Smart AI Education | Study Smart

Smart AI Education

পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।

Study Smart, Not Just Hard

AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!

DOWNLOAD PDF AI GUIDE
অধ্যায় ২: স্বরধ্বনি

বাংলা ভাষাপাঠ - চতুর্থ শ্রেণি

অধ্যায় ২: স্বরধ্বনি

ভূমিকা: শব্দের প্রাণ

আচ্ছা, তোমরা কি জানো, আমাদের প্রতিটি শব্দের একটা 'প্রাণ' থাকে? এই প্রাণ ছাড়া শব্দগুলো ঠিকমতো শোনায় না, যেন তারা কথাই বলতে পারে না। বাংলা ভাষায় এই প্রাণের কাজটি করে স্বরধ্বনি। ভেবে দেখো তো, 'ক', 'ল', 'ম' - এই তিনটি ধ্বনিকে যদি আমরা শুধু পর পর বলি, তাহলে কি 'কলম' শব্দটি তৈরি হয়? না! এর জন্য আমাদের 'অ'-এর সাহায্য নিতে হয় (ক্+অ+ল্+অ+ম্+অ)। এই 'অ'-ই হলো স্বরধ্বনি।

স্বরধ্বনিগুলো অনেকটা গানের সুরের মতো। এরা নিজেরাই একা একা গাইতে পারে, আবার অন্য ধ্বনির সাথে মিশে গিয়ে নতুন সুর তৈরি করতে পারে। আজ আমরা বাংলা ভাষার এই সুর বা স্বরধ্বনিদের গল্প শুনব। জানব, তারা কত রকমের হয় এবং কীভাবে তারা শব্দকে জীবন্ত করে তোলে।

সারাংশ

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে কোথাও বাধা পায় না এবং অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে, তাদের স্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় মোট ১১টি স্বরধ্বনি আছে। এই স্বরধ্বনিগুলো দুই রূপে ব্যবহৃত হয়: স্বাধীন বা পূর্ণ রূপ (যখন শব্দের শুরুতে বসে) এবং সংক্ষিপ্ত বা 'কার' রূপ (যখন ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়)। উচ্চারণের সময় অনুযায়ী এদের হ্রস্ব স্বর (ছোট) ও দীর্ঘ স্বর (বড়) - এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

স্বরধ্বনিদের চিনে নিই

বাংলা ভাষার ১১ জন 'সুরকার' বা স্বরধ্বনি হলো:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ

স্বরধ্বনির দুই রূপ

  • স্বাধীন রূপ: যখন স্বরধ্বনিটি নিজে নিজেই একটি শব্দের শুরুতে বসে। যেমন: জগর, ম, ট, গল, ট।
  • সংক্ষিপ্ত রূপ (কার): যখন স্বরধ্বনি ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে চিহ্ন বা 'কার' হিসেবে যুক্ত হয়। যেমন: ক + আ (া) = কা, ক + ই (ি) = কি, ক + উ (ু) = কু।
স্বরধ্বনির কার-চিহ্ন

চিত্র: স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপ বা কার-চিহ্ন

উচ্চারণের সময় অনুযায়ী ভাগ

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে কতটুকু সময় লাগছে, তার উপর ভিত্তি করে এদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

  • হ্রস্ব স্বর (ছোট সুর): যেগুলো উচ্চারণ করতে কম সময় লাগে। বাংলায় হ্রস্ব স্বর ৪টি: অ, ই, উ, ঋ
  • দীর্ঘ স্বর (লম্বা সুর): যেগুলো উচ্চারণ করতে বেশি সময় লাগে। বাংলায় দীর্ঘ স্বর ৭টি: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ

যৌগিক স্বরধ্বনি (দুটি সুরের মিশ্রণ)

কিছু স্বরধ্বনি আছে যেগুলো দুটি স্বরের মিশ্রণে তৈরি। এদের যৌগিক স্বর বা দ্বিস্বরধ্বনি বলে। বাংলায় এমন দুটি স্বরধ্বনি হলো:

  • = অ + ই
  • = অ + উ

হাতে কলমে (উত্তরসহ)

১. স্বরধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ধ্বনি অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে উচ্চারিত হতে পারে এবং উচ্চারণের সময় মুখের মধ্যে বাতাস বাধা পায় না, তাকে স্বরধ্বনি বলে। যেমন: অ, আ, ই ইত্যাদি।

২. হ্রস্ব স্বর ও দীর্ঘ স্বর কী? প্রত্যেকটির দুটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর:

  • হ্রস্ব স্বর: যে স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে কম সময় লাগে। যেমন: অ, ই।
  • দীর্ঘ স্বর: যে স্বরধ্বনি উচ্চারণ করতে বেশি সময় লাগে। যেমন: আ, ঈ।
৩. স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে? 'ম' ব্যঞ্জনের সাথে 'আ', 'উ', 'এ' যোগ করে দেখাও।

উত্তর: স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।

  • ম্ + আ (া) = মা
  • ম্ + উ (ু) = মু
  • ম্ + এ (ে) = মে

অধ্যায়ের কুইজ

এই অধ্যায়ে তুমি কতটা শিখলে, তা পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত?

মোট ৩০টি প্রশ্ন আছে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবে।

ALL NOTES
WBSSC AI Engine - স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ
Class IV • ভাষাপাঠ

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ

বাংলা ব্যাকরণের ভিত্তি: ধ্বনি ও বর্ণের পরিচয়

অধ্যায় পরিচিতি

আমরা যখন কথা বলি, তখন মুখ দিয়ে কিছু আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজকে বলে ধ্বনি। আর এই ধ্বনিকে যখন লিখে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বলে বর্ণ। এই অধ্যায়ে আমরা বাংলা ভাষার দুই ধরণের বর্ণ সম্পর্কে জানব।

আজকের পাঠে আমরা শিখব:

  • স্বরবর্ণ কাকে বলে ও কয়টি?
  • ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে ও কয়টি?
  • বর্ণমালার সঠিক উচ্চারণ।

স্বরবর্ণ

Vowels

যে বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হয়।

১১টি
...

ব্যঞ্জনবর্ণ

Consonants

যে বর্ণ স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে না।

৩৯টি
...
💡

মনে রেখো

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। (১১টি স্বরবর্ণ + ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ)

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - প্রশ্নোত্তর
WBSSC AI ENGINE

অধ্যায়: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ

পাঠ্যপুস্তক: ভাষাপাঠ (চতুর্থ শ্রেণি) | বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer Questions)

১. বাংলা বর্ণমালায় মোট স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি?

উত্তর: বাংলা বর্ণমালায় মোট ১১টি স্বরবর্ণ আছে।

২. বাংলা বর্ণমালায় প্রচলিত ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?

উত্তর: বাংলা বর্ণমালায় প্রচলিত ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

৩. স্বরবর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: যে বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজেই উচ্চারিত হতে পারে, তাকে স্বরবর্ণ বলে।

৪. ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: যে বর্ণ স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না, তাকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে।

৫. হ্রস্বস্বর কাকে বলে?

উত্তর: যে স্বরবর্ণগুলি উচ্চারণ করতে কম সময় লাগে, তাদের হ্রস্বস্বর বলে (যেমন- অ, ই, উ, ঋ)।

৬. দীর্ঘস্বর কাকে বলে?

উত্তর: যে স্বরবর্ণগুলি উচ্চারণ করতে বেশি সময় লাগে, তাদের দীর্ঘস্বর বলে (যেমন- আ, ঈ, ঊ)।

৭. স্পর্শবর্ণ কয়টি?

উত্তর: ক থেকে ম পর্যন্ত মোট ২৫টি বর্ণকে স্পর্শবর্ণ বলে।

৮. বর্গ কাকে বলে?

উত্তর: স্পর্শবর্ণগুলিকে ৫টি করে বর্ণ নিয়ে এক একটি দলে ভাগ করা হয়েছে, এই এক একটি দলকে বর্গ বলে।

৯. 'ক' বর্গের বর্ণগুলি কী কী?

উত্তর: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

১০. উষ্মবর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: শ, ষ, স, হ - এই চারটি বর্ণকে উষ্মবর্ণ বলে।

১১. অন্তঃস্থ বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: য, র, ল, ব - এই চারটি বর্ণকে অন্তঃস্থ বর্ণ বলে।

১২. অযোগবাহ বর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: অনুস্বার (ং) এবং বিসর্গ (ঃ) - এই দুটিকে অযোগবাহ বর্ণ বলে।

১৩. নাসিক্য বর্ণ কাকে বলে?

উত্তর: যে বর্ণগুলির উচ্চারণে নাক দিয়ে বাতাস বের হয় (যেমন- ঙ, ঞ, ণ, ন, ম), তাদের নাসিক্য বর্ণ বলে।

১৪. পূর্ণমাত্রার স্বরবর্ণ কয়টি?

উত্তর: পূর্ণমাত্রার স্বরবর্ণ ৬টি (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ)।

১৫. মাত্রাহীন স্বরবর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: এ, ঐ, ও, ঔ - এই ৪টি স্বরবর্ণের কোনো মাত্রা নেই।

১৬. যৌগিক স্বর বা দ্বিস্বর কোনগুলি?

উত্তর: ঐ (ো+ই) এবং ঔ (ো+উ) - এই দুটিকে যৌগিক স্বর বলে।

১৭. 'ক্ষ' বর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সমষ্টি?

উত্তর: ক + ষ = ক্ষ।

১৮. খণ্ড-ত (ৎ) আসলে কোন বর্ণের রূপ?

উত্তর: খণ্ড-ত (ৎ) আসলে 'ত' বর্ণের হসন্ত রূপ।

১৯. কণ্ঠ্যবর্ণের উদাহরণ দাও।

উত্তর: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।

২০. ওষ্ঠ্যবর্ণ কোনগুলি?

উত্তর: উ, ঊ, প, ফ, ব, ভ, ম।

দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর (Long Answer Questions)

১. ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণসহ বুঝিয়ে লেখো।

সমাধান:

  • ধ্বনি: মানুষের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ধ্বনি কানে শোনা যায় কিন্তু চোখে দেখা যায় না। এটি ভাষার মৌখিক রূপ।
  • বর্ণ: ধ্বনিকে লিখে প্রকাশ করার জন্য যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে। বর্ণ চোখে দেখা যায়। এটি ভাষার লিখিত রূপ।
  • উদাহরণ: মুখে যখন 'অ' বলি, তখন তা ধ্বনি। আর যখন খাতায় 'অ' লিখি, তখন তা বর্ণ।

২. স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

সমাধান:

  1. স্বরবর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হয়, কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণ স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে না।
  2. স্বরবর্ণের সংখ্যা কম (১১টি), ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা বেশি (৩৯টি)।
  3. স্বরবর্ণগুলি স্বাধীনভাবে শব্দের শুরুতে, মাঝে বা শেষে বসতে পারে, কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণের সময় স্বরবর্ণের ওপর নির্ভরশীল থাকে।

৩. উচ্চারণের সময়কাল অনুযায়ী স্বরবর্ণকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? বিস্তারিত লেখো।

সমাধান: উচ্চারণের সময়কাল বা মাত্রা অনুযায়ী স্বরবর্ণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  • হ্রস্বস্বর: যে স্বরবর্ণগুলি উচ্চারণ করতে খুব কম সময় লাগে। যেমন: অ, ই, উ, ঋ (মোট ৪টি)।
  • দীর্ঘস্বর: যে স্বরবর্ণগুলি উচ্চারণ করতে হ্রস্বস্বরের চেয়ে বেশি সময় লাগে। যেমন: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ (মোট ৭টি)।

৪. স্পর্শবর্ণ কাকে বলে? এদের কয়টি বর্গে ভাগ করা হয়েছে? ছক করে দেখাও।

সমাধান: 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত ২৫টি বর্ণ উচ্চারণের সময় জিভ মুখের ভেতরের কোনো না কোনো অংশ স্পর্শ করে। তাই এদের স্পর্শবর্ণ বলে। এদের ৫টি বর্গে ভাগ করা হয়েছে:

  • ক-বর্গ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ
  • চ-বর্গ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
  • ট-বর্গ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
  • ত-বর্গ: ত, থ, দ, ধ, ন
  • প-বর্গ: প, ফ, ব, ভ, ম

৫. উষ্মবর্ণ কাকে বলে এবং কেন? উদাহরণ দাও।

সমাধান: 'উষ্ম' কথার অর্থ হলো শ্বাসবায়ু বা গরম ভাপ। শ, ষ, স, হ—এই চারটি বর্ণ উচ্চারণ করার সময় মুখ দিয়ে বেশিক্ষণ ধরে শ্বাসবায়ু বের করা যায় বা শিস দেওয়ার মতো আওয়াজ হয়। তাই এদের উষ্মবর্ণ বলে।

উদাহরণ: তালব্য-শ (শ), মূর্ধন্য-ষ (ষ), দন্ত্য-স (স), হ।

৬. অন্তঃস্থ বর্ণ কাকে বলে? এদের এমন নামকরণের কারণ কী?

সমাধান: য, র, ল, ব—এই চারটি বর্ণ স্পর্শবর্ণ (ক থেকে ম) এবং উষ্মবর্ণের (শ, ষ, স, হ) মাঝখানে বা অন্তরে অবস্থিত। তাই এদের অন্তঃস্থ বর্ণ বলা হয়।

এদের উচ্চারণ স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝামাঝি প্রকৃতির হয়।

৭. অযোগবাহ বর্ণ বা আশ্রয়স্থানভাগী বর্ণ কাকে বলে? কেন বলে?

সমাধান: অনুস্বার (ং) এবং বিসর্গ (ঃ)—এই বর্ণগুলি স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এরা অন্য বর্ণের আশ্রয়ে বা যোগে উচ্চারিত হয়। অন্য বর্ণের সঙ্গে যোগ না থাকলে এরা উচ্চারিত হতে পারে না বলে এদের অযোগবাহ বা আশ্রয়স্থানভাগী বর্ণ বলে।

উদাহরণ: 'হংস' (হ-এর সাথে ং), 'দুঃখ' (দু-এর সাথে ঃ)।

৮. নাসিক্য বর্ণ বা অনুনাসিক বর্ণ কাদের বলে? উদাহরণসহ লেখো।

সমাধান: প্রতিটি বর্গের পঞ্চম বর্ণটি এবং অনুস্বার ও চন্দ্রবিন্দু উচ্চারণের সময় বাতাস নাক দিয়ে বের হয়। নাকের সাহায্যে উচ্চারিত হয় বলে এদের নাসিক্য বা অনুনাসিক বর্ণ বলে।

উদাহরণ: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং, ঁ।

৯. যৌগিক স্বরবর্ণ বা সান্ধ্যক্ষর কাকে বলে? বুঝিয়ে লেখো।

সমাধান: যে স্বরবর্ণের মধ্যে দুটি স্বরধ্বনি একসঙ্গে মিশে থাকে, তাকে যৌগিক স্বরবর্ণ বা সান্ধ্যক্ষর বলে।

  • ঐ: ও + ই = ঐ (এখানে 'ও' এবং 'ই' মিশে আছে)।
  • ঔ: ও + উ = ঔ (এখানে 'ও' এবং 'উ' মিশে আছে)।

১০. কণ্ঠ্যবর্ণ কাদের বলে? উদাহরণ দাও।

সমাধান: যে বর্ণগুলি উচ্চারণ করার সময় জিভ কণ্ঠ বা গলার নালি স্পর্শ করে বা কণ্ঠ থেকে আওয়াজ আসে, তাদের কণ্ঠ্যবর্ণ বলে।

উদাহরণ: স্বরবর্ণের মধ্যে—অ, আ। ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে—ক, খ, গ, ঘ, ঙ এবং হ।

১১. তালব্য বর্ণ কাদের বলে? উদাহরণ দাও।

সমাধান: যে বর্ণগুলি উচ্চারণের সময় জিভ তালু স্পর্শ করে, তাদের তালব্য বর্ণ বলে।

উদাহরণ: স্বরবর্ণের মধ্যে—ই, ঈ। ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে—চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ।

১২. মূর্ধা বা মূর্ধ্যন্য বর্ণ কাদের বলে?

সমাধান: মুখের ভেতরে তালুর পেছনের শক্ত অংশকে মূর্ধা বলে। যে বর্ণগুলি উচ্চারণের সময় জিভ উল্টে গিয়ে মূর্ধা স্পর্শ করে, তাদের মূর্ধ্যন্য বর্ণ বলে।

উদাহরণ: ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ষ।

১৩. দন্ত্যবর্ণ কাদের বলে? উদাহরণ দাও।

সমাধান: যে বর্ণগুলি উচ্চারণের সময় জিভ ওপরের পাটির দাঁতের গোড়া স্পর্শ করে, তাদের দন্ত্যবর্ণ বলে।

উদাহরণ: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।

১৪. ওষ্ঠ্যবর্ণ কাদের বলে? উদাহরণ দাও।

সমাধান: ওষ্ঠ মানে ঠোঁট। যে বর্ণগুলি উচ্চারণের সময় দুই ঠোঁট একে অপরকে স্পর্শ করে বা ঠোঁট গোল হয়, তাদের ওষ্ঠ্যবর্ণ বলে।

উদাহরণ: উ, ঊ, প, ফ, ব, ভ, ম।

১৫. মাত্রার ওপর ভিত্তি করে বর্ণমালার শ্রেণিবিভাগ করো।

সমাধান: মাত্রার ওপর ভিত্তি করে বর্ণমালাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. পূর্ণমাত্রা: যে বর্ণগুলির ওপর পুরো দাগ থাকে। (যেমন: অ, আ, ক, ঘ)।
  2. অর্ধমাত্রা: যে বর্ণগুলির ওপর অর্ধেক বা অল্প দাগ থাকে। (যেমন: ঋ, খ, গ, ণ)।
  3. মাত্রাহীন: যে বর্ণগুলির ওপর কোনো দাগ থাকে না। (যেমন: এ, ঐ, ঙ, ৎ)।

১৬. 'কার' ও 'ফলা' বলতে কী বোঝো?

সমাধান:

  • কার: স্বরবর্ণ যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার আকৃতি বদলে যায়। স্বরবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে। যেমন: আ-কার (া), ই-কার (ি)।
  • ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণ যখন অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন শেষের ব্যঞ্জনবর্ণটির আকৃতি অনেক সময় বদলে যায় বা সংক্ষিপ্ত হয়। ব্যঞ্জনবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত রূপকে 'ফলা' বলে। যেমন: য-ফলা (্য), র-ফলা (্র)।

১৭. ড়, ঢ, য় - এই বর্ণগুলির বিশেষত্ব কী?

সমাধান: এই বর্ণগুলি শব্দের শুরুতে বসে না। এরা শব্দের মাঝে বা শেষে বসে।

  • ড়, ঢ়: এরা ড ও ঢ-এর নিচে বিন্দু দিয়ে তৈরি এবং উচ্চারণে মূর্ধন্য ভাব থাকে।
  • য়: এটি অন্তঃস্থ 'য'-এর একটি রূপ, যা শব্দের মাঝে বা শেষে বসে উচ্চারণকে প্রভাবিত করে।

১৮. যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

সমাধান: দুই বা তার বেশি ব্যঞ্জনবর্ণ যখন পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে একটি বর্ণ হিসেবে লেখা হয়, তখন তাকে যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর বলে। যুক্তবর্ণে অনেক সময় মূল বর্ণের চেহারা বদলে যায়।

উদাহরণ:

  • ক + ষ = ক্ষ (যেমন: ক্ষমা)।
  • জ + ঞ = জ্ঞ (যেমন: জ্ঞান)।

১৯. উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত বর্ণগুলির ছক আলোচনা করো।

সমাধান:

বর্গবর্ণসমূহউচ্চারণ স্থাননাম
ক-বর্গক খ গ ঘ ঙকণ্ঠকণ্ঠ্যবর্ণ
চ-বর্গচ ছ জ ঝ ঞতালুতালব্য বর্ণ
ট-বর্গট ঠ ড ঢ ণমূর্ধামূর্ধ্যন্য বর্ণ
ত-বর্গত থ দ ধ নদাঁতদন্ত্যবর্ণ
প-বর্গপ ফ ব ভ মওষ্ঠ (ঠোঁট)ওষ্ঠ্যবর্ণ

২০. বাংলা বর্ণমালায় 'ব' কয়টি এবং কী কী? এদের পার্থক্য কী?

সমাধান: প্রাচীন ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় দুটি 'ব' ছিল।

  1. বর্গীয় ব: এটি প-বর্গের অন্তর্গত (প, ফ, ব)। এর উচ্চারণ ইংরেজি 'B'-এর মতো।
  2. অন্তঃস্থ ব: এটি অন্তঃস্থ বর্ণের অন্তর্গত (য, র, ল, ব)। এর উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি 'W' বা 'V'-এর মতো ছিল।

তবে আধুনিক বাংলায় লেখায় দুটির আকৃতি একই হয়ে গেছে এবং উচ্চারণেও বিশেষ পার্থক্য করা হয় না, তাই বর্তমানে একটিই 'ব' ধরা হয়।

© 2023 WBSSC AI Engine. All rights reserved.

WBSSC Mock Test: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ

ভাষাপাঠ (চতুর্থ শ্রেণি)

অধ্যায়: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ | Mock Test Bank

Time: Unlimited
0 / 60

Question 1 of 60
WBSSC AI Engine - Online Exam

অনলাইন পরীক্ষা: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ

Textbook: ভাষাপাঠ | Class: IV

Total Marks 20
A

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

10 x 1 = 10 Marks

১. বাংলা বর্ণমালায় মোট স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি?

২. নিচের কোনটি হ্রস্বস্বর?

৩. 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত ২৫টি বর্ণকে কী বলা হয়?

৪. নিচের কোনটি যৌগিক স্বর?

৫. উষ্মবর্ণ কোনগুলি?

৬. অযোগবাহ বর্ণ কাকে বলে?

৭. 'বর্গীয় জ' (জ) কোন বর্গের অন্তর্ভুক্ত?

৮. দীর্ঘস্বর উচ্চারণে সময় কেমন লাগে?

৯. নাসিক্য বর্ণ কোনটি?

১০. 'ঋ' কার চিহ্নটি বর্ণের কোথায় বসে?

B

সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (Descriptive)

10 x 1 = 10 Marks
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

Biswaz Growth

Academy Portal

Select a Class

0 items