Smart AI Education
পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।
Study Smart, Not Just Hard
AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!
DOWNLOAD PDF AI GUIDE Day 1: অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ NOTES
বল ও চাপ
এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
বল ও চাপ (Force and Pressure)
সুপ্রভাত ছাত্র-ছাত্রীরা! আজ আমরা আমাদের চারপাশের ভৌত জগতের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা— বল এবং চাপ নিয়ে আলোচনা করব। এই দুটি বিষয় বুঝলে আমরা দৈনন্দিন জীবনের অনেক বৈজ্ঞানিক ঘটনা সহজে ব্যাখ্যা করতে পারব।
বল (Force)
বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে।
বলের প্রভাবসমূহ:
- স্থির বস্তুকে চলমান করতে পারে
- চলমান বস্তুকে থামাতে পারে
- বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে
- বস্তুর আকার পরিবর্তন করতে পারে
তরল ও গ্যাসে চাপ
তরলে চাপ
গভীরতা বাড়লে চাপও বাড়ে। তাই বাঁধের নীচের অংশ বেশি শক্ত হয়।
গ্যাসে চাপ
গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ দেয়। যেমন: বেলুন ফোলালে তার আকার বৃদ্ধি পায়।
চাপ (Pressure)
চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণ।
গাণিতিক সূত্র
চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল
ক্ষেত্রফল কম হলে
চাপ বেশি হয় ↑
ক্ষেত্রফল বেশি হলে
চাপ কম হয় ↓
বাস্তব উদাহরণ
- ✔
ধারালো ছুরি: ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় সহজে সবজি কাটা যায়।
- ✔
উঁচু হিল: সরু হিলের ক্ষেত্রফল কম বলে মাটিতে বেশি দেবে যায়।
- ✔
চওড়া জুতো: ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় মাটিতে কম দেবে যায়।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান: বল ও চাপ
অধ্যায় ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (নোটস)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer Questions)
১. বল কাকে বলে?
উত্তর: বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে।
২. বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তুর অবস্থা কী হয়?
উত্তর: বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকে।
৩. বলের একটি উদাহরণ দাও যেখানে বস্তুর আকার পরিবর্তন হয়।
উত্তর: রাবার ব্যান্ড টানা বলের প্রভাবে আকার পরিবর্তনের একটি উদাহরণ।
৪. চাপের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণকে চাপ বলে।
৫. চাপের গাণিতিক সূত্রটি কী?
উত্তর: চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল।
৬. ক্ষেত্রফল কমলে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: ক্ষেত্রফল কমলে চাপের মান বৃদ্ধি পায়।
৭. ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপের মান কমে যায়।
৮. ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা সহজ কেন?
উত্তর: ধারালো ছুরির অগ্রভাগের ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় অল্প বলেই বেশি চাপ সৃষ্টি হয়, তাই কাটা সহজ হয়।
৯. উঁচু হিলের জুতো মাটিতে বেশি দেবে যায় কেন?
উত্তর: উঁচু হিলের ক্ষেত্রফল খুব কম হওয়ায় মাটির ওপর চাপের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।
১০. চওড়া জুতোর তলা মাটিতে কম দেবে যায় কেন?
উত্তর: চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় মাটির ওপর চাপের পরিমাণ কমে যায়।
১১. তরলের চাপের সাথে গভীরতার সম্পর্ক কী?
উত্তর: তরলের মধ্যে গভীরতা বাড়লে চাপের পরিমাণও বাড়ে।
১২. বাঁধের নীচের অংশ কেন বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয়?
উত্তর: গভীরতা বাড়লে তরলের চাপ বাড়ে, তাই সেই চাপ সহ্য করার জন্য বাঁধের নীচের অংশ শক্ত করা হয়।
১৩. গ্যাস কোন দিকে চাপ প্রয়োগ করে?
উত্তর: গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে।
১৪. বেলুন ফোলালে তার আকার বড় হয় কেন?
উত্তর: বেলুনের ভেতরে থাকা গ্যাসের চাপের কারণে বেলুনের আকার বড় হয়।
১৫. বলের প্রভাবে গতির দিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ফুটবল খেলার সময় চলন্ত বলে কিক করে তার গতির দিক পরিবর্তন করা যায়।
১৬. স্থির বস্তুকে চলমান করতে কী প্রয়োজন?
উত্তর: স্থির বস্তুকে চলমান করতে বল প্রয়োগের প্রয়োজন।
১৭. সমবেগে সরলরেখায় চলা বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ না করলে কী হবে?
উত্তর: বস্তুটি সমবেগে সরলরেখাতেই চলতে থাকবে।
১৮. দরজার হাতল ধরে টানা কিসের উদাহরণ?
উত্তর: এটি বল প্রয়োগের একটি উদাহরণ।
১৯. একই বল ভিন্ন ক্ষেত্রফলে প্রয়োগ করলে চাপের মান কেমন হবে?
উত্তর: চাপের মান ভিন্ন হবে (ক্ষেত্রফল কমলে চাপ বাড়বে, ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপ কমবে)।
২০. বল ও চাপের মধ্যে মূল সম্পর্কটি কী?
উত্তর: বল বাড়লে চাপ বাড়ে এবং ক্ষেত্রফল কমলে চাপ বাড়ে।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. বলের বিভিন্ন প্রভাবগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
উত্তর: বলের প্রভাবগুলি অত্যন্ত বহুমুখী। প্রথমত, বল কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল করতে পারে, যেমন স্থির ফুটবলকে কিক করলে সেটি চলতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, এটি কোনো চলমান বস্তুকে থামাতে পারে। তৃতীয়ত, বল প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করা সম্ভব। চতুর্থত, বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আকৃতির পরিবর্তন ঘটানো যায়, যেমন একটি রাবার ব্যান্ডকে টানলে তার আকার লম্বা হয়ে যায়।
২. চাপের ধারণাটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বল। এটি বল এবং ক্ষেত্রফল উভয়ের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ধারালো ছুরি এবং একটি ভোঁতা ছুরির কথা ভাবা যেতে পারে। ধারালো ছুরির অগ্রভাগের ক্ষেত্রফল খুব কম হওয়ায় অল্প বল প্রয়োগ করলেও সেখানে চাপের মান অনেক বেশি হয়, ফলে সবজি বা ফল সহজে কাটা যায়। অন্যদিকে, ভোঁতা ছুরির ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় একই বল প্রয়োগ করলেও চাপের মান কম হয় এবং কাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: তরলের চাপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গভীরতার সাথে এর বৃদ্ধি। তরলের যত গভীরে যাওয়া যায়, তার ওপরের স্তরের তরলের ওজন তত বাড়ে, ফলে চাপের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই নদী বা সমুদ্রের বাঁধের নিচের অংশ অনেক বেশি চওড়া ও শক্তিশালী করে তৈরি করা হয় যাতে গভীর জলের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে পারে। এছাড়া তরল পাত্রের দেওয়ালে সবদিকে চাপ প্রয়োগ করে।
৪. গ্যাসের চাপের প্রকৃতি এবং বেলুন ফোলানোর উদাহরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে থাকে তার দেওয়ালে সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন আমরা একটি বেলুন ফোলাই, তখন আমাদের মুখ থেকে নির্গত বায়ু বেলুনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং বেলুনের ভেতরের দেওয়ালে চাপ দিতে থাকে। এই বায়ুর চাপের কারণেই বেলুনটি চারদিকে সমানভাবে প্রসারিত হয় এবং আকারে বড় হয়। যদি কোনো একদিকের চাপ বেশি হতো, তবে বেলুনটি সুষমভাবে ফুলত না।
৫. "চাপ ক্ষেত্রফলের ওপর ব্যস্তানুপাতে নির্ভরশীল" - ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চাপের সূত্র অনুযায়ী, চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল। এখান থেকে বোঝা যায় যে যদি প্রযুক্ত বল স্থির থাকে, তবে ক্ষেত্রফল যত কমবে, চাপের মান তত বাড়বে। আবার ক্ষেত্রফল যত বাড়বে, চাপের মান তত কমবে। এই কারণেই উঁচু হিলের জুতোর তলার ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় তা মাটিতে বেশি চাপ দেয় এবং দেবে যায়, কিন্তু চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় তা মাটিতে কম চাপ দেয় এবং সহজে দেবে যায় না।
৬. দৈনন্দিন জীবনে বলের তিনটি প্রয়োগ উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: ১) দরজা খোলা বা বন্ধ করার সময় আমরা হাতল ধরে ঠেলা বা টানি, যা বলের প্রয়োগ। ২) ফুটবল খেলার সময় খেলোয়াড়রা বলের ওপর কিক করে বলকে গতিশীল করে বা তার দিক পরিবর্তন করে। ৩) কোনো রাবার ব্যান্ড বা স্প্রিংকে টানলে তার আকার পরিবর্তন হয়, যা বলের প্রভাবে ঘটে। এই উদাহরণগুলি প্রমাণ করে যে বল আমাদের দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৭. বাঁধের নকশা করার সময় কেন তরলের চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
উত্তর: তরলের একটি ধর্ম হলো গভীরতা বাড়লে তার চাপ বৃদ্ধি পায়। বাঁধের ক্ষেত্রে জলের উপরিভাগের তুলনায় তলদেশের গভীরতা অনেক বেশি থাকে। ফলে বাঁধের নিচের অংশে জলের চাপ অত্যন্ত প্রবল হয়। যদি বাঁধের নিচের অংশ উপরের মতো পাতলা রাখা হয়, তবে জলের চাপে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। তাই বাঁধের নিচের অংশকে অনেক বেশি চওড়া ও মজবুত করে তৈরি করা হয়।
৮. বল ও চাপের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: বল হলো কোনো বস্তুর ওপর বাহ্যিক প্রভাব যা বস্তুর স্থিতি বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। অন্যদিকে, চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বলের মান। বলের কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের প্রয়োজন নেই, কিন্তু চাপের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রফল একটি প্রধান বিষয়। একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও ক্ষেত্রফল পরিবর্তনের সাথে সাথে চাপের মান পরিবর্তিত হতে পারে।
৯. গতির দিক পরিবর্তনে বলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট দিকে চলতে থাকলে তার ওপর বল প্রয়োগ করে তার গতির অভিমুখ বদলে দেওয়া যায়। যেমন, ক্রিকেট খেলায় বোলার যখন বল ছোড়েন, তখন ব্যাটসম্যান ব্যাটের সাহায্যে বলের ওপর বল প্রয়োগ করে সেটিকে ভিন্ন দিকে পাঠিয়ে দেন। এখানে বলের প্রভাবে বস্তুর গতির মান পরিবর্তন না হলেও গতির দিক পরিবর্তিত হয়।
১০. চাপের সূত্রটি ব্যবহার করে একটি গাণিতিক ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: চাপের সূত্রটি হলো চাপ = বল / ক্ষেত্রফল। ধরা যাক, ১০ নিউটন বল ২ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করা হলো, তবে চাপ হবে ১০/২ = ৫ একক। এখন যদি একই ১০ নিউটন বল ১ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করা হয়, তবে চাপ হবে ১০/১ = ১০ একক। অর্থাৎ, বল স্থির রেখে ক্ষেত্রফল অর্ধেক করে দিলে চাপের মান দ্বিগুণ হয়ে যায়।
১১. স্থির বস্তু ও গতিশীল বস্তুর ওপর বলের প্রভাবের তুলনা করো।
উত্তর: স্থির বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে সেটি গতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে বা গতিশীল হয়। যেমন মেঝেতে রাখা একটি বাক্সকে ঠেললে সেটি সরতে শুরু করে। অন্যদিকে, গতিশীল বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে তার গতি বাড়তে পারে, কমতে পারে, বস্তুটি থেমে যেতে পারে অথবা তার গতির দিক পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ বল স্থিতি ও গতি উভয় অবস্থাকেই প্রভাবিত করে।
১২. তরলের চাপ কীভাবে গভীরতার ওপর নির্ভর করে তা একটি উদাহরণের মাধ্যমে লেখো।
উত্তর: তরলের চাপ গভীরতার সাথে সমানুপাতিক। একটি লম্বা জলের পাত্রের গায়ে ওপর থেকে নিচে তিনটি ছিদ্র করলে দেখা যাবে যে সবচেয়ে নিচের ছিদ্রটি দিয়ে জল সবচেয়ে বেশি বেগে এবং দূরে গিয়ে পড়ছে। এর কারণ হলো নিচের ছিদ্রটির ওপর জলের গভীরতা সবচেয়ে বেশি, ফলে সেখানে জলের চাপও সবচেয়ে বেশি। ওপরের ছিদ্র দিয়ে জল কম বেগে পড়ে কারণ সেখানে গভীরতা ও চাপ কম।
১৩. আকার পরিবর্তনে বলের ভূমিকা উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: বল প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক বস্তুর আকার বা আয়তন পরিবর্তন করা যায়। যেমন, একটি নরম মাটির তালকে হাত দিয়ে চাপ দিলে তার আকার বদলে যায়। আবার একটি স্প্রিংকে দুই দিক থেকে টানলে সেটি লম্বা হয়ে যায়। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বল বস্তুর অভ্যন্তরীণ অণুগুলোর বিন্যাসকে প্রভাবিত করে তার বাহ্যিক আকার পরিবর্তন করে।
১৪. কেন চওড়া জুতোর তলা কাদা মাটিতে হাঁটার জন্য সুবিধাজনক?
উত্তর: কাদা মাটিতে হাঁটার সময় শরীরের ওজন (যা একটি বল) মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় শরীরের ওজন বড় একটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। চাপের সূত্র অনুযায়ী (চাপ = বল / ক্ষেত্রফল), ক্ষেত্রফল বেশি হলে চাপের মান কমে যায়। ফলে পা কাদা মাটিতে বেশি গভীরে দেবে যায় না এবং হাঁটা সহজ হয়।
১৫. গ্যাসের চাপ সবদিকে সমান - এটি কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: যখন আমরা কোনো বায়ুশূন্য ফুটবল বা বেলুনে পাম্প করি, তখন দেখা যায় সেটি সবদিক থেকে সমানভাবে ফুলে উঠছে। যদি গ্যাস কেবল নিচের দিকে বা একদিকে চাপ দিত, তবে ফুটবলটি কেবল সেই দিকেই প্রসারিত হতো। যেহেতু এটি একটি গোলক আকারে ফোলে, তাই প্রমাণিত হয় যে গ্যাস তার আধারের সব দেওয়ালে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করছে।
১৬. বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর গতির পরিবর্তনের তিনটি সম্ভাবনা কী কী?
উত্তর: বল প্রয়োগের ফলে গতির তিনটি প্রধান পরিবর্তন হতে পারে: ১) বস্তুর দ্রুতি বা গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমন চলন্ত সাইকেলে আরও জোরে প্যাডেল করলে)। ২) বস্তুর গতিবেগ হ্রাস পেতে পারে বা বস্তু থেমে যেতে পারে (যেমন ব্রেক কষলে)। ৩) বস্তুর গতির মান অপরিবর্তিত রেখে কেবল গতির দিক পরিবর্তন হতে পারে।
১৭. চাপের একক ক্ষেত্রফলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চাপ পরিমাপের ক্ষেত্রে 'একক ক্ষেত্রফল' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ মোট বলের পরিমাণ দিয়ে চাপের সঠিক প্রভাব বোঝা যায় না। ধরা যাক, একটি বড় হাতুড়ি দিয়ে একটি বড় কাঠের তক্তায় আঘাত করা হলো এবং একটি ছোট পেরেকে আঘাত করা হলো। পেরেকটি কাঠের ভেতরে ঢুকে যাবে কারণ পেরেকের অগ্রভাগের একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বল (চাপ) অনেক বেশি। তাই চাপের সঠিক ধারণা পেতে একক ক্ষেত্রফলের ওপর বলের হিসাব নেওয়া জরুরি।
১৮. বল ও চাপের ধারণা আমাদের প্রাকৃতিক ঘটনা বুঝতে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: বল ও চাপের ধারণা ব্যবহার করে আমরা অনেক প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারি। যেমন, কেন বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে আমরা পিষ্ট হই না, কেন গভীর সমুদ্রে মাছের গঠন ভিন্ন হয়, বা কেন পাহাড়ের ওপর রান্না করা কঠিন। এই ধারণাগুলি আমাদের চারপাশের ভৌত জগতকে গাণিতিক ও যৌক্তিকভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
১৯. বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তুর অবস্থার কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তুর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকে। একে জড়তা বলা হয়। বল হলো সেই বাহ্যিক কারণ যা এই জড়তাকে ভেঙে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।
২০. দৈনন্দিন জীবনে চাপের একটি সুবিধাজনক ও একটি অসুবিধাজনক উদাহরণ দাও।
উত্তর: সুবিধাজনক উদাহরণ: ইনজেকশনের সিরিঞ্জের সূঁচ খুব সরু করা হয় যাতে অল্প বলেই বেশি চাপ তৈরি হয় এবং সূঁচটি সহজে চামড়ায় প্রবেশ করে। অসুবিধাজনক উদাহরণ: ভারী স্কুল ব্যাগ যদি সরু ফিতে দিয়ে কাঁধে ঝোলানো হয়, তবে ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় কাঁধে প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়। এই কারণেই স্কুল ব্যাগের ফিতে চওড়া করা হয়।
অধ্যায়: বল ও চাপ
পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি অনুশীলনী ও সমাধান
বিভাগ ১: বল (Force) সংক্রান্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: বল কাকে বলে?
উত্তর: বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে। বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তু স্থির থাকতে পারে বা সমবেগে সরলরেখায় চলতে পারে।
প্রশ্ন ২: বলের চারটি প্রভাব উল্লেখ করো।
উত্তর: বলের চারটি প্রভাব হলো:
- স্থির বস্তুকে চলমান করতে পারে।
- চলমান বস্তুকে থামাতে পারে।
- বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে।
- বস্তুর আকার পরিবর্তন করতে পারে।
প্রশ্ন ৩: দৈনন্দিন জীবনে বল প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: বল প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ হলো— দরজা ঠেলা বা টানা, ফুটবল কিক করা এবং রাবার ব্যান্ড টানা।
বিভাগ ২: চাপ (Pressure) সংক্রান্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন ৪: চাপের সংজ্ঞা দাও এবং এর গাণিতিক সূত্রটি লেখো।
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণকে চাপ বলে।
চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল
প্রশ্ন ৫: ক্ষেত্রফলের পরিবর্তনের সাথে চাপের সম্পর্ক কী?
উত্তর: একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করলে:
- ক্ষেত্রফল কম হলে চাপ বেশি হয়।
- ক্ষেত্রফল বেশি হলে চাপ কম হয়।
প্রশ্ন ৬: ধারালো ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় কেন?
উত্তর: ধারালো ছুরির প্রান্তের ক্ষেত্রফল খুব কম হয়। ফলে অল্প বল প্রয়োগ করলেও অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি হয়, যা বস্তুকে সহজে কাটতে সাহায্য করে।
বিভাগ ৩: তরল ও গ্যাসের চাপ
প্রশ্ন ৭: নদী বা বাঁধের নীচের অংশ বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয় কেন?
উত্তর: তরলের মধ্যে গভীরতা বাড়লে চাপের মানও বাড়ে। নদীর গভীরে বা বাঁধের নীচের অংশে জলের চাপ অনেক বেশি থাকে, তাই সেই চাপ সহ্য করার জন্য নীচের অংশ বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন ৮: বেলুন ফোলালে তা বড় হয় কেন?
উত্তর: গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন বেলুন ফোলানো হয়, তখন ভেতরের গ্যাসের চাপের কারণে বেলুনের দেওয়াল বাইরের দিকে প্রসারিত হয় এবং বেলুনের আকার বড় হয়।
ভৌত পরিবেশ (Physical Environment)
অধ্যায় ১: বল, চাপ, মহাকর্ষ ও আর্কিমিডিসের নীতি
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ) - ২০টি
১. মহাকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে নিজের কেন্দ্রের দিকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বলে।
২. অভিকর্ষ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তখন সেই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বলে।
৩. বস্তুর ওজন মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: বস্তুর ওজন মাপার যন্ত্র হলো স্প্রিং তুলা।
৪. ঘর্ষণ বল কাকে বলে?
উত্তর: একটি তল যখন অন্য একটি তলের ওপর দিয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে, তখন দুই তলের সংযোগস্থলে গতির বিরুদ্ধে যে বল সৃষ্টি হয়, তাকে ঘর্ষণ বলে।
৫. চাপের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে চাপ বলে।
৬. SI পদ্ধতিতে চাপের একক কী?
উত্তর: SI পদ্ধতিতে চাপের একক হলো পাস্কাল (Pa) বা নিউটন/বর্গমিটার (N/m²)।
৭. প্লবতা কী?
উত্তর: কোনো বস্তুকে তরল বা গ্যাসে নিমজ্জিত করলে ওই প্রবাহী বস্তুর ওপর যে উর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে, তাকে প্লবতা বলে।
৮. ঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর: একক আয়তনের বস্তুর ভরকে ওই বস্তুর উপাদানের ঘনত্ব বলে।
৯. ঘনত্বের গাণিতিক রূপটি লেখো।
উত্তর: ঘনত্ব (D) = ভর (M) / আয়তন (V)।
১০. CGS পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক কী?
উত্তর: CGS পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো গ্রাম/ঘন সেমি (g/cm³)।
১১. তরলের গভীরতা বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: তরলের গভীরতা বাড়লে তরলের চাপ বৃদ্ধি পায়।
১২. বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হলে কী ঘটবে?
উত্তর: বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হলে বস্তুটি তরলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে।
১৩. ঘর্ষণ বল কোন দিকে কাজ করে?
উত্তর: ঘর্ষণ বল সর্বদা বস্তুর গতির বা প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে কাজ করে।
১৪. মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে কোন অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে ইংরেজি বড় হাতের 'G' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
১৫. তরলের ঘনত্ব বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: তরলের ঘনত্ব বাড়লে তরলের চাপ বৃদ্ধি পায়।
১৬. আর্কিমিডিসের নীতি কোন ধরনের পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: আর্কিমিডিসের নীতি স্থির তরল বা গ্যাসীয় (প্রবাহী) পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১৭. ঘর্ষণ বল কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: ঘর্ষণ বল সংস্পর্শে থাকা তল দুটির প্রকৃতির (মসৃণ বা অমসৃণ) ওপর নির্ভর করে।
১৮. বস্তুর ওজন > প্লবতা হলে কী হবে?
উত্তর: বস্তুটি তরলে ডুবে যাবে।
১৯. SI পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক কী?
উত্তর: SI পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো কিগ্রা/ঘনমিটার (kg/m³)।
২০. মহাকর্ষ বল বস্তুর ভরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত?
উত্তর: মহাকর্ষ বল বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ) - ২০টি
১. নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো এবং এর গাণিতিক রূপটি লেখো।
বিবৃতি: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুকণার মধ্যেকার আকর্ষণ বলের মান— (১) বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং (২) তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিক রূপ: F = G · (m₁m₂ / r²)
যেখানে F = মহাকর্ষ বল, m₁, m₂ = বস্তু দুটির ভর, r = তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।
২. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে তাকে মহাকর্ষ বলে। যেমন— সূর্য ও পৃথিবীর আকর্ষণ।
অভিকর্ষ: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তখন তাকে অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ অভিকর্ষ হলো মহাকর্ষের একটি বিশেষ রূপ যেখানে একটি বস্তু অবশ্যই পৃথিবী।
৩. ঘর্ষণ বলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
- ঘর্ষণ বল সর্বদা সংস্পর্শে থাকা তল দুটির আপেক্ষিক গতির বিরুদ্ধে কাজ করে।
- এটি স্পর্শতলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে; তল যত অমসৃণ হয়, ঘর্ষণ বল তত বেশি হয়।
- ঘর্ষণ বল গতির সৃষ্টিতে বাধা দেয় বা গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দিতে চায়।
৪. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।
সুবিধা: ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা মাটিতে পা দিয়ে হাঁটতে পারি, পেন দিয়ে কাগজে লিখতে পারি এবং যানবাহনকে ব্রেক কষে থামানো সম্ভব হয়।
অসুবিধা: ঘর্ষণের ফলে যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এছাড়া ঘর্ষণের ফলে অপ্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয় যা শক্তির অপচয় ঘটায়।
৫. চাপের গাণিতিক রূপটি ব্যাখ্যা করো এবং এর এককগুলি উল্লেখ করো।
চাপ বলতে বোঝায় একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বল।
গাণিতিক রূপ: চাপ = বল / ক্ষেত্রফল।
একক: SI পদ্ধতিতে চাপের একক নিউটন/বর্গমিটার (N/m²), যাকে পাস্কাল (Pa) বলা হয়। ক্ষেত্রফল কমলে একই বলের জন্য চাপের মান বৃদ্ধি পায়।
৬. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিতভাবে লেখো।
- তরলের গভীরতা যত বৃদ্ধি পায়, তরলের চাপের মান তত বাড়ে।
- তরলের ঘনত্ব যত বেশি হয়, নির্দিষ্ট গভীরতায় চাপের মান তত বেশি হয়।
- স্থির তরল তার অভ্যন্তরে কোনো বিন্দুতে সবদিকে সমান চাপ দেয়।
- তরলের চাপ পাত্রের আকারের ওপর নির্ভর করে না, কেবল গভীরতা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।
৭. আর্কিমিডিসের নীতিটি ব্যাখ্যা করো।
নীতি: কোনো বস্তুকে স্থির তরল বা গ্যাসীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে বস্তুটির ওজনের আপাত হ্রাস ঘটে। এই ওজনের হ্রাস বস্তুটির দ্বারা অপসারিত প্রবাহীর (তরল বা গ্যাস) ওজনের সমান।
অর্থাৎ, বস্তুর হারানো ওজন = বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন।
৮. বস্তুর ভাসন ও নিমজ্জনের তিনটি শর্ত আলোচনা করো।
- নিমজ্জন: যদি বস্তুর ওজন প্লবতার চেয়ে বেশি হয় (ওজন > প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলে ডুবে যাবে।
- সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসন: যদি বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হয় (ওজন = প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলের ভেতরে যেকোনো স্থানে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে।
- আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসন: যদি বস্তুর ওজন প্লবতার চেয়ে কম হয় (ওজন < প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলে আংশিক ভেসে থাকবে।
৯. ঘনত্ব ও আয়তনের মধ্যে সম্পর্কটি উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
ঘনত্ব হলো একক আয়তনের ভর। সূত্রানুসারে, ঘনত্ব = ভর / আয়তন।
যদি দুটি বস্তুর ভর সমান হয়, তবে যার আয়তন কম তার ঘনত্ব বেশি হবে। যেমন— ১ কেজি লোহা ও ১ কেজি তুলোর মধ্যে লোহার আয়তন অনেক কম, তাই লোহার ঘনত্ব তুলোর চেয়ে অনেক বেশি।
১০. প্লবতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
প্লবতা প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
- বস্তুর নিমজ্জিত অংশের আয়তন: বস্তুর যত বেশি আয়তন তরলে নিমজ্জিত হবে, প্লবতা তত বাড়বে।
- তরলের ঘনত্ব: যে তরলে বস্তুকে ডোবানো হচ্ছে, তার ঘনত্ব যত বেশি হবে, প্লবতা বলও তত বেশি হবে।
১১. ওজন ও ভরের মধ্যে পার্থক্য কী?
ভর হলো বস্তুর মধ্যেকার পদার্থের পরিমাণ, যা সব জায়গায় সমান থাকে। কিন্তু ওজন হলো বস্তুর ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল, যা স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ওজন স্প্রিং তুলার সাহায্যে মাপা হয়।
১২. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক (G) বলতে কী বোঝো?
নিউটনের সূত্রে G হলো একটি সর্বজনীন ধ্রুবক। একক ভরের দুটি বস্তুকণা একক দূরত্বে থাকলে তাদের মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে, তাকেই মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে।
১৩. কেন মসৃণ মেঝের চেয়ে বালুযুক্ত রাস্তায় হাঁটা সহজ?
মসৃণ মেঝেতে ঘর্ষণ বল খুব কম থাকে, ফলে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বালুযুক্ত রাস্তা অমসৃণ হওয়ায় সেখানে ঘর্ষণ বল বেশি কাজ করে, যা আমাদের হাঁটতে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া বল জোগায়।
১৪. গভীর সমুদ্রের মাছকে ডাঙায় তুললে ফেটে যায় কেন?
গভীর সমুদ্রে জলের চাপ অনেক বেশি থাকে। মাছের শরীরের ভেতরের চাপও সেই বাইরের চাপের সমান থাকে। ডাঙায় তুললে বাইরের চাপ হঠাৎ কমে যায়, কিন্তু শরীরের ভেতরের উচ্চ চাপের কারণে মাছের দেহ ফেটে যেতে পারে।
১৫. আর্কিমিডিসের নীতির সাহায্যে কীভাবে বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস নির্ণয় করা যায়?
বস্তুকে তরলে ডোবালে তা কিছু পরিমাণ তরল সরিয়ে দেয়। আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী, ওই অপসারিত তরলের ওজনই হলো বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস। বায়ুতে ওজন থেকে তরলে নিমজ্জিত অবস্থায় ওজন বিয়োগ করলে এই হ্রাস পাওয়া যায়।
১৬. একটি লোহার পেরেক জলে ডুবে যায় কিন্তু লোহার তৈরি জাহাজ ভাসে কেন?
লোহার পেরেকের ওজন তার দ্বারা অপসারিত জলের ওজনের চেয়ে বেশি। কিন্তু জাহাজের গঠন এমন ফাঁপা হয় যে এটি বিশাল আয়তনের জল সরিয়ে দেয়। জাহাজের ওজন অপসারিত জলের ওজনের (প্লবতা) চেয়ে কম বা সমান হওয়ায় জাহাজ ভাসে।
১৭. তরলের চাপের রাশিমালাটি ব্যাখ্যা করো।
তরলের কোনো বিন্দুতে চাপ = গভীরতা (h) × তরলের ঘনত্ব (d) × অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)। অর্থাৎ চাপ সরাসরি গভীরতা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।
১৮. ঘর্ষণ কমানোর উপায়গুলি কী কী?
স্পর্শতলকে মসৃণ করে, পিচ্ছিলকারক পদার্থ (যেমন তেল বা গ্রিজ) ব্যবহার করে এবং বল-বেয়ারিং ব্যবহারের মাধ্যমে ঘর্ষণ বল কমানো যায়।
১৯. মহাকর্ষ বল দূরত্বের ওপর কীভাবে নির্ভর করে?
মহাকর্ষ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব দ্বিগুণ করলে আকর্ষণ বল চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) হয়ে যাবে।
২০. পাস্কালের সূত্রের সাথে চাপের সংজ্ঞার সম্পর্ক কী?
চাপের সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি চাপ সবদিকে সমানভাবে প্রযুক্ত হয় (প্রবাহীর ক্ষেত্রে)। পাস্কালের নীতি অনুযায়ী, আবদ্ধ তরলে চাপ দিলে তা সবদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়, যা চাপের মৌলিক ধর্মেরই বহিঃপ্রকাশ।
এই অধ্যায়ের অনলাইন মক টেস্ট
WBBSE AI Engine
অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান | বল ও চাপ
লোড হচ্ছে...
অভিনন্দন!
আপনি মক টেস্টটি সম্পন্ন করেছেন।
🎉 পরীক্ষার ফলাফল 🎉
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ (অ্যাডভান্সড লেভেল)
ONLINE EXAM
পরিবেশ ও বিজ্ঞান অনলাইন পরীক্ষা
অধ্যায়: বল ও চাপ (অষ্টম শ্রেণি)
আপনার ফলাফল
MCQ স্কোর: 0 / ১০
বিঃদ্রঃ বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলি (১১-২০) আপনার শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
সঠিক উত্তরমালা (MCQ):
স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল
এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল
(Non-contact Forces)
বল কী?
ভৌত বিজ্ঞানে বল মূলত দুই প্রকার— ১. স্পর্শ বল (Contact Force) এবং ২. স্পর্শহীন বা স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল (Non-contact Force)। যে সকল বল প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি ভৌত সংযোগের প্রয়োজন হয় না, তাদেরই স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল বলা হয়।
মহাকর্ষ বল
(Gravitational Force)
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু তাদের ভরের জন্য একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে। এটি কেবল আকর্ষণধর্মী।
স্থিরতড়িৎ বল
(Electrostatic Force)
দুটি আহিত বা তড়িৎগ্রস্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল। সমধর্মী আধান বিকর্ষণ ও বিপরীত আধান আকর্ষণ করে।
চৌম্বক বল
(Magnetic Force)
চুম্বক ও চৌম্বক পদার্থের মধ্যে বা দুটি চুম্বকের মেরুর মধ্যে বল। সমমেরু বিকর্ষণ ও বিপরীত মেরু আকর্ষণ করে।
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র
১. বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
২. তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিক রূপ
F = G × m1 × m2r2
যেখানে G হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে পার্থক্য কী? ▼
২. কোলোম্বের সূত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত? ▼
৩. বস্তুর ওজন কি কখনো শূন্য হতে পারে? ▼
স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল
অধ্যায় ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (Notes)
S সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer Questions)
১. স্পর্শহীন বল কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল বল প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি ভৌত সংযোগের প্রয়োজন হয় না, তাদের স্পর্শহীন বল বলা হয়।
২. অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যসূচি অনুযায়ী তিনটি প্রধান স্পর্শহীন বলের নাম লেখো।
উত্তর: ১. মহাকর্ষ বল, ২. স্থিরতড়িৎ বল এবং ৩. চৌম্বক বল।
৩. মহাকর্ষ বল বলতে কী বোঝো?
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু তাদের ভরের জন্য একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে।
৪. মহাকর্ষ বল কী ধরনের বল— আকর্ষণধর্মী না বিকর্ষণধর্মী?
উত্তর: মহাকর্ষ বল সর্বদা আকর্ষণধর্মী বল।
৫. নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের গাণিতিক রূপটি লেখো।
উত্তর: $F = G \times \frac{m_1 \times m_2}{r^2}$
৬. মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে কোন চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে '$G$' চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
৭. অভিকর্ষ (Gravity) কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে তার কেন্দ্রের দিকে টানে, তখন সেই বিশেষ মহাকর্ষ বলকে অভিকর্ষ বলে।
৮. গাছ থেকে ফল নিচে পড়ে কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে গাছ থেকে ফল নিচে পড়ে।
৯. স্থিরতড়িৎ বল কাকে বলে?
উত্তর: দুটি আহিত বা তড়িৎগ্রস্ত বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল কাজ করে, তাকে স্থিরতড়িৎ বল বলে।
১০. আধান কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: আধান দুই প্রকার— ধনাত্মক (+) ও ঋণাত্মক (-)।
১১. সমধর্মী আধান পরস্পরকে কী করে?
উত্তর: সমধর্মী আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
১২. বিপরীত ধর্মী আধানের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হয়?
উত্তর: বিপরীত ধর্মী আধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
১৩. শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে কাগজের টুকরো আকৃষ্ট হয় কেন?
উত্তর: ঘর্ষণের ফলে চিরুনিতে স্থিরতড়িৎ উৎপন্ন হয় যা কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে।
১৪. চৌম্বক বল কাকে বলে?
উত্তর: চুম্বক ও চৌম্বক পদার্থের মধ্যে অথবা দুটি চুম্বকের মেরুর মধ্যে যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল কাজ করে, তাকে চৌম্বক বল বলে।
১৫. তিনটি চৌম্বক পদার্থের নাম লেখো।
উত্তর: লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট।
১৬. চুম্বকের সমমেরু পরস্পরকে কী করে?
উত্তর: চুম্বকের সমমেরু (উত্তর-উত্তর বা দক্ষিণ-দক্ষিণ) পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
১৭. কোলোম্বের সূত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
উত্তর: কোলোম্বের সূত্রটি স্থিরতড়িৎ বলের মান নির্ণয়ের সাথে সম্পর্কিত।
১৮. বস্তুর ওজন কোথায় শূন্য হতে পারে?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রে বা মহাকাশে যেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়।
১৯. বস্তুর ভর কি কখনো শূন্য হতে পারে?
উত্তর: না, বস্তুর ভর কখনো শূন্য হয় না।
২০. স্পর্শহীন বলগুলো দূর থেকে কাজ করতে পারে কেন?
উত্তর: কারণ এই বস্তুগুলোর চারপাশে একটি 'ক্ষেত্র' (Field) তৈরি হয়।
L দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. স্পর্শ বল ও স্পর্শহীন বলের মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: যে সকল বল প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি ভৌত সংযোগ বা ছোঁয়ার প্রয়োজন হয়, তাদের স্পর্শ বল বলে (যেমন— ধাক্কা দেওয়া)। অন্যদিকে, যে সকল বল প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি ভৌত সংযোগের প্রয়োজন হয় না, তাদের স্পর্শহীন বল বলা হয়। স্পর্শহীন বলের উদাহরণ হলো মহাকর্ষ বল, যেখানে পৃথিবী কোনো বস্তুকে স্পর্শ না করেই নিচের দিকে টানে।
২. নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো এবং এর গাণিতিক রূপটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুকণার মধ্যেকার আকর্ষণ বলের মান— (ক) বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং (খ) তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিক রূপ: $F = G \times \frac{m_1 \times m_2}{r^2}$। এখানে $F$ হলো আকর্ষণ বল, $m_1$ ও $m_2$ হলো বস্তু দুটির ভর, $r$ হলো তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং $G$ হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।
৩. মহাকর্ষ বলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: মহাকর্ষ বলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১. এটি কেবল আকর্ষণ বল, কখনো বিকর্ষণ করে না।
২. বস্তুর ভর যত বেশি হয়, আকর্ষণ বলের মান তত বাড়ে।
৩. বস্তুদুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব যত বাড়ে, বলের মান তত কমে।
৪. এটি একটি স্পর্শহীন বল যা দূর থেকেও কাজ করতে পারে।
৪. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে তাকে মহাকর্ষ বলে। কিন্তু যদি ওই দুটি বস্তুর মধ্যে একটি পৃথিবী হয়, তবে সেই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বলা হয়। অর্থাৎ, অভিকর্ষ হলো মহাকর্ষের একটি বিশেষ রূপ। এই কারণেই বলা হয়, "সকল অভিকর্ষই মহাকর্ষ, কিন্তু সকল মহাকর্ষ অভিকর্ষ নয়।"
৫. স্থিরতড়িৎ বলের ক্ষেত্রে আধানের ধর্মগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্থিরতড়িৎ বলের ক্ষেত্রে আধানের দুটি প্রধান ধর্ম দেখা যায়:
১. সমধর্মী আধানের বিকর্ষণ: দুটি ধনাত্মক (+) আধান বা দুটি ঋণাত্মক (-) আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে দূরে সরিয়ে দেয়।
২. বিপরীত ধর্মী আধানের আকর্ষণ: একটি ধনাত্মক (+) ও একটি ঋণাত্মক (-) আধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে কাছে টানে।
৬. একটি পরীক্ষার সাহায্যে স্থিরতড়িৎ বলের অস্তিত্ব প্রমাণ করো।
উত্তর: শীতকালে শুকনো চুলে একটি প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে কয়েকবার আঁচড়ানোর পর সেটিকে ছোট ছোট কাগজের টুকরোর কাছে ধরলে দেখা যায় যে, চিরুনিটি কাগজের টুকরোগুলোকে আকর্ষণ করছে। এখানে ঘর্ষণের ফলে চিরুনিতে স্থিরতড়িৎ উৎপন্ন হয়েছে, যা কাগজের টুকরোকে স্পর্শ ছাড়াই আকর্ষণ করছে। এটিই স্থিরতড়িৎ বলের প্রমাণ।
৭. চৌম্বক বল বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: চুম্বক এবং চৌম্বক পদার্থের মধ্যে অথবা দুটি চুম্বকের মেরুর মধ্যে যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল কাজ করে, তাকে চৌম্বক বল বলে। এর বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এটি স্পর্শ ছাড়াই কাজ করতে পারে।
২. এটি আকর্ষণ ও বিকর্ষণ উভয় প্রকারেরই হতে পারে।
৩. লোহা, নিকেল ইত্যাদি পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে।
৮. চুম্বকের মেরুর ধর্মগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: চুম্বকের দুটি মেরু থাকে— উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু। এদের ধর্ম হলো:
১. সমমেরু বিকর্ষণ: দুটি উত্তর মেরু বা দুটি দক্ষিণ মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
২. বিপরীত মেরু আকর্ষণ: একটি উত্তর মেরু ও একটি দক্ষিণ মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
৯. কোলোম্বের সূত্রটি কী? এটি কোন বলের সাথে সম্পর্কিত?
উত্তর: কোলোম্বের সূত্রটি স্থিরতড়িৎ বলের মান নির্ণয়ের সাথে সম্পর্কিত। এই সূত্র অনুযায়ী, দুটি স্থির বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান আধানদ্বয়ের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
১০. বস্তুর ভর ও ওজনের মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো। ওজন কখন শূন্য হয়?
উত্তর: বস্তুর ভর হলো তার মধ্যেকার পদার্থের পরিমাণ, যা সর্বদা ধ্রুবক। অন্যদিকে, ওজন হলো বস্তুর ওপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টান। ওজন = ভর $\times$ অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$)। পৃথিবীর কেন্দ্রে বা মহাকাশে যেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) শূন্য, সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য হয়। কিন্তু ভর কখনো শূন্য হয় না।
১১. স্পর্শহীন বলের ক্ষেত্রে 'ক্ষেত্র' (Field)-এর ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্পর্শহীন বলগুলো সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই কাজ করে কারণ এই বস্তুগুলোর (যেমন— পৃথিবী বা চুম্বক) চারপাশে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল জুড়ে প্রভাব বজায় থাকে, যাকে 'ক্ষেত্র' বলা হয়। যেমন— পৃথিবীর চারপাশে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র বা চুম্বকের চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্রের মধ্যে অন্য কোনো বস্তু এলে সেটির ওপর বল প্রযুক্ত হয়।
১২. মহাকর্ষ বলের মান কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: নিউটনের সূত্র অনুযায়ী মহাকর্ষ বল দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
১. বস্তুর ভর: বস্তুর ভর যত বেশি হবে, মহাকর্ষ বল তত শক্তিশালী হবে।
২. দূরত্ব: বস্তু দুটির মধ্যে দূরত্ব যত বাড়বে, মহাকর্ষ বলের মান তত কমবে (দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতে)।
১৩. চৌম্বক বলের একটি বাস্তব উদাহরণ দাও এবং ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: একটি লোহার পেরেককে টেবিলের ওপর রেখে তার কাছে একটি শক্তিশালী চুম্বক নিয়ে এলে দেখা যাবে, চুম্বকটি পেরেকটিকে স্পর্শ করার আগেই পেরেকটি চুম্বকের দিকে ছুটে যাচ্ছে। এখানে চুম্বকটি তার চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে পেরেকের ওপর স্পর্শহীন চৌম্বক বল প্রয়োগ করেছে।
১৪. স্থিরতড়িৎ বল ও চৌম্বক বলের মধ্যে একটি সাদৃশ্য ও একটি বৈসাদৃশ্য লেখো।
উত্তর: সাদৃশ্য: উভয় বলই স্পর্শহীন বল এবং উভয় ক্ষেত্রেই আকর্ষণ ও বিকর্ষণ উভয়ই দেখা যায়।
বৈসাদৃশ্য: স্থিরতড়িৎ বল আধানের (ধনাত্মক ও ঋণাত্মক) ওপর নির্ভর করে, কিন্তু চৌম্বক বল চুম্বকের মেরু (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং চৌম্বক পদার্থের ওপর নির্ভর করে।
১৫. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক ($G$) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে ব্যবহৃত $G$ হলো একটি বিশ্বজনীন ধ্রুবক। একক ভরের দুটি বস্তুকণা একক দূরত্বে থাকলে তাদের মধ্যে যে পরিমাণ মহাকর্ষ বল কাজ করে, তাকেই মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলা হয়। এর মান মহাবিশ্বের সর্বত্র সমান থাকে।
১৬. কেন মহাকর্ষ বলকে স্পর্শহীন বল বলা হয়?
উত্তর: মহাকর্ষ বল ক্রিয়া করার জন্য বস্তু দুটির মধ্যে কোনো ভৌত সংযোগের প্রয়োজন হয় না। যেমন— সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার শূন্যস্থান থাকা সত্ত্বেও সূর্য পৃথিবীকে আকর্ষণ করছে। যেহেতু কোনো মাধ্যম বা স্পর্শ ছাড়াই এই বল কাজ করে, তাই একে স্পর্শহীন বল বলা হয়।
১৭. দৈনন্দিন জীবনে অভিকর্ষ বলের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: অভিকর্ষ বলের গুরুত্ব অপরিসীম। এই বলের জন্যই আমরা পৃথিবীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে আটকে থাকে, এবং বৃষ্টির জল বা নদীর জল নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। অভিকর্ষ বল না থাকলে সবকিছুই মহাকাশে ভেসে যেত।
১৮. আধানহীন বস্তুকে কি স্থিরতড়িৎ বল দ্বারা আকর্ষণ করা সম্ভব? উদাহরণ দাও।
উত্তর: হ্যাঁ, একটি আহিত বস্তু একটি নিস্তড়িৎ বা আধানহীন বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে। যেমন— প্লাস্টিকের চিরুনিটি আহিত হওয়ার পর নিস্তড়িৎ কাগজের টুকরোগুলোকে আকর্ষণ করে। এটি আবেশের মাধ্যমে ঘটে থাকে।
১৯. চৌম্বক বলের ক্ষেত্রে দূরত্বের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অন্যান্য স্পর্শহীন বলের মতো চৌম্বক বলও দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল। চুম্বক থেকে কোনো চৌম্বক পদার্থের দূরত্ব যত কম হয়, আকর্ষণ বল তত তীব্র হয়। দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি কমে যায় এবং বলের মানও দ্রুত হ্রাস পায়।
২০. স্পর্শহীন বলের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: স্পর্শহীন বলের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১. বল প্রয়োগের জন্য বস্তুর প্রত্যক্ষ স্পর্শ প্রয়োজন হয় না।
২. এই বলগুলো দূর থেকেও কাজ করতে পারে।
৩. বলের প্রভাব একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র (Field) পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
৪. দূরত্ব বাড়লে এই বলের মান সাধারণত কমে যায়।
স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল
Non-contact Forces (অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর)
📖 পাঠ্যবইয়ের মূল ধারণা
মহাকর্ষ বল
ভরের জন্য মহাবিশ্বের দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ।
স্থিরতড়িৎ বল
আহিত বা তড়িৎগ্রস্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ।
চৌম্বক বল
চুম্বক ও চৌম্বক পদার্থের মধ্যে ক্রিয়াশীল বল।
📝 অনুশীলনী ও সমাধান (Activities)
প্রশ্ন ১: স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল (Non-contact Force) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উদাহরণ: মহাকর্ষ বল, স্থিরতড়িৎ বল এবং চৌম্বক বল।
প্রশ্ন ২: নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো এবং এর গাণিতিক রূপটি লেখো।
১. বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
২. তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
(যেখানে $G$ হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক)
প্রশ্ন ৩: অভিকর্ষ (Gravity) বলতে কী বোঝো? গাছ থেকে ফল নিচে পড়ে কেন?
প্রশ্ন ৪: স্থিরতড়িৎ বলের ক্ষেত্রে আধানের ধর্মগুলি আলোচনা করো।
- সমধর্মী আধান (+ এবং + অথবা - এবং -) পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
- বিপরীত ধর্মী আধান (+ এবং -) পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
প্রশ্ন ৫: শীতকালে প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর তা কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে কেন?
প্রশ্ন ৬: চৌম্বক বলের বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ লেখো।
উদাহরণ: কোনো লোহার পেরেককে চুম্বকের কাছে আনলে স্পর্শ করার আগেই চুম্বকটি পেরেকটিকে টেনে নেয়। এটিই চৌম্বক বলের প্রভাব।
💡 গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর
মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে পার্থক্য কী?
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর আকর্ষণ হলো মহাকর্ষ। আর যদি ওই দুটি বস্তুর একটি পৃথিবী হয়, তবে সেই আকর্ষণ বলকে বলা হয় অভিকর্ষ। অর্থাৎ, সকল অভিকর্ষই মহাকর্ষ, কিন্তু সকল মহাকর্ষ অভিকর্ষ নয়।
কোলোম্বের সূত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
কোলোম্বের সূত্রটি স্থিরতড়িৎ বলের মান নির্ণয়ের সাথে সম্পর্কিত। এটি জানায় যে দুটি আধানের মধ্যে বল তাদের আধানের গুণফলের সমানুপাতিক এবং দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
বস্তুর ওজন কি শূন্য হতে পারে?
হ্যাঁ, পৃথিবীর কেন্দ্রে বা মহাকাশে যেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) শূন্য, সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য হয়। তবে বস্তুর ভর কখনো শূন্য হয় না।
এই অধ্যায়ের অনলাইন মক টেস্ট
WBBSE Mock Test
Class: VIII | Subject: পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অধ্যায়: স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল
লোড হচ্ছে...
পরীক্ষা সম্পন্ন!
আপনার অর্জিত স্কোর নিচে দেওয়া হলো
ONLINE EXAM
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অষ্টম শ্রেণি | অধ্যায়: স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল
অভিনন্দন!
তুমি MCQ অংশে সফলভাবে উত্তর দিয়েছো। বড় প্রশ্নগুলো তোমার শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
বল ও চাপ (Force and Pressure)
সুপ্রভাত ছাত্র-ছাত্রীরা! আজ আমরা আমাদের চারপাশের ভৌত জগতের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা— বল এবং চাপ নিয়ে আলোচনা করব। এই দুটি বিষয় বুঝলে আমরা দৈনন্দিন জীবনের অনেক বৈজ্ঞানিক ঘটনা সহজে ব্যাখ্যা করতে পারব।
বল (Force)
বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে।
বলের প্রভাবসমূহ:
- স্থির বস্তুকে চলমান করতে পারে
- চলমান বস্তুকে থামাতে পারে
- বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে
- বস্তুর আকার পরিবর্তন করতে পারে
তরল ও গ্যাসে চাপ
তরলে চাপ
গভীরতা বাড়লে চাপও বাড়ে। তাই বাঁধের নীচের অংশ বেশি শক্ত হয়।
গ্যাসে চাপ
গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ দেয়। যেমন: বেলুন ফোলালে তার আকার বৃদ্ধি পায়।
চাপ (Pressure)
চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণ।
গাণিতিক সূত্র
চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল
ক্ষেত্রফল কম হলে
চাপ বেশি হয় ↑
ক্ষেত্রফল বেশি হলে
চাপ কম হয় ↓
বাস্তব উদাহরণ
- ✔
ধারালো ছুরি: ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় সহজে সবজি কাটা যায়।
- ✔
উঁচু হিল: সরু হিলের ক্ষেত্রফল কম বলে মাটিতে বেশি দেবে যায়।
- ✔
চওড়া জুতো: ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় মাটিতে কম দেবে যায়।
পরিবেশ ও বিজ্ঞান: বল ও চাপ
অধ্যায় ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (নোটস)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer Questions)
১. বল কাকে বলে?
উত্তর: বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে।
২. বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তুর অবস্থা কী হয়?
উত্তর: বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকে।
৩. বলের একটি উদাহরণ দাও যেখানে বস্তুর আকার পরিবর্তন হয়।
উত্তর: রাবার ব্যান্ড টানা বলের প্রভাবে আকার পরিবর্তনের একটি উদাহরণ।
৪. চাপের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণকে চাপ বলে।
৫. চাপের গাণিতিক সূত্রটি কী?
উত্তর: চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল।
৬. ক্ষেত্রফল কমলে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: ক্ষেত্রফল কমলে চাপের মান বৃদ্ধি পায়।
৭. ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপের মান কমে যায়।
৮. ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা সহজ কেন?
উত্তর: ধারালো ছুরির অগ্রভাগের ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় অল্প বলেই বেশি চাপ সৃষ্টি হয়, তাই কাটা সহজ হয়।
৯. উঁচু হিলের জুতো মাটিতে বেশি দেবে যায় কেন?
উত্তর: উঁচু হিলের ক্ষেত্রফল খুব কম হওয়ায় মাটির ওপর চাপের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।
১০. চওড়া জুতোর তলা মাটিতে কম দেবে যায় কেন?
উত্তর: চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় মাটির ওপর চাপের পরিমাণ কমে যায়।
১১. তরলের চাপের সাথে গভীরতার সম্পর্ক কী?
উত্তর: তরলের মধ্যে গভীরতা বাড়লে চাপের পরিমাণও বাড়ে।
১২. বাঁধের নীচের অংশ কেন বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয়?
উত্তর: গভীরতা বাড়লে তরলের চাপ বাড়ে, তাই সেই চাপ সহ্য করার জন্য বাঁধের নীচের অংশ শক্ত করা হয়।
১৩. গ্যাস কোন দিকে চাপ প্রয়োগ করে?
উত্তর: গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে।
১৪. বেলুন ফোলালে তার আকার বড় হয় কেন?
উত্তর: বেলুনের ভেতরে থাকা গ্যাসের চাপের কারণে বেলুনের আকার বড় হয়।
১৫. বলের প্রভাবে গতির দিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ফুটবল খেলার সময় চলন্ত বলে কিক করে তার গতির দিক পরিবর্তন করা যায়।
১৬. স্থির বস্তুকে চলমান করতে কী প্রয়োজন?
উত্তর: স্থির বস্তুকে চলমান করতে বল প্রয়োগের প্রয়োজন।
১৭. সমবেগে সরলরেখায় চলা বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ না করলে কী হবে?
উত্তর: বস্তুটি সমবেগে সরলরেখাতেই চলতে থাকবে।
১৮. দরজার হাতল ধরে টানা কিসের উদাহরণ?
উত্তর: এটি বল প্রয়োগের একটি উদাহরণ।
১৯. একই বল ভিন্ন ক্ষেত্রফলে প্রয়োগ করলে চাপের মান কেমন হবে?
উত্তর: চাপের মান ভিন্ন হবে (ক্ষেত্রফল কমলে চাপ বাড়বে, ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপ কমবে)।
২০. বল ও চাপের মধ্যে মূল সম্পর্কটি কী?
উত্তর: বল বাড়লে চাপ বাড়ে এবং ক্ষেত্রফল কমলে চাপ বাড়ে।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. বলের বিভিন্ন প্রভাবগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
উত্তর: বলের প্রভাবগুলি অত্যন্ত বহুমুখী। প্রথমত, বল কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল করতে পারে, যেমন স্থির ফুটবলকে কিক করলে সেটি চলতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, এটি কোনো চলমান বস্তুকে থামাতে পারে। তৃতীয়ত, বল প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করা সম্ভব। চতুর্থত, বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আকৃতির পরিবর্তন ঘটানো যায়, যেমন একটি রাবার ব্যান্ডকে টানলে তার আকার লম্বা হয়ে যায়।
২. চাপের ধারণাটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বল। এটি বল এবং ক্ষেত্রফল উভয়ের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ধারালো ছুরি এবং একটি ভোঁতা ছুরির কথা ভাবা যেতে পারে। ধারালো ছুরির অগ্রভাগের ক্ষেত্রফল খুব কম হওয়ায় অল্প বল প্রয়োগ করলেও সেখানে চাপের মান অনেক বেশি হয়, ফলে সবজি বা ফল সহজে কাটা যায়। অন্যদিকে, ভোঁতা ছুরির ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় একই বল প্রয়োগ করলেও চাপের মান কম হয় এবং কাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: তরলের চাপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গভীরতার সাথে এর বৃদ্ধি। তরলের যত গভীরে যাওয়া যায়, তার ওপরের স্তরের তরলের ওজন তত বাড়ে, ফলে চাপের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই নদী বা সমুদ্রের বাঁধের নিচের অংশ অনেক বেশি চওড়া ও শক্তিশালী করে তৈরি করা হয় যাতে গভীর জলের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে পারে। এছাড়া তরল পাত্রের দেওয়ালে সবদিকে চাপ প্রয়োগ করে।
৪. গ্যাসের চাপের প্রকৃতি এবং বেলুন ফোলানোর উদাহরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে থাকে তার দেওয়ালে সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন আমরা একটি বেলুন ফোলাই, তখন আমাদের মুখ থেকে নির্গত বায়ু বেলুনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং বেলুনের ভেতরের দেওয়ালে চাপ দিতে থাকে। এই বায়ুর চাপের কারণেই বেলুনটি চারদিকে সমানভাবে প্রসারিত হয় এবং আকারে বড় হয়। যদি কোনো একদিকের চাপ বেশি হতো, তবে বেলুনটি সুষমভাবে ফুলত না।
৫. "চাপ ক্ষেত্রফলের ওপর ব্যস্তানুপাতে নির্ভরশীল" - ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চাপের সূত্র অনুযায়ী, চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল। এখান থেকে বোঝা যায় যে যদি প্রযুক্ত বল স্থির থাকে, তবে ক্ষেত্রফল যত কমবে, চাপের মান তত বাড়বে। আবার ক্ষেত্রফল যত বাড়বে, চাপের মান তত কমবে। এই কারণেই উঁচু হিলের জুতোর তলার ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় তা মাটিতে বেশি চাপ দেয় এবং দেবে যায়, কিন্তু চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় তা মাটিতে কম চাপ দেয় এবং সহজে দেবে যায় না।
৬. দৈনন্দিন জীবনে বলের তিনটি প্রয়োগ উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: ১) দরজা খোলা বা বন্ধ করার সময় আমরা হাতল ধরে ঠেলা বা টানি, যা বলের প্রয়োগ। ২) ফুটবল খেলার সময় খেলোয়াড়রা বলের ওপর কিক করে বলকে গতিশীল করে বা তার দিক পরিবর্তন করে। ৩) কোনো রাবার ব্যান্ড বা স্প্রিংকে টানলে তার আকার পরিবর্তন হয়, যা বলের প্রভাবে ঘটে। এই উদাহরণগুলি প্রমাণ করে যে বল আমাদের দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৭. বাঁধের নকশা করার সময় কেন তরলের চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
উত্তর: তরলের একটি ধর্ম হলো গভীরতা বাড়লে তার চাপ বৃদ্ধি পায়। বাঁধের ক্ষেত্রে জলের উপরিভাগের তুলনায় তলদেশের গভীরতা অনেক বেশি থাকে। ফলে বাঁধের নিচের অংশে জলের চাপ অত্যন্ত প্রবল হয়। যদি বাঁধের নিচের অংশ উপরের মতো পাতলা রাখা হয়, তবে জলের চাপে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। তাই বাঁধের নিচের অংশকে অনেক বেশি চওড়া ও মজবুত করে তৈরি করা হয়।
৮. বল ও চাপের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: বল হলো কোনো বস্তুর ওপর বাহ্যিক প্রভাব যা বস্তুর স্থিতি বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। অন্যদিকে, চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বলের মান। বলের কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের প্রয়োজন নেই, কিন্তু চাপের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রফল একটি প্রধান বিষয়। একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও ক্ষেত্রফল পরিবর্তনের সাথে সাথে চাপের মান পরিবর্তিত হতে পারে।
৯. গতির দিক পরিবর্তনে বলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট দিকে চলতে থাকলে তার ওপর বল প্রয়োগ করে তার গতির অভিমুখ বদলে দেওয়া যায়। যেমন, ক্রিকেট খেলায় বোলার যখন বল ছোড়েন, তখন ব্যাটসম্যান ব্যাটের সাহায্যে বলের ওপর বল প্রয়োগ করে সেটিকে ভিন্ন দিকে পাঠিয়ে দেন। এখানে বলের প্রভাবে বস্তুর গতির মান পরিবর্তন না হলেও গতির দিক পরিবর্তিত হয়।
১০. চাপের সূত্রটি ব্যবহার করে একটি গাণিতিক ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: চাপের সূত্রটি হলো চাপ = বল / ক্ষেত্রফল। ধরা যাক, ১০ নিউটন বল ২ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করা হলো, তবে চাপ হবে ১০/২ = ৫ একক। এখন যদি একই ১০ নিউটন বল ১ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করা হয়, তবে চাপ হবে ১০/১ = ১০ একক। অর্থাৎ, বল স্থির রেখে ক্ষেত্রফল অর্ধেক করে দিলে চাপের মান দ্বিগুণ হয়ে যায়।
১১. স্থির বস্তু ও গতিশীল বস্তুর ওপর বলের প্রভাবের তুলনা করো।
উত্তর: স্থির বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে সেটি গতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে বা গতিশীল হয়। যেমন মেঝেতে রাখা একটি বাক্সকে ঠেললে সেটি সরতে শুরু করে। অন্যদিকে, গতিশীল বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে তার গতি বাড়তে পারে, কমতে পারে, বস্তুটি থেমে যেতে পারে অথবা তার গতির দিক পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ বল স্থিতি ও গতি উভয় অবস্থাকেই প্রভাবিত করে।
১২. তরলের চাপ কীভাবে গভীরতার ওপর নির্ভর করে তা একটি উদাহরণের মাধ্যমে লেখো।
উত্তর: তরলের চাপ গভীরতার সাথে সমানুপাতিক। একটি লম্বা জলের পাত্রের গায়ে ওপর থেকে নিচে তিনটি ছিদ্র করলে দেখা যাবে যে সবচেয়ে নিচের ছিদ্রটি দিয়ে জল সবচেয়ে বেশি বেগে এবং দূরে গিয়ে পড়ছে। এর কারণ হলো নিচের ছিদ্রটির ওপর জলের গভীরতা সবচেয়ে বেশি, ফলে সেখানে জলের চাপও সবচেয়ে বেশি। ওপরের ছিদ্র দিয়ে জল কম বেগে পড়ে কারণ সেখানে গভীরতা ও চাপ কম।
১৩. আকার পরিবর্তনে বলের ভূমিকা উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: বল প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক বস্তুর আকার বা আয়তন পরিবর্তন করা যায়। যেমন, একটি নরম মাটির তালকে হাত দিয়ে চাপ দিলে তার আকার বদলে যায়। আবার একটি স্প্রিংকে দুই দিক থেকে টানলে সেটি লম্বা হয়ে যায়। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বল বস্তুর অভ্যন্তরীণ অণুগুলোর বিন্যাসকে প্রভাবিত করে তার বাহ্যিক আকার পরিবর্তন করে।
১৪. কেন চওড়া জুতোর তলা কাদা মাটিতে হাঁটার জন্য সুবিধাজনক?
উত্তর: কাদা মাটিতে হাঁটার সময় শরীরের ওজন (যা একটি বল) মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় শরীরের ওজন বড় একটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। চাপের সূত্র অনুযায়ী (চাপ = বল / ক্ষেত্রফল), ক্ষেত্রফল বেশি হলে চাপের মান কমে যায়। ফলে পা কাদা মাটিতে বেশি গভীরে দেবে যায় না এবং হাঁটা সহজ হয়।
১৫. গ্যাসের চাপ সবদিকে সমান - এটি কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: যখন আমরা কোনো বায়ুশূন্য ফুটবল বা বেলুনে পাম্প করি, তখন দেখা যায় সেটি সবদিক থেকে সমানভাবে ফুলে উঠছে। যদি গ্যাস কেবল নিচের দিকে বা একদিকে চাপ দিত, তবে ফুটবলটি কেবল সেই দিকেই প্রসারিত হতো। যেহেতু এটি একটি গোলক আকারে ফোলে, তাই প্রমাণিত হয় যে গ্যাস তার আধারের সব দেওয়ালে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করছে।
১৬. বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর গতির পরিবর্তনের তিনটি সম্ভাবনা কী কী?
উত্তর: বল প্রয়োগের ফলে গতির তিনটি প্রধান পরিবর্তন হতে পারে: ১) বস্তুর দ্রুতি বা গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমন চলন্ত সাইকেলে আরও জোরে প্যাডেল করলে)। ২) বস্তুর গতিবেগ হ্রাস পেতে পারে বা বস্তু থেমে যেতে পারে (যেমন ব্রেক কষলে)। ৩) বস্তুর গতির মান অপরিবর্তিত রেখে কেবল গতির দিক পরিবর্তন হতে পারে।
১৭. চাপের একক ক্ষেত্রফলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চাপ পরিমাপের ক্ষেত্রে 'একক ক্ষেত্রফল' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ মোট বলের পরিমাণ দিয়ে চাপের সঠিক প্রভাব বোঝা যায় না। ধরা যাক, একটি বড় হাতুড়ি দিয়ে একটি বড় কাঠের তক্তায় আঘাত করা হলো এবং একটি ছোট পেরেকে আঘাত করা হলো। পেরেকটি কাঠের ভেতরে ঢুকে যাবে কারণ পেরেকের অগ্রভাগের একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বল (চাপ) অনেক বেশি। তাই চাপের সঠিক ধারণা পেতে একক ক্ষেত্রফলের ওপর বলের হিসাব নেওয়া জরুরি।
১৮. বল ও চাপের ধারণা আমাদের প্রাকৃতিক ঘটনা বুঝতে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: বল ও চাপের ধারণা ব্যবহার করে আমরা অনেক প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারি। যেমন, কেন বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে আমরা পিষ্ট হই না, কেন গভীর সমুদ্রে মাছের গঠন ভিন্ন হয়, বা কেন পাহাড়ের ওপর রান্না করা কঠিন। এই ধারণাগুলি আমাদের চারপাশের ভৌত জগতকে গাণিতিক ও যৌক্তিকভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
১৯. বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তুর অবস্থার কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তুর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকে। একে জড়তা বলা হয়। বল হলো সেই বাহ্যিক কারণ যা এই জড়তাকে ভেঙে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।
২০. দৈনন্দিন জীবনে চাপের একটি সুবিধাজনক ও একটি অসুবিধাজনক উদাহরণ দাও।
উত্তর: সুবিধাজনক উদাহরণ: ইনজেকশনের সিরিঞ্জের সূঁচ খুব সরু করা হয় যাতে অল্প বলেই বেশি চাপ তৈরি হয় এবং সূঁচটি সহজে চামড়ায় প্রবেশ করে। অসুবিধাজনক উদাহরণ: ভারী স্কুল ব্যাগ যদি সরু ফিতে দিয়ে কাঁধে ঝোলানো হয়, তবে ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় কাঁধে প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়। এই কারণেই স্কুল ব্যাগের ফিতে চওড়া করা হয়।
অধ্যায়: বল ও চাপ
পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি অনুশীলনী ও সমাধান
বিভাগ ১: বল (Force) সংক্রান্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: বল কাকে বলে?
উত্তর: বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে। বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তু স্থির থাকতে পারে বা সমবেগে সরলরেখায় চলতে পারে।
প্রশ্ন ২: বলের চারটি প্রভাব উল্লেখ করো।
উত্তর: বলের চারটি প্রভাব হলো:
- স্থির বস্তুকে চলমান করতে পারে।
- চলমান বস্তুকে থামাতে পারে।
- বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে।
- বস্তুর আকার পরিবর্তন করতে পারে।
প্রশ্ন ৩: দৈনন্দিন জীবনে বল প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: বল প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ হলো— দরজা ঠেলা বা টানা, ফুটবল কিক করা এবং রাবার ব্যান্ড টানা।
বিভাগ ২: চাপ (Pressure) সংক্রান্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন ৪: চাপের সংজ্ঞা দাও এবং এর গাণিতিক সূত্রটি লেখো।
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণকে চাপ বলে।
চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল
প্রশ্ন ৫: ক্ষেত্রফলের পরিবর্তনের সাথে চাপের সম্পর্ক কী?
উত্তর: একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করলে:
- ক্ষেত্রফল কম হলে চাপ বেশি হয়।
- ক্ষেত্রফল বেশি হলে চাপ কম হয়।
প্রশ্ন ৬: ধারালো ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় কেন?
উত্তর: ধারালো ছুরির প্রান্তের ক্ষেত্রফল খুব কম হয়। ফলে অল্প বল প্রয়োগ করলেও অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি হয়, যা বস্তুকে সহজে কাটতে সাহায্য করে।
বিভাগ ৩: তরল ও গ্যাসের চাপ
প্রশ্ন ৭: নদী বা বাঁধের নীচের অংশ বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয় কেন?
উত্তর: তরলের মধ্যে গভীরতা বাড়লে চাপের মানও বাড়ে। নদীর গভীরে বা বাঁধের নীচের অংশে জলের চাপ অনেক বেশি থাকে, তাই সেই চাপ সহ্য করার জন্য নীচের অংশ বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন ৮: বেলুন ফোলালে তা বড় হয় কেন?
উত্তর: গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন বেলুন ফোলানো হয়, তখন ভেতরের গ্যাসের চাপের কারণে বেলুনের দেওয়াল বাইরের দিকে প্রসারিত হয় এবং বেলুনের আকার বড় হয়।
ভৌত পরিবেশ (Physical Environment)
অধ্যায় ১: বল, চাপ, মহাকর্ষ ও আর্কিমিডিসের নীতি
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ) - ২০টি
১. মহাকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে নিজের কেন্দ্রের দিকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বলে।
২. অভিকর্ষ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তখন সেই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বলে।
৩. বস্তুর ওজন মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: বস্তুর ওজন মাপার যন্ত্র হলো স্প্রিং তুলা।
৪. ঘর্ষণ বল কাকে বলে?
উত্তর: একটি তল যখন অন্য একটি তলের ওপর দিয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে, তখন দুই তলের সংযোগস্থলে গতির বিরুদ্ধে যে বল সৃষ্টি হয়, তাকে ঘর্ষণ বলে।
৫. চাপের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে চাপ বলে।
৬. SI পদ্ধতিতে চাপের একক কী?
উত্তর: SI পদ্ধতিতে চাপের একক হলো পাস্কাল (Pa) বা নিউটন/বর্গমিটার (N/m²)।
৭. প্লবতা কী?
উত্তর: কোনো বস্তুকে তরল বা গ্যাসে নিমজ্জিত করলে ওই প্রবাহী বস্তুর ওপর যে উর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে, তাকে প্লবতা বলে।
৮. ঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর: একক আয়তনের বস্তুর ভরকে ওই বস্তুর উপাদানের ঘনত্ব বলে।
৯. ঘনত্বের গাণিতিক রূপটি লেখো।
উত্তর: ঘনত্ব (D) = ভর (M) / আয়তন (V)।
১০. CGS পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক কী?
উত্তর: CGS পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো গ্রাম/ঘন সেমি (g/cm³)।
১১. তরলের গভীরতা বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: তরলের গভীরতা বাড়লে তরলের চাপ বৃদ্ধি পায়।
১২. বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হলে কী ঘটবে?
উত্তর: বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হলে বস্তুটি তরলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে।
১৩. ঘর্ষণ বল কোন দিকে কাজ করে?
উত্তর: ঘর্ষণ বল সর্বদা বস্তুর গতির বা প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে কাজ করে।
১৪. মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে কোন অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে ইংরেজি বড় হাতের 'G' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
১৫. তরলের ঘনত্ব বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: তরলের ঘনত্ব বাড়লে তরলের চাপ বৃদ্ধি পায়।
১৬. আর্কিমিডিসের নীতি কোন ধরনের পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: আর্কিমিডিসের নীতি স্থির তরল বা গ্যাসীয় (প্রবাহী) পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১৭. ঘর্ষণ বল কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: ঘর্ষণ বল সংস্পর্শে থাকা তল দুটির প্রকৃতির (মসৃণ বা অমসৃণ) ওপর নির্ভর করে।
১৮. বস্তুর ওজন > প্লবতা হলে কী হবে?
উত্তর: বস্তুটি তরলে ডুবে যাবে।
১৯. SI পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক কী?
উত্তর: SI পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো কিগ্রা/ঘনমিটার (kg/m³)।
২০. মহাকর্ষ বল বস্তুর ভরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত?
উত্তর: মহাকর্ষ বল বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ) - ২০টি
১. নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো এবং এর গাণিতিক রূপটি লেখো।
বিবৃতি: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুকণার মধ্যেকার আকর্ষণ বলের মান— (১) বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং (২) তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিক রূপ: F = G · (m₁m₂ / r²)
যেখানে F = মহাকর্ষ বল, m₁, m₂ = বস্তু দুটির ভর, r = তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।
২. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে তাকে মহাকর্ষ বলে। যেমন— সূর্য ও পৃথিবীর আকর্ষণ।
অভিকর্ষ: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তখন তাকে অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ অভিকর্ষ হলো মহাকর্ষের একটি বিশেষ রূপ যেখানে একটি বস্তু অবশ্যই পৃথিবী।
৩. ঘর্ষণ বলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
- ঘর্ষণ বল সর্বদা সংস্পর্শে থাকা তল দুটির আপেক্ষিক গতির বিরুদ্ধে কাজ করে।
- এটি স্পর্শতলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে; তল যত অমসৃণ হয়, ঘর্ষণ বল তত বেশি হয়।
- ঘর্ষণ বল গতির সৃষ্টিতে বাধা দেয় বা গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দিতে চায়।
৪. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।
সুবিধা: ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা মাটিতে পা দিয়ে হাঁটতে পারি, পেন দিয়ে কাগজে লিখতে পারি এবং যানবাহনকে ব্রেক কষে থামানো সম্ভব হয়।
অসুবিধা: ঘর্ষণের ফলে যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এছাড়া ঘর্ষণের ফলে অপ্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয় যা শক্তির অপচয় ঘটায়।
৫. চাপের গাণিতিক রূপটি ব্যাখ্যা করো এবং এর এককগুলি উল্লেখ করো।
চাপ বলতে বোঝায় একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বল।
গাণিতিক রূপ: চাপ = বল / ক্ষেত্রফল।
একক: SI পদ্ধতিতে চাপের একক নিউটন/বর্গমিটার (N/m²), যাকে পাস্কাল (Pa) বলা হয়। ক্ষেত্রফল কমলে একই বলের জন্য চাপের মান বৃদ্ধি পায়।
৬. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিতভাবে লেখো।
- তরলের গভীরতা যত বৃদ্ধি পায়, তরলের চাপের মান তত বাড়ে।
- তরলের ঘনত্ব যত বেশি হয়, নির্দিষ্ট গভীরতায় চাপের মান তত বেশি হয়।
- স্থির তরল তার অভ্যন্তরে কোনো বিন্দুতে সবদিকে সমান চাপ দেয়।
- তরলের চাপ পাত্রের আকারের ওপর নির্ভর করে না, কেবল গভীরতা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।
৭. আর্কিমিডিসের নীতিটি ব্যাখ্যা করো।
নীতি: কোনো বস্তুকে স্থির তরল বা গ্যাসীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে বস্তুটির ওজনের আপাত হ্রাস ঘটে। এই ওজনের হ্রাস বস্তুটির দ্বারা অপসারিত প্রবাহীর (তরল বা গ্যাস) ওজনের সমান।
অর্থাৎ, বস্তুর হারানো ওজন = বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন।
৮. বস্তুর ভাসন ও নিমজ্জনের তিনটি শর্ত আলোচনা করো।
- নিমজ্জন: যদি বস্তুর ওজন প্লবতার চেয়ে বেশি হয় (ওজন > প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলে ডুবে যাবে।
- সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসন: যদি বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হয় (ওজন = প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলের ভেতরে যেকোনো স্থানে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে।
- আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসন: যদি বস্তুর ওজন প্লবতার চেয়ে কম হয় (ওজন < প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলে আংশিক ভেসে থাকবে।
৯. ঘনত্ব ও আয়তনের মধ্যে সম্পর্কটি উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
ঘনত্ব হলো একক আয়তনের ভর। সূত্রানুসারে, ঘনত্ব = ভর / আয়তন।
যদি দুটি বস্তুর ভর সমান হয়, তবে যার আয়তন কম তার ঘনত্ব বেশি হবে। যেমন— ১ কেজি লোহা ও ১ কেজি তুলোর মধ্যে লোহার আয়তন অনেক কম, তাই লোহার ঘনত্ব তুলোর চেয়ে অনেক বেশি।
১০. প্লবতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
প্লবতা প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
- বস্তুর নিমজ্জিত অংশের আয়তন: বস্তুর যত বেশি আয়তন তরলে নিমজ্জিত হবে, প্লবতা তত বাড়বে।
- তরলের ঘনত্ব: যে তরলে বস্তুকে ডোবানো হচ্ছে, তার ঘনত্ব যত বেশি হবে, প্লবতা বলও তত বেশি হবে।
১১. ওজন ও ভরের মধ্যে পার্থক্য কী?
ভর হলো বস্তুর মধ্যেকার পদার্থের পরিমাণ, যা সব জায়গায় সমান থাকে। কিন্তু ওজন হলো বস্তুর ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল, যা স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ওজন স্প্রিং তুলার সাহায্যে মাপা হয়।
১২. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক (G) বলতে কী বোঝো?
নিউটনের সূত্রে G হলো একটি সর্বজনীন ধ্রুবক। একক ভরের দুটি বস্তুকণা একক দূরত্বে থাকলে তাদের মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে, তাকেই মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে।
১৩. কেন মসৃণ মেঝের চেয়ে বালুযুক্ত রাস্তায় হাঁটা সহজ?
মসৃণ মেঝেতে ঘর্ষণ বল খুব কম থাকে, ফলে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বালুযুক্ত রাস্তা অমসৃণ হওয়ায় সেখানে ঘর্ষণ বল বেশি কাজ করে, যা আমাদের হাঁটতে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া বল জোগায়।
১৪. গভীর সমুদ্রের মাছকে ডাঙায় তুললে ফেটে যায় কেন?
গভীর সমুদ্রে জলের চাপ অনেক বেশি থাকে। মাছের শরীরের ভেতরের চাপও সেই বাইরের চাপের সমান থাকে। ডাঙায় তুললে বাইরের চাপ হঠাৎ কমে যায়, কিন্তু শরীরের ভেতরের উচ্চ চাপের কারণে মাছের দেহ ফেটে যেতে পারে।
১৫. আর্কিমিডিসের নীতির সাহায্যে কীভাবে বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস নির্ণয় করা যায়?
বস্তুকে তরলে ডোবালে তা কিছু পরিমাণ তরল সরিয়ে দেয়। আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী, ওই অপসারিত তরলের ওজনই হলো বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস। বায়ুতে ওজন থেকে তরলে নিমজ্জিত অবস্থায় ওজন বিয়োগ করলে এই হ্রাস পাওয়া যায়।
১৬. একটি লোহার পেরেক জলে ডুবে যায় কিন্তু লোহার তৈরি জাহাজ ভাসে কেন?
লোহার পেরেকের ওজন তার দ্বারা অপসারিত জলের ওজনের চেয়ে বেশি। কিন্তু জাহাজের গঠন এমন ফাঁপা হয় যে এটি বিশাল আয়তনের জল সরিয়ে দেয়। জাহাজের ওজন অপসারিত জলের ওজনের (প্লবতা) চেয়ে কম বা সমান হওয়ায় জাহাজ ভাসে।
১৭. তরলের চাপের রাশিমালাটি ব্যাখ্যা করো।
তরলের কোনো বিন্দুতে চাপ = গভীরতা (h) × তরলের ঘনত্ব (d) × অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)। অর্থাৎ চাপ সরাসরি গভীরতা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।
১৮. ঘর্ষণ কমানোর উপায়গুলি কী কী?
স্পর্শতলকে মসৃণ করে, পিচ্ছিলকারক পদার্থ (যেমন তেল বা গ্রিজ) ব্যবহার করে এবং বল-বেয়ারিং ব্যবহারের মাধ্যমে ঘর্ষণ বল কমানো যায়।
১৯. মহাকর্ষ বল দূরত্বের ওপর কীভাবে নির্ভর করে?
মহাকর্ষ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব দ্বিগুণ করলে আকর্ষণ বল চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) হয়ে যাবে।
২০. পাস্কালের সূত্রের সাথে চাপের সংজ্ঞার সম্পর্ক কী?
চাপের সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি চাপ সবদিকে সমানভাবে প্রযুক্ত হয় (প্রবাহীর ক্ষেত্রে)। পাস্কালের নীতি অনুযায়ী, আবদ্ধ তরলে চাপ দিলে তা সবদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়, যা চাপের মৌলিক ধর্মেরই বহিঃপ্রকাশ।
এই অধ্যায়ের অনলাইন মক টেস্ট
WBBSE AI Engine
অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান | বল ও চাপ
লোড হচ্ছে...
অভিনন্দন!
আপনি মক টেস্টটি সম্পন্ন করেছেন।
🎉 পরীক্ষার ফলাফল 🎉
পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ (অ্যাডভান্সড লেভেল)
ONLINE EXAM
পরিবেশ ও বিজ্ঞান অনলাইন পরীক্ষা
অধ্যায়: বল ও চাপ (অষ্টম শ্রেণি)
আপনার ফলাফল
MCQ স্কোর: 0 / ১০
বিঃদ্রঃ বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলি (১১-২০) আপনার শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
সঠিক উত্তরমালা (MCQ):
তাপ
এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
১.৩ তাপ (Heat)
তাপের পরিমাপ ও একক সম্পর্কে বিশদ ধারণা
বস্তুর উষ্ণতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ কীসের ওপর নির্ভর করে?
উষ্ণতা বৃদ্ধি
বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণের ওপর তাপ নির্ভর করে।
বস্তুর ভর
বস্তুর ভরের ওপর প্রয়োজনীয় তাপের পরিমাণ নির্ভর করে।
উপাদান
বস্তু কোন উপাদান দিয়ে তৈরি তার ওপর তাপ নির্ভর করে।
ভেবে দেখো তো? (Think & Solve)
১ কাপ জলের $1^\circ C$ উষ্ণতা বাড়াতে যতটা তাপ লাগে, $2^\circ C$ বাড়াতে তার ২ গুণ লাগে। তাহলে $3^\circ C$ বাড়াতে কত গুণ তাপ লাগবে?
৩ গুণ তাপ লাগবে।
১ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যতটা তাপ লাগে, ২ কাপ জলের জন্য তার ২ গুণ লাগে। তাহলে ৩ কাপ জলের জন্য কত গুণ লাগবে?
৩ গুণ তাপ লাগবে।
গাণিতিক সম্পর্ক
যেকোনো পদার্থের ক্ষেত্রে তাপ গ্রহণ বা বর্জনের হার স্থির থাকে:
$\frac{\text{তাপ গ্রহণ বা বর্জনের পরিমাণ (Q)}}{\text{ভর (m)} \times \text{উষ্ণতা পরিবর্তন (t)}} = \text{ধ্রুবক (k)}$
Q = m × k × t
ক্যালোরি (Calorie) কী?
১ গ্রাম বিশুদ্ধ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ লাগে তাকেই আমরা একক পরিমাণ তাপ বা ১ ক্যালোরি বলি।
জলের ক্ষেত্রে k = 1 ক্যালোরি / (গ্রাম $^\circ C$)
পরীক্ষা করে দেখি
১.৩ তাপ (Heat)
পরিবেশ ও বিজ্ঞান | অষ্টম শ্রেণি | WBBSE
20 সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)
১. কোনো বস্তুর উষ্ণতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ কোন তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ, বস্তুর ভর এবং বস্তুর উপাদানের ওপর।
২. নির্দিষ্ট ভরের জলের উষ্ণতা $25^\circ C$ বাড়াতে যে তাপ লাগে, $50^\circ C$ বাড়াতে কত গুণ তাপ লাগবে?
উত্তর: দ্বিগুণ (২ গুণ) তাপ লাগবে।
৩. ১ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপের তুলনায় ৩ কাপ জলের জন্য কত তাপ লাগবে?
উত্তর: ৩ গুণ তাপ লাগবে।
৪. তাপ পরিমাপের গাণিতিক সম্পর্কটি কী?
উত্তর: $Q = m \times k \times t$ (যেখানে $Q$=তাপ, $m$=ভর, $k$=উপাদানের ধ্রুবক, $t$=উষ্ণতা পরিবর্তন)।
৫. ক্যালোরি (Calorie) কাকে বলে?
উত্তর: ১ গ্রাম বিশুদ্ধ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ লাগে তাকে ১ ক্যালোরি বলে।
৬. জলের ক্ষেত্রে $k$-এর মান কত?
উত্তর: $1 \text{ ক্যালোরি} / (\text{গ্রাম } ^\circ C)$।
৭. $k$ ধ্রুবকটি কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: বস্তুর উপাদানের ওপর।
৮. $2m$ গ্রাম ভরের জলের উষ্ণতা $t^\circ C$ বাড়াতে কত তাপ লাগবে?
উত্তর: $2Q$ পরিমাণ তাপ লাগবে (যদি $m$ ভরের জন্য $Q$ লাগে)।
৯. $2m$ গ্রাম ভরের জলের উষ্ণতা $2t^\circ C$ বাড়াতে কত তাপ লাগবে?
উত্তর: $2 \times 2Q = 4Q$ পরিমাণ তাপ লাগবে।
১০. $5m$ গ্রাম ভরের জলের উষ্ণতা $6t^\circ C$ বাড়াতে কত তাপ লাগবে?
উত্তর: $30Q$ পরিমাণ তাপ লাগবে।
১১. তাপ গ্রহণ বা বর্জনের পরিমাণ এবং (ভর $\times$ উষ্ণতা পরিবর্তন)-এর অনুপাতকে কী বলা হয়?
উত্তর: এটিকে উপাদানের একটি ধ্রুবক মান ($k$) বলা হয়।
১২. গরম বস্তুকে ঠান্ডা জলে ফেললে কী ঘটে?
উত্তর: বস্তু তাপ বর্জন করে এবং জল তাপ গ্রহণ করে, যতক্ষণ না উভয়ের উষ্ণতা সমান হয়।
১৩. ৬০ গ্রাম জলের উষ্ণতা $25^\circ C$ থেকে $50^\circ C$ হলে গৃহীত তাপ কত?
উত্তর: $Q = 60 \times 1 \times (50-25) = 1500$ ক্যালোরি।
১৪. ১২০ গ্রাম ভরের বস্তুর উষ্ণতা $100^\circ C$ থেকে $50^\circ C$ হলে উষ্ণতা হ্রাসের পরিমাণ কত?
উত্তর: $100 - 50 = 50^\circ C$।
১৫. ১ কাপ জলের উষ্ণতা $3^\circ C$ বাড়াতে কত গুণ তাপ লাগবে?
উত্তর: ৩ গুণ তাপ লাগবে।
১৬. তাপের একক নির্ধারণের জন্য কোন পদার্থকে আদর্শ ধরা হয়?
উত্তর: বিশুদ্ধ জল।
১৭. $Q = kmt$ সমীকরণে $m$ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: বস্তুর ভর।
১৮. $Q = kmt$ সমীকরণে $t$ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: উষ্ণতা বৃদ্ধি বা হ্রাসের পরিমাণ।
১৯. যদি কোনো বস্তু তাপ বর্জন করে, তবে তার উষ্ণতার কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: উষ্ণতা হ্রাস পায়।
২০. পদার্থের প্রকৃতি আলাদা হলে $k$-এর মানের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: পদার্থ আলাদা হলে $k$-এর মানও আলাদা হয়।
20 দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় তাপ কোন কোন বিষয়ের ওপর কীভাবে নির্ভর করে তা ব্যাখ্যা করো।
বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় তাপ তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
- ভরের ওপর: উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ স্থির থাকলে, ভর বাড়লে প্রয়োজনীয় তাপও বাড়ে। যেমন: ১ কাপ জলের চেয়ে ২ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে দ্বিগুণ তাপ লাগে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণের ওপর: ভর স্থির থাকলে, উষ্ণতা যত বেশি বাড়াতে হবে, তাপও তত বেশি লাগবে। যেমন: $25^\circ C$ বৃদ্ধির চেয়ে $50^\circ C$ বৃদ্ধিতে দ্বিগুণ তাপ লাগে।
- উপাদানের ওপর: একই ভর ও একই উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তাপ ভিন্ন হয়।
২. গাণিতিকভাবে দেখাও যে একই পদার্থের ক্ষেত্রে গৃহীত বা বর্জিত তাপের সাথে ভর ও উষ্ণতা পরিবর্তনের অনুপাত ধ্রুবক থাকে।
ধরা যাক, $m$ গ্রাম জলের উষ্ণতা $t^\circ C$ বাড়াতে $Q$ তাপ লাগে।
তাহলে $2m$ গ্রাম জলের $2t^\circ C$ উষ্ণতা বাড়াতে তাপ লাগবে $4Q$।
অনুপাতটি হলো: $\frac{\text{তাপ}}{\text{ভর} \times \text{উষ্ণতা বৃদ্ধি}} = \frac{4Q}{2m \times 2t} = \frac{Q}{m \times t}$।
আবার $5m$ গ্রাম জলের $6t^\circ C$ উষ্ণতা বাড়াতে তাপ লাগে $30Q$।
অনুপাত: $\frac{30Q}{5m \times 6t} = \frac{Q}{m \times t}$।
অর্থাৎ, ভর ও উষ্ণতা বদলালেও অনুপাতটি একই থাকে।
৩. ক্যালোরির সংজ্ঞা দাও এবং এর সাহায্যে জলের ক্ষেত্রে $k$-এর মান নির্ণয় করো।
সংজ্ঞা: ১ গ্রাম বিশুদ্ধ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ লাগে তাকে ১ ক্যালোরি বলে।
মান নির্ণয়: আমরা জানি, $Q = kmt$।
সংজ্ঞা অনুযায়ী, $m = 1$ গ্রাম, $t = 1^\circ C$ এবং $Q = 1$ ক্যালোরি।
সূত্রে মান বসিয়ে পাই: $1 = k \times 1 \times 1$ বা, $k = 1$।
অতএব, জলের ক্ষেত্রে $k = 1 \text{ ক্যালোরি} / (\text{গ্রাম } ^\circ C)$।
৪. পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ৬০ গ্রাম জল ও ১২০ গ্রাম ভরের বস্তুর পরীক্ষাটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
পরীক্ষায় ২৫°C উষ্ণতার ৬০ গ্রাম জল নেওয়া হলো। এতে ১০০°C উষ্ণতার ১২০ গ্রাম ভরের একটি বস্তুকে ফেলা হলো। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল জল ও বস্তুর উষ্ণতা সমান হয়ে ৫০°C হয়েছে। এখানে জল তাপ গ্রহণ করেছে এবং বস্তু তাপ বর্জন করেছে। জলের উষ্ণতা বেড়েছে (৫০-২৫) = ২৫°C এবং বস্তুর উষ্ণতা কমেছে (১০০-৫০) = ৫০°C। এই পরীক্ষায় বস্তু দ্বারা বর্জিত তাপ এবং জল দ্বারা গৃহীত তাপ সমান হয়।
৫. $Q = kmt$ সমীকরণটি ব্যাখ্যা করো এবং প্রতিটি পদের তাৎপর্য লেখো।
এই সমীকরণটি কোনো বস্তু দ্বারা গৃহীত বা বর্জিত তাপের পরিমাণ নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
- Q: বস্তু দ্বারা গৃহীত বা বর্জিত তাপের পরিমাণ।
- m: বস্তুর ভর।
- k: বস্তুর উপাদানের একটি ধ্রুবক (যাকে আপেক্ষিক তাপ বলা হয়)।
- t: বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধি বা হ্রাসের পরিমাণ।
৬. "পদার্থ আলাদা হলে $k$-এর মানও আলাদা হয়" — উক্তিটি বুঝিয়ে বলো।
তাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা বিভিন্ন পদার্থের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়। একই ভরের জল এবং অন্য কোনো ধাতু (যেমন লোহা)-কে একই পরিমাণ উষ্ণতা বৃদ্ধি করতে চাইলে দেখা যাবে জলে অনেক বেশি তাপ লাগছে। এই পার্থক্যের কারণ হলো পদার্থের উপাদানের ভিন্নতা। গাণিতিক ধ্রুবক $k$ এই উপাদানের ধর্মকে প্রকাশ করে, তাই পদার্থভেদে $k$-এর মান পরিবর্তিত হয়।
৭. যদি $m$ গ্রাম জলের উষ্ণতা $t^\circ C$ বাড়াতে $Q$ তাপ লাগে, তবে $5m$ গ্রাম জলের উষ্ণতা $6t^\circ C$ বাড়াতে কত তাপ লাগবে? হিসাবটি দেখাও।
প্রাথমিক ক্ষেত্রে, তাপ $Q = m \times k \times t$।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, ভর $= 5m$ এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি $= 6t$।
নতুন তাপ $Q' = (5m) \times k \times (6t)$
$Q' = 30 \times (mkt)$
$Q' = 30Q$।
অর্থাৎ, ৩০ গুণ তাপ লাগবে।
৮. তাপ গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে সাম্যাবস্থা কীভাবে অর্জিত হয়?
যখন ভিন্ন উষ্ণতার দুটি বস্তুকে একে অপরের সংস্পর্শে আনা হয়, তখন উচ্চ উষ্ণতার বস্তু তাপ বর্জন করতে থাকে এবং নিম্ন উষ্ণতার বস্তু সেই তাপ গ্রহণ করতে থাকে। এই প্রক্রিয়া ততক্ষণ চলে যতক্ষণ না উভয় বস্তুর উষ্ণতা সমান হয়। এই অবস্থাকেই তাপীয় সাম্যাবস্থা বলা হয়। এই অবস্থায় বস্তু দ্বারা বর্জিত তাপ = অন্য বস্তু দ্বারা গৃহীত তাপ।
৯. ১ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপকে $Q$ ধরলে, ২ কাপ জলের উষ্ণতা $2^\circ C$ বাড়াতে কত তাপ লাগবে এবং কেন?
২ কাপ জলের ভর ১ কাপের দ্বিগুণ ($2m$)। আবার উষ্ণতা বৃদ্ধিও দ্বিগুণ ($2t$)।
আমরা জানি, তাপ ভরের সমানুপাতিক এবং উষ্ণতা বৃদ্ধিরও সমানুপাতিক।
সুতরাং, প্রয়োজনীয় তাপ হবে $2 \times 2 \times Q = 4Q$।
অর্থাৎ, ৪ গুণ তাপ লাগবে।
১০. জলের আপেক্ষিক তাপ (k) বেশি হওয়ার সুবিধা কী হতে পারে বলে তুমি মনে করো?
জলের $k$-এর মান ১, যা অন্যান্য অনেক পদার্থের তুলনায় বেশি। এর অর্থ হলো জল অনেক বেশি তাপ গ্রহণ করেও উষ্ণতা খুব ধীরে বাড়ায় এবং একইভাবে ধীরে ধীরে তাপ বর্জন করে ঠান্ডা হয়। এই ধর্মের কারণে জলকে তাপ ধরে রাখার আধার হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং এটি পরিবেশের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
১১. তাপের একক হিসেবে ক্যালোরি ব্যবহারের যৌক্তিকতা আলোচনা করো।
তাপ সরাসরি দেখা যায় না, এর প্রভাব (উষ্ণতা পরিবর্তন) পরিমাপ করা যায়। জলের উষ্ণতা পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপের একক নির্ধারণ করা সুবিধাজনক কারণ জল সহজেই পাওয়া যায় এবং এর বিশুদ্ধতা বজায় রাখা সহজ। ১ গ্রাম জলের উষ্ণতা ১ ডিগ্রি বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপকে একক ধরায় গণনা সহজ হয়।
১২. একটি বস্তুর ভর ১০০ গ্রাম এবং তার উষ্ণতা ২০°C বাড়াতে ২০০ ক্যালোরি তাপ লাগে। বস্তুটির $k$-এর মান কত?
দেওয়া আছে: $m = 100$ গ্রাম, $t = 20^\circ C$, $Q = 200$ ক্যালোরি।
আমরা জানি, $Q = kmt$
বা, $200 = k \times 100 \times 20$
বা, $200 = k \times 2000$
বা, $k = 200 / 2000 = 0.1$ ক্যালোরি/(গ্রাম °C)।
১৩. উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং উষ্ণতা হ্রাসের ক্ষেত্রে তাপের সমীকরণটি কীভাবে কাজ করে?
উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বস্তু তাপ গ্রহণ করে, তখন $t = (\text{অন্তিম উষ্ণতা} - \text{প্রাথমিক উষ্ণতা})$।
উষ্ণতা হ্রাসের ক্ষেত্রে বস্তু তাপ বর্জন করে, তখন $t = (\text{প্রাথমিক উষ্ণতা} - \text{অন্তিম উষ্ণতা})$।
উভয় ক্ষেত্রেই $Q = kmt$ সূত্রটি কার্যকর থাকে, শুধু তাপের প্রবাহের দিক আলাদা হয়।
১৪. "একই পদার্থের জন্য $\frac{Q}{m \times t}$ এর মান সবসময়ে একই থাকে" — এটি একটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
ধরা যাক, ১০০ গ্রাম জলের উষ্ণতা ১০°C বাড়াতে ১০০০ ক্যালোরি তাপ লাগে। এখানে অনুপাত $= 1000 / (100 \times 10) = 1$।
আবার যদি ২০০ গ্রাম জলের উষ্ণতা ৫°C বাড়ানো হয়, তবে তাপ লাগবে ১০০০ ক্যালোরি। এখানে অনুপাত $= 1000 / (200 \times 5) = 1$।
দেখা যাচ্ছে ভর ও উষ্ণতা পরিবর্তন আলাদা হলেও অনুপাতটি (অর্থাৎ $k$) একই থাকছে।
১৫. তাপ ও উষ্ণতার মধ্যে সম্পর্ক পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করো।
তাপ হলো এক প্রকার শক্তি যা গ্রহণ করলে বস্তুর উষ্ণতা বাড়ে এবং বর্জন করলে উষ্ণতা কমে। পাঠ্যবই অনুযায়ী, উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ সরাসরি বস্তুর গ্রহণ করা তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তবে এই বৃদ্ধি বস্তুর ভর এবং উপাদানের ওপরও নির্ভরশীল। অর্থাৎ, তাপ হলো কারণ এবং উষ্ণতা পরিবর্তন হলো তার ফল।
১৬. ১ কাপ জল এবং ১ বালতি জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে কি একই পরিমাণ তাপ লাগবে? যুক্তি দাও।
না, একই পরিমাণ তাপ লাগবে না। ১ বালতি জলের ভর ১ কাপ জলের ভরের তুলনায় অনেক বেশি। যেহেতু প্রয়োজনীয় তাপ ($Q$) বস্তুর ভরের ($m$) সমানুপাতিক, তাই ১ বালতি জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে অনেক বেশি তাপের প্রয়োজন হবে।
১৭. তাপের পরিমাপের ক্ষেত্রে 'বিশুদ্ধ জল' কথাটি কেন ব্যবহার করা হয়?
জলে যদি কোনো অপদ্রব্য বা লবণ মেশানো থাকে, তবে তার তাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা (অর্থাৎ $k$-এর মান) পরিবর্তিত হয়ে যায়। সঠিক এবং ধ্রুবক মান পাওয়ার জন্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে একক নির্ধারণের সুবিধার্থে 'বিশুদ্ধ জল' কথাটি ব্যবহার করা হয়।
১৮. বস্তুর ভর স্থির রেখে উষ্ণতা বৃদ্ধি ৩ গুণ করলে প্রয়োজনীয় তাপের কী পরিবর্তন হবে?
আমরা জানি $Q \propto t$ যখন ভর ($m$) ও উপাদান ($k$) স্থির থাকে। সুতরাং উষ্ণতা বৃদ্ধি ৩ গুণ করলে প্রয়োজনীয় তাপের পরিমাণও ৩ গুণ বৃদ্ধি পাবে। যেমন ১ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যে তাপ লাগে, $3^\circ C$ বাড়াতে তার ৩ গুণ তাপ লাগবে।
১৯. কোনো বস্তুর ভর $m$, আপেক্ষিক তাপ $k$ এবং প্রাথমিক ও অন্তিম উষ্ণতা যথাক্রমে $T_1$ ও $T_2$ হলে গৃহীত তাপের রাশিমালাটি লেখো।
এখানে উষ্ণতা বৃদ্ধি $t = (T_2 - T_1)$।
গৃহীত তাপের রাশিমালাটি হবে: $Q = m \times k \times (T_2 - T_1)$।
২০. তাপের অধ্যায়ে আমরা যে ধ্রুবক $k$ সম্পর্কে জানলাম, তার গুরুত্ব কী?
ধ্রুবক $k$ পদার্থের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এটি আমাদের জানায় যে নির্দিষ্ট ভরের কোনো পদার্থের উষ্ণতা ১ ডিগ্রি বাড়াতে কতটুকু তাপ লাগবে। এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন পদার্থের তাপীয় আচরণের তুলনা করতে পারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বা দৈনন্দিন জীবনে কোন কাজে কোন পদার্থ ব্যবহার করা সুবিধাজনক তা স্থির করতে পারি।
অধ্যায় ১.৩: তাপ (Heat)
পাঠ্যবইয়ের অন্তর্গত সকল প্রশ্ন ও সমাধান
01 ধারণামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: কোনো বস্তুর উষ্ণতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: বস্তুর উষ্ণতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—
i) বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণের ওপর।
ii) বস্তুর ভরের ওপর।
iii) বস্তুর উপাদানের ওপর।
প্রশ্ন ২: ১ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যতটা তাপ লাগবে, $3^\circ C$ উষ্ণতা বাড়াতে তার কত গুণ তাপ লাগবে?
উত্তর: ৩ গুণ তাপ লাগবে। (যেহেতু তাপের পরিমাণ উষ্ণতা বৃদ্ধির সমানুপাতিক)।
প্রশ্ন ৩: ১ কাপ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যতটা তাপ লাগে, ৩ কাপ জলের উষ্ণতা সমপরিমাণ বাড়াতে তার কত গুণ তাপ লাগবে?
উত্তর: ৩ গুণ তাপ লাগবে। (যেহেতু তাপের পরিমাণ বস্তুর ভরের সমানুপাতিক)।
02 সংজ্ঞা ও একক
ক্যালোরি (Calorie) কাকে বলে?
১ গ্রাম বিশুদ্ধ জলের উষ্ণতা $1^\circ C$ বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ লাগে, তাকে ১ ক্যালোরি বলা হয়। এটি তাপ পরিমাপের একটি একক।
জলের ক্ষেত্রে আপেক্ষিক তাপ ($k$) এর মান কত?
জলের ক্ষেত্রে $k$-এর মান হলো $1 \text{ ক্যালোরি} / (\text{গ্রাম } ^\circ C)$।
03 গাণিতিক হিসাব ও সমীকরণ
পাঠ্যবইয়ের হিসাব অনুযায়ী তাপের সমীকরণটি হলো:
- • $Q$: গৃহীত বা বর্জিত তাপের পরিমাণ
- • $m$: বস্তুর ভর
- • $t$: উষ্ণতা বৃদ্ধি বা হ্রাস
- • $k$: বস্তুর উপাদানের একটি ধ্রুবক (আপেক্ষিক তাপ)
04 পরীক্ষামূলক কাজ ও সমাধান
সমস্যা: ৬০ গ্রাম জলের উষ্ণতা ২৫°C। ১০০°C উষ্ণতার ১২০ গ্রাম ভরের একটি বস্তুকে ওই জলে ফেলা হলো। মিশ্রণের চূড়ান্ত উষ্ণতা ৫০°C হলে, জল কতটা তাপ গ্রহণ করল?
দেওয়া আছে:
- জলের ভর ($m$) = ৬০ গ্রাম
- প্রাথমিক উষ্ণতা = ২৫°C
- চূড়ান্ত উষ্ণতা = ৫০°C
- উষ্ণতা বৃদ্ধি ($t$) = $(50 - 25) = 25^\circ C$
- জলের ক্ষেত্রে $k$ = ১
সমাধান:
$Q = m \times k \times t$
$Q = 60 \times 1 \times 25$
$Q = 1500$ ক্যালোরি
উত্তর: জল মোট ১৫০০ ক্যালোরি তাপ গ্রহণ করল।
এই অধ্যায়ের অনলাইন মক টেস্ট
WBBSE AI Engine: Mock Test
শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান | অধ্যায়: ১.৩ তাপ
Loading question...
পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে!
আপনার স্কোর: 0 / 60
ONLINE EXAM
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
অনলাইন মূল্যায়ন: পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অষ্টম শ্রেণি | অধ্যায় ১.৩: তাপ (Heat)
আলো
এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
আলো (Light)
আলোর প্রতিসরণ, অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন এবং লেন্সের বিস্ময়কর জগৎ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।
আলোর প্রতিসরণ
এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সময় আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তনই হলো প্রতিসরণ।
- ● লঘু → ঘন: অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
- ● ঘন → লঘু: অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়।
সংকট কোণ ও প্রতিফলন
সংকট কোণ: যে আপতন কোণে প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয়।
অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন: যখন আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হয়। এর ফলেই মরুভূমিতে মরীচিকা দেখা যায়।
লেন্স (Lens)
উত্তল লেন্স
মাঝখান মোটা, প্রান্ত সরু। একে অভিসারী লেন্স বলে।
অবতল লেন্স
মাঝখান সরু, প্রান্ত মোটা। একে অপসারী লেন্স বলে।
আলোর বিচ্ছুরণ
সাদা আলো প্রিজমের মাধ্যমে সাতটি রঙে (বেনীআসহকলা) বিভক্ত হওয়া।
প্রাকৃতিক উদাহরণ: রংধনু
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিসরণ | আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন (এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে)। |
| মরীচিকা | অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের প্রাকৃতিক ফল। |
| উত্তল লেন্স | মাঝখান মোটা, আলোকরশ্মিকে একবিন্দুতে মেলায় (অভিসারী)। |
| অবতল লেন্স | মাঝখান সরু, আলোকরশ্মিকে ছড়িয়ে দেয় (অপসারী)। |
পরিবেশ ও বিজ্ঞান: অষ্টম শ্রেণি
অধ্যায়: আলো (Light) — পৃষ্ঠা ৪৬-৫৩
WBBSE AI Engine - Study Notes & Question Bank
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ) - ২০টি
১. আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে?
উত্তর: আলোকরশ্মি যখন একটি স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য একটি ভিন্ন ঘনত্বের স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে রশ্মির গতিপথের দিক পরিবর্তন ঘটে। একে প্রতিসরণ বলে।
২. লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রতিসরণের ক্ষেত্রে রশ্মি কোন দিকে সরে আসে?
উত্তর: লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশের সময় প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
৩. ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণের ক্ষেত্রে রশ্মি কোন দিকে যায়?
উত্তর: ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশের সময় প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়।
৪. আলোকরশ্মি বিভেদতলে লম্বভাবে আপতিত হলে প্রতিসরণ কোণ কত হবে?
উত্তর: লম্বভাবে আপতিত হলে রশ্মির কোনো দিক পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ প্রতিসরণ কোণ ০° হয় (অভিলম্বের সাথে)।
৫. সংকট কোণ কাকে বলে?
উত্তর: ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণের সময় যে নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান ৯০° হয়, তাকে ওই মাধ্যমদ্বয়ের সংকট কোণ বলে।
৬. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ দাও।
উত্তর: মরুভূমি বা পিচের রাস্তায় সৃষ্ট মরীচিকা।
৭. লেন্স কাকে বলে?
উত্তর: দুটি গোলীয় তল বা একটি গোলীয় ও একটি সমতল দ্বারা সীমাবদ্ধ স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
৮. উত্তল লেন্সের আকৃতি কেমন হয়?
উত্তর: উত্তল লেন্সের মাঝখানটা মোটা এবং প্রান্তভাগ বা কিনারা সরু হয়।
৯. অবতল লেন্সের আকৃতি কেমন হয়?
উত্তর: অবতল লেন্সের মাঝখানটা সরু এবং প্রান্তভাগ মোটা হয়।
১০. অভিসারী লেন্স কাকে বলা হয়?
উত্তর: উত্তল লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলা হয়।
১১. অপসারী লেন্স কাকে বলা হয়?
উত্তর: অবতল লেন্সকে অপসারী লেন্স বলা হয়।
১২. হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টির ত্রুটি দূর করতে কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: উত্তল লেন্স।
১৩. মায়োপিয়া বা হ্রস্বদৃষ্টির ত্রুটি দূর করতে কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: অবতল লেন্স।
১৪. আতশ কাচ হিসেবে কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: উত্তল লেন্স।
১৫. আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে?
উত্তর: সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সাতটি ভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
১৬. বর্ণালী কী?
উত্তর: বিচ্ছুরণের ফলে যে সাতটি রঙের পটি সৃষ্টি হয়, তাকে বর্ণালী বলে।
১৭. 'বেনীআসহকলা' শব্দটির পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: বেগুনি, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
১৮. রংধনু সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর: বৃষ্টির ফোঁটার মাধ্যমে সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ।
১৯. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের একটি শর্ত লেখো।
উত্তর: আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে।
২০. সংকট কোণে প্রতিসৃত রশ্মিটি কীভাবে যায়?
উত্তর: প্রতিসৃত রশ্মিটি দুই মাধ্যমের বিভেদতল ঘেঁষে যায়।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ) - ২০টি
১. আলোর প্রতিসরণের নিয়মগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: আলোর প্রতিসরণের প্রধান নিয়মগুলি হলো:
১. লঘু থেকে ঘন মাধ্যম: আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম (যেমন বাতাস) থেকে ঘন মাধ্যমে (যেমন কাচ) প্রবেশ করলে প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
২. ঘন থেকে লঘু মাধ্যম: আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশ করলে প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়।
৩. লম্বভাবে আপতন: আলোকরশ্মি যদি বিভেদতলে লম্বভাবে (৯০° কোণে) পড়ে, তবে তার কোনো দিক পরিবর্তন হয় না; রশ্মিটি সোজা পথে চলে যায়।
২. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন কাকে বলে? এর শর্তগুলি লেখো।
উত্তর: আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয়, তখন রশ্মিটি দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রতিসৃত না হয়ে আবার প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে। এই ঘটনাকে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন বলে।
শর্তসমূহ:
১. আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমের অভিমুখে যেতে হবে।
২. ঘন মাধ্যমে আপতন কোণের মান ওই দুই মাধ্যমের সংকট কোণের চেয়ে বেশি হতে হবে।
৩. মরুভূমিতে মরীচিকা সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মরুভূমিতে দিনের বেলা বালি প্রচণ্ড গরম হলে তার সংলগ্ন বাতাস হালকা (লঘু) হয়ে যায় এবং উপরের বাতাস তুলনামূলক ঘন থাকে। দূরের কোনো উঁচু বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মি ঘন স্তর থেকে লঘু স্তরে নামার সময় ক্রমাগত অভিলম্ব থেকে দূরে সরতে থাকে। একসময় আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হয়ে যায় এবং বায়ুর স্তরে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। এই প্রতিফলিত রশ্মি যখন দর্শকের চোখে পৌঁছায়, তখন তার মনে হয় নিচে জল আছে বা বস্তুর উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি হয়েছে। একেই মরীচিকা বলে।
৪. উত্তল ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: উত্তল ও অবতল লেন্সের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. আকৃতি: উত্তল লেন্সের মাঝখান মোটা ও প্রান্ত সরু; অবতল লেন্সের মাঝখান সরু ও প্রান্ত মোটা।
২. ক্রিয়া: উত্তল লেন্স সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছকে এক বিন্দুতে মেলায় (অভিসারী); অবতল লেন্স রশ্মিগুচ্ছকে দূরে সরিয়ে দেয় (অপসারী)।
৩. ব্যবহার: উত্তল লেন্স দূরদৃষ্টির ত্রুটি দূর করতে ব্যবহৃত হয়; অবতল লেন্স হ্রস্বদৃষ্টির ত্রুটি দূর করতে ব্যবহৃত হয়।
৫. আলোর বিচ্ছুরণ বলতে কী বোঝো? একটি প্রাকৃতিক উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: সাদা আলো যখন প্রিজমের মতো কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তা সাতটি ভিন্ন রঙে (বেনীআসহকলা) বিভক্ত হয়ে যায়। এই ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
প্রাকৃতিক উদাহরণ: রংধনু হলো আলোর বিচ্ছুরণের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। বৃষ্টির পর আকাশে ভাসমান জলকণাগুলি ক্ষুদ্র প্রিজমের মতো কাজ করে এবং সূর্যের সাদা আলোকে বিচ্ছুরিত করে সাতটি রঙের বর্ণালী বা রংধনু তৈরি করে।
৬. সংকট কোণ ও অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: সংকট কোণ হলো সেই বিশেষ আপতন কোণ যার জন্য প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয়। যখন আপতন কোণ এই সংকট কোণের সমান হয়, তখন রশ্মিটি বিভেদতল ঘেঁষে যায়। কিন্তু আপতন কোণ যদি সংকট কোণের চেয়ে সামান্যতমও বৃদ্ধি পায়, তবে প্রতিসরণ আর ঘটে না; তার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। অর্থাৎ, সংকট কোণের সীমা অতিক্রম করলেই অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন শুরু হয়।
৭. উত্তল লেন্সকে কেন অভিসারী লেন্স বলা হয়?
উত্তর: যখন একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোকরশ্মি একটি উত্তল লেন্সের ওপর আপতিত হয়, তখন লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের পর রশ্মিগুলি প্রধান অক্ষের ওপর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাস) মিলিত হয়। যেহেতু উত্তল লেন্স আলোক রশ্মিগুচ্ছকে একটি বিন্দুতে মিলিত বা অভিসৃত করে, তাই একে অভিসারী লেন্স বলা হয়।
৮. অবতল লেন্সকে কেন অপসারী লেন্স বলা হয়?
উত্তর: সমান্তরাল আলোকরশ্মি গুচ্ছ যখন অবতল লেন্সে আপতিত হয়, তখন প্রতিসরণের পর তারা একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। এই অপসারিত রশ্মিগুলিকে পিছন দিকে বাড়ালে মনে হয় যেন তারা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে। রশ্মিগুলিকে ছড়িয়ে দেওয়ার এই ধর্মের জন্য অবতল লেন্সকে অপসারী লেন্স বলে।
৯. লেন্সের ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: লেন্সের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে:
১. চশমায়: চোখের দৃষ্টির ত্রুটি (মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া) দূর করতে লেন্স ব্যবহার করা হয়।
২. আতশ কাচ: ছোট লেখাকে বড় করে দেখার জন্য উত্তল লেন্স আতশ কাচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩. বৈজ্ঞানিক যন্ত্র: অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং ক্যামেরায় লেন্সের ব্যবহার অপরিহার্য।
১০. বর্ণালী কাকে বলে? এর উপাদান রঙগুলি কী কী?
উত্তর: সাদা আলোর বিচ্ছুরণের ফলে যে সাতটি রঙের পটি বা সমাহার পাওয়া যায়, তাকে বর্ণালী বলে। প্রিজমের সাহায্যে সৃষ্ট বর্ণালীর রঙগুলি হলো (নীচ থেকে উপরে): বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আকাশী (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) এবং লাল (Red)। সংক্ষেপে একে 'বেনীআসহকলা' বলা হয়।
১১. আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশ করলে কী ঘটে? চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো (বর্ণনামূলক)।
উত্তর: আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম (যেমন জল) থেকে লঘু মাধ্যমে (যেমন বাতাস) প্রবেশ করে, তখন প্রতিসৃত রশ্মিটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এর ফলে আপতন কোণের চেয়ে প্রতিসরণ কোণের মান বড় হয়। আপতন কোণ যত বাড়ানো হয়, প্রতিসরণ কোণও তত বাড়তে থাকে এবং একসময় রশ্মিটি বিভেদতল ঘেঁষে চলে যায় (সংকট কোণ)।
১২. মরীচিকা কেন একটি ভ্রম? এটি কীভাবে আমাদের চোখে ধরা পড়ে?
উত্তর: মরীচিকা হলো আলোর অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের ফলে সৃষ্ট একটি দৃষ্টিবিভ্রম। মরুভূমিতে বাতাসের বিভিন্ন স্তরের ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে আকাশ বা দূরের কোনো গাছের আলো বাঁকতে বাঁকতে দর্শকের চোখে নিচ থেকে আসে। মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় আলোকে সরলরেখায় আসতে দেখে, তাই সে মনে করে আলোটি মাটির নিচ থেকে আসছে। ফলে সেখানে জলাশয় বা বস্তুর প্রতিবিম্ব আছে বলে মনে হয়, যা বাস্তবে নেই।
১৩. প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো পাঠালে কী দেখা যাবে এবং কেন?
উত্তর: প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো পাঠালে তা সাতটি রঙে ভেঙে যাবে। এর কারণ হলো সাদা আলো আসলে সাতটি ভিন্ন রঙের আলোর সমষ্টি। বিভিন্ন রঙের আলোর গতিবেগ কাচের মতো মাধ্যমে আলাদা হয়, তাই প্রিজমের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় তারা আলাদা আলাদা কোণে বেঁকে যায়। ফলে তারা পৃথক হয়ে বর্ণালী সৃষ্টি করে।
১৪. সংকট কোণের মান কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: সংকট কোণের মান মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
১. মাধ্যমের প্রকৃতি: যে দুটি মাধ্যমের বিভেদতলে প্রতিসরণ ঘটছে তাদের ঘনত্বের ওপর।
২. আলোর বর্ণ: ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলোর জন্য সংকট কোণের মান ভিন্ন হয়। সাধারণত ঘন মাধ্যমটি যত বেশি ঘন হবে, সংকট কোণ তত কম হবে।
১৫. হাইপারমেট্রোপিয়া কী? এটি প্রতিকারের উপায় কী?
উত্তর: হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টি হলো চোখের এমন একটি ত্রুটি যেখানে ব্যক্তি দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পেলেও কাছের বস্তু ঝাপসা দেখেন। এটি প্রতিকারের জন্য চশমায় উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়, যা আলোক রশ্মিকে অভিসৃত করে রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে।
১৬. মায়োপিয়া কী? এটি প্রতিকারের উপায় কী?
উত্তর: মায়োপিয়া বা হ্রস্বদৃষ্টি হলো চোখের একটি ত্রুটি যেখানে ব্যক্তি কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পেলেও দূরের বস্তু ঝাপসা দেখেন। এটি প্রতিকারের জন্য চশমায় অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছকে অপসারিত করে রেটিনার ওপর সঠিকভাবে প্রতিবিম্ব গঠন করতে সাহায্য করে।
১৭. লেন্সের মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের সময়:
১. রশ্মি লেন্সের দুই তলে দুবার প্রতিসৃত হয়।
২. উত্তল লেন্সের ক্ষেত্রে রশ্মিগুলি প্রধান অক্ষের দিকে বেঁকে যায়।
৩. অবতল লেন্সের ক্ষেত্রে রশ্মিগুলি প্রধান অক্ষ থেকে দূরে সরে যায়।
৪. লেন্সের আলোককেন্দ্র দিয়ে যাওয়া রশ্মির কোনো বিচ্যুতি ঘটে না।
১৮. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের 'পূর্ণ' কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: সাধারণ প্রতিফলনের ক্ষেত্রে আলোর কিছু অংশ শোষিত বা প্রতিসৃত হয়, ফলে প্রতিফলিত আলোর তীব্রতা কিছুটা কমে যায়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের ক্ষেত্রে আপতিত আলোর প্রায় ১০০ শতাংশই প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, কোনো অংশই দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রতিসৃত হয় না। এই কারণেই একে 'পূর্ণ' প্রতিফলন বলা হয়।
১৯. শীতপ্রধান দেশে মরীচিকা কেন মরুভূমির মরীচিকার চেয়ে আলাদা হয়?
উত্তর: শীতপ্রধান দেশে মাটির সংলগ্ন বাতাস খুব ঠান্ডা (ঘন) থাকে এবং উপরের বাতাস তুলনামূলক গরম (লঘু) থাকে। ফলে আলোকরশ্মি নিচ থেকে উপরে যাওয়ার সময় অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। এতে দর্শক বস্তুর প্রতিবিম্ব আকাশে ভাসমান অবস্থায় দেখে, যা মরুভূমির মরীচিকার (যেখানে প্রতিবিম্ব মাটিতে দেখা যায়) ঠিক উল্টো।
২০. আলোর প্রতিসরণ ও বিচ্ছুরণের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: প্রতিসরণ হলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোর গতিপথের পরিবর্তন। এটি যেকোনো একবর্ণী আলোর ক্ষেত্রেও ঘটে। অন্যদিকে, বিচ্ছুরণ হলো একটি যৌগিক আলো (যেমন সাদা আলো) তার উপাদান রঙগুলিতে ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়া। প্রতিসরণ হলো বিচ্ছুরণের কারণ, কারণ বিভিন্ন রঙের আলোর প্রতিসরণ আলাদা আলাদা কোণে হয় বলেই বিচ্ছুরণ ঘটে।
আলো (Light)
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর ও কার্যাবলী (পৃষ্ঠা ৪৬-৫৩)
প্রশ্ন ১: আলোর প্রতিসরণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আলোকরশ্মি যখন একটি স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য একটি ভিন্ন ঘনত্বের স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে আলোকরশ্মির গতিপথের দিক পরিবর্তন ঘটে। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
প্রশ্ন ২: প্রতিসরণের ক্ষেত্রে আলোকরশ্মি কখন অভিলম্বের দিকে সরে আসে এবং কখন অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়?
উত্তর:
- লঘু থেকে ঘন মাধ্যম: আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম (যেমন বাতাস) থেকে ঘন মাধ্যমে (যেমন কাচ) প্রবেশ করলে, প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
- ঘন থেকে লঘু মাধ্যম: আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশ করলে, প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়।
প্রশ্ন ৩: সংকট কোণ (Critical Angle) কাকে বলে?
উত্তর: আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন আপতন কোণের যে নির্দিষ্ট মানের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান ৯০ ডিগ্রি হয় (অর্থাৎ প্রতিসৃত রশ্মিটি দুই মাধ্যমের বিভেদতল ঘেঁষে যায়), সেই আপতন কোণকে ওই দুই মাধ্যমের সংকট কোণ বলে।
প্রশ্ন ৪: অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের শর্ত দুটি কী কী?
উত্তর: অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের শর্ত দুটি হলো:
- আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে।
- আপতন কোণের মান ওই মাধ্যমদ্বয়ের সংকট কোণের চেয়ে বেশি হতে হবে।
প্রশ্ন ৫: মরীচিকা কেন সৃষ্টি হয়? এটি কোন ঘটনার উদাহরণ?
উত্তর: মরীচিকা অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ। মরুভূমিতে উত্তপ্ত বালির সংলগ্ন বাতাস লঘু হয়ে যায় এবং উপরের বাতাস ঘন থাকে। দূরের বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মি ঘন থেকে লঘু স্তরে নামার সময় সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হলে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। ফলে দর্শকের চোখে বস্তুর উল্টো প্রতিবিম্ব ধরা পড়ে এবং জলের ভ্রম তৈরি হয়।
প্রশ্ন ৬: উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো।
| বৈশিষ্ট্য | উত্তল লেন্স | অবতল লেন্স |
|---|---|---|
| আকৃতি | মাঝখান মোটা, প্রান্তভাগ সরু। | মাঝখান সরু, প্রান্তভাগ মোটা। |
| প্রকৃতি | অভিসারী (রশ্মিকে একবিন্দুতে মেলায়)। | অপসারী (রশ্মিকে ছড়িয়ে দেয়)। |
| ব্যবহার | আতশ কাচ, দূরদৃষ্টির চশমায়। | হ্রস্বদৃষ্টির চশমায়। |
প্রশ্ন ৭: আলোর বিচ্ছুরণ ও বর্ণালী বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সাতটি ভিন্ন রঙে (বেনীআসহকলা) বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। বিচ্ছুরণের ফলে যে সাতটি রঙের পটি সৃষ্টি হয়, তাকে বর্ণালী বলে। প্রকৃতিতে রংধনু হলো বিচ্ছুরণের একটি উদাহরণ।
এই অধ্যায়ের অনলাইন মক টেস্ট
WBBSE AI Engine: Mock Test
বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান | অধ্যায়: আলো (Light)
শ্রেণি: অষ্টম | পৃষ্ঠা: ৪৬-৫৩
লোড হচ্ছে...
পরীক্ষা সম্পন্ন!
আপনার প্রাপ্ত নম্বর: 0 / ৬০
ONLINE EXAM
পরিবেশ ও বিজ্ঞান: আলো (Light)
অধ্যায়: ৪৬ - ৫৩ পৃষ্ঠা | পূর্ণমান: ৫০
অভিনন্দন!
তোমার MCQ উত্তরগুলো যাচাই করা হয়েছে। বড় প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য নিচের 'মডেল উত্তর' বোতামে ক্লিক করো।
মডেল উত্তরপত্র (Model Answers)
১১. আলোকরশ্মি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশের সময় গতিপথ পরিবর্তন করলে তাকে প্রতিসরণ বলে।
১২. লঘু থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
১৩. ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় যে আপতন কোণের জন্য প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয়, তাকে সংকট কোণ বলে।
১৪. ১) রশ্মিকে ঘন থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে। ২) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।
১৫. উত্তপ্ত বালির উপরের বায়ুস্তর লঘু হয়। উপরের ঘন স্তর থেকে আলো আসার সময় অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে মরীচিকা সৃষ্টি করে।
১৬. উত্তল লেন্সের মাঝখান মোটা, প্রান্ত সরু। অবতল লেন্সের মাঝখান সরু, প্রান্ত মোটা।
১৭. সমান্তরাল আলোকরশ্মি গুচ্ছকে প্রতিসরণের পর একটি বিন্দুতে মিলিত করে বলে একে অভিসারী লেন্স বলে।
১৮. সাদা আলো প্রিজমের মাধ্যমে সাতটি রঙে বিভক্ত হওয়াকে বিচ্ছুরণ বলে। উদাহরণ: রংধনু।
১৯. এটি বর্ণালীর সাতটি রঙের আদ্যক্ষর (বেগুনি, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল)।
২০. হাইপারমেট্রোপিয়া: উত্তল লেন্স; মায়োপিয়া: অবতল লেন্স।
Day 2: অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ ACTIVITIES
অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ (Physical Environment)
পরিবেশ ও বিজ্ঞান | অষ্টম শ্রেণি
অনুশীলনী ও প্রশ্নোত্তর (Activities & Solutions)
১. মহাকর্ষ কাকে বলে? নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি গাণিতিক রূপসহ বিবৃত করো।
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলকেই মহাকর্ষ বলে।
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুকণার মধ্যেকার আকর্ষণ বলের মান—
- বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
(যেখানে $F$ = মহাকর্ষ বল, $m_1, m_2$ = বস্তুর ভর, $r$ = দূরত্ব এবং $G$ = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক)
২. অভিকর্ষ ও ওজনের মধ্যে সম্পর্ক কী? ওজন মাপার যন্ত্রের নাম লেখো।
উত্তর: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তখন তাকে অভিকর্ষ বলে। কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দিয়ে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তাকেই ওই বস্তুর ওজন বলা হয়। অর্থাৎ, বস্তুর ওপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলই হলো তার ওজন।
ওজন মাপার যন্ত্র হলো স্প্রিং তুলা।
৩. ঘর্ষণ বলের দুটি বৈশিষ্ট্য এবং এর একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর:
ঘর্ষণ বলের বৈশিষ্ট্য:
- এটি সর্বদা গতির বা বলের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- এটি স্পর্শতলের প্রকৃতির (মসৃণ বা অমসৃণ) ওপর নির্ভর করে।
সুবিধা: ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা মাটিতে হাঁটতে পারি বা পেন দিয়ে কাগজে লিখতে পারি।
অসুবিধা: ঘর্ষণের ফলে যন্ত্রাংশ ক্ষয় হয় এবং অপ্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয়।
৪. চাপের সংজ্ঞা দাও। SI পদ্ধতিতে চাপের একক কী?
উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে চাপ বলে।
গাণিতিক রূপ: $\text{চাপ} = \frac{\text{বল}}{\text{ক্ষেত্রফল}}$
SI পদ্ধতিতে চাপের একক হলো পাস্কাল (Pa) বা নিউটন/বর্গমিটার ($N/m^2$)।
৫. আর্কিমিডিসের নীতিটি লেখো। প্লবতা বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
আর্কিমিডিসের নীতি: কোনো বস্তুকে স্থির তরল বা গ্যাসে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস ঘটে। এই হ্রাস বস্তুর দ্বারা অপসারিত প্রবাহীর ওজনের সমান।
প্লবতা: কোনো বস্তুকে তরল বা গ্যাসে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে ওই প্রবাহী বস্তুর ওপর একটি উর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে, একেই প্লবতা বলে।
৬. কোনো বস্তু কখন তরলে ভাসবে আর কখন ডুবে যাবে? শর্তগুলি লেখো।
উত্তর: ভাসন ও নিমজ্জনের শর্তগুলি হলো:
- ডুবে যাওয়ার শর্ত: বস্তুর ওজন > প্লবতা হলে বস্তুটি ডুবে যাবে।
- সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসার শর্ত: বস্তুর ওজন = প্লবতা হলে বস্তুটি তরলের ভেতরে যেকোনো স্থানে ভাসবে।
- আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসার শর্ত: বস্তুর ওজন < প্লবতা হলে বস্তুটি আংশিক ভেসে থাকবে।
৭. ঘনত্ব কাকে বলে? এর গাণিতিক রূপ ও এককগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: একক আয়তনের বস্তুর ভরকে ওই বস্তুর উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিক সূত্র: $\text{ঘনত্ব} (D) = \frac{\text{ভর } (M)}{\text{আয়তন } (V)}$
একক:
- SI পদ্ধতিতে: $kg/m^3$
- CGS পদ্ধতিতে: $g/cm^3$
Day 3:অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ MOCK TEST
WBBSE Mock Test Engine
শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ (বল ও চাপ)
লোড হচ্ছে...
পরীক্ষা সম্পন্ন!
আপনার প্রাপ্ত নম্বর: 0 / ৬০
Day 4: অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ ONLINE EXAM
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
অনলাইন মূল্যায়ন: ২০২৪
আপনার ফলাফল
MCQ স্কোর
0 / 10
বিভাগ - খ
মূল্যায়নের জন্য জমা হয়েছে