ের কুইজ

এই অধ্যায়ে তুমি কতটা শিখলে, তা পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত?

মোট ৩০টি প্রশ্ন আছে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবে।

ALL NOTES
WBSSC AI Engine - ব্যঞ্জনধ্বনি
Class IV ভাষাপাঠ (Bhashapath)

ব্যঞ্জনধ্বনি

Consonant Sounds: সংজ্ঞা ও পরিচয়

ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের কোথাও না কোথাও বাধা পায় এবং স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না, তাদের ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

উদাহরণ: ক (ক্ + অ) — এখানে 'ক' উচ্চারণে 'অ' স্বরধ্বনির সাহায্য লাগছে।

মোট সংখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ আছে।

উচ্চারণ স্থান

কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত ও ওষ্ঠ - এই ৫টি স্থান থেকে উচ্চারিত হয়।

শ্রেণিবিভাগ (Classification)

০১

স্পর্শ বর্ণ (Plosives)

ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণ

০২

অন্তঃস্থ বর্ণ (Semi-vowels)

য, র, ল, ব

০৩

উষ্ম বর্ণ (Fricatives)

শ, ষ, স, হ

💡

মনে রেখো: 'ক্ষ' কোনো আলাদা বর্ণ নয়, এটি একটি যুক্তবর্ণ (ক + ষ)।

Estimated time: 15 Mins
WBSSC AI Engine - ব্যঞ্জনধ্বনি Notes
WBSSC AI Engine

অধ্যায়: ব্যঞ্জনধ্বনি

পাঠ্যপুস্তক: ভাষাপাঠ (চতুর্থ শ্রেণি) | বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer Questions)

০১. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে?

উত্তর: যে ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় মুখের ভেতরে কোথাও না কোথাও বাধা পায় এবং স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না, তাদের ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

০২. বাংলা বর্ণমালায় মোট ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?

উত্তর: বাংলা বর্ণমালায় মোট ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৩৯টি (ক থেকে ঁ পর্যন্ত)।

০৩. স্পর্শবর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত ২৫টি বর্ণ উচ্চারণের সময় জিভ মুখের কোনো না কোনো অংশ স্পর্শ করে, তাই এদের স্পর্শবর্ণ বলে।

০৪. বর্গ কয়টি ও কী কী?

উত্তর: বর্গ ৫টি। যথা— ক-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ এবং প-বর্গ।

০৫. কণ্ঠ্যবর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: ক, খ, গ, ঘ, ঙ — এই বর্ণগুলি কণ্ঠ বা গলা থেকে উচ্চারিত হয় বলে এদের কণ্ঠ্যবর্ণ বলে।

০৬. তালব্যবর্ণের উদাহরণ দাও।

উত্তর: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ — এগুলি তালব্যবর্ণ।

০৭. মূর্ধা থেকে উচ্চারিত হয় কোন বর্গের বর্ণ?

উত্তর: ট-বর্গের বর্ণগুলি (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) মূর্ধা থেকে উচ্চারিত হয়।

০৮. দন্ত্যবর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: ত, থ, দ, ধ, ন — এগুলি দন্ত্যবর্ণ কারণ এগুলি উচ্চারণে জিভ দাঁত স্পর্শ করে।

০৯. ওষ্ঠ্যবর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: প, ফ, ব, ভ, ম — এই বর্ণগুলি উচ্চারণে দুই ঠোঁটের ব্যবহার হয়, তাই এদের ওষ্ঠ্যবর্ণ বলে।

১০. নাসিক্যবর্ণ বা অনুনাসিক বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম এবং ং (অনুস্বার), ঁ (চন্দ্রবিন্দু) — এগুলি নাসিক্যবর্ণ।

১১. অন্তঃস্থ বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: য, র, ল, ব — এই চারটি বর্ণকে অন্তঃস্থ বর্ণ বলা হয়।

১২. উষ্মবর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: তালব্য-শ, মূর্ধ্যন্য-ষ, দন্ত্য-স এবং হ — এই বর্ণগুলি উচ্চারণে শ্বাসবায়ুর প্রাধান্য থাকে, তাই এদের উষ্মবর্ণ বলে।

১৩. অঘোষ বর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ উচ্চারণে গাম্ভীর্য কম থাকে, তাই এদের অঘোষ বর্ণ বলে (যেমন: ক, খ)।

১৪. ঘোষ বর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ উচ্চারণে গাম্ভীর্য বা নাদ থাকে, তাই এদের ঘোষ বর্ণ বলে (যেমন: গ, ঘ, ঙ)।

১৫. অল্পপ্রাণ বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ উচ্চারণে শ্বাসবায়ু কম লাগে, তাই এদের অল্পপ্রাণ বর্ণ বলে (যেমন: ক, গ)।

১৬. মহাপ্রাণ বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ উচ্চারণে শ্বাসবায়ু বেশি লাগে, তাই এদের মহাপ্রাণ বর্ণ বলে (যেমন: খ, ঘ)।

১৭. অযোগবাহ বর্ণ বা আশ্রয়ভাগী বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: অনুস্বার (ং) এবং বিসর্গ (ঃ) — এই দুটি বর্ণ অন্য বর্ণের আশ্রয় ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে না।

১৮. খণ্ড-ত (ৎ) আসলে কোন বর্ণের রূপ?

উত্তর: খণ্ড-ত (ৎ) আসলে 'ত' বর্ণের হসন্ত রূপ।

১৯. চন্দ্রবিন্দু (ঁ) কী নির্দেশ করে?

উত্তর: চন্দ্রবিন্দু ধ্বনির অনুনাসিকতা বা নাকে উচ্চারণ নির্দেশ করে।

২০. 'ক্ষ' বর্ণটি কোন দুটি বর্ণের যুক্তরূপ?

উত্তর: 'ক্ষ' হলো 'ক' এবং 'ষ'-এর যুক্তরূপ (ক + ষ)।

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Long Answer Questions)

০১. স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:

  • উচ্চারণ: স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু কোথাও বাধা পায় না, কিন্তু ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু মুখের ভেতরে কোথাও না কোথাও বাধা পায়।
  • স্বাধীন উচ্চারণ: স্বরধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া একাই উচ্চারিত হতে পারে। কিন্তু ব্যঞ্জনধ্বনি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না।
  • সংখ্যা: বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি, কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

০২. স্পর্শবর্ণগুলিকে কয়টি বর্গে ভাগ করা হয়েছে? প্রতিটি বর্গের নাম ও বর্ণগুলি লেখো।

উত্তর: স্পর্শবর্ণগুলিকে ৫টি বর্গে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি বর্গের নাম প্রথম বর্ণ অনুসারে হয়।

  • ক-বর্গ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
  • চ-বর্গ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
  • ট-বর্গ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
  • ত-বর্গ: ত, থ, দ, ধ, ন।
  • প-বর্গ: প, ফ, ব, ভ, ম।

০৩. অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনির পার্থক্য উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।

উত্তর:

অল্পপ্রাণ ধ্বনি: যে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ুর জোর কম থাকে এবং সময় কম লাগে, তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ অল্পপ্রাণ।
উদাহরণ: ক, গ, চ, জ।

মহাপ্রাণ ধ্বনি: যে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ুর জোর বেশি থাকে এবং সময় বেশি লাগে, তাদের মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ মহাপ্রাণ।
উদাহরণ: খ, ঘ, ছ, ঝ।

০৪. ঘোষ ও অঘোষ বর্ণের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর:

  • অঘোষ বর্ণ: বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণন হয় না বা গাম্ভীর্য কম থাকে। এদের অঘোষ বর্ণ বলে। উদাহরণ: ক, খ, চ, ছ।
  • ঘোষ বর্ণ: বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রীতে অনুরণন হয় এবং গাম্ভীর্য বা নাদ সৃষ্টি হয়। এদের ঘোষ বর্ণ বলে। উদাহরণ: গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ।

