ভূমিকা: আমাদের কথার কারখানা
আচ্ছা, তোমরা কি কখনও ভেবে দেখেছ, আমরা যে এত কথা বলি, এই কথাগুলো তৈরি হয় কীভাবে? আমাদের শরীরের ভেতরেই কিন্তু একটা আস্ত 'কথার কারখানা' আছে! এই কারখানায় অনেক যন্ত্রপাতি আছে, যেগুলো একসঙ্গে কাজ করে আমাদের মনের ভাবকে শব্দে পরিণত করে। চলো, আজ আমরা সেই কারখানার যন্ত্রপাতিগুলোর সঙ্গে পরিচিত হই। দেখবে, ব্যাপারটা কত মজার!
আমাদের মুখ, গলা, বুক - এই সবকিছুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে কথা বলার রহস্য। অনেকটা একটা বাঁশির মতো, যেখানে ফুঁ দিলে সুর বের হয়। আমাদের ফুসফুস হলো সেই ফুঁ দেওয়ার জায়গা, আর মুখের ভেতরের বিভিন্ন অংশ সেই সুরকে নানা রকম শব্দে বদলে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটাই হলো আমাদের 'কথাবলার যন্ত্রপাতি'-র খেলা।
সারাংশ
কথা বলার জন্য আমরা শরীরের যে অঙ্গগুলি ব্যবহার করি, তাদের সমষ্টিকে 'কথাবলার যন্ত্রপাতি' বা 'বাগযন্ত্র' বলা হয়। ফুসফুস থেকে আসা বাতাসের সাহায্যে স্বরতন্ত্রীতে কম্পন তৈরি হয় এবং সেই ধ্বনি মুখ ও নাকের বিভিন্ন অংশের (যেমন: জিভ, ঠোঁট, দাঁত, তালু) মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে নানা রকম স্পষ্ট ধ্বনিতে পরিণত হয়। প্রতিটি অঙ্গের একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে এবং তাদের সমন্বয়েই আমরা কথা বলতে পারি।
যন্ত্রপাতিগুলো কীভাবে কাজ করে?
চলো, আমাদের 'কথার কারখানা'-র প্রধান যন্ত্রপাতিগুলোর কাজ জেনে নিই:
- ফুসফুস: এটা হলো আমাদের কথার শক্তির উৎস। শ্বাস নেওয়ার সময় আমরা যে বাতাস নিই, কথা বলার সময় ফুসফুস সেই বাতাসকে চাপ দিয়ে বের করে দেয়।
- স্বরতন্ত্রী: এটি আমাদের গলায় থাকা দুটি পর্দার মতো জিনিস। ফুসফুসের বাতাস যখন এর মধ্যে দিয়ে যায়, তখন এটি কেঁপে ওঠে এবং 'স্বর' বা আওয়াজ তৈরি হয়।
- জিভ: এ হলো আমাদের মুখের সবচেয়ে দক্ষ কারিগর। জিভ মুখের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় (যেমন: দাঁত, তালু) ছুঁয়ে আওয়াজকে নানা রকম ধ্বনিতে (যেমন: ত, ট, চ, ল) বদলে দেয়।
- ঠোঁট: দুটি ঠোঁট বন্ধ করে বা খুলে আমরা 'প', 'ফ', 'ব', 'ম'-এর মতো ধ্বনি তৈরি করি।
- দাঁত ও তালু: জিভ যখন দাঁত বা তালুকে স্পর্শ করে, তখন 'ত', 'থ', 'চ', 'ছ'-এর মতো ধ্বনি তৈরি হয়।
- নাক (নাসিকা): 'ম', 'ন', 'ঙ'-এর মতো কিছু ধ্বনি উচ্চারণ করার সময় বাতাস নাক দিয়েও বের হয়। তাই এদেরকে 'অনুনাসিক' বা 'নাসিক্য' ধ্বনি বলে।
চিত্র: আমাদের কথা বলার যন্ত্রপাতি (বাগযন্ত্র)
হাতে কলমে (উত্তরসহ)
১. বাগযন্ত্র কাকে বলে? প্রধান ৫টি বাগযন্ত্রের নাম লেখো।
উত্তর: কথা বলার জন্য ব্যবহৃত শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে একসাথে বাগযন্ত্র বলে। প্রধান ৫টি বাগযন্ত্র হলো: ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, জিভ, ঠোঁট এবং তালু।
২. 'ক', 'চ', 'ট', 'ত', 'প' - এই পাঁচটি ধ্বনি মুখের কোথায় তৈরি হয়?
- ক: কণ্ঠ বা গলার ভেতরে (জিভের গোড়া দিয়ে)।
- চ: তালুতে (জিভের সামনের অংশ দিয়ে)।
- ট: মূর্ধায় (তালুর কঠিন অংশে জিভ উল্টে গিয়ে)।
- ত: দাঁতে (জিভের ডগা দিয়ে)।
- প: ঠোঁটে (দুটি ঠোঁটের সাহায্যে)।
৩. নাসিক্য ধ্বনি বলতে কী বোঝো? দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস মুখ এবং নাক উভয় পথ দিয়ে বের হয়, তাদের নাসিক্য ধ্বনি বলে। যেমন: ম, ন, ঙ।
অধ্যায়ের কুইজ
এই অধ্যায়ে তুমি কতটা শিখলে, তা পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত?
মোট ৩০টি প্রশ্ন আছে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবে।