সপ্তম পাঠ (গদ্যাংশ)
শ্রীশকে বোলো, তার শরীর যদি সুস্থ থাকে সে যেন বসন্তর দোকানে যায়। সেখান থেকে খাস্তা কচুরি আনা চাই। আর কিছু পেস্তা বাদাম কিনে আনতে হবে। দোকানের রাস্তা সে জানে তো? বাজারে একটা আস্ত কাতলা মাছ যদি পায়, নিয়ে আসে যেন। আর বস্তা থেকে গুন্তি করে ত্রিশটা আলু আনা চাই। এবার আলু খুব সস্তা। একান্ত যদি না পাওয়া যায়, কিছু ওল আনিয়ে নিয়ো। রাস্তায় রেঁধে খেতে হবে, তার ব্যবস্থা করা দরকার। মনে রেখো- কড়া চাই, খুন্তি চাই; জলের পাত্র একটা নিয়ো। অত ব্যস্ত হয়েছ কেন? আস্তে আস্তে চলো। ক্লান্ত হয়ে পড়বে যে।
সপ্তম পাঠ (কবিতা)
আমি যে রোজ সকাল হ'লে যাই শহরের দিকে চ'লে তমিজ মিঞার গোরুর গাড়ি চ'ড়ে; সকাল থেকে সারা দুপর ইঁট সাজিয়ে ইঁটের উপর খেয়াল-মতো দেয়াল তুলি গ'ড়ে। সমস্ত দিন ছাত-পিটুনি গান গেয়ে ছাত পিটোয় শুনি, অনেক নীচে চলছে গাড়ি ঘোড়া। বাসনওয়ালা থালা বাজায়; সুর ক'রে ওই হাঁক দিয়ে যায় আতাওয়ালা নিয়ে ফলের ঝোড়া। সাড়ে চারটে বেজে ওঠে, ছেলেরা সব বাসায় ছোটে হো হো ক'রে উড়িয়ে দিয়ে ধুলো। রোদ্দুর যেই আসে প'ড়ে পুবের মুখে কোথা ওড়ে দলে দলে ডাক দিয়ে কাকগুলো। আমি তখন দিনের শেষে ভারার থেকে নেমে এসে আবার ফিরে আসি আপন গাঁয়ে- জান না কি আমার পাড়া যেখানে ওই খুঁটি গাড়া পুকুর-পাড়ে গাজন-তলার বাঁয়ে।।
পাঠের সারসংক্ষেপ
'সপ্তম পাঠ'-এর গদ্যাংশে রাস্তার ধারে রান্নার জন্য বাজার থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র, যেমন—খাস্তা কচুরি, পেস্তা বাদাম, কাতলা মাছ ও আলু কিনে আনার একটি পরিকল্পনা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো প্রস্তুতির ছবি ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, কবিতাটিতে একজন শ্রমজীবী মানুষের روزকার জীবনযাত্রার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সে প্রতিদিন সকালে গরুর গাড়িতে চড়ে শহরে কাজ করতে যায়, দেয়াল তোলে এবং শহরের কোলাহল শোনে। দিন শেষে সে আবার তার শান্ত গ্রামে ফিরে আসে। এই পাঠে কর্মব্যস্ত জীবন ও গ্রামীণ সরলতার এক সুন্দর মেলবন্ধন দেখানো হয়েছে।
লেখক পরিচিতি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) ছিলেন একজন বাঙালি কবি, লেখক, সুরকার, দার্শনিক এবং চিত্রশিল্পী। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীত এবং ভারতীয় শিল্পে আধুনিকতার প্রবর্তন করেন। তাঁর "গীতাঞ্জলি" কাব্যের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই পাঠটি তাঁর "সহজ পাঠ" বই থেকে নেওয়া হয়েছে, যা শিশুদের সহজ ও আনন্দদায়কভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শেখানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
শব্দার্থ
- খাস্তা: মুচমুচে, ভঙ্গুর।
- আস্ত: গোটা, সম্পূর্ণ।
- গুন্তি করে: গণনা করে।
- একান্ত: নিতান্তই, যদি একেবারেই।
- খুন্তি: রান্নার কাজে ব্যবহৃত হাতলযুক্ত সরঞ্জাম।
- ক্লান্ত: পরিশ্রান্ত, অবসন্ন।
- ছাত-পিটুনি: যারা বাড়ির ছাদ পেটায়।
- ভারা: বাঁশ বা কাঠ দিয়ে তৈরি উঁচু মাচা যা নির্মাণের কাজে লাগে।
১. সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও
ক) বস্তা থেকে গুন্তি করে কয়টা আলু আনা চাই? i) দশটা ii) কুড়িটা iii) ত্রিশটা
উত্তর: iii) ত্রিশটা
খ) কবিতায় বক্তা কার গোরুর গাড়িতে চড়েন? i) তমিজ মিঞার ii) বসন্তর iii) শ্রীশের
উত্তর: i) তমিজ মিঞার
২. বাক্যগুলি সম্পূর্ণ করো
ক) সেখান থেকে _________ কচুরি আনা চাই।
উত্তর: খাস্তা
খ) আমি তখন দিনের শেষে _________ থেকে নেমে এসে।
উত্তর: ভারার
৩. প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
ক) রাস্তায় রেঁধে খাওয়ার জন্য কী কী ব্যবস্থা করা দরকার?
উত্তর: রাস্তায় রেঁধে খাওয়ার জন্য কড়া, খুন্তি এবং একটি জলের পাত্র নেওয়া দরকার।
খ) কবিতা অনুযায়ী, সাড়ে চারটে বাজলে কারা বাসায় ছোটে?
উত্তর: কবিতা অনুযায়ী, সাড়ে চারটে বাজলে ছেলেরা সব বাসায় ছোটে।
৪. ব্যাকরণ (সমার্থক শব্দ লেখো)
পাঠ থেকে নিচের শব্দগুলির সমার্থক শব্দ খুঁজে বের করো: শহর, পথ, জল, গ্রাম
উত্তর: শহর - নগর, পথ - রাস্তা, জল - পানি, গ্রাম - গাঁ। (উল্লেখ্য, সব শব্দ সরাসরি পাঠে নাও থাকতে পারে, এটি একটি অনুশীলন)
৫. পাঠ নিয়ে কথোপকথন
বাবা: শ্রীশ, শরীর ঠিক থাকলে একবার বসন্তর দোকান থেকে ঘুরে আয় তো।
শ্রীশ: কী আনতে হবে বাবা?
বাবা: কিছু খাস্তা কচুরি আর পেস্তা বাদাম নিয়ে আসবি। আর দেখিস তো, বাজারে আস্ত কাতলা মাছ পাবি কি না।
শ্রীশ: আচ্ছা। আর কিছু?
বাবা: হ্যাঁ, ত্রিশটা আলু নিবি। অত ব্যস্ত হবি না, আস্তে আস্তে যাবি, কেমন?
পাঠের কুইজ
"সপ্তম পাঠ" সম্পর্কে তোমার জ্ঞান পরীক্ষা করো। তোমাকে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। শুভকামনা!
প্রশ্ন ১/১০
স্কোর: ০
প্রশ্ন এখানে আসবে।
কুইজ সম্পন্ন!
আপনার চূড়ান্ত স্কোর হলো:
০%