০৫. অন্তঃস্থ বর্ণ কেন বলা হয়? এদের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: স্পর্শবর্ণ (ক থেকে ম) এবং উষ্মবর্ণের (শ, ষ, স, হ) মাঝখানে বা অন্তরে অবস্থিত বলে য, র, ল, ব — এই চারটি বর্ণকে অন্তঃস্থ বর্ণ বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য: এগুলি উচ্চারণের সময় জিভ মুখবিবরের কোনো অংশকে সম্পূর্ণ স্পর্শ করে না, আবার স্বরধ্বনির মতো বাধাহীনও নয়। এদের উচ্চারণ স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি।

০৬. উষ্মবর্ণ নামকরণের কারণ কী? এই বর্ণগুলি কী কী?

উত্তর: 'উষ্ম' শব্দের অর্থ হলো শ্বাসবায়ু বা ভাপ। তালব্য-শ, মূর্ধ্যন্য-ষ, দন্ত্য-স এবং হ — এই চারটি বর্ণ উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ুর প্রাধান্য থাকে এবং শীষ দেওয়ার মতো আওয়াজ হয় (হ বাদে), তাই এদের উষ্মবর্ণ বলে।

এদের মধ্যে শ, ষ, স -কে শীষধ্বনিও বলা হয়।

০৭. নাসিক্য বর্ণ বা অনুনাসিক বর্ণ সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।

উত্তর: যে বর্ণগুলি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু মুখ দিয়ে বের হওয়ার পাশাপাশি নাক দিয়েও বের হয়, তাদের নাসিক্য বর্ণ বা অনুনাসিক বর্ণ বলে।

প্রতিটি বর্গের পঞ্চম বর্ণ (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) এবং অনুস্বার (ং) ও চন্দ্রবিন্দু (ঁ) হলো নাসিক্য বর্ণ। এই বর্ণগুলি উচ্চারণে নাকে একটা সুর বা ঝোঁক থাকে।

০৮. অযোগবাহ বর্ণ কাকে বলে এবং কেন? উদাহরণ দাও।

উত্তর: অনুস্বার (ং) এবং বিসর্গ (ঃ) — এই বর্ণগুলি স্বাধীনভাবে কোনো শব্দে ব্যবহৃত হতে পারে না। এরা সর্বদা অন্য কোনো বর্ণের পরে বা আশ্রয়ে বসে উচ্চারিত হয়।

অন্য বর্ণের সঙ্গে যোগ না থাকলে এরা উচ্চারিত হতে পারে না বলে এদের অযোগবাহ বর্ণ বা আশ্রয়ভাগী বর্ণ বলা হয়। যেমন: 'হংস' (হ-এর সাথে ং), 'দুঃখ' (দু-এর সাথে ঃ)।

০৯. উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনবর্ণের শ্রেণিবিভাগ একটি ছকের মাধ্যমে দেখাও।

উচ্চারণ স্থানবর্ণের নামবর্ণসমূহ
কণ্ঠকণ্ঠ্যবর্ণক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ
তালুতালব্যবর্ণচ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ
মূর্ধামূর্ধ্যন্যবর্ণট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ষ
দাঁতদন্ত্যবর্ণত, থ, দ, ধ, ন, ল, স
ওষ্ঠ (ঠোঁট)ওষ্ঠ্যবর্ণপ, ফ, ব, ভ, ম

১০. 'র' এবং 'ল' বর্ণের উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর:

  • র (কম্পনজাত ধ্বনি): 'র' উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উল্টে গিয়ে মূর্ধাকে স্পর্শ করে এবং বায়ুর প্রভাবে জিভ কেঁপে ওঠে। তাই একে কম্পনজাত ধ্বনিও বলা হয়।
  • ল (পার্শ্বিক ধ্বনি): 'ল' উচ্চারণের সময় জিভের ডগা ওপরের দাঁতের পাটি স্পর্শ করে এবং শ্বাসবায়ু জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই একে পার্শ্বিক ধ্বনি বলা হয়।

১১. 'শ', 'ষ' এবং 'স' - এই তিনটি বর্ণের উচ্চারণে কী পার্থক্য লক্ষ করা যায়?

উত্তর: বর্তমানে বাংলায় সাধারণ উচ্চারণে এই তিনটির পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম হয়ে গেছে, তবে ব্যাকরণগত পার্থক্য হলো:

  • তালব্য-শ: উচ্চারণ স্থান তালু। জিভ তালুর কাছে গিয়ে শ্বাসবায়ু ছাড়ে।
  • মূর্ধ্যন্য-ষ: উচ্চারণ স্থান মূর্ধা। জিভ উল্টে মূর্ধার কাছে যায়। (বাংলায় এর উচ্চারণ অনেকটা 'শ'-এর মতোই হয়)।
  • দন্ত্য-স: উচ্চারণ স্থান দাঁত। জিভ দাঁতের গোড়ায় স্পর্শ করে। (যেমন: আস্তে, ব্যস্ত)।

১২. 'ড' এবং 'ঢ়' - এই দুটি বর্ণের ব্যবহার ও উচ্চারণ সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: 'ড' এবং 'ঢ়' হলো 'ড' এবং 'ঢ'-এর বিন্দুযুক্ত রূপ।

  • এরা শব্দের শুরুতে বসে না, শব্দের মাঝে বা শেষে বসে।
  • এদের উচ্চারণে জিভের আগা উল্টে মূর্ধাকে তাড়না করে বা টোকা দেয়, তাই এদের তাড়নজাত ধ্বনি বলা হয়।
  • উদাহরণ: বড়, আষাঢ়, গাঢ়।

১৩. যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: যখন দুই বা তার বেশি ব্যঞ্জনবর্ণ মাঝখানে কোনো স্বরধ্বনি ছাড়া একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড রূপ ধারণ করে, তখন তাকে যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর বলে।

উদাহরণ:

  • ক্ত: ক + ত (যেমন: রক্ত)।
  • জ্ঞ: জ + ঞ (যেমন: বিজ্ঞান)।

১৪. 'ব'-ফলা এবং 'ম'-ফলা উচ্চারণের নিয়ম কী?

উত্তর:

  • ব-ফলা: শব্দের শুরুতে থাকলে উচ্চারিত হয় না (যেমন: শ্বাস)। শব্দের মাঝে বা শেষে থাকলে সেই বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব (দুবার) হয় (যেমন: বিশ্বাস)।
  • ম-ফলা: কিছু ক্ষেত্রে 'ম' উচ্চারিত হয় (যেমন: জন্ম), আবার কিছু ক্ষেত্রে 'ম' উচ্চারিত না হয়ে আগের বর্ণকে দ্বিত্ব করে এবং নাসিক্য সুর আনে (যেমন: পদ্ম - পদ্দোঁ)।

১৫. 'ণ' এবং 'ন' - এর ব্যবহারের পার্থক্য (ণত্ব বিধানের প্রাথমিক ধারণা) লেখো।

উত্তর: বাংলায় উচ্চারণে 'ণ' এবং 'ন'-এর পার্থক্য বোঝা যায় না, কিন্তু বানানে পার্থক্য আছে।

  • ট-বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) আগে যুক্তবর্ণ হিসেবে সর্বদা মূর্ধ্যন্য-ণ বসে। (যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড)।
  • ত-বর্গের (ত, থ, দ, ধ) আগে যুক্তবর্ণ হিসেবে সর্বদা দন্ত্য-ন বসে। (যেমন: দন্ত, অন্ত)।
  • ঋ, র, ষ -এর পরে সাধারণত মূর্ধ্যন্য-ণ হয় (যেমন: ঋণ, কারণ, ভীষণ)।

১৬. বিসর্গ (ঃ) কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: বিসর্গ মূলত দুই প্রকার।

  1. র-জাত বিসর্গ: মূল শব্দের শেষে 'র' থাকলে তা বিসর্গ হয়। যেমন: অন্তর > অন্তঃ।
  2. স-জাত বিসর্গ: মূল শব্দের শেষে 'স' থাকলে তা বিসর্গ হয়। যেমন: নমস > নমঃ।

বিসর্গ উচ্চারণে 'হ'-এর মতো মৃদু ঝোঁক থাকে।

১৭. 'ক্ষ' এবং 'হ্ম' - এই দুটি যুক্তবর্ণ বিশ্লেষণ করো এবং শব্দে ব্যবহার দেখাও।

উত্তর:

  • ক্ষ: ক + ষ। (দেখতে অনেকটা ক্ষুরধার)। শব্দ: পরীক্ষা, ক্ষমা।
  • হ্ম: হ + ম। (এখানে হ-এর পেটে ম থাকে)। শব্দ: ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মপুত্র।

দ্রষ্টব্য: 'হ্ম' উচ্চারণে আগে 'ম' এবং পরে 'হ' (ম+হ)-এর মতো শোনা যায়।

১৮. ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ বা 'ফলা' কাকে বলে? কয়টি ফলা আছে?

উত্তর: স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে যেমন 'কার' বলে, তেমনই ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'ফলা' বলে। ব্যঞ্জনবর্ণ যখন অন্য ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার আকৃতি অনেক সময় ছোট হয়ে যায়।

প্রধান ফলা ৬টি: য-ফলা, র-ফলা (বা রেফ), ল-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, ন-ফলা।

১৯. রেফ (র্) এবং র-ফলা (্র) - এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: দুটিই 'র' বর্ণের রূপভেদ।

  • রেফ (র্): যখন 'র' কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে বসে যুক্ত হয়, তখন তা রেফ হয়ে সেই বর্ণের মাথায় বসে। (যেমন: র + ম = র্ম > কর্ম)।
  • র-ফলা (্র): যখন 'র' কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের পরে বসে যুক্ত হয়, তখন তা র-ফলা হয়ে সেই বর্ণের নিচে বসে। (যেমন: প + র = প্র > প্রথম)।

২০. 'চ'-বর্গ এবং 'ট'-বর্গের উচ্চারণ স্থানের তুলনা করো।

উত্তর:

  • চ-বর্গ (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ): এদের উচ্চারণ স্থান তালু। জিভ চ্যাপ্টা হয়ে ওপরের তালুকে স্পর্শ করে। তাই এদের তালব্য বর্ণ বলে। উচ্চারণ কিছুটা নরম।
  • ট-বর্গ (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ): এদের উচ্চারণ স্থান মূর্ধা (তালুর পেছনের শক্ত অংশ)। জিভের আগা উল্টে মূর্ধাকে স্পর্শ করে। তাই এদের মূর্ধ্যন্য বর্ণ বলে। উচ্চারণ কিছুটা কঠোর বা ভারী।

© WBSSC AI Engine | ভাষাপাঠ - চতুর্থ শ্রেণি

WBSSC AI Engine - ব্যঞ্জনধ্বনি Mock Test

ভাষাপাঠ: ব্যঞ্জনধ্বনি

Class IV • Mock Test Bank

Time
00:00
AI
Question 1/60 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

WBSSC AI Engine - Class IV Exam

WBSSC AI Engine

Educational Assessment Module

Textbook: ভাষাপাঠ (Bhashapath)
Class: IV  |  Chapter: ব্যঞ্জনধ্বনি

পরীক্ষার নির্দেশাবলী (Instructions):

  • মোট প্রশ্ন: ২০টি (১০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, ১০টি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন)।
  • পূর্ণমান: ২০ (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)।
  • বহুনির্বাচনী প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন।
  • সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লিখুন। 'Submit Exam' বাটনে ক্লিক করলে সঠিক উত্তর দেখা যাবে।

A বিভাগ 'ক': বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

B বিভাগ 'খ': সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Descriptive)

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

Biswaz Growth

Academy Portal

Select a Class

0 